Best summer trip for children is with a good book! Click & use coupon code SUMM100 for Rs.100 off on StoryMirror children books.
Best summer trip for children is with a good book! Click & use coupon code SUMM100 for Rs.100 off on StoryMirror children books.

Baiduryya Sarkar

Romance


3.5  

Baiduryya Sarkar

Romance


সংগ্রহের গল্প

সংগ্রহের গল্প

8 mins 1.1K 8 mins 1.1K

ওরা ছিল মায়ের দিকের আত্মীয় । কিন্তু আত্মীয়তার মাত্রা তখনও মাপতে শেখানো হয়নি আমাদের । খুব বেশী না হলেও বছরে অন্তত একবার দেখা হতই ।বেশিরভাগ সব অত্মীয় কলকাতায় থাকতো বলে ওরা আসত । মেসো চা বাগানের আকাউনটেন্ট ছিল । অবস্থা যে খুব সুবিধের ছিল না তখনই কানাঘুষো শুনতাম । তবে সেসব নিয়ে ভাবার বয়স সেটা নয়। কুশিকে নিয়েও যে খুব ভাবতাম তাও নয় ।ও ছিল মায়ের এক তুতো বোনের মেয়ে । আমার থেকে তিন বছরের বড় হলেও ওকে দিদি বলতাম না কিছুতেই । আমরা অবোধ আগ্রহে ডাক্তার ডাক্তার খেলে ছুঁয়েছিলাম শরীরের ফাঁকফোঁকর । গায়ের কাঁটা ফুটেছিল কৈশোরের সংলাপ ।

ওরা আসত লোয়ার আসামের করিমগঞ্জ থেকে । যেখানে বাংলাদেশের বর্ডার ছোট একটা নদী, নাম কুশিয়ারা । নদীর নামেই ছিল ওর ডাক নাম –কুশি । ঐ  জায়গাটা ওর খুব প্রিয় ছিল ।তার পাশে কতগুলো জেগে পাথরের গল্প আমাকে শুনিয়েছিল ও । আমি তখন স্কুলের ওপরের দিকে ও কলেজে ভর্তি হলেও ওকে কেমন যেন বাচ্চা মনে হতো । তাই কলকাতায় এলে আমিই ওর গাইড। ফ্রেন্ড ও বটে । তবে বয়ঃসন্ধির আমার তখন নানারকম বাইরের টান । সদ্য গঙ্গার ঘাটে সিগারেট খেতে শিখেছি । শুনে ওর চোখ বড়বড় হয়ে যেত । পরে বুঝেছিলাম ওর ইচ্ছেও আছে। তাই আমার সাথে এক গরমের ছুটির দুপুরে কয়েক টান দিয়েছিল আমাদের ঘাটেই । দেখে মনে হয়েছিল বেশ উত্তেজিত ।                           

আমি ওকে বলেছিলাম গঙ্গার ধারের গল্প, গলির রূপকথা আর আমন্ত্রণ করেছিলাম শীতের ময়দানে । বন্ধুদের সাথে পড়া চটি গল্পের কথা মাথায় আসতো । তখনও পর্ণ ভিডিও দেখার সুযোগ হয়নি । ফলে কল্পনায় ভড় করেই ছিল আমাদের যৌবনের ছটফটানি । তবে এত কাছে অন্য কোনও মেয়েকে পেতাম না বলেই হয়ত একটা অবোধ ভাললাগা ঘিরে থাকতো । খেলার ছলে ওকে ছুঁতেও ভাল লাগতো ।ওর গান শুনতে খুব ভাল লাগতো, বুঝি বাঁ না বুঝি কিছু একটা গুরুগম্ভীর কমেন্ট করতাম ।যদিও রবীন্দ্রসঙ্গীতের থেকে হিন্দি সিনেমার গান আমার অনেক বেশী প্রিয় ছিল। বারবার বলা সত্ত্বেও ও রাজী হতো না, সিনেমার গান গাইতে ।যদিও আমরা তখন একসাথে পুড়ছি গরমের ছুটির কলকাতায় ।

