STORYMIRROR

Nityananda Banerjee

Horror Fantasy

3  

Nityananda Banerjee

Horror Fantasy

এ তুমি কেমন তুমি

এ তুমি কেমন তুমি

3 mins
187

পঞ্চবিংশ অধ্যায়


ছুটকি ও কালীচরণ হাজারিবাগে ফিরে এসে যখন শুনল লোকটা গুণীন নয়; স্বয়ং সাহেব ছিল , ছুটকি বলে ফেলল - ইসস্ ধইরতে পাইরলেনা গ ! এই জন্যি আমাদের কোডার্মায় পাঠাঁই দিল গ ।

কালীচরণ বলল - বাবুজীকে বল্যে ছিলম কেমন সন্দ হয়। শুইনল না । চল চল ছুটকি হাসপাতালে যাই।

হাসপাতালে পুলিশ পাহারা আছে । ওদের ঢুকতে বাধা দিল পুলিশ। কড়া হুকুম আছে ডাক্তারদেরও চেকিং করে তবে যেতে দিতে হবে , প্রয়োজনে পুলিশও যাবে তাঁর সঙ্গে ।

কালীচরণ বলল - তা'লে চল আমরা কুথাও যেইয়ে বসি।

ছুটকি বলল - দাঁড়া গ বাপ । আমারে এক বার দেইখতে দে ।

- কি করবি ?

- দেখ না ভাল্যে ভাল্যে ( মানে চেয়ে চেয়ে ) । এই গেলম আর এলম ।

ছুটকি ঘরের দিকে একটু এগিয়ে গেল । চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলে উঠল - অ গ লাহিড়ী ঠাকুর । ছুটকি আইছে গ । গুণীনটো আমাদের ফাঁসায়ে পালাল্য ।

লাহিড়ী মশাই শুনতে পেলেন ছুটকির গলার আওয়াজ। পালও বুঝতে পারলেন ছুটকিরা এসেছে । বেড ছেড়ে বেরিয়ে এলেন মিঃ পাল । 

ছুটকিকে লাহিড়ী মশাইয়ের অবস্থা তথা সব ঘটনা বললেন । ছুটকির খুব রাগ হয়ে গেল লোকটার উপর । ভালো মনের মানুষকে কেউ এ ভাবে জব্দ করে ! 

সেই প্রথম ছুটকির মনে পরিবর্তন এল । - এই জন্যই গুণীনটা কু লজরে চাইত গ আমার দিকে । উটো যে ওই সায়েবটই ছিল আমিও ভাব্যেছি । কিন্তু কেমন কায়দা কইরে আমাদের সরাঁই দিল্য । ঠিক আছে আমার নামও

ছুটকি - দেখ্যে লিব ইবারে ।

ছুটকি চলে এল কালীচরণের কাছে । রাতটা হাসপাতালে কাটিয়ে ভোর ভোর রওনা দিল । কালীচরণ বারবার প্রশ্ন করে - কুথায় লিয়ে যাছিস ?

- চল না, দেইখে লে কি করি।

মেয়ের দৃঢ়তা দেখে কালী চুপ করে যায় । 

ভুলবশত একটা আন্ত:রাজ্য বাসে উঠে পড়ে । বাস ছেড়ে দেয়। বেশ কিছুটা পথ পেরিয়ে কণ্ডাক্টর যখন টিকিট কাটতে আসে ছুটকি টাকা দিয়ে বলে - দুটা পাকুড় ।

কণ্ডাক্টর বলে - এই বাস তারাপীঠ যাবে আসানশোল দিয়ে । 

ছুটকি বলে - অ । তবে উখেনেই নে চল ।

- তার জন্য দুজনের আরও একশ টাকা লাগবে।

কালীচরণ গাঁটের তোড়া থেকে একটা একশ টাকার নোট বের করে কণ্ডাক্টরকে দিল ।

কালীচরণ আর কণ্ডাক্টরকে অবাক করে দিয়ে ছুটকি বলল - পয়সা ফেরত দে । ইখেনেই নেমে যাই।

কণ্ডাক্টর বলল - এখানে ? এ যে জঙ্গল ।

- আমরা ত জংলিই । বাস থামা । নামব ।

ওদের নামিয়ে দিয়ে বাস চলে গেল । জঙ্গলে হাঁটতে হাঁটতে ওরা এসে পৌঁছাল একটা খড়ের চালাঘরে। কেউ থাকতে পারে ভেবে ছুটকি ডাকতে লাগল - কেউ আছ গ?

কোন উত্তর এল না । অথচ দরজা ভেতর থেকে বন্ধ । নিশ্চয় কেউ আছে। ছুটকি আবার ডাকল - কে আছ গ?

তবু কোন সাড়া নেই । ছুটকি অশান্ত হয়ে দরজায় ধাক্কা দিতে লাগল । দরজা কেউ খোলে না । তখন কালীকে বলল - ধাক্কা মার । জোরসে ধাক্কা মার ।

কালী ধাক্কা মেরে দরজা খুলে দিল । দুজনে ভিতরে ঢুকতেই দেখে ধবধবে ফর্সা একজন লোককে খাটিয়ার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে । এক দেখাতেই ছুটকি বুঝে গেল এই সেই গোরা সাহেব ।

হো হো করে হেসে উঠল ছুটকি। ভগবানের মার একেই বলে। 

কালীচরণ লিঠি উঁচিয়ে পেটাতে গেল । লোকটি গোঁ গোঁ করে ঈশারায় মুখের বন্ধন খুলে দিতে বলল । ছুটকি মুখটা খুলে দিতেই লোকটি বলল - হ্যাঁ, আমি এক সাহেব । রেডিও শ্রীলঙ্কার কর্মী। আমার নাম চার্লস কিংস্টন। তোমরা কে ?

- আহাহা ! চিনিস নাই ? আমি ছুটকি যে রে । আর এই আমার বাপ কালীচরণ ।

তবু লোকটা চিনতে পারল না । বলল - হয়তো তোমরা ঠিক চিনতে পেরেছ। তবে যাকে তোমরা চেন সে আমাকে এখানে বন্দী করে রেখে নিজে চার্লস সেজে নানা রকম কুকাজ করে বেড়াচ্ছে । আমি মাঝে মাঝে খবর পাই। ওর লোকেরাই খাবার আর খবর দিয়ে যায় ।

ওদের বুঝতে বাকি রইল না যে লোকটা সত্যিই বলছে।

কালীচরণ বলল - তুই কি ওই ধুরন্ধর লোকটাকে চিনতে পারবি ?

আসল কিংস্টন বললেন - নিশ্চয় পারব । আমার সব মনে আছে । লোকটা কেমন করে আমাকে কিডন্যাপ করে এখানে পাঠিয়ে দিয়ে নিজে নাচনী যোগাড় করতে ঝুমরিতিলাইয়া গিয়েছিল ।

ছুটকি ও কালীচরণ ওকে উদ্ধার করে নিয়ে এল রাজপথে বাস ধরবে বলে । 

( ক্রমশ )



এই বিষয়বস্তু রেট
প্রবেশ করুন

Similar bengali story from Horror