Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

ANIRUDDHA BOSE

Crime Others


4.2  

ANIRUDDHA BOSE

Crime Others


ভয় পাবেন না

ভয় পাবেন না

11 mins 355 11 mins 355

কি হল দাদা তাড়াতাড়ি করুন!"হ্যা হ্যা এই তো !!"

"আ: আপনি কিন্তু বড্ড দেরি করছেন...আদৌ কেটেছেন তো নাহলে চলুন"

"আরেহ না না এই তো দেখুন এখানেই তো....."

অভয় বাবু কিছুতেই তার ট্রেন এর টিকিট টা খুঁজে পাচ্ছিলেন না| এটা ওনার বরাবরের সমস্যা | অফিসের কাজ বাদে প্রায় সবকিছুই তিনি ভুলে যান | এই নিয়ে রোজকার জীবনে কম বিপদে ও পড়েন না! এই যেমন এখন স্টেশন এর লোকজন যেতে যেতে তার এই অপদস্ত হওয়াটা বেশ উপভোগ করশেষ অবধি ফাইন মিটিয়ে কোনো রকমে বেরিয়ে এলেন অভয় বাবু | নিম্ন চাপের জন্য সকাল থেকেই টিপটিপ করে বৃষ্টি হচ্ছে এখন তার সাথে বেশ জোর হওয়া চলছে | এবার বৃষ্টির তোড় টাও বেড়েছে মনে হলো | অফিসের কাজে একজন ক্লায়েন্ট এর সাথে দেখা করতে হবে তাকে| অফিসে গিয়ে হুকুম পেয়েই 1 : 20 এর মেইল এক্সপ্রেস ধরে আসানসোল গাড়ি বদল করে ঝালিদা নামতে নামতে প্রায় সোয়া দশটা | এখন তো তাকে রাত টা কোনো হোটেলেই কাটাতে হবে কিন্তু এই বৃষ্টিতে কিকরে যে হোটেল খুজবেন | বাইরে একটা রিকশা অবধি নেই | ব্যাগ"ছাতাটা?"

হ্যা সেটাও দক্ষতার সাথে অফিসেই ফেলে এসেছেন | আর চার পাঁচটা হলেই এ ব্যাপার তিনি হাফ সেঞ্চুরি করবেন | ব্যাগটা মাথায় দিয়েই বেরিয়ে পড়লেন অভয় বাবু | কিছুটা এগিয়েই মনে পড়লো ব্যাগ যে কাগজপত্র গুলো আছে সেগুলা ভিজলে তার resignation একেবারে বাঁধা | সামনের একটা বন্ধ দোকানের ছাউনির নিচে গিয়ে দাঁড়ালে তিনি | সারাদিন বৃষ্টির কারণে সব দোকান পাট বন্ধ একটা লোকজন নেই যে জিজ্ঞেস করবেন হোটেল গুলো কোবৃষ্টি মুষলধারে নামল । থেকে থেকেই বিদ্যুৎ ঝলসে উঠছে । ওটা ছাড়া চারদিক একবারে অথৈ অন্ধকার। "এ তো আচ্ছা মুশকিল হল" অভয় বাবু মনে মনে বললেন।


দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মুখ হাতপা রুমাল দিয়ে মুছছিলেন একজন লোক কে দেখলেন তিনিও ছাতাহীন অবস্থায় ছুটে এসে ওই ছাউনির নিচেই দাঁড়ালেন | দেখে মনে হয় এখানকার স্থানীয় হবে | অন্ধকারে স্পষ্ট বোঝ যাচ্ছে না তবে মনে হয় হালকা রঙের শার্ট ট্রাউজার এর সাথে ইন করে পড়েছেন | বেশ ভদ্র সভ্য লুক | "একে একবার জিজ্ঞেস করলকতক্ষন আর দাঁড়িয়ে থাকবেন এভাবে | অভয় বাবু নিজেই জিজ্ঞেস করলে" দাদা এখানে আশেপাশে কোনো হোটেল আছে কিনা একটু বলতে পারবেন? "


ভদ্রলোক অদ্ভুত ভাবে তাকালেন তারপর একটু হেসে বললেন " প্রথম এলেন ?"


"আজ্ঞে ?"


"এখানে প্রথম এলেন ?"


"আজ্ঞে হ্যাঁ !"


"সেই জন্যেই.......হোটেল এখান থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে | দেখছেন কি অবস্থা! এখন একটা সাইকেল ও পাবেন না যাওয়ার জন্য !"অভয় বাবু অসহায় বোধ করলেন | এই বৃষ্টির মধ্যে তো স্টেশনে ও রাত কাটাতে পারবেন না ঠিক ঠাক শেডই নেই ওয়েটিং রুম তো দূরের কথা |


" কোথা থেকে আসছেন? "


অভয় বাবু একবার ভাবলেন " বলