Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Sucharita Das

Inspirational


3  

Sucharita Das

Inspirational


চাঁদের কলঙ্ক

চাঁদের কলঙ্ক

7 mins 451 7 mins 451

সমৃধার জীবনে প্রথম বসন্ত এসেছিল কলেজ জীবনেই। না না কলেজের কোনো বন্ধু না, ওর থেকে সিনিয়র কেউও না। সম্পূর্ণ রূপে দেখাশোনা করেই ওর বিয়ের জন্য পাত্র ঠিক করেছিল ওর বাবা, মা। আর তারপর এখন যেমন হয় আর কি।দু পক্ষের বাড়ির অনুমতিতে ই দুজনে দেখা করেছিল। তারপর একে অপরের সঙ্গে ফোনে র মাধ্যমে মনের কথার আদান-প্রদান প্রতিদিন। এরপর বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করে কোনো এক বসন্তে, ওদের জীবনের ও নতুন বসন্ত শুরু হয়েছিল চারহাত এক করে দেওয়া হয়েছিল দুজনের। দুরুদুরু বুকে, মনে একরাশ স্বপ্ন সাজিয়ে সমৃধা প্রবেশ করেছিল সম্পূর্ণ নতুন একটি জীবনে। যে জীবনের স্বপ্ন প্রত্যেকটি মেয়ে তার ছোটবেলার পুতুল খেলার মধ্যে দিয়েই হয়ত বা দেখতে শুরু করে দেয়।


বিয়ের দিন যখন মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে দিয়ে ওদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হচ্ছিল, সমৃধা প্রত্যেকটি মন্ত্রের অর্থ বুঝতে চেষ্টা করেছে।"যদিদং হৃদয়ং তব, তদস্তু হৃদয়ং মম" অর্থাৎ তোমার হৃদয় আমার হোক,আর আমার হৃদয় তোমার হোক। সত্যিই তো সমৃধা তার হৃদয় দিয়ে দিয়েছে কমলকে, আর মনে মনে কমলের হৃদয় ও সে নিয়ে নিয়েছে।কমল ই তো তার জীবনের প্রথম পুরুষ, প্রথম ভালোলাগার পুরুষ, প্রথম ভালোবাসার পুরুষ। না এর আগে কখনো কাউকে এভাবে ভালো লাগেনি সমৃধার। দুরুদুরু বুকে যখন ওদের ফুলশয্যার রাতে সে কমলের জন্য অপেক্ষা করছিল,তার মনে হচ্ছিল সে এই দিনটার জন্য কত বছর ধরে অপেক্ষা করে আছে। ফুল দিয়ে সাজানো সুসজ্জিত বিছানায় সে বসে ছিলো।কমল ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে, ধীরে ধীরে সমৃধার কাছে এগিয়ে এসেছিল।তারপর সমৃধার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে, তার পাঞ্জাবি র পকেট থেকে একটা ছোট্ট বাক্স বের করে আনলো।সমৃধা নতমস্তকে লজ্জায় মাথা নীচু করে বসেছিল।যতই সে আধুনিকা হোক, একটা পুরুষের সঙ্গে একটা ঘরে এইভাবে থাকা তো তার এই প্রথম অভিজ্ঞতা।কমল তার অনামিকায় আংটি পরিয়ে দিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলো, পছন্দ হয়েছে কিনা।সমৃধা মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলেছিল। এরপর সে সমৃধার কাছে এগিয়ে এসে ডিপ কাট ব্লাউজের বাইরে থাকা সমৃধার অনাবৃত পিঠে নিজের ভালোবাসার চিহ্ন এঁকে দিচ্ছিলো ।সমৃধার পুরো শরীর কেমন যেন অবশ হয়ে যাচ্ছিলো। পুরুষের গন্ধে যে এমন মাদকতা থাকে,তা তার জানা ছিলো না। ঘরের ভেতর জোরালো আলোয় সমৃধার খুব অস্বস্তি বোধ হচ্ছিল। ও কমলকে বলেছিল,আলোটা বন্ধ করে আসতে।ওর কথা শুনে কমল হেসে বলেছিল,"কেন তোমাকে আলোতে দেখবার অধিকার নেই নাকি আমার।"সমৃধা অস্বস্তিতে, লজ্জায় কোনো কথাই বলছিলো না।কমল ওর অনাবৃত পিঠে আদরের স্পর্শ এঁকে দিতে দিতে হঠাৎই থেমে গিয়েছিল।সমৃধার পিঠের নীচের দিকে একটা গোল কয়েনের মতো জায়গায় ধবধবে সাদা একটা দাগ। তার ঠিক কিছুটা দুরত্বে আরও খানিকটা জায়গায় ওই একই রকমের দাগ।কেমন যেন অন্যরকমের।কমল হঠাৎই সমৃধার থেকে দূরে চলে গিয়ে জানতে চেয়েছিল সমৃধাকে।এই দাগ কতদিন ধরে রয়েছে ওর শরীরে।সমৃধা বলেছিলো সে জানে না ঠিক, অনেক দিন থেকেই আছে মনে হয়।


