STORYMIRROR

Sourav Saha

Horror Thriller

3  

Sourav Saha

Horror Thriller

নিঃশব্দ প্রতিশোধ

নিঃশব্দ প্রতিশোধ

8 mins
204

লাশটা বিকৃত অবস্থায় পড়ে আছে রাস্তার মাঝখানে। মুখের অবয়ব টাকে এমন বিকট ভাবে থেঁতলে দেওয়া হয়েছে যে মুখের দিকে তাকাতে গেলেই বুক কেঁপে উঠবে।

লাশের অবস্থা দেখে কেউ সামনে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। কিছুটা ভয়ের সাথে যে কিছু টা ঘৃণাও কাজ করছে না এমনটা বলা যাবে না।

লাশটা যে কার সেটা বোঝার বিশেষ কোনো উপায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। খুনী খুব নৃশংসতার সাথে কার্যসিদ্ধি করেছে।

দেখতে দেখতে প্রায় দেড় ঘণ্টা কেটে গেল। এখনো লাশটা রাস্তার মাঝখানে পড়ে আছে ‌‌।

প্রকাশ‍্য দিবালোকে জনবহুল রাস্তায় যে এমন কাজ যে করতে পারে তার বুকের পাটা আছে এটা মানতেই হয়।

এদিকে একটা বিশ্রী দুর্গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে বাতাস কে শ্বাসের অনুপযোগী করে তুলছে ।

আরো পনের মিনিট পর ওই রাস্তা দিয়েই বাজার করে ফিরছিলেন সৌম্যশেখর বাবু।

আচমকাই যেন কিছু একটা পায়ে ঠেকল তার ।

তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে কোনো দিকেই যেন খেয়াল নেই ওনার ।

দেখলেন একটা যুবকের লাশ। সেটা থেকে একটা বিশ্রী দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। 

সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে দু তিন হাত দূরে সরে দাঁড়ালেন সৌম্যশেখর বাবু।

তারপর প‍্যান্টের পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে লোকাল থানায় ফোন করলেন।

কিন্তু লাশের দিকে তাকানোর পর উনি যেন বাকশূণ‍্য হয়ে পড়লেন।

ওনার কল কানেক্টেড হয়ে ফোনের ওপার থেকে কয়েকবার হ‍্যালো শব্দ টা ভেসে আসল।

কিন্তু সৌম‍্যশেখর বাবুর মুখ থেকে এক ফোঁটা আওয়াজ বের হলো না।

সৌম্য বাবু যে খুব ভীতু প্রকৃতির সেটা বলা যায় না ‌। কারণ মধ‍্যপঞ্চাশে দাঁড়িয়েও তিনি রাতের ঘন জঙ্গল পার করার মত কঠিন মানসিকতা রাখতে পারেন।

কিন্তু আজ এমন অপ্রত্যাশিত আর অপ্রস্তুত মুহূর্তে তিনিও যেন বাকশূণ‍্য আর বুদ্ধিহীন হয়ে পড়লেন।

প্রায় দশ মিনিট কানে ফোন ধরে একভাবে দাঁড়িয়ে আছেন । তাঁর চোখ দুটো একেবারে লাশের দিকে একভাবে চেয়ে আছে। কোনো দিকেই ওনার হুঁশ নেই ‌।


ইতিমধ্যেই লোকাল থানার পুলিশ এসে ঘটনা স্থলে পৌঁছল।

‌এতক্ষণে সম্বিত ফিরল সৌম্যবাবুর‌। উনি যে যে ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন সব কিছু থানার বড়বাবু কে জানালেন। 

বড়বাবু লাশটা কিছুক্ষণ পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ফরেন্সিক টেস্ট এর জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন।

এর মধ্যেই বড়বাবুর ফোনটা দু বার‌ বেজে উঠলো।

কলটা রিসিভ করে কানে দিলেন বড়বাবু। ওপার থেকে একটা কন্ঠস্বর জানালো থানার একশো মিটার দূরেই কে বা কারা যেন একজন কে নৃশংসভাবে হত‍্যা করে ফেলে গেছে। মুখটাকে যেন ভারী কিছু দিয়ে এমন ভাবে থেঁতলে দিয়েছে যে সেদিকে তাকাতে গেলেই গা শিউরে উঠছে।

