আজন্ম লজ্জা ভেঙে যেতে যেতে
আজন্ম লজ্জা ভেঙে যেতে যেতে
আজ রাতে তোমার বড্ড অসুখ করবে, হয়তো বা নয়,বরং করবেই। ভালো করে তৈরি হয়ে নাও আজ রাতে তোমাকে টিকে থাকতে হবে
থাকতেই হবে। আসমান চিরে চিরে
অভিজ্ঞ সাঁতার কেটে ভেসে আসবে অন্ধকার, সমুদ্র ঢালু হয়ে নেমে পড়বে ডাঙায়। নৈশ প্রহরীগণ ঢলে পড়বেন ঘুমে। ধারালো চাকু নিয়ে বেরিয়ে পড়বে কিশোর অপরাধী এক – যে, ঠিকঠাক ক’রে নিতে চাইছে অনিশ্চিত নিয়তি তার। কোনো এক পল্লী রূপসীর শুরু হবে ক্ষরণের সুখ, নেয়েঘেমে উঠবে সদ্য বিবাহিত বাসর।
রাজা মহারাজারাও থেমে নেই -করছেন, করবেন যা চিরদিন করে আসছেন তারা – রাষ্ট্রকে
একটি খাঁচা বানিয়ে মানুষগুলিকে আটকে রাখবেন পাখিদের মতো । মানুষগুলিও বের হয়ে
আসতে চাইবে খাঁচা ছিঁড়ে। কেউ কেউ
ম্যান্ডেলা হয়ে সেই খাঁচা ছিঁড়েও ফেলবেন। কেউ ছিড়ঁতে গিয়ে নিজেই ছিঁড়ে যাবেন রাজার মহান নির্দেশনামা নিয়ে। কেউ এবং কেউ এবং অনেকেই আপোষকামী হ’য়ে নিরাপদে ঘুমিয়ে থাকবেন চর্বিযুক্ত বধুদের পাশে আর সেই বধুগণ
ভার্চুয়ালি অন্য কোনো পাখিদের বুকে আর এসবের মধ্য দিয়েই আজ রাতে প্রচন্ড এক অসুখ জড়িয়ে ধরবে তোমায় যেনোবা পড়ছে বাজ আকাশ চৌচির ক’রে, যেনোবা দুইশ’ কিলোমিটার বেগে একটি হলুদ ট্রাক থেতলে দিতে চাইছে
সুঠাম এক পথচারী আর পথচারী সেই –
যেনো এক অলৌকিক ইশারায় জ্যান্ত ফিরে এসে হয়ে যাবেন পত্রিকার প্রধান খবর। এই অবসরে যেনোবা এই অবকাশে তোমাকে
গ্রাস করে ফেলবে দুরন্ত অসুখের আন্তনগর ট্রেন আজ রাতে হ্যাঁ আজ এই পহেলা তারিখেই
তোমার ইনবক্স বিদ্ধ ক’রে ঢুকে পড়বে
তেত্রিশ কোটি দেবতার মতো আমার অসহ্য কবিতার কাঁটাতারগুলি।তুমি যা ফিরিয়ে
দিতে গিয়ে নিজেই আসবে ফিরে – কবিতার দিকে – কাঁটাতার – রক্তাক্ত ক্ষতের মতো আমার বুকের মাঝখানে গেঁথে থাকা প্রেমে। টের পেয়ে যাবে আন্তনগরের অনির্বচনীয় অসুখের সুখ -তুমি -আজন্ম লজ্জা তোমার ভেঙে যেতে যেতে!

