Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Arundhati Rax

Tragedy


2  

Arundhati Rax

Tragedy


সং সাজা

সং সাজা

3 mins 10.4K 3 mins 10.4K

কদিন ধরেই রিয়ার বেশ জ্বর,কিছু না কিছু শরীর খারাপ লেগেই চলেছে,দিন দিন যেন বেশ দুর্বল'ও হয়ে উঠছে৷স্কুলও কামাই হচ্ছে প্রায়-ই৷

এদিকে দেবিনার কয়েকদিন ধরে দুটো প্রোডাকশন হাউসের সাথে একসাথে কাজ চলছে৷সকাল,বিকেল টানা শুটিং৷মিনার মা ঢোকার সাথে সাথেই দেবিনাকে বেরিয়ে পড়তে হয়,বাদবাকি ঘরবাড়ির দেখাশোনা তখন মিনার মা'ই করে থাকে৷রিয়ার পুরো দিনেরবেলার দায়িত্ব ও ওনার ওপরেই৷কিন্তু ৬.৩০ বাজলেই কার সাধ্য ওনাকে আটকায়৷ 

আসলে অনির্বান চলে যাওয়ার পর থেকেই পুরো একার ঘাড়ে এসে পড়েছে সব দায়িত্ব দেবিনার ওপর৷অথচ ৫ বছর আগেও ভাবতে পারেনি দেবিনা এইভাবে single mother তাকেই হয়ে উঠতে হবে৷৫ বছর আগে ২ বছর কোর্টশিপ ছিল ওদের,তখনও দেবিনা এই পেশাতেই ছিল৷অভিনয়টা ওর বড় প্রিয় জিনিস৷সেটা নিয়ে প্রথম ২ বছর কোনোদিন কোনোরকম আপত্তি শোনেনি কিংবা দেখেনি অনির্বান এর দিক থেকে৷কিন্তু বিয়ের ঠিক ১ মাস এর মাথায় যেদিন অনির্বান বললো "এই রং মেখে সং সাজার পেশাটা কি এবার না ছাড়লেই নয়?" তখন'ই মনে মনে প্রমাদ গুনেছিলো দেবিনা৷তারপর ধীরে ধীরে অশান্তি আরো বাড়তে থাকলো,বিভিন্ন রকম ছিল তার কারণ৷তারপর সব ঝগড়া বিবাদ একদিন সাঙ্গ হলো একটা ৮ পাতার লেখা কোর্ট এর কাগজ এর মাধ্যমে৷মেয়েকে নিয়ে ভাড়া ফ্ল্যাটে এসে উঠলো দেবিনা,শুরু হলো বেঁচে থাকার লড়াই৷

প্রথম শিফট'এ দেবিনা এখন 'বালাজি' প্রোডাকশন হাউসের সাথে কাজ করছে,আর পরেরটা ছোট একটা documentary ফিল্ম এর কাজ৷

বালাজীর সাথে যে কাজটা করছে সেটা ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ রোল,এক গর্ভবতী মহিলার রোল,যিনি আসছে সপ্তাহেই সন্তানের জন্ম দেবেন এই পৃথিবীতে৷

আজ সকাল থেকেই আকাশটা মেঘলা,হাওয়া নেই,কেমন একটা গুমোট ভাব চারিদিকে৷আজ দেবিনাকে শুটিং থেকে একটু তাড়াতড়ি ফিরতে হবে,কারণ মিনার মা আজ তাড়াতাড়ি বাড়ি যাবে৷দেশ থেকে ওর ছেলে-বৌ এসেছে,একটু রান্না বান্না করে খাওয়াবে ওদের তাই৷রিয়া বাড়িতে,স্কুলে যায় নি,গায়ে বেশ জ্বর,ডাক্তার বিভিন্ন টেস্ট করেছেন। এখন ও পর্যন্ত সঠিক কিছু ধরতে পারছে না৷ওদিকে রিয়া পাপা চলে যাওয়ার পর দিন-দিন যেন আরো দুর্বল হয়ে পড়ছে৷প্রথম প্রথম দেবিনা ভাবতো এটা বুঝি মানসিক,কিছুদিন গেলে ঠিক হয়ে যাবে৷কিন্তু আস্তে আস্তে শরীর ও যেন গ্রাস করতে লাগলো ছোট্ট রিয়ার মন খারাপ কে৷

প্রথম শটেই আজ ও.কে হলো দেবিনার৷জন্ম দিলো পৃথিবীতে এক ছোট্ট ফুটফুটে বেবি।হাসিখুশি বাড়ি ফিরলো দেবিনা তার  ছেলেকে নিয়ে৷মেকআপ রুমে এসে সবে ক্লিনজিং মিল্ক'টা হাতে নিয়েছে,রিনরিনিয়ে বেজে উঠলো দেবিনার ফোন৷হ্যালো বলতেই ওপর থেকে মিনার মায়ের গলা,"ও দিদি তুমি কোথায় আছো?জলদি বাড়ি এসো" বলেই কেটে দিলো৷

কেমন যেন মাথাটা গুলিয়ে গেলো দেবিনার৷প্রোডাকশনের গাড়ির জন্য আর wait করার টাইম নেই৷হাত দেখিয়ে হলুদ ট্যাক্সি-ই অগত্যা,"জলদি চলো,গড়িয়া৷"

বাড়ির সামনে ট্যাক্সি এসে দাঁড়ালো,ভাড়া মিটিয়ে  তাকিয়ে দেখলো,ওপরে দোতলার ফ্ল্যাটে রিয়ার ঘরে আলো জ্বলছে,হাওয়ায় দুলছে পিঙ্ক পর্দাটা৷তড়িঘড়ি ওপরে উঠেই বেল বাজাতেই,দরজা খুলে দিলো মিনার মা৷ওর দিকে না তাকিয়ে দৌড়ে রিয়ার ঘরে পৌঁছে গেছে ততক্ষন এ দেবিনা৷দেখে খাটে শুয়ে আছে রিয়া,মাথাটা একদিকে হেলানো,হাতে জড়ানো ওর প্রিয় পুপি৷

দৌড়ে এলো মিনার মা, চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে৷এক নিঃশ্বাসে বলে গেলো "হরলিক্স গোলার জন্য রান্নাঘরে গেছি,ফিরে এসে দেখি শুয়ে পড়েছে৷মাথাটা কাত করা,কাছে গিয়ে দেখি ঠোঁট দিয়ে রক্ত পড়ছে,আর নিঃশ্বাস নিচ্ছে না৷কত ডাকলাম আর চোখ খুললো না গো দিদি"..............


Rate this content
Log in

More bengali story from Arundhati Rax

Similar bengali story from Tragedy