বড়বাবু জিপ রেডি করতে যাচ্ছেন এমন সময় ‌আরেকটা ফোন আসলো ‌‌।

রিসিভ করতেই কল টা ডিসকানেক্ট হয়ে গেল।

বড়বাবু সেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে থানার দিকে রওনা দিলেন।

থানার কাছে পৌঁছে বড়বাবু দেখলেন একটা লাশ পড়ে আছে বিকৃত অবস্থায়।

দুটো লাশের ই অবস্থা এক।একই ভাবে খুন করা হয়েছে। লাশগুলো এমন ভাবে বিকৃত করা হয়েছে যে শনাক্ত করা খুব সহজ হবে না।

সূর্যেন্দু বাবু অর্থাৎ বড়বাবু এই লাশটিকেও ফরেন্সিক টেস্ট এর জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন।

ফরেন্সিক ডক্টর শুভময় মিত্র ও লাশ দুটো পরীক্ষা করতে গিয়ে হয়রান হয়ে গেলেন। মুখ বাদে সারা শরীরে কোথাও আঘাতের চিহ্ন নেই।

এমনকি গলা টিপেও হত‍্যা করার কোনো লক্ষণ চোখে পড়ছে না।

এত দিনে অনেক জটিল কেস সল্ভ করেছেন কিন্তু এমন অদ্ভুত ঘটনার সম্মুখীন তিনি কোনো দিনই হননি।

সূর্যেন্দু বাবু শুভময় বাবু কে ফোন করলেন। শুভময় বাবু জানালেন তিনি এখনও একবিন্দু ‌কোনো কিছুর কূলকিনারা করে উঠতে পারেন নি।

দেখতে দেখতে সাত দিন কেটে গেল। কিন্তু এখনো রহস‍্যের জট খুললো না। 

ইতি মধ্যেই আরও একটা লাশ পাওয়া গেল ঠিক আগের দুটো লাশের অবস্থায়।

সূর্যেন্দুবাবুর এবার যেন কিছুটা পাগলের মত হওয়ার জোগাড়।

দশ দিনের মধ্যে তিন তিনটে খুন ।আর খুন গুলো করা হয়েছে যে কোনো প্রমাণ জোগাড় করা মুশকিল। খুনী কোনো এভিডেন্স রেখে যায়নি। খুনী খুব শীতল মস্তিষ্কের আর ধূর্ত তা বোঝা যাচ্ছে। খুব ঠাণ্ডা মাথায় নিজের কার্যসিদ্ধি করে গেছে‌‌।

আবার আরেক দিকে ভেবে দেখলে মনে হয় এ যেন সাইকো কিলার। নাহলে কি আর এমন ভাবে বারবার মুখের উপর এমন ভাবে আঘাত করে?

খুনী সেয়ানা না পাগল নাকি সেয়ানা পাগল

ঠিকমত বোঝা যাচ্ছে না ‌‌।

এমন ভাবে চলতে থাকলে তো পুরো শহরের মানুষের প্রশাসনের উপর থেকে ভরসা উঠে যাবে।

ইতিমধ্যেই একমাস হতে না হতেই পাঁচ পাঁচটা লাশ উদ্ধার হয়েছে। স্টাইল অফ মার্ডার হুবহু এক।

খুনী একজন ই এটা তো অনেক আগেই স্পষ্ট হয়ে গেছে কিন্তু কোনো ক্লু না স্পষ্ট সংকেত এখনো পাওয়া যাচ্ছে না।

খুনী হয়তো চোখের সামনে ই ঘোরাঘুরি করছে কিন্তু তাকে শনাক্ত করা যাচ্ছেনা।

কয়েকদিন পরের ঘটনা ।সূর্যেন্দু বাবু খবরের কাগজ পড়ছেন এমন সময় কে যেন তার জানালা দিয়ে একটা দলা পাকানো কাগজ ছুঁড়ে চলে গেল।

কাগজের দলাটা ঠিক ঠাক করে দেখলেন তাতে কিছু লেখা রয়েছে।যার সারসংক্ষেপ করলে বোঝা যায় খুনীকে ধরার নিরর্থক চেষ্টা করছেন তিনি ‌। এখনো আরও তিনটে খুন হবে।আর এক একটা খুন হওয়ার পর ওনাকে ফোন করা হবে।