আমাদের বাড়ির চিলেকোঠার ঘরটাকে ও খুব ভালবাসত। ভালবাসত ফুলগাছের টবগুলোকে এমনকি ডাই করে রাখা পুরনো আনন্দমেলাগুলোকেও । আমি অতশত বুঝতাম না, শাহরুকের সিনেমা দেখতাম আর জুঁই চাওলাকে ভালবাসতাম।সব ভালবাসা মিলেমিশে কুশিকে প্রথম চুমু খাওয়া সেবারই । কোথা থেকে যে শিখেছিলাম বা সাহস পেলাম কিভাবে সেসব জানি না । তবে বুঝলাম ওর বেশ ভালই লেগেছে । চোখ বুজিয়ে আছে ও । আমিও কাঁপা কাঁপা হাতে ওর বুকে হাত দিতে যেতে ও আমার হাতটাকে চেপে ধরেছিল শক্ত করে । শ্যামলা মেয়েদের সিডাক্সান বোঝার বয়স হয়নি বলেই হয়ত আমিও জোর করতে পারিনি, তবে ঐ মুহূর্তেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম নারী পুরুষের অদ্ভুত পার্থক্য। সেবার ওরা ফিরে যাওয়ার পর বেশ কয়েক রাতের স্বপ্নে কুশি ফিরে এসেছিল, অজান্তেই শরীর নিংড়ে বেরিয়ে এসেছিল কাম ।

আস্তে আস্তে সেটাও অবশ্য ফিকে হতে লাগল। আমিও ফিরে যেতে লাগলাম চেনা ছকে । পাড়া ক্রিকেট বন্ধু আড্ডা পড়াশোনার মাঝেই অবিস্কার করলাম আমার দৃষ্টি যেন কোনও এক নির্দিষ্ট পথে হারিয়ে যাচ্ছে। সেটা ছিল কয়েকটা বাড়ি পরে থাকা । আমাদের বাউন্ডারি ছিল ওদের বাড়ি । তখন ছয় মারাটাই যেন নেশার মতো হয়ে গেছিল। তিনতলার বারান্দায় বল পৌছলেই আমাদের দু’দলের সবাইকে স্তব্ধ করে হলুদ বিকেলের হলুদ কিশোরী বল ছুঁড়ে দিতে আসতো । ওর নাম ছিল পিঙ্কি, আমাদের থেকে এক ক্লাস নীচে পড়ত শুনেছিলাম আশ্চর্য হয়ে সরস্বতী পুজোর ফাংশানে শুনেছিলাম সেও রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইছে । ভাল লেগেছিল নাকি বিরক্ত লেগেছিল বুঝতে পারিনি, তবে কুশির কথা মনে পড়েছিল হঠাৎ ।                             

আমরা একবার গেছিলাম ওদের ওখানে । তখন আমি কলেজে ভর্তি হয়েছি । পৃথিবীর বিস্ময় একটু একটু করে পাপড়ি মেলছে আমার সামনে। নতুন বন্ধু বান্ধবীদের সাথে মিশতে শিখেছি । বুঝেছি মেয়ে পটানো একটা আর্ট। যদিও তা সবার দ্বারা হয় না । তবু নিজেদের ভাঙাচোরা মন আর টুটাফাটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে হাল ধরে ছিলাম সবাই ।বাড়ির সবার সাথে যেতে বিরক্ত লাগলেও সেবার রাজী হয়ে গেছিলাম । কারণ তার আগেই পুজোর সময় কলেজের বান্ধবী তার স্মার্ট প্রত্যাখ্যানের ভাষা শিখিয়েছে আমাকে । তাই কলকাতা যেন বিষ হয়ে গেছিল ক’দিনের জন্যে ।

গিয়ে লক্ষ্য করেছিলাম কুশি যেন কেমন মনমরা । মা মাসিদের কথাবার্তায় বুঝেছিলাম ওর বিয়ের তোড়জোড় চলছে । যদিও গ্রাজুয়েশন শেষ করে ও কি একটা কোর্স করতে চায় । তারপর চাকরি । সেইসব নিয়ে যেমন মজলিশ হয় আর কি ! চারটে আধ বুড়ো বুড়িদের নানারকম অর্থহীন পরামর্শ ।

