শুভ চক্রবর্তী

Drama Tragedy Inspirational


4  

শুভ চক্রবর্তী

Drama Tragedy Inspirational


ভাই

ভাই

3 mins 209 3 mins 209

                 এক 


- কিরে দাঁত বের করে হাসির কি হল? 

- হাসলাম, কেন? এই কষ্টের দিনে একটু কি হাসতেও পারব না? 

- আমি কি সেটা বললাম? সব কথায় এত খুঁত ধরলে হবে? 

- বাদ দে ! আমিই অন্য ঘরে চলে যাচ্ছি |


 দুইভাইয়ের ঝগড়া আর শেষ হয় না | একে তো কোয়ারেন্টাইন, তার ওপর সদ্য চাকরি হারিয়েছে ছোট ছেলেটা | জীবনটা একপ্রকার বিষ হয়ে গেছে | ভালো কথাও শুনতে কটু লাগে |


মাথাটা গরম নিয়েই দরজার দিকে পা বাড়ালো সুজিত | দু পা এগিয়েছে, তার পরই হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে দাদার দিকে ফিরে গম্ভীর অথচ কান্না  মাখা গলায় বলল - তোর  আর কি দাদা?  বাড়িতে বসে ওয়ার্ক ফ্রম হোম, বেশ ভালোই আছিস ! বাবা কতদিন হল কাজে যাচ্ছে না ! আমি কাজ হারালাম | সংসারটা চলবে কি করে বলতো? বৌদিকে নিয়ে তো দিব্বি আছিস | আলাদা সংসার | আলাদা হাঁড়ি |


দাদার মুখ দিয়ে কোনো স্বর বেরোলো না | চুপ করে শুধু শুনে গেল | রান্নাঘর থেকে বড়বৌ ঘরে ঢুকল | সুজিতের সব কথাই সে শুনেছে, কিন্তু সে প্রসঙ্গ এড়িয়ে  বললে - আরে ঠাকুরপো? কোথায় চললে? আর এদিকে তোমার ভাইপো কাকা, কাকা করছে ! 


সুজিতের মুখ লজ্জায় ভরে উঠল | রাগের মাত্রা  কমলো | আর কথা না বাড়িয়ে দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল | 



                  দুই 


দুপুর দুটো বাজতেই, ভোজনের আয়োজন শুরু হল | খাবার টেবিলে যে যার স্থান গ্রহণ করল | হঠাৎ সুজিত লক্ষ্য করল, আজ মুরগির মাংস হয়েছে | তারপর, খাবার পরিবেশন শুরু হল | সুজিত লক্ষ্য করল, তার থালায় মাংসের পিস চারটে, আর দাদার থালায় দুটো | সুজিত ভাবলে, এসব নাটক, তাকে ছোট করবার জন্যে দাদা বৌদি, দুজনে মিলে পরিকল্পনা করেছে | খাবারের থালা ভর্তি রেখেই সুজিত উঠে গেল | মা , বাবা বোঝানোর চেষ্টা করলেন ঠিকই, কিন্তু সব যেন বৃথা !




                   তিন 


রাত দশটা, বাবার বুকের ব্যাথাটা বেড়েছে | সুজিত বাবা, মার পাশের ঘরেই শুত | টিভি  দেখছিল, এমন সময় মা খবর দিতেই সে ছুটে গেল | দেখল, বাবা ব্যাথায় কাঁত্ড়াচ্ছেন, বুকে রাখা বাঁ হাত যেন কাঁপছে অল্প অল্প | 


সুজিত ভয়ে পেয়ে তাড়াতাড়ি ওষুধ খুঁজতে শুরু   করলে,  কিন্তু ওষুধ সব শেষ, কিনে আনতে হবে, কিন্তু, পয়সা যে তার সব শেষ | বাবার বুকের দিকে তাকাতেই তার বুকটাও যেন ছ্যাৎ করে উঠল | 


তারপর হঠাৎ মনে পড়ল, দাদা আছে তো ! সে নিশ্চয় কিছু করবে | 


দাদার ঘরের দিকে ছুটে গেল সে | দরজা ধাক্কা দিল একবার, দুবার, তিনবার | 


বৌদি দরজা খুলল | সুজিতের মুখ ভয়ে সিঁটিয়ে গেছে | ভয়ার্ত স্বর নিয়েই জিগ্যেস করলে, - বৌদি, দাদা আছে? 


স্ত্রী রতির গলার স্বর টাও কেমন যেন কাঁপা 

কাঁপা | বললে - তোমার ভাইপোর শরীর খুব খারাপ ঠাকুরপো | শ্বাসকষ্ট বেড়েছে | ইনহেলার শেষ, তাই ওষুধ কিনতে গেছে | 

- কখন থেকে? কিভাবে... 


পুরো কথা শেষ হল না সুজিতের | সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করল বড়ভাই স্পন্দন | 


ছুটে গিয়ে বাবার ঘরে প্রবেশ করে ইনহেলারটা 

 মুখে ধরল সে | তারপর, আবার ছুটলো নিজের ঘরের দিকে | ছেলের কাছে বসে অন্য পকেট থেকে বের করল কম ডোজের ইনহেলারটা |


খানিক পর ছেলে এবং বাপের সুস্থ এবং আরামে নিদ্রায় ঢুলে পড়া মুখটা দেখে দুইভাইয়ের চোখ দিয়ে অশ্রুধারা ঝরে পড়ল | 


দাদার প্রতি শ্রদ্ধা সুজিতের মনটাকে আরও বেশি অনুতপ্ত করে দিল | 



পরেরদিন সকালে আবার আগেরদিনের মত ফেসবুকে কি দেখে সুজিত হাসতে লাগল | আজকের হাসির শব্দ আরও জোড়ালো | দাদাকে শোনানোর জন্য | কিন্তু আজ দাদা কোনো মন্তব্য করল না | মুচকি একটা হাসি হাসলে শুধু | সুজিত এর অর্থ বুঝল | বুঝল, পরিস্থিতি যতই জটিল হোক, পরিবার সর্বদা সর্বদা পাশেই থেকেছে, আর ভবিষ্যতে থাকবেও |


Rate this content
Log in

More bengali story from শুভ চক্রবর্তী

Similar bengali story from Drama