সূর্যেন্দুবাবুর মস্তিষ্ক যেন এবার ক্রোধোন্মত্ত হয়ে উঠল।

মার্ডার কেস গুলো যেন এক একটা কমলালেবুর কোয়া। একটার গায়ে আরেকটা লেগে রয়েছে।

রাগের চোটে জ্ঞানশূন্য ‌হয়ে সংবাদ পত্রিকাটি মাটিতে ছুঁড়ে ফেললেন।

কিছুক্ষণ পর আবার নিজের মস্তিষ্ক কে নিয়ন্ত্রণে ‌এনে‌ চিরকুট টা ভালো করে পড়তে লাগলেন।

বিশেষ করে হাতের লেখা টা। হাতের লেখাটা কেমন অদ্ভুত লাগছে।

খুব মনোযোগ দিয়ে চিরকুট টা নিরীক্ষণ করতে লাগলেন সূর্যেন্দুবাবু।

ওনার সুতীক্ষ্ণ মস্তিষ্ক বল‌ছে‌ চিঠি টা লেখা ‌হয়েছে অন্তত মাস দুয়েক আগে।

কিন্তু কথা হলো দু'মাস আগে চিঠি লিখে আজ এই ভাবে সেই চিঠি ছুঁড়ে মারার অর্থ কী?

তারমানে পাঁচটা খুন ই কি পূর্ব পরিকল্পিত ?

আরো তিনটে লাশ পড়ার আগে যে ভাবেই হোক  খুনীকে ধরতে হবে। নাহলে এই মারণখেলা চলতেই থাকবে।

দেখতে দেখতে কেটে গেল আরো দশদিন। কিন্তু এখন আর কোথাও কোনো লাশ পাওয়া যায় নি। কিছুটা যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন সূর্যেন্দু বাবু। 

কিন্তু পুরনো কেস গুলো যে এখনো সলভ হয়নি ‌‌।

শুভময় বাবু সূর্যেন্দুবাবুর বাড়ি আসলেন মার্ডারকেস গুলো নিয়ে কথা বলবেন বলে।

-"শুভময় এই চিঠিটা দেখো একবার। এতে কিছু লেখা রয়েছে।আজ সকালে জানালা দিয়ে কেউ এটা ছুঁড়ে পাঠিয়েছে।"।

-"চিঠি টা তো দেখব , কিন্তু এদিকে যে একটা ব্লান্ডার হয়ে গেছে বস্।"

শুভময় বাবু সূর্যেন্দুবাবুকে লাশগুলোর সামনে নিয়ে গিয়ে দেখালেন। সবকটা লাশের গলায় দশ আঙুলের ছাপ স্পষ্ট। এতদিন পরে এমন উদ্ভট একটা ঘটনা দেখে সূর্যেন্দুবাবু চমকে উঠলেন। কিছু টা যে ভয় ও পেলেন না এমনটা ‌বলা যাবে না। 

সূর্যেন্দুবাবু ওনার ২০ বছরের পুলিশি কর্মজীবনে অনেক জটিল কেসের মুখোমুখি হয়েছেন কিন্তু এমন অদ্ভুত ঘটনার মুখোমুখি জীবনে হয়েছেন বলে মনে হয় না।

শুভময়বাবু চিঠির হাতের লেখাটা ভালো করে লক্ষ্য করে বললেন-"নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি এটা কোনো মেয়ের হাতের লেখা।"

-"তার মানে তুমি বলতে চাইছ খুনী একজন মেয়ে?"

-"সেটা তো আমি বলতে পারবো না বস্। সেটা খোঁজার দায়িত্ব তোমার। আমি আমার যতটা করার ততটা করেছি।

হতে পারে তুমি যা ভাবছ সেটা হতেও পারে আবার নাও হতে পারে।

কারণ চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো অনেক সময় সত‍্যি নাও হতে পারে।"

সূর্যেন্দুবাবু চিঠিটা সযত্নে নিজের পকেটে ঢুকিয়ে রাখলেন। আর শুভময় বাবুর সঙ্গে ফরেন্সিক ল‍্যাবে এসে প্রত‍্যেকটা লাশের দুটো করে ছবি তুলে রাখলেন। বিশেষ করে গলার দিক টা যেখানে হালকা একটা কালসিটে ভাব দেখা যাচ্ছে।

 ফরেন্সিক ল‍্যাব থেকে বেরোতে যাবেন সূর্যেন্দুবাবু এমন সময় একটা রহস্যময় কন্ঠ ফোনের ওপার থেকে বলে উঠলো-"ঠিক দশদিনের মাথায় আরো একটা লাশ পড়বে।"