সেবার ওর সাথে নদীর ধারে গেছিলাম । বেশ অদ্ভুত নির্জন জায়গা । একটু দূরে একটা কুঁড়েঘরের মতো। সেখানে মলিন চেহারার এক বুড়ি আর তার মেয়ে থাকে । দেখলাম কুশির সাথে তাদের বেশ ভাব। আমাকে ও বলেছিল এ’রম অনেকে আছে, বাংলাদেশ থেকে এদিকে চলে আসা । আমি কিছুটা অবাক হয়েছিলাম । ছিটমহল সমস্যার কথা শুনলেও তেমন বুঝি না । তবে সভয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, বর্ডার মানে তো অনুপ্রবেশ চেকিং গোলাগুলি... নানারকম গোলমাল । দেখলাম ও সে’সব পাত্তা দিল না । যেন সবই খুব স্বাভাবিক ।

তবে আগের মতো আর ঘনিষ্ঠতার সুযোগ হচ্ছিল না । বুঝতে পারছিলাম কোনও একটা কারণে ও দ্বিধাগ্রস্ত ।

দুএকদিন বাদে আমাকে ও একজনের কথা বলেছিল। সে আসামের ছেলে, কলেজে একসাথে পড়তো ওরা । এখন মিলিটারিতে চাকরির চেস্টা করছে । বুঝতেই পারছিলাম তার প্রতি ও যথেষ্ট আর্দ্র ।বাড়িতে অন্য জাত এবং মিলিটারির চাকরি মেনে না নেওয়ার সম্ভবনাই বেশী । কিন্তু ও যে ছেলেটার ব্যাপারে মোহগ্রস্ত । শরীরে যে ওকে অনুভব করে সেটা বোঝাবেই বা কাকে।

****

মাসির হঠাৎ ক্যানসার ধরা পরা ও খুব তাড়াতাড়ি সব চিকিৎসা শেষ হওয়ার ঘটনাটা শুনলেও আমরা শেষ সময়ে কেউই যেতে পারিনি ওখানে। তারপর যোগাযোগটাও ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছিল যেন । দুএকবছর তেমন কোনও খোঁজখবর নেইয়ের মধ্যে হঠাৎ খবর এলো কুশির বিয়ের ঠিক হয়েছে । কলকাতাতেই । শুনে আমার ঠিক কেমন লেগেছিল মনে নেই । তবে ঐ আসামের ছেলেটার সাথে যে বিয়ে হচ্ছে না তাতে আমার যেন আনন্দ হয়েছিল। কারণ ওকে কেন জানি না আমার ভীষণ প্রতিযোগী মনে হয়েছিল। প্রথম যৌবনের ঈর্ষা বড় গনগনে । যদিও ততদিনে আমার কলকাতা ছেড়ে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে, চাকরি পেয়ে প্রথম পোস্টিং পেয়েছি চেন্নাই । ফলে এসব মাথায় আর রাখিনি ।

পড়াশোনার পরে কুশি টুকটাক কাজকর্ম শুরু করেছিল গুয়াহাটিতে । কলকাতায় বিয়ে হয়ে আসার পর এখানেও ছোটখাটো চাকরি শুরু করে। প্রায় দু’বছর বাদে কলকাতা ফিরে শুনেছিলাম ওর বিয়ে ভেঙে গেছে এক বছরের মাথায় । এখন ও আর মেসো থাকে গড়িয়ার দিকে একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে ।আমার সাথে ফোনে কম বরং ফেসবুকে বেশী কথা হয় । আমি বেশী কিছু জিজ্ঞেসও করিনা । তবে বুঝেছি ও পার্সোনাল লাইফটাকে ভুলতে প্রফেসানাল লাইফে ভীষণ ফোকাসড । এখন একটা অ্যাড এজেন্সিতে চাকরি করছে।

 বিজ্ঞাপন বানাতে বানাতে, ব্রান্ডিং হোর্ডিং বা ক্যাচলাইনে থাকতে থাকতে নিজেকেই যেন হারিয়ে ফেলছে । যদিও বলেছিল, আগে কলকাতার প্রতি আট্রাকশান ছিল এখন এটাচমেন্ট তৈরী হয়েছে । বুঝলাম, ‘সুখী গৃহকোণ’র ব্রান্ডিং করছে । আমি হাসতে বললাম, অ্যাড করে যে কে কাকে ভুল বোঝাতে চাইছিস । কেনই বা চাইছিস, কে জানে !

