STORYMIRROR

SOHAN GHOSH

Comedy Classics Others

4  

SOHAN GHOSH

Comedy Classics Others

সমাজসেবকের ভন্ডামি।

সমাজসেবকের ভন্ডামি।

4 mins
0

 সমাজসেবকের ভন্ডামি।  

লেখক:– সোহন ঘোষ।

এই গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় 12 JULY 2025.


গল্পের নাম: সমাজসেবক চমকদার ভন্ডামি।

ডাকনাম তার চমকদা। ভালো নাম হাবু পাল। ভারী কৃপণ লোক। এতই কৃপণ যে, টাকার ভয়ে সারা জীবন বিয়েই করল না। যদিও তার পৈতৃক সম্পত্তি কম নয় — গ্রামে কয়েক বিঘে জমি আছে, শহরে দুটো বাড়ি আছে। সেই বাড়িগুলো ভাড়া দেয় এবং সেখান থেকে একটা মোটা অংকের টাকা পায়। এছাড়াও তার ব্যাংকে মোটা অঙ্কের টাকা আছে।

সেদিন চমকদার এক বিয়েবাড়িতে নেমন্তন্ন ছিল। সেজেগুজে, জামা-প্যান্ট পরে বাড়ি থেকে বেরোল। কিছুদূর হেঁটে এসে স্ট্যান্ডে দাঁড়াল। সেখান থেকে টোটো, অটো, বাস—সবই পাওয়া যায়। টোটো এল, চমকদা হাত দেখিয়ে থামাল।

— “যাবে স্টেশনে?”

— “হ্যাঁ যাব।”

— “কত নেবে?”

— “এখান থেকে স্টেশন ২০ টাকা হয়।”

— “কি বলো! এখান থেকে স্টেশন ২০ টাকা?”

— “সবাই তাই নেয়। আপনি অটো, বাস যেটাতেই যাবেন সেই একই টাকাই লাগবে।”

এই শুনে চমকদা দরদাম শুরু করলো:

— “আচ্ছা ভাই, কিছু কি কম হবে না?”

— “না দাদা, কিছু কম হবে না। কুড়ি টাকার আর কি কমাবো!”

— “আচ্ছা ভাই, ৫ টাকা কমাও না।”

— “না দাদা, কিছু কম হবে না।”

— “তাহলে ৩ টাকা কমাও।”

— “হবে না দাদা, এখান থেকে স্টেশনটা কাছে নয়...”

— “এক টাকাও নয়?”

— “দাদা, আপনি তো দেখছি বড় কৃপণ! ঠিক আছে, এক টাকায় কম দেবেন। কি আর করা যাবে! সকাল থেকে একটাও প্যাসেঞ্জার পাইনি।”

— “আরে না না, আমি কৃপণ না—সঞ্চয়ী!”

— “ঠিক আছে, এবার আপনি তাড়াতাড়ি চেপে বসুন। ওই ১৯ টাকা পেলে আমি আমার খোকার জন্য মিষ্টির দোকান থেকে ১০ টাকার দুটো ‌মিষ্টি নিয়ে যাবো। আমার খোকা আবার শুধু আলুভাতে ভাত খেতে পারে না।”

— “তাহলে দেখো আমি তোমার কত সাহায্য করলাম। আসলে আমার খুব দয়ার শরীর, বুঝলে!”

টোটোচালক তার কথার কিছু উত্তর দিল না।

এরপর চমকদা মিটিমিটি হেসে টোটোয় উঠে বসল। এবং মনে মনে বলতে লাগলো “আরে বাবা, আমার নাম হাবু—আমি সবাইকে বানাই কাবু।”

স্টেশনে পৌঁছে চমকদা একটা কাপড়ের দোকানে ঢুকে দর কষাকষি করে একটা সস্তার কাপড় কিনল।‌ যতই হোক নেমন্তন্ন বাড়ি যাচ্ছে—খালি হাতে তো যাওয়া যায় না। তারপর স্টেশনে গিয়ে টিকিট না কেটেই ট্রেনে উঠে পড়ল, গন্তব্য—ফুলকলি স্টেশন।

সেখানে নেমে কিছুদূর হেঁটে বিয়েবাড়িতে পৌঁছল। প্রথমেই খাবার কোথায় হচ্ছে এবং কি কি খাবার হচ্ছে তা দেখতে গেল। তারপর গেল কফির স্টলে। কফি খেয়ে উপহার দিয়ে প্যান্ডেলে গিয়ে বসে পড়ল খাওয়ার জন্য। 