সূর্যেন্দুবাবু কিছু জিজ্ঞাসা করতে যাওয়ার আগেই ফোনটা কেটে গেল।

বাড়িতে এসে ওই নম্বরে কলব‍্যাক করলেন সূর্যেন্দুবাবু।

কিন্তু আশ্চর্য! বারবার একটা কথাই ফোনের ওপার থেকে ভেসে আসছে -" আপনার ডায়াল করা নম্বরটি অনুগ্রহ করে যাচাই করে নিন/ডায়াল কিয়া হুয়া নাম্বার কৃপয়া যাচ্ লে/প্লিজ চেক দি নাম্বার ইউ হ্যাভ ডায়ালড্।

আরো কয়েকবার চেষ্টা করে দেখলেন । প্রথমে বিজি তারপর সুইচড অফ এমন চলতে লাগলো।

কম করে দশ বারো বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেন সূর্যেন্দুবাবু।

কিন্তু কোনো কিছুতেই বিশেষ লাভ হলো না।রাগে আর উত্তেজনায় কাঁপতে লাগলেন সূর্যেন্দুবাবু।

ফোন টা ছুঁড়ে ফেললেন মাটিতে ,অথচ ফোনে র গায়ে একটা আঁচড় অবধি লাগল না।

কী আশ্চর্য! এমনটা সম্ভব?

এমন করে তিনটে ফোন ভেঙেছেন তিনি। কিন্তু এবার, ফোন টার গায়ে একটা আঁচড় অবধি পড়ল না।

কিছুক্ষণ পরেই আবার একটা কল আসলো-"হা হা হা স‍্যার বেকার ফোন টাকে মাটিতে ছুঁড়ে মারছেন।ওর কী দোষ বলুন।"

সূর্যেন্দুবাবু কিছু জানতে চাওয়ার আগেই ফোনটা কেটে গেল।

অসীমসাহসী সূর্যেন্দুবাবুর কপালে এবার বিন্দু বিন্দু ঘাম দেখা দিল। শরীরের শিরায় উপশিরায় যেন শীতল শোনিতপ্রবাহ ব‌ইতে লাগল। সারা শরীরের রোম হর্ষিত হয়ে উঠল।

অলৌকিক জগত নিয়ে সূর্যেন্দুবাবুর কোনো কালেই বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না। কিন্তু এবার------------।

সেদিন রাতে তাড়াতাড়ি নৈশভোজ সেরে শুয়ে পড়লেন সূর্যেন্দুবাবু।

রাত দেড়টা ‌বাজতেই একটা নারীকন্ঠের হাসির আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেল ওনার।

ঘরের দরজায় খিল আর ছিটকিনি ভালো করে আটকানোর পরেও‌ কীভাবে দ্বিতীয় ‌ব‍্যক্তির প্রবেশ সম্ভব?

লাইটের সুইচ অন করলেন সূর্যেন্দুবাবু। কিন্তু লাইট জ্বলছে না।‌

কারেন্ট গেল নাকি? তাহলে পাখা কী ভাবে চলছে?

অসীমসাহসী সূর্যেন্দুবাবুর মনে যেন একটা অজানা অচেনা ভয় প্রসূত হল।

ওনার মস্তিষ্ক যেন কিছুক্ষণের জন্য কর্মবিরতি নিল।

কিছুক্ষণ পরেই একটা অদৃশ্য নারীকন্ঠ হাসতে হাসতে বলে উঠলো-" কী হল স‍্যার ,অত ঘাবড়ে যাচ্ছেন কেন? আপনি দেখছি ফুলস্পিড ফ‍্যানের নীচে শুয়েও ঘামছেন!"

সূর্যেন্দুবাবু গলার সব জোর একত্র করে কিছু বলতে আর জিজ্ঞাসা করতে চাইলেন। কিন্তু গলা দিয়ে একবিন্দু আওয়াজ বের হলো না।

সেই অদৃশ্য নারীকন্ঠ ওনাকে আরও একবার অবাক দিয়ে বলল-"আপনি নিশ্চয়ই আমার পরিচয় জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন ‌। আপনাকে সময় মত সব বলব। শুধু একটু ধৈর্য ধরুন।"

কোনো রকমে নিজেকে সামলে নিয়ে সেই নারীকন্ঠটিকে অনুরোধ করলেন অন্তত একবার ওনার সামনে দৃশ্যমান হওয়ার জন্য।