এরপর আর কোনো কথা না বলে শুয়ে পড়েছিল কমল সে রাতে পিছন ফিরে।সমৃধার সে রাতে কেন জানে না, নিজেকে প্রত্যাখ্যাত বলে মনে হয়েছিল । যে স্বপ্ন সে তিলতিল করে সাজিয়েছিল নিজের মনের মধ্যে, এক নিমেষে ই সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গিয়েছিল এই প্রত্যাখ্যানের মধ্যে দিয়ে। পরদিন সকালেও কমল কেমন যেন ওর থেকে দূরে দূরে থাকছিল।এক কথায় সমৃধাকে এড়িয়ে চলছিল একটু। কমলের এই আচরণের অর্থ সমৃধার কাছে পরিষ্কার না। তবে কি ওর শরীরের ওই সাদা দাগগুলোর জন্য ই কমলের ওর প্রতি এই ব্যবহার।আর শুধু অমিত কেন,ওর শ্বশুর বাড়ির বাকি লোকজন ও কেমন যেন ওকে এড়িয়ে চলছিল।অথচ এই মানুষগুলো ই গত কাল যখন ও এই বাড়িতে এসেছিল, কি সুন্দর ব্যবহার করছিল ওর সঙ্গে। ওর শাশুড়ি তো ওকে বলেই দিলো, তোমার শরীরে এতবড় একটা রোগ আছে, তোমার বাবা,মা কি করে আমাদের না জানিয়ে বিয়েটা দিয়ে দিলো। এরপর তো গোটা শরীরে ওই সাদা দাগ ছড়িয়ে পড়বে। সমৃধার খুব কষ্ট হচ্ছিল ওদের এই ব্যবহারে।


এরপর অষ্টমঙ্গলায় সমৃধা গিয়েছিল একা,কমল যায়নি ওর সঙ্গে। গিয়েছিল তবে পরে। আর একা না,ওর শ্বশুরবাড়ি র লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে শেষবারের মতো। কারণ এরপর ওরা বলে দিয়েছিল সমৃধার বাবা, মা কে যে তাদের মেয়ের শরীরের এই সাদা দাগ লুকিয়ে তারা তাদের মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে। তাই যেন আর সমৃধাকে ওদের বাড়িতে না পাঠায়। সেই থেকে সমৃধা বাবা, মায়ের কাছেই থাকে।না এক ফোঁটাও চোখের জল সমৃধা ফেলেনি।আর না ই ওর বাবা,মা কে ফেলতে দিয়েছে। সমৃধা নিজের মনকে বুঝিয়েছে এই বলে যে, জীবনে চলার পথে এগিয়ে যাবার জন্য কখনো কখনো অনেক বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয় মানুষকে। জীবনে প্রত্যেকটা বাধা হয়তো বা তার জীবনের একটা বড় শিক্ষা।যার মাধ্যমে সে আরও অনেক এগিয়ে যাবে জীবনে। যতটা পিছিয়ে পড়েছিল, তার থেকে অনেকটা বেশি এগিয়ে যাবে সে। 

