Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

SUBHAM MONDAL

Romance Classics


4.8  

SUBHAM MONDAL

Romance Classics


বৃষ্টিতে ফেলে আসা

বৃষ্টিতে ফেলে আসা

3 mins 711 3 mins 711

সেদিন শহরের এক জনবহুল রাস্তার নতুন ফ্লাইওভারের ফুটপাত ধরে হেঁটে ফিরছি। সন্ধ্যা হবে হবে। কিছুক্ষন আগের বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া রাস্তা। দূরে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকা ল্যাম্পপোস্ট আর নিয়নের আলোগুলো একে একে জ্বলে উঠছে। হাতছানি দিচ্ছে যেন সীমানার পারের পুঞ্জীভূত মেঘগুলোকে। 

হাজার মানুষের ভিড়ে একা হেঁটে চলেছি। হাতের আঙুলগুলো নিজে থেকেই একবার বন্ধ হচ্ছে, একবার খুলছে। কিছু যেন হাতড়ে খুঁজছে ওগুলো, যেমন মরীচিকাতে মানুষ জল হাতড়ায়। আঙুলের মাঝের শূন্যস্থানগুলো আজ বড্ড অসস্তিকর লাগছে।বুকের বোতামটা আটকে নিলাম, ঠাণ্ডা হাওয়াগুলো কারো স্পর্শের মতন মনে হচ্ছে। আকাশটা আবার কালো করছে, আমি তবু হেঁটে চললাম, দূর পথের বাঁকের উদ্দেশ্যে। 

নাকে একটা সোঁদা গন্ধ এসে লাগলো, চমকে উঠলাম, কংক্রিটের শহরে সোঁদা গন্ধ! রক্তের গন্ধ হলেও নয় বুঝতাম। শহরের হৃদয়টাকে তো মানুষ কবে পীচের চাদরে মুড়ে দিয়েছে, বাদ দেয়নি নিজের হৃদয়টাকেও। প্রতিদিন বিষ ভরছি বুকে, আর করে চলেছি অমৃতের সন্ধান।

এইবার বৃষ্টিটা ষড়যন্ত্র করল আমায় ভেজাবার। ঝমঝম করে নেমে এল আমার শরীর ভিজিয়ে। ও বঝেনি শুষ্ক মরুভূমিতে নিজের অস্তিত্ব বাঁচাতে বিহ্বল হয়ে পড়বে ও নিজেই।

ছুটে একটা চা এর দোকানে ঢুকলাম। শুধু দাঁড়িয়ে থাকা বাজে দেখায় বলে এক পেয়ালা চা এর অর্ডার দিলাম। বৃষ্টিতে গরম চা ভালই লাগে। ফাঁকা দোকান, একটা আদ্যিকালের ব্যাড়ব্যাড় করা রেডিও চলছে,দেখলাম একটা রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজছে ‘আমার পরান যাহা চায়’। আমার পরান তখন চাইছে বৃষ্টিটা থামুক বাবা, তাড়াতাড়ি বাড়ি যাই।

একটা বাইক এসে দাঁড়ালো দোকানের সামনে, প্রায় কাক ভেজা এক দম্পতি। ভদ্রলোক স্বাস্থ্যবান, উচ্চবিত্ত, সরকারি চাকুরে। ভদ্রমহিলা সুন্দরী, স্বল্পবক্তা । পরস্ত্রী সম্পর্কে এর বেশি বলা বোধ হয় ভালো হবে না। 

দুটো চা আর ওমলেটের অর্ডার দিলেন ভদ্রলোক। আমি জানি দুটো ওমলেটই ভদ্রলোকের জন্য। ভদ্রমহিলা ডিম খান না। ইতিমধ্যে কারেন্ট বাবাজী চলে গেলেন, এতক্ষন যায়নি এই আশ্চর্য। 

