সিপাহী বিদ্রোহের রাত
সিপাহী বিদ্রোহের রাত
মীরাটের আকাশে সন্ধ্যা নামে ধীরে,
ব্যারাকের দেওয়ালে দিনের শেষ তাপ।
এক সিপাহী খুলে রাখে মায়ের চিঠি—
“ফিরে আয়”—এইটুকুতে কেঁপে ওঠে হাত।
বন্দিশালার দিকে তাকিয়ে থাকে সে,
ওপারে তারই সঙ্গী, শিকলে বাঁধা পা।
সারাদিন যে হুকুম শুনেছে মাথা নত করে,
আজ সেই হুকুম আর মানতে চায় না।
কার্তুজের কথা ঘুরছে মুখে মুখে,
বিশ্বাসের ভিতরে ঢুকেছে সংশয়।
কিন্তু শুধু কার্তুজ নয়—বহুদিনের ক্ষত
আজ নাম ধরে ডেকে বলছে, “আর নয়।”
হঠাৎ ঘোড়ার খুরে কেঁপে ওঠে পথ,
কারও গলায় আদেশ, কারও গলায় ভয়।
লোহার দরজায় আঘাত পড়ে বারবার,
তারপর অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসে জয়—
না, জয় নয় এখনো; মুক্ত কয়েকটি মুখ,
ক্ষতচিহ্ন, আলিঙ্গন, অবিশ্বাসের হাসি।
একজন বলে, “দিল্লি”—আরেকজন চুপ,
তার মনে পড়ে ঘরে ফেলে আসা চাষি।
দূরে আগুন জ্বলে; কার ঘর পুড়ছে?
বিদ্রোহের শিখা সব উত্তর জানে না।
এক শিশু মায়ের আঁচল আঁকড়ে ধরে,
তার কাছে কোনো পতাকার অর্থ খোলে না।
তবু পথ ডাকে—ধুলো ও অন্ধকারে
ঘোড়ার পাশে হাঁটে ক্লান্ত মানুষের দল।
পেছনে পড়ে থাকে মীরাটের সেই রাত,
সামনে দিল্লি—অজানা দিনের সম্বল।
চিঠিখানা সিপাহীর বুকের কাছে রাখা,
ঘামে ভিজে মুছে যায় পরিচিত অক্ষর।
সে জানে না ইতিহাস কী নামে ডাকবে তাকে,
শুধু জানে—ফিরে গেলে আগের মতো নয় আর।
ভোর হবে; কেউ দেখবে, কেউ দেখবে না,
পথের ধুলো রাখবে না সকলের নাম।
তবু সেই রাত প্রশ্ন রেখে যাবে—
মানুষ কতদিন সহ্য করে অপমান?