বছর দুয়েকের মধ্যেই দু পক্ষের সম্মতিতে মিউচুয়াল ডিভোর্স হয়ে গিয়েছিল।কমলরা একটা মোটা অংকের খোরপোশ দিতে চেয়েছিল অবশ্য। কিন্তু সমৃধার সেটা নেবার মতো মনের প্রবৃত্তি বা ইচ্ছা কোনোটাই হয়নি। স্পষ্ট ভাষায় সে তার নিজস্ব আত্মসম্মান বোধ থেকে অস্বীকার করেছিল ওটা নিতে।



 এরপর সমৃধা তার নিজের জীবনকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছিল। নিজের অদম্য প্রচেষ্টায় কয়েক বছরের মধ্যেই সে নিজের একটা সম্মানীয় পরিচিতি তৈরি করে ফেলেছিল।যার ধারেকাছে ও কমল হয়ত পৌঁছাতে পারবে না কোনোদিন। 

-------মিস্ মিত্র আপনার সঙ্গে আমার একটু কথা ছিল।যদি আজ কলেজ ছুটির পর আমরা কোথাও বসি। অবশ্য আপনার যদি কোনো আপত্তি না থাকে।সমৃধার সেদিন বিশেষ কোনো ক্লাস ছিলো না। ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার্থে সে নোটস আগেই দিয়ে দিয়েছে। তাই শুধুমাত্র বুঝিয়ে দিতে হবে ওদের। সমৃধা ছুটির পর গিয়েছিল ,তারই সহকর্মী প্রোফেসর অনির্বাণ সরকারের সঙ্গে। অনির্বাণ গাড়িটা দাঁড় করিয়ে,সমৃধাকে নিয়ে গিয়েছিল সুসজ্জিত রেস্টুরেন্টে।না কোনোরকম ভণিতা করেনি অনির্বাণ।সে সরাসরি সমৃধাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল।সমৃধা এক মুহুর্ত ভেবে নিয়ে শুধু এটাই বলেছিল যে, অনির্বাণ যেন আগে তার জীবনের সমস্ত ঘটনা শোনে। হ্যাঁ সমৃধা নিজের জীবনের সমস্ত ঘটনা বলেছিল অনির্বাণ কে। ফুলশয্যার রাতে তাকে প্রত্যাখ্যান আর তার পিছনে কি কারণ আছে সে কাহিনীও শুনিয়েছিল।সব শুনে অনির্বাণ শুধু এটাই বলেছিল, চাঁদের গায়ে অসংখ্য দাগ আছে, তাই বলে কি চাঁদ আমাদের স্নিগ্ধ জ্যোৎস্না প্রদান করে না? চাঁদের কলঙ্ক কে কি আমরা তার মোহময়ী জ্যোৎস্না র থেকেও বড়ো করে দেখেছি কখনো?



 আর কিছু বলতে হয়নি সমৃধা কে।এই কথাতেই সে সব বুঝে গিয়েছিলো। অনির্বাণে র বাড়িতে শুধু মা ছাড়া আর কেউ নেই।আর সমৃধার বাবা,মা।এদের সম্মতিতে দু'জনের বিয়েটা সম্পন্ন হয়েছিল।তারপর ছোট একটা গেট টুগেদার উভয় পক্ষের। রাত্রি বেলা নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে অনির্বাণ সমৃধা কে সুন্দর একটা ডায়মন্ড রিং পরিয়ে দিয়েছিলো।সমৃধা ফিরে গিয়েছিল দশ বছর আগের অতীতে কিছুক্ষণের জন্য।সে রাতে সমৃধা প্রত্যাখ্যাত হলেও আজ অনির্বাণে র ভালোবাসার ছোঁয়া য় সে দশ বছর আগের প্রত্যাখ্যানের সব যন্ত্রণা ভুলে গিয়েছিল।সেই রাতের পর থেকে সমৃধা নিজের চোখের যে জল কে আটকে রেখেছিল এতদিন ধরে, অনির্বাণে র ভালোবাসার ছোঁয়া য় সেই জল আজ ঝরঝর করে ঝরে পড়লো। নিজেকে আর সামলাতে পারলো না সমৃধা। অনির্বাণ ওর মুখটা নিজের দু হাতে বন্দী করে শুধু বলেছিল----