লক্ষ্য করে দেখেছিলাম ওর বানানো বিজ্ঞাপনে সবুজের বাড়াবাড়ি । বুঝতাম অতীত ওকে আনমনা করে দেয় । দেখেছিলাম, পশুপাখির ব্যাপারে ওর বড় মায়া । সে গেলে নাকি পাড়ায় অফিসের রাস্তায় কুকুর বেড়ালের দলে সাড়া পরে যায় । আমি বললাম, এসব আমার ঠিক পোষায় না, নিজের থাকার জায়গা পাচ্ছি না আবার অবলা প্রানীর ওপর মায়া । শুনে ও বলেছিল, তুই বরাবরই এর’ম নিষ্ঠুর ।

*

ওর নতুন অফিসের কিউবিক্যালের ছবি দেখলাম আপডেট করেছে, পাশে একটা টবে বড় বড় ঘাসের মতো কি একটা গাছ । বোধহয় ওর ফেলে আসা টাউনের স্মৃতি । আমি বলেছিলাম, গ্যালিফ স্ট্রিটের হাট থেকে আগে আমি আগে গাছ কিনে এনে লাগাতাম । এখন আর হাটে যাওয়া হয়ে ওঠে না কারণ ছাদটাই তো আর নেই। ফ্ল্যাট হয়ে গেছে সেখানে কোনোক্রমে খোপে ঢুকে থাকা । সে ফ্ল্যাটে ওরা কখনও আসেনি নাস্তানাবুদ জীবিকায় আমরা চ্যাটবক্সে খুঁজে নিতে চাইছিলাম বৃষ্টি নদী চোখের জল । অকারণ হাসাহাসি করেছিলাম নিজেদের নিয়ে । একদিন স্বভাবগত অস্থিরতার কারণে আমি হঠাৎ প্রোফাইল ডিঅক্টিভেট করে দিয়েছিলাম । কিছুই যেন ভাল লাগছিল না । দেখলাম মেসেজ করেছে ও, সাবজেক্ট লাইনে ‘?’... লিখেছে, মেসেঞ্জারে নেই ! ফেসবুকেও নেই ! কি হল ...

আমি বললাম, মাঝে মাঝে হারিয়ে যাওয়া তো ভাল... হেসে লিখলাম, হ্যাঁ যে কোনও দিকে চলে যেতে পারি তোর সাথে । শুনে বলল, হ্যাঁ আমি অনির্দিষ্টে যেতে চাই, তুই আমার সাথে যাবে ? আমি জানতাম এইসব কথা একটু স্মার্ট মেয়েরা ছেলেদের মতো করে বলতে চায় । ও আগে পারত না, এখন কর্পরেটে চাকরি করে শিখেছে । ও মানতে চায় না আসলে এটা আমাদের একটা লিগেসি । যদিও এখনও বই ওর প্রিয় বন্ধু । প্রোফাইল পিকচারে বইমুখে ওর ছবি । কভারে বুকশেলফের স্কেচ । বলেছিলাম, তোর গল্পটা লিখবে কে? ও হেসে বলেছিল, কেন তুই তো আছিস ... কাগজে না পারলেও আঁচড়ে লিখিস ।