এক মুহূর্ত শুধু আমি তাকিয়েছিলাম আমি ওই মহিলার দিকে, নাহ চিনি না, চিনতে চাই ও না। একবার কথা বলতে ইচ্ছে হল ওনার সাথে, কিন্তু মনকে বোঝালাম ব্যাপারটা ভালো দেখায় না। উনিও মুখ ঘুরিয়ে আছেন। কিছু কি লুকাচ্ছেন? আর চোখে একবার চাইলেন, আমি চোখ নামিয়ে নিলাম। ঝড় উঠেছে, আমি কানের ভিতর দামামা শুনতে পাচ্ছি লুব ডুব। 

ভদ্রলোক একটা সিগারেট ধরিয়ে টানছেন আর বাইরে বৃষ্টি দেখছেন। ভদ্রমহিলার চুলগুলো খুলে মুখের উপর ছড়িয়ে গেছে, টিপ টিপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে। জল লেগে ওনার গালে, চিবুকে, ঠোঁটে, আর গালের সেই লাল তিলে। ইশ,ইশ, এ আমি কি করছি! না না আমি চরিত্রহীন নই। জোর করে মুখ ফিরিয়ে নিলাম। বৃষ্টি বাড়ছে, ঝড় বাড়ছে, দামামাটা জোরে জোরে বাজছে। 

চায়ের খালি গ্লাসটা ফিরিয়ে দাম মিটিয়ে দিলাম। ভদ্রলোক এখনো সিগারেট টানছেন। আমি পকেট থেকে রুমালটা বের করলাম, মুখটা ভালো করে মুছে নিলাম। এবার সাহস করে ভদ্রমহিলার কাছে গিয়ে আস্তে গলায় বললাম, “এই রুমালটা দিয়ে মাথাটা মুছে নাও, তোমার আবার ঠাণ্ডার ধাত”। 

এইবার ও ঘুরলো, অনেকদিন পর ওকে এতো সামনে থেকে, এতো কাছ থেকে দেখলাম। দেখলাম ওর চোখের কোল বেয়েও দু ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ছে, আর আমি জানি সেটা বৃষ্টির জল নয়। ও খুব আস্তে আমার হাত থেকে রুমালটা নিলো। ও কিছু বলতে যাচ্ছিলো, কিন্তু আমি আর ওই চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। মাথা ঘুরিয়ে এক ছুটে বেরিয়ে এলাম দোকান থেকে, হন হন করে হাঁটা দিলাম বাড়ির দিকে। 

মুশলধারে বৃষ্টি হচ্ছে, আর সেই বৃষ্টিতে ভিজছে এই শহর, আমি, আমার সত্ত্বা, আর সেই না বলা, না শোনা কথাগুলো। বৃষ্টির ধারাগুলো অনেককিছু ধুয়ে দিচ্ছে আমার মন থেকে। ধুয়ে দিচ্ছে জমানো সব রাগ, ক্ষোভ, অভিমান, ধুয়ে দিচ্ছে সেই স্পর্শগুলো, সেই অপূর্ণ স্বপ্নগুলো, মনের জাঙ্ক ফাইলে জমিয়ে রাখা সব ভালো, খারাপ মুহূর্তের স্মৃতিগুলো যেগুলো শুধু কষ্ট ছাড়া কিছুই দিতে পারেনা। সত্যি কতদিন ভালো করে ধোয়া হয়নি মনটাকে। আজ ঘসে ঘসে সব পুরানো ধুলো বালি তুলে ফেলবোই। আঙুলের মাঝের ফাঁকগুলো আর অসস্তিকর লাগছে না। 

আমি জানি এই দুর্যোগ থামবেই, ঝড়টাও ঠিক শান্ত হয়ে যাবে। আমার শহর থেকে মুছে যাবে সব পুরানো হিসেবের দাগ গুলো। ওই রুমালের সাথেই তোমার কাছে ছেড়ে এসেছি তোমার বাকিটুকু। ভালো থেকো, আমি তো ভালো থাকবই।


Rate this content
Log in

More bengali story from SUBHAM MONDAL

Similar bengali story from Romance