শুরুতেই এল নুন আর একফালি লেবু। চট করে লেবুটা পলিথিনে চালান করল চমকদা। তারপর এল বেগুনি।

প্রথমে তাকে একটা বেগুনি দেয়া হলো। তখন সে আরো একটা বেগুনি চেয়ে নিল। একটা খেল এবং আর একটা ব্যাগে ঢুকাল। রাঁধাবল্লভী আর তরকারি—চারটে খেল, পরের চারটে ব্যাগে পুরে ফেলল। তারপর এল ভাত, মাংস—সব এক এক করে পলিথিনে ঢুকছে।

সে এইসব কাজ জনদৃষ্টির আড়ালে করার চেষ্টা করছিল কিন্তু তার এইসব কান্ডকারখানা একজন লোক দেখতে পেয়ে যায়। তখন সেই লোকটি এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল,

— “এইসব কী করছেন আপনি?”

প্রথমে তো হাবু চমকে যায় এবং একটু চুপ করে থাকার পর বলল,

— “কই, আমি কী করছি?”

— “আপনি বিয়েবাড়ির সমস্ত খাবার ব্যাগে ঢোকাচ্ছেন কেন?”

 — “পরিবেশ রক্ষা করছি। খাবার নষ্ট করলে সেটা ফেলে দেওয়া হবে। এবং সেই খাবার কুকুর-কাক ছড়াবে। ফলে পরিবেশ দূষিত হবে এবং পরিবেশের সৌন্দর্য হ্রাস পাবে, এছাড়াও গন্ধ উঠবে। আমি একজন দায়িত্ববান নাগরিক এবং পরিবেশপ্রেমী হয়ে কি করে এটা সহ্য করবো? এই জন্যই আমার এই উদ্যোগ।”

এক এক করে লোক সেখানে জড়ো হতে লাগলো।

তাদের মধ্যে একজন বলল,

— “তাহলে এত খাবার নিচ্ছেন কেন?”

চমকদা গম্ভীর মুখে বলল, — “আসলে ক্যাটারিংয়ের ওই ছেলেগুলোকে দেখে আমার ভাইয়ের মতো মনে হয়। এই ভাইয়েরা এসে বলছিল, ‘দাদা এটা নেবেন, দাদা ওটা নেবেন।’ আমি তাদের মুখে না করতে পারলাম না। কারণ, আমি ভাবলাম, না বললে যদি কষ্ট পায়! আমার তো দয়ার শরীর! এখন আপনারাই বলুন, আমি তাদের দাদা হয়ে কিভাবে সেই ভাইদের মনে আঘাত দিতে পারি?

এছাড়াও ঠাকুমা বলত—‘খাবার হচ্ছে মা লক্ষ্মী।’ এবার আপনারাই বলুন, মা লক্ষ্মী আমার কাছে আসছে। এখন আমি কি করে লক্ষ্মীকে ফিরিয়ে দিতাম বলো? যতই হোক, ছোটবেলা থেকেই তো শিখেছি — ‘হাতের লক্ষ্মী পায়ে ফেলতে নেই!’”

চমকদার কথা শেষ হওয়ার আগেই একজন চেঁচিয়ে উঠল,

— “আমাদের সঙ্গে মজা হচ্ছে?”

তারপরই কয়েকজন মিলে চমকদাকে ধরে ভালো করে ধলাই করল—

চমকদা মার খেতে খেতে চিৎকার করল—

— “আরে ভাই, মারছো কেন, আমি তো শুধু সমাজসেবা করছিলাম!”

তখন একজন লোক বলল,

— “তোমার এই সমাজসেবার জন্য আমরা এবার তোমাকে পুরস্কার দিচ্ছি।”

— “আমাকে মারলে তোমাদের লক্ষ্মী পাপ দেবে, কারণ আমার ব্যাগে লক্ষ্মী আছে!”

ভিড়ের মধ্যে থেকে একজন লোক বলে উঠলো,

— “আহা, তোমাকে ওটা আদর করা হচ্ছে। তোমার মত একজন দায়িত্বশীল এবং সমাজসেবক মানুষের এর থেকে বড় পুরস্কার কি হতে পারে?! আর মা লক্ষ্মী এতে খুশি হবেন।”


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Comedy