আয়নার ওদিকে:-
আয়নার ওদিকে:-
আয়নার ওদিকে:-
বৃষ্টি হচ্ছিল ঝির ঝির করে। কলেজ থেকে ফিরেই রিয়া তার ছোট রুমটায় ঢুকে দরজা বন্ধ করলো। বৃষ্টির দিনে সে একা থাকতে ভালবাসে। কিন্তু আজকের দিনে বাতাসে কেমন একটা গন্ধ -
পুরোনো ভেজা কাঠের মত।
রিয়া আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াতে লাগলো।হঠাৎ আয়নায় অদ্ভুত কিছু একটা চোখে পড়ল - পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে !সে ঝট করে ঘুরে তাকালো - এবার আর কিছু নেই।
"হ্যালুসিনেশন",নিজেকে বলো রিয়া।
রাতে ঘুম আসছিল না ।বৃষ্টি থেমেছে ,কিন্তু জানালায় যেন কেউ আঙুল দিয়ে টোকা দিচ্ছে - টক....টক....।
রিয়া ধীরে ধীরে জানালার দিকে এগিয়ে গেলো।পর্দা সরিয়ে দেখলো কেউ নেই।শুধু কুয়াশা আর অন্ধকার। রুমে ফিরে এসে সে আভারায়নার দিকে তাকালো। এবার আয়নায় তার নিজের প্রতিবিম্বটা চুল ছেঁড়ার মত করে হাসছে। কিন্ত রিয়া হাসছিল না।
তার ঠান্ডা ঘাম ছুটে গেলো। তাড়াতাড়ি আয়নাটা একটা চাদর দিয়ে ঢেকে দিল।
পরদিন সকালে চাদর সরিয়ে দেখে আয়না ফেটে আছে।ভেতরে যেন একটা ছায়ামূর্তি আটকে আছে।
রিয়া দৌড়ে মায়ের কাছে গেলো।কিন্তু মা তখনো ঘুমাচ্ছেন।কিংবা....চোখ খোলা,কিন্তু দৃষ্টি স্থির , নিঃশব্দ।ঠোঁটে ফিসফিস করে বলছে
"আয়নাটা খোল। ও তোমাকে ডাকছে....
রিয়া চিৎকার করে ঘর ছেড়ে পালালো।
সেদিনের পর রিয়াকে আর কেউ খুঁজে পায়নি।
আয়নাটা এখনো সেই রুমেতেই আছে ।
মাঝে মাঝে কেউ কেউ বলে, গভীর রাতে সেই আয়না থেকে ফিসফিস শব্দ শোনা যায়।কেউ আবার বলে,আয়নার ভেতরে একটা মেয়ে ধীরে ধীরে হাঁটছে ....
সে ফিরে আসতে চায়।
তুমি যদি কোনোদিন সেই বাড়িতে যাও,ভুলেও আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকবে না।কারণ ওর চোখে যদি তোমাকে একবার পড়ে....
তবে আর ফিরে আসা হয় না।
প্রথমবার গল্প লিখলাম...... কেমন হয়েছে জানাবেন সবাই
❤️

