Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

AYAN DEY

Romance Others


2  

AYAN DEY

Romance Others


অতঃপর কিছু বাকি

অতঃপর কিছু বাকি

6 mins 302 6 mins 302

(রবি ঠাকুরের " হঠাৎ দেখা " অবলম্বনে)


বাঙালী মেয়ের হরেক নামের কথা শুনেছে চ​য়ন কিন্তু তা বলে সিনড্রেলা । কলেজের শেষ বছরে পটলচেরা চোখদুটো দেখে গলে গিয়ে কাছে না এগোলে চয়নের ধারণার বাইরেই থাকতো ।

১৫ বছর পর হঠাৎ দেখা । ২১১ বি করে যাচ্ছে অফিস । পি.এন.বি থেকে ধড়ফড় করে একজন উঠলো । লেডিজ সিট ছিলো । প্রথমটা চ​য়ন খেয়াল করেনি । সিনড্রেলাই ওর দিকে চোখ যেতে অবাক নয়নে তাকিয়ে রইলো না ।

চয়ন টেলিগ্রাফটা দেখছিলো কিন্তু ওই একদৃষ্টে কেউ আপনাকে দেখতে লাগলে একটা তো বোঝা যায়ই । তাই চোখ সরাতেই হলো ।

" সিনি তুই ? "

" অনেকক্ষণ ধরে তাকিয়েছিলাম কিন্তু সিওর হতে পারছিলাম না । বদলে ফেলেছো তো নিজেকে ? "

" তা কর্পোরেটে ১০ বছর হলে ওরম মোড়ক লেগে যায় , তা তুইও তো কম কিছু বদলাসনি সিনি । কোথায় সে চনমনে মেয়েটা ! "

" সময় সব বদলে দেয় গো । শ্বাশুড়ি টাটা সেন্টারে ভর্তি , যাচ্ছি তাই । "

" তুই ডেলয়টে ছিলি না , টিসিএস ছেড়ে ? "

" হ্যাঁ , আছি এখনও । ইউনিটেক । "

" ও আচ্ছা । " খানিকক্ষণ চুপ দুজনেই ।

এর পরের কথাগুলোয় সিনড্রেলা কীরকম অল্প দুচারকথায় উত্তর দিলো । দুএকটা কলেজের স্মৃতিরোমন্থন ছাড়া ওগুলো বলা নিষ্প্রয়োজন ।

" হ্যাঁরে সিনি তোর মনে পড়ে কলেজের সেই প্রথম যেদিন তুই এলি , আমি ফোর্থ ইয়ার ইন্ট্রো নিতে গেলাম ? "

" হুমম । " বলেই উদাস চোখে জানলার বাইরে চেয়ে রইলো সিনড্রেলা ।

এবার একটি ফ্ল্যাশব্যাক । এই যে এডিটর একটু ঝাপসা করে আর এই ক্যামেরাম্যান একটু ব্ল্যাক এন্ড ওয়াইট করে দাও স্ক্রিনটা । আরে না ৭০ এর দেবানন্দ নয় হাল্কা সাদাকালো , ওফফ ফ্ল্যাশব্যাকও বোঝে না ।

" ওই যে পিঙ্ক হেয়ারব্যাণ্ড , এদিকে আয় । চ ইন্ট্রো দে । "

" মাই নেম ইজ সিনড্রেলা চ্যাটার্জী । আই এম ফ্রম কোলকাতা ওনলি । আই স্টাডিড ইন শ্রীশিক্ষায়তন আপটু টোয়েলভ । আই লাভ টু রিড বুকস । মাই হবি ইজ পেন্টিং । তুমি চয়ন দা তো ? "

" না মানে হ্যাঁ মানে তুই জানলি কী করে ? "

" অ্যানাক্রনসে গতবছর পারফর্ম করেছিলে তো , উন্মেষ আমার নিজের দাদা । ওখান থেকেই চিনেছি । দারুণ গাও তুমি । একটা গান দাদা প্লিজ , একটা একটা । "

বাকিরা ততক্ষণে কেটে গেছে । ফার্স্ট ইয়ারের কাছে এভাবে মুরগী হতে হবে চয়ন ভাবেওনি ।

সিনড্রেলার কথাতে কিছু একটা ছিলো আকুতি যার কারণে গেয়েই ফেলেছিলো সিনিয়র চয়ন ।

এরপর টুকটাক দেখা হতে থাকা । সিনেমা , মল ঘুরে বেড়ানো চলতে লাগলো ।

এই ওয়েট ক্যামেরাম্যান । আবার রঙিন করো প্লিজ । আহা রাগ করো না !

