Banabithi Patra

Romance


2  

Banabithi Patra

Romance


ফেস টু ফেস

ফেস টু ফেস

4 mins 906 4 mins 906

ইস্ কোন ড্রেসটা যে আজ পরবে কিছুতেই ঠিক করতে পারছে না ঝিমলি। আলমারির সব জামার ঠাঁই হয়েছে বিছানার ওপর। কি একটা খুঁজতে মা এঘরে ঢুকে তো ওর কান্ডখানা দেখে অবাক। একপ্রস্থ বকুনি ভালোই দিল ঝিমলিকে। অন্যসময় হলে মায়ের বকুনি খেয়ে এতক্ষণে মুখ ভার হয়ে যেত ওর। কিন্তু আজ সে সময়ই নেই ওর হাতে। পাঁচটা যে আর বেশি দেরি নেই। কি পরবে সেটাই এখনও ঠিক করতে পারছে না।

তখনি মোবাইলটা বেজে উঠলো। আওয়াজটা কানে এলেও মোবাইলটা তো চোখে পড়ছে না। ধুর সে তো জামার পাহাড়ের নীচে চাপা পড়ে আছে। কোনরকমে তাকে উদ্ধার করতে করতে রিংটাও গেল থেমে। অঞ্জন ফোন করেছিল। এইসময়ে ওর আবার কিসের দরকার পড়ল! রিংব্যাক করতে গিয়েও থেমে গেল ঝিমলি, থাক পরে কথা বলে নেবে ওর সাথে। ওর তো কখনওই ফোন করার তেমন কোন কারণ থাকে না।

অবশেষে একটা ব্ল্যাক জিন্স আর আকাশি স্লিভলেস কুর্তিটা পড়ে যখন ওর মেকআপ কমপ্লিট হলো, ঘড়ির কাঁটা তখন পাঁচটা বেজে দশ।

ইস্, আজকেও লেট করে ফেলল!

জামাকাপড় আলমারিতে গোছাতে গেলে আজ আর কুশলের সাথে দেখাটাই করা হবে না। ফিরে এসে না হয় আর একবার মায়ের বকুনি খাবে, এখন কিছু করার মত সময়টাই নেই।

স্কুটিটা নিয়ে যখন "ফেস টু ফেস" কফিশপটার সামনে পৌঁছালো, তখন বেশ দেরী হয়ে গেছে । এই কফিশপটার সামনেই তো কুশলের দাঁড়ানোর কথা ছিল। তবে কি ফিরে গেল ওর দেরি দেখে! নিজের ওপর ভীষণ রাগ হচ্ছে ঝিমলির।

ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের কুশলের প্রতি ভালোলাগাটা কতদিন ধরে মনের মধ্যে চাপা আছে সে শুধু ও নিজেই জানে। শুধু কখনও সাহস করে ওকে জানাতে পারেনি কথাটা। বন্ধুরা তো কুশলকে নিয়ে মাঝে মাঝেই লেগপুল করে। এমনিতে একটু অবুঝ হলেও এই ঠাট্টাটা ভালোই এনজয় করে ঝিমলি। সেই কুশল গতকাল নিজে ওর মোবাইল নম্বর দিয়ে দেখা করার কথা বলেছিল, আর ও দেরি করে সব গোলমাল করে ফেলল? রাগে ওর নিজের হাত নিজেরই কামড়াতে ইচ্ছা করছে। 

তাড়াতাড়ি কুশলের মোবাইলে একবার ফোন করে ঝিমলি । 

ইস ফোনটাও ধরছে না। নিশ্চয় রাগ করেছে।

স্কুটিটা রেখে কফিশপটার উল্টোদিকে পার্কটার সামনে দাঁড়িয়ে মোবাইলে ট্রাই করছে কুশলকে। রিং হয়ে যাচ্ছে তাও ধরছে না কেন!

টেনশনে হাতের তালু ঘামতে শুরু করেছে ঝিমলির।

আরে পল্লবী অতো সেজেগুজে কপিশপে ঢুকছে, সঙ্গে তো কেউ নেই। দেখতে হচ্ছে তো কার সঙ্গে ডুবে ডুবে জল খাচ্ছে। চুপচাপ শান্তশিষ্ট মেয়েটাও প্রেম করছে, অথচ ওরা বন্ধুরা কেউ জানতেই পারেনি। আজ ব্যাপারটা দেখতেই হচ্ছে তো!


মোবাইলটা বেজে ওঠে, কুশল নিজেই ফোন করেছে । 


-হ্যালো....