কিন্তু নারীকন্ঠটি কোনো রকম প্রত‍্যুত্তর করল না।

কিছুক্ষণ পর সূর্যেন্দুবাবু বুঝতে পারলেন সেই অদৃশ্য নারীকন্ঠটির প্রস্থান ঘটেছে।

সকালে উঠে সূর্যেন্দুবাবু দেখলেন ওনার বাড়ির সামনে একটা বেশ বড় রকম ভিড় জমেছে।

সূর্যেন্দুবাবু বাড়ির বাইরে এসে যা দেখলেন তাতে তিনি কীরকম প্রতিক্রিয়া করবেন নিজেই বুঝলেন। রাস্তার মাঝখানে একটা লাশ বিকৃত অবস্থায় পড়ে আছে।কেউ যেন তার গলার নলিটা কোনো ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে দিয়েছে।

কিছুক্ষণ পরেই সূর্যেন্দুবাবুর ফোন টা হঠাৎ বেজে উঠলো।

ওপার থেকে একটা নারীকন্ঠ বলে উঠলো-"বলেছিলাম না স‍্যার যে এক একটা করে লাশ ফেলার পর আপনাকে ফোন করব? এবার বাকি দুটো লাশ

পনের দিনের মধ্যেই ফেলব। শেষ লাশটা ফেলার পর আপনাকে দেখা দেব।"

দশদিন কেটে গেল। কোথাও কোনো খুনের খবর নেই।‌ সূর্যেন্দুবাবুর মনে হল একবার ওনার বন্ধু বিপ্রজিৎ বাবুর বাড়ি থেকে ঘুরে আসলে ভালো হয়।দুজনেই অকৃতদার তাই থাকা নিয়েও বিশেষ সমস্যা হবে না। মস্তিষ্ক যে ভাবে এই রহস‍্যের জালে বিচ্ছিরিরকম জড়িয়ে গিয়েছে সেই জটলা থেকে মস্তিষ্ক কে বের করতে না পারলে তিনি পুরোপুরি ‌না‌ হলেও অর্ধোন্মাদ‌ হয়ে পড়বেন।

বিপ্রজিৎ বাবুর বাড়িতে দুদিন কাটিয়ে আসলেন সূর্যেন্দুবাবু।‌

সেখানকার পরিবেশ যেন অদ্ভুত রকমের মায়াময়। এই দুদিনে একবার ও ওনার মার্ডার কেস গুলোর কথা মাথায় এলো না।

ঠিক চোদ্দদিনের মাথায় আরো একটি লাশ পড়ল। লাশটির যা অবস্থা সেদিকে দু বার তাকালে হৃদপিন্ড চমকে উঠবে।গলার নলিটা কাটা , শুধু এতটাই নয়, ধারালো কিছু দিয়ে তার বুকটাকে মাঝ বরাবর চিরে দেওয়া হয়েছে।

তারপরের দিন ঘটল একটা অদ্ভুত ঘটনা। কোর্ট এর জজসাহেব অমলেন্দু সান‍্যাল নিখোঁজ।

বিকেল বেলায় হঠাৎ একজন অল্পবয়সী যুবতীর সাথে দেখা হল সূর্যেন্দুবাবুর । যুবতীটির বয়স খুব বেশি হলে পঁচিশ ছাব্বিশ হবে।

কথা বলতে বলতেই মনে পড়ল মেয়েটির নাম সুপ্রভা রায়। একবছর আগে

সাতজন এক যুবতী কে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করে। যুবতী টি আদালতে বিচার চেয়ে পায়নি। তাই লজ্জায় অপমানে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। এই মেয়েটির মুখের সঙ্গে হুবহু মিল।

কিন্তু একবছর আগে যাকে সিলিং ফ্যানে ঝুলতে দেখেছেন সেই মেয়েটা আজ ওনার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

বারবার নিজের চোখ কচলাতে লাগলেন সূর্যেন্দুবাবু। এমনটা কীভাবে সম্ভব?

ইতিমধ্যেই মেয়েটি অন্তর্হিত হয়ে গেল।

পরের দিন সকালে সংবাদ পত্রিকায় যে খবর টা তাঁর চোখে প্রথম পড়ল সেটা পড়ে ওনার চায়ের কাপ টা হাত থেকে পড়ে কয়েক টুকরো হয়ে গেল-" রাস্তার মাঝখানে বিচারপতি অমলেন্দু সান‍্যালের নিথর দেহ উদ্ধার"।

         



Rate this content
Log in

Similar bengali story from Horror