Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Supam Roy

Crime


1.1  

Supam Roy

Crime


পরীর কপাল

পরীর কপাল

3 mins 10.4K 3 mins 10.4K

কোনও কিছুতেই আর তাকে শান্ত রাখা যায় না । সমস্ত চেষ্টায় বিফলে গেল । বরাবরই একগুঁয়ে স্বভাবের । ঠাকুরদার রক্ত পেয়েছে কিনা । গেটের সামনের মাঠটার কোণের দিকের ভাঙ্গা পাঁচিলটার ওপর মাথা নিচু করে বসে সিগারেট টানছে এক নিবিড় অন্যমনস্কতায় । এই জুন মাস পেরোলে একুশে পা দেবে । মুকুন্দ নাম তার । পাশের পাড়ার উকিলের মেয়েকে ভালবাসে । বেশ কয়েকবার প্রপোজও করেছে সে । আর প্রতিবারই রিজেক্ট হয়ে ফিরেছে । মুকুন্দের আবার বারবার ‘না’ শোনার অভ্যাস নেই । এই রাগ এখন মাথায় প্রখর রূপে অবস্থান করেছে । ভীষণ জেদি । মনে মনে ভেবেই নিয়েছে এইবারটা শান্তভাবে সেই মেয়েটার সাথে কথা বলে বোঝাবে । আর নইলে সেও দেখে নেবে সেই উকিল বাড়ির মেয়েটাকে । সিগারেটের শেষাংশের আগুন নিভিয়ে নিজে নিজেই বলে উঠল – কি করে ‘না’-কে ‘হ্যাঁ’ করতে হয়, সেটা সে ভাল করেই জানে । ‘সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে, আঙ্গুল বাঁকাতে হয়’ ।

জন্মের চার বৎসর পর মা মারা যায় আর দিদির বিয়ের এক বৎসরের মধ্যে বাবাও দেহত্যাগ করে । পড়াশোনা বলতে ঐ উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত । সতেরো বৎসর বয়স থেকে দিদির সাথেই আছে । দিদির ছোট্ট সংসার, ছেলে-মেয়ে নেই কোনও । আর শশুর-শাশুড়িও গত হয়েছে বিয়ের অনেক বছর পূর্বেই । ভাইয়ের ওপর দিদির শাসন একদমই চলে না । জামাইবাবুর আদরে ও ভালবাসায় বিগড়ে গিয়েছে প্রায় । যেটা চায় সেটাই তৎক্ষণাৎ হাতের কাছে এনে হাজির করে দেয় । জামাইবাবুর ভাল নাম জানে খুব কম লোকই । পাড়ার লোকে বিল্টু বলেই ডাকে । বিল্টুর নিজস্ব লণ্ড্রী আছে আর সাথে সাইট বিজনেস বলতে লটারির ব্যবসা । মুকুন্দ সেই লটারির দোকানে বসে লটারি বিক্রি করে ।

রোজ সন্ধ্যেবেলাই মুকুন্দ, বিল্টুর সাথে পাশের পাড়ার ক্লাবের পিছনের আম গাছতলায় তাস খেলতে যায় । তাস খেলাতো নয়, বলতে হয় জুয়ো খেলা । ঐ পাড়াতেই সেই উকিলের বাস । মেয়েটির নাম পরিণীতা বসু । বান্ধবীরা তাকে ‘পরী’ বলেই ডাকে । মুকুন্দেরও এই নামটা বেশ পছন্দের । পরিণীতা এখন বি.এ ফার্স্ট ইয়ারে, বাংলা অনার্স নিয়ে চৈতন্য কলেজে পড়ছে । রেল পথেই তার বাড়ি থেকে কলেজ যাতায়াত সুবিধা । রেল স্টেশনের পথেই পড়ে মুকুন্দের লটারির দোকান । মুকুন্দ কখনই পরিণীতার আসা যাওয়ার সময়টা মিস করে না । এই দুটো সময়ে সে সর্বদা দোকানে মজুত থাকেই থাকে । মুকুন্দ রোজ ঠিক তার আসার সময়েতে কথা বলার ঝুঁকিটা নেই । এতবার রিজেক্টের পরে রাগতো নিশ্চয়ই জন্মায় । কিন্তু তবুও সে নিরাশ না হয়ে পরিণীতার কাছ থেকে ‘হ্যাঁ’ শোনার অপেক্ষায় বারংবার ছুটে ছুটে যায় ।

মেয়েটিও খুবই শান্ত প্রকৃতির । তবে অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ অবশ্যই করে । মুকুন্দকে সে কোনও দিক থেকেই ভাল চোখে দেখে না। অবশ্য সে মুকুন্দ সম্পর্কে অনেক কিছুই জানে । দিনরাত বাইকে চেপে ঘুরে বেড়ায়, রাতে জুয়ো-মদ । সে জানে মুকুন্দকে হাতে ধরে নষ্ট করার পিছনে এক মাত্র তারই জামাইবাবুই আছে ।

মুকুন্দ আজ দৃঢ় সংকল্প নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছে । আজ কিছু না কিছু সে একটা ঘটাবেই । হয় ইস পার, নয় উস পার । আগের দিন রাতেই সমস্ত কিছুই রেডি করে রেখেছিল সে । একটা অ্যাসিডের বোতল আর ছোট্ট দুটো ওষুধের শিশি । বেরোনোর সময় একটা শিশিতে অ্যাসিড এবং আরেকটি শিশিতে সিঁদুর ভরে নিয়ে গিয়েছিল । আজও সে একই রকমভাবে আরেকবার পরীকে প্রপোজ করল । পরিণীতাও সেই একই রকমভাবে রেগে গিয়ে মুকুন্দের প্রস্তাব রিজেক্ট করল এবং আরও অনেকগুলো কথা শুনিয়ে দিল । মুকুন্দও আর তার মাথা ঠিক রাখতে পারল না । দু’জনেরই তর্কাতর্কি চলতে লাগল তুমুল । এই ফাঁকে মুকুন্দ পকেট থেকে একটি শিশিরের ছিপি খুলে সরাসরি পরীর কপাল লক্ষ্য করে ছুঁড়ে দিল । ও - মাগো করে চিৎকার করে উঠল পরী । মুকুন্দ যেই আরেকটি শিশিরের ছিপি খুলতে যাবে, পরী সেই শিশিটা কেড়ে নিয়ে ছিপি খুলে মুকুন্দের মুখে ছুঁড়ে দিল । মুকুন্দ তৎক্ষণাৎ মুখ চেপে ধরে চিৎকার করতে করতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ছটফট করতে লাগল ।


Rate this content
Log in

More bengali story from Supam Roy

Similar bengali story from Crime