-তুমি কি ওখানে পৌঁছে গেছো? ভেতরে গিয়ে বসো, আমি দশ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছি।


উফ মনটা এতক্ষণে শান্ত হলো, যাক্ কুশল ফিরে চলে যায়নি অন্তত।

কপিশপের দরজাটা ঠেলে ঢুকতে গিয়ে আয়নাতে নিজেকে দেখে নাকটা কুঁচকে গেল ঝিমলির । একটা গর্জাস কোন কুর্তি পরলে ভালো করতো। এটা পড়ে একদম ভালো লাগছে না যেন ওকে দেখতে।


আরে পল্লবী ওটা কার সাথে বসে কথা বলছে! অঞ্জন না?

শয়তানটা পল্লবীর সাথে প্রেম করছে! সারাদিনে অন্তত আধঘন্টা ফোনে বকরবকর করবে, তারপর কলেজে তো আছেই। কখনও তো বলেনি কথাটা ঝিমলিকে। কলেজে ঝিমলির সাথে ফেবিকলের মতো লেগে থাকবে আর সামান্য এই কথাটা বিশ্বাস করে বলতে পারল না?

মুডটা একদম তেতো হয়ে গেল ঝিমলির। অঞ্জনটাও তলেতলে...


ঝিমলিকে দেখতে পেয়ে পল্লবী ওকে ডেকে নেয়।


-কি রে চুপিচুপি তো বেশ প্রেম করছিস , আমাকে আবার ডাকছিস কেন?


-আরে বস না আমাদের কাছেই, কুশল এখনি আসবে।


-এই কুশল আসবে কি করে জানলি রে তোরা?


পল্লবীর থেকেও বেশি রাগ হচ্ছে অঞ্জনটার ওপর। কড়া চোখে যদি ভস্ম করে দিতে পারত শয়তানটাকে তবে ওর রাগ মিটতো।

শেষে কি না পল্লবীর সাথে!


-আরে তোমরা সবাই এসে গেছো, আমিই লেট করে ফেললাম!


কুশল এসে একটা চেয়ার টেনে এই টেবিলেই বসে পড়ে।

বেশ অবাক ঝিমলি।

অঞ্জন-পল্লবী আসবে সেটা কুশল জানত! সবটুকু জিলিপি পাকিয়ে যাচ্ছে ওর মাথাতে।

অঞ্জনটা কি নির্লজ্জের মতো পল্লবীর সাথে বকবক করছে দেখো! অসহ্য লাগছে ঝিমলির। মনে হচ্ছে এখনি পালিয়ে যায় এখান থেকে।


-এদের কে এখানে দেখে তুমি খুব অবাক হচ্ছো তাই তো ঝিমলি?

আসলে এটা আমারই প্ল্যান বলতে পারো। সবটুকু সবার সামনেই আলোচনা হওয়া ভালো।


-আলোচনা আবার কিসের? 


কুশলের কোন কথাই মাথায় ঢুকছে না ঝিমলির।


-আমার সাথে পল্লবীর রিলেশনটা অনেকদিনের। কিন্তু তোমার মনে মনে পাগলামীটা আমি যে জেনে গেছি ঝিমলি।


ইস্ কি লজ্জা, কি লজ্জা! লজ্জাতে মাথা হেঁট হয়ে আসছে ঝিমলির। সবার সামনে ডেকে এনে এইভাবে অপমান!


-তবে এইটা বলার জন্য কিন্তু তোমাকে ডাকিনি। তোমার প্রেমে যে একজন পাগল সেটা কি জানো?


অবাক হয়ে কুশলের দিকে তাকায় ঝিমলি ।


-অঞ্জন তোমাকে ভালোবাসে, সেটা কখনো বুঝতেই পারোনি তুমি। ও কিন্তু তোমাকে খুব ভালোবাসে...


এতক্ষণ যতটা খারাপ লাগছিল আর অতটা খারাপ লাগছে না তো!

কুশলকে না পাওয়ার কষ্টটাও যেন ভ্যানিস মন থেকে।

কফির কাপে চুমুক দিতে গিয়ে আড়চোখে অঞ্জনের দিকে তাকাতে গিয়েই দুজনের চোখাচোখি। এতদিনের চেনা কাছের বন্ধুটাকে আজ হঠাৎ যেন কেমন লজ্জা লজ্জা করছে ঝিমলির...



Rate this content
Log in

More bengali story from Banabithi Patra

Similar bengali story from Romance