*

তবে আমি বুঝতে পারছিলাম সব মিলিয়ে কুশি আমাকে টানছে । আমাকে টানছে কৈশোরের স্বপ্নরা । যদিও অহেতুক জটিলতা বাড়বে জেনেও আমি ওর সাথে নিয়মিত দেখা করতে লাগলাম । ওর অফিস বাইপাসে আমার সেক্টর ফাইভে, সুতরাং আমরা টাইম আডজাস্ট করে নিতাম খুব সহজে । তখন মেসো কোথায় একটা যেন যেত টুকটাক কাজ করতে । কামনায় ফোফাতে থাকা কুশি বলেছিল ওর ডিভোর্সের কথা, যার সাথে বিয়ে হয়েছিল সে ছিল আসলে বদ্ধ মাতাল, কিছুটা বিকৃত মস্তিষ্ক, যৌনতাহীন । তার ওপর তাদের বনেদি পরিবারে তখন হাজাররকমের করা না করার বিধিনিষেধ । দিনের পর দিনের মানসিক অত্যাচারে প্রায় মানসিক রোগীহয়ে পড়েছিল ও । তার ওপর ওর সেই আসামের প্রেমিকের স্মৃতি শরীর মনে বয়ে বেড়ানোর যন্ত্রণা । শারীরিকভাবে সে বেশী ভাল নাকি বাচ্চা ছেলের মতো আমি জিজ্ঞেস করাতে হেসে ফেলেছিল ও ।আমাকে নতুন করে ওর কতটা ভাল লেগেছিল জানতাম না । তবে ও খুঁজে পেয়েছিল চিলেকোঠায় জোর করে চুমু খাওয়া দামাল কিশোরকে । সে আমি নই, ওর কাঁচা যৌবনের গোপন কথা । কেন কে জানে, এটা শুনেই যেন আমার শারীরিক সক্ষমতা বেড়ে গেছিল। আমরা নির্ভয়ে ট্রাই করেছিলাম নানারকম পোজ এই পুড়তে থাকা শহরে । আমিও অবাক হয়ে ভেবেছিলাম আমি কি’করে সেই মেয়ের সাথে সম্পর্কের কথা ভুলে গেছি, যে আমাকে ছেড়ে যায়নি । বরং ভবিষ্যতের প্ল্যান করেছে খুব যত্ন করে বেশ ক’মাস ধরে । যদিও জানিনা সেটা মিথ্যে নাকি এটা !! তবে আমি নিজেকেই যেন হারিয়ে ফেলেছি তাই আদৌ কাকে ঠকাচ্ছি বা কাকে পাচ্ছি ...এসব নিয়ে ভাবার সময় পাচ্ছি না।

কুশিকে কথা দিয়েছিলাম ওর পাশে থাকার, ও বলেছিল আসামে একবার অন্তত ও যেতে চায় আমার সাথে । সেই পুরনো টাউনে । যেখানে ও ওর স্মৃতির টুকরোগুলো কুড়িয়ে আনবে বরাবরের জন্যে। চলে আসবে আমার শহরে । বলেছিল, তারপর তুই যার সাথে খুশি থাকিস...মাঝে মাঝে আমাকে দেখে যাস শুধু ।

*

তখন জানতাম না সংগ্রহ নামে সত্যিই একটা জায়গা ছিল ওদের আসামের বাড়ির পাশে । বাড়ি বলা ভুল, কারণ সেখানে এখন কেউই থাকে না । যেখানে সত্যিই প্রবাদ আছে ‘স্মৃতি কুড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার, যাতে সেগুলো আর কষ্ট না দেয়’ । ওখানেই রয়ে গেছে ওর মেয়েবেলা, ওর মায়ের স্মৃতি, সাইকেলের রডে সেই প্রথম রক্তের স্মৃতি, নদীতে ধুয়ে যাওয়া চোখের জল... স্বপ্নে এখনও যে কৈশোর ফিরে আসে ওর । কিচ্ছু দিতে না পারলেও যে স্বপ্নের মানে থাকে ।

যেদিন আমরা একসাথে ট্রেনে উঠলাম সেদিন থেকে স্বপ্ন ভেঙে আমাদের সম্পর্কের মধ্যে ঢুকে পড়ল কিংবদন্তি- জলচুক্তি –অনুপ্রবেশ- উদ্বাস্তু । এসে গেল প্রতিরোধ লড়াই কিংবা আগ্রাসনের গল্প । আমাদের মধ্যে বইতে লাগল পাহাড়ি নদী, আমরা আঁকড়ে ধরতে লাগলাম নিজেদের ।








Rate this content
Log in

More bengali story from Baiduryya Sarkar

Similar bengali story from Romance