" এই সিনি তোর দুদিন পর তো জন্মদিন ? " চয়ন জিজ্ঞাসা করলো । 

মিষ্টি সেই হাসি হেসে মাথা নাড়লো সিনড্রেলা । " ভোলোনি এখনও ? "

" নেহাৎ ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপ দুটোই বন্ধ করেছি আর অভিমানে ফোনও করিনি কিন্তু তাই বলে কি ভুলে যাবো ? ওই দিনেই যে ... " এবার উদাস হওয়ার পালা দুজনের ।

ক্যামেরাম্যান প্লিজ ! আরে আরে দাদা কী হলো ! ক্যামেরা ছেড়ে যাচ্ছেন যে ... ধুর চলুক ... অতীতগুলো অতীত হলেও তো রঙিনই ছিলো , বেকার ফ্ল্যাশব্যাকে সাদাকালো দরকার নেই । চলুন ১০ বছর আগে সিনড্রেলার জন্মদিনে সিসি টু ঘুরে আসি ।

" সিনি মেনি মেনি হ্যাপি রিটার্নস অফ দ্য ডে । " বলে কেকের উপর মোমবাতিগুলো নিভিয়ে দিতে বললো সিনড্রেলাকে । তারপর কেকে ছুরি চললো । চয়নের দুষ্টুমি সইতে হলো খানিক কেক নিয়ে ।

" এবার বলো সারপ্রাইজটা । " সবশেষে জানতে চাইলো সিনড্রেলা । আচ্ছা কে.এফ.সি গিয়ে বলছি ।

অর্ডার নিয়ে এক সাইডে বসলো ওরা । " সিনি তুই বোধহয় জানিস আমি ক্যাম্পাসিংয়ে বসিনি । নিজে বড়ো বড়ো কোম্পানিতে ঢোকার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম । মাইক্রোসফটের পরীক্ষা দিয়েছিলাম , উত্তীর্ণ হয়েছি , গত সপ্তাহে এখানেই ম্যারিয়টে ইন্টারভিউ ছিলো । "

" মানে ... এত্ত সব কিচ্ছুই জানি না আমি ! কী হলো বলে ? "

" আমি জানি হলে বলবো । হয়ে গেছে সিনি গতকাল অফার লেটার এসেছে । "

" ওয়াও , কঙ্গো কঙ্গো । মানে টেকনোর সি.এস.ই এর টপার মাইক্রোসফটে ... এরকম নজির বোধহয় না কলেজে আছে বলে । জানা গেলে তো হইহই পড়ে যাবে । কিন্তু ... "

" এর মধ্যে আবার কিন্তু কী ? "

" বলছি বাবা মাকে আমি অলরেডি বলে দিয়েছি সব । তুমি দেশ ছাড়লে কবে ফিরবে ... আমাদের সম্পর্কটার কী হবে ? "

" সবে তোর ফার্স্ট ইয়ার সিনি । এখনও তিন বছর । তারপর তুইও চাকরি পা সেটলড হ , নিয়ে নিবি ইউ.এস.এর প্রোজেক্ট , অনসাইটে চলে আসবি । "

" অত সহজ নয় চয়ন দা । একবার দূরে গেলে ... "

" ওসব পরেও হবে । আগে দাঁড়া তো এই ভরা গ্রীষ্মে একটু বসন্ত এনে তোকে প্রপোজটা করে ফেলি । " একটা সুন্দর সোনার আংটি দিয়ে বললো " আই লাভ ইউ । "

" লাভ ইউ টু চয়ন দা । বাট টু বললেই হলো না , তুমি দূরে চলে গেলে সম্পর্কের সেই বাঁধন কি থাকবে ? "

অডিয়েন্স আবার বর্তমানে এসে গেছি বুঝলেন । না কালার চেঞ্জ হচ্ছে না তো । এডিটরও বলেছে আর কাজ করবে না । এত্ত ফ্ল্যাশব্যাক যে থ্রি ইডিয়টসেও ছিলো না !

" এখনও পরিস আংটিটা ! " সিনড্রেলার হাতের দিকে তাকিয়ে বললো চয়ন ।

আংটিটার দিকে তাকিয়ে শুধু ঘাড়টা ওপর থেকে নীচে নামিয়ে সিনড্রেলা বলে , " হুমম । "

" মানে কেউ আপত্তি করেনি ? "

" না । "

" তবে কেন তুই বিয়েটা করে ফেললি ঝপ করে ? আমি তো এসেই গিয়েছিলাম শুধু তোর জন্যে । "

চয়ন চার বছর আমেরিকায় থাকার পর একসম​য় হাঁপিয়ে উঠলো । দেশের মাটির টান ও হাওয়ার মিষ্টতা , রাতের তারাগুলোকে আপন মনে হওয়া , চিলেকোঠার ছাদ , ফেলুদা , কাকাবাবু , রেডিও মিরচি ; এসব ছেড়ে আর থাকতে পারলো না চয়ন । বড়ো রসকসহীন জীবন । সাফল্য থেমে থাকেনি । চারবছরেই মাইনে ৩ গুণ হয়ে গেছে কিন্তু মন আর টিকলো না ! কথা হতো সিনড্রেলার সাথে কিন্তু ওই রেগুলার নয় । ফলে ফিরে এসে মাথায় বাজ ভেঙ্গে পড়লো চয়নের ।

ছেলে তো মাইক্রোসফটে রিসাইন করে কোলকাতায় টি.সি.এস জয়েন করলেন । সেই কোম্পানি যার ক্যাম্পাসিংয়েও ছেলে বসেননি । ফিরে কোনোরকমে মালপত্র ঢুকিয়ে সিনড্রেলার বাড়ি গিয়ে যেটা দেখে তাতে তার মন জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যায় ।

সিনড্রেলার সাথে কোনোরকমে দেখা করে । সে বলে , " টানা দশদিন ফোন করার পর যখন সাড়া মেলে না তখন এই সম্পর্ক থেকে কিচ্ছু আশা না করাই ভালো । সব জানাতে ফোন করছিলাম কিন্তু গত ১ মাসে কোনো ফোন ধরেছো আমার ? ও তোমার তো ফোন খালি রিব্যুট নেয় তাই মিসড কলও দেখতে পাও না । এইজন্যই স্রেফ এইজন্যেই আপত্তি করেছিলাম চয়ন । আর কিচ্ছু করার নেই । "

আর একটা কথাও না বলে রাগে গজরাতে গজরাতে বাড়ি এলো । সিনড্রেলা ইকোস্পেসেই ছিলো টি.সি.এসে । কিন্তু চয়ন মুখোমুখি হতেই চোখ নামিয়ে নিত বা পাশ কাটিয়ে চলে যেত ।

আচ্ছা শেষবার পাস্ট টু প্রেজেন্ট ।

এতক্ষণে হ্যাঁ হুঁ এর বাইরে লম্বা একটা কথা বললো সিনড্রেলা । " সেদিন মনের জোর দেখাতে পারিনি । বাড়ির লোকেদের কথা ফেলতে পারিনি । আমার হাজবেন্ডও ডেলয়টেই । ওকে দুবছর পর সব বলেছি যখন ও আংটিটা দেখতে পায় । ও বলে ওটা যেন পরে থাকি । তাই ... "

" তোর মনে হয় স্টপেজ এসে গেলো , এই তো নারকেলবাগান । "

" হুমম , দুটো বাকি । হ্যাঁ গো তুমি কেনো এখনও বিয়ে করোনি ? "

" সে হবে ক্ষণ । এই তো মোটে ৩৫ বছর । ঠিক কেউ ধরে বেঁধে দিয়ে দেবে । কদ্দিন ঠেকিয়ে রাখবো ? "

" অ্যায় টাটা মেডিক্যাল লামবে , গেটে আসুন । " কন্ডাক্টরের কথা শুনে উঠে দাঁড়ালো সিনড্রেলা ।

" শুধু একটা কথা মাঝেমধ্যে ভাবি আমাদের গেছে যেদিন তা সত্যই কি গেছে , কিছুই কি নেই তার বাকি ? "

" ওরে বাকি আছে । এই নে প্লে স্টোরে এফ.বি আপডেট করছি , হোয়াটসঅ্যাপটাও অ্যায় যে শুরু হলো । রাতে অনলাইন হলে কথা হবে । বন্ধুত্বটা আবার যখন এদ্দিন পর জীবন পেলো ... "

একগাল হেসে সিনড্রেলা বলে , " আচ্ছা ওকে , আসি গো চয়ন দা । "



Rate this content
Log in

More bengali story from AYAN DEY

Similar bengali story from Romance