"চাঁদের কলঙ্ক যেমন তার রূপে, গুণে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি, তেমনি তোমার এই দাগ ও তোমার সুন্দর চেহারা ও মনে কোনো রকম দাগ ফেলতে পারবে না কখনও। তোমার সব কিছু ভালো মন্দ নিয়েই আমি তোমাকে গ্ৰহণ করেছি সমৃধা।


এর কয়েক বছর পর

------মে আই কাম ইন ম্যাডাম

------ইয়েস কাম ইন। চোখ না তুলেই বসতে বললো সমৃধা ঘরের ভেতর আসা ব্যক্তিকে।

------বলুন কি কাজ।

অপরদিকে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিটির তখন পায়ের তলা থেকে মাটি একটু একটু করে সরে যাওয়ার মতো অবস্থা।

-------এভাবে দাঁড়িয়ে না থেকে বলুন কি বলতে এসেছেন। মিসেস সমৃধা সরকার তখন অপরদিকে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিটির উদ্দেশ্যে একটু গম্ভীর গলায় বললো কথাগুলো। এতক্ষণ সে দেখেনি। এবার মাথাটা উঠিয়ে দেখলো। বেশ অনেক বছর পর দেখা হলেও এই মানুষটি কে চিনতে আজ ও সমৃধা র কোনো অসুবিধা হয়নি। কমল একই রকম আছে। শুধু চেহারায় যা একটু ভারিক্বি ভাব এসেছে, চশমা তো শুরু থেকেই পড়তো। এতটুকু ও অপ্রস্তুত না হয়ে, সমৃধা বললো ,"বলুন আমি কি হেল্প করতে পারি আপনার?"

কমল জিজ্ঞেস করলো, "কেমন আছো?"

সমৃধা আবারও অপর দিকে থাকা ব্যক্তি যে তার পূর্ব পরিচিত সেটাকে অগ্ৰাহ্য করে বললো,"দেখুন এখানে আমার প্রত্যেকটা মুহুর্ত ভীষণ মূল্যবান। আপনার কাছে সময়ের মূল্য নাই থাকতে পারে। কিন্তু আমার কাছে আছে। ব্যক্তিগত কথা আপনার মতো অপরিচিতর সঙ্গে আমি আলোচনা করতে চাইনা।"

"কিন্তু সমৃধা তুমি তো আমাকে চেনো। তাহলে অপরিচিত কেন বলছো আমাকে। আর তুমি বিয়ে করেছো, একথা তো জানতাম ই না।"

এবার সমৃধা দৃঢ় গলায় বললো, "মিস্টার কমল ঘোষ, আপনার সঙ্গে সব সম্পর্ক আমার সেদিনই শেষ হয়ে গেছে, যখন আমার শরীরের একটা সামান্য দাগের জন্য, আপনি আমাকে বিয়ের মাত্র আট দিনের মাথায় ত্যাগ করেছিলেন। আর বিয়ে করাটা কি শুধু আপনার

ই একচ্ছত্র অধিকার নাকি? আপনি কি ভেবেছিলেন, আপনি আমাকে ছেড়ে দিলে আমি এতটাই অসহায় হয়ে যাব যে, আমার জীবনটাই শেষ হয়ে যাবে, তাই তো। মিস্টার কমল ঘোষ আপনি চাঁদে শুধুই কলঙ্ক দেখতে পেয়েছেন। কিন্তু আমার স্বামী মিস্টার অনির্বাণ সরকার, যে কিনা যোগ্যতা, পদমর্যাদায়, এবং অবশ্যই মনের দিক আপনার থেকে অনেক উঁচুতে, তিনি চাঁদে কলঙ্কের সঙ্গে মোহময়ী জ্যোৎস্নার আলো ও দেখতে পেয়েছিলেন। মানুষ হিসাবে তাঁর সেটা দেখার মতো চোখ ছিলো। আসলে কি বলুন তো মিস্টার ঘোষ সবার জীবনে পূর্ণিমার রাত আসেনা। আপনি হয়তো তাদেরই একজন।"

         



Rate this content
Log in

More bengali story from Sucharita Das

Similar bengali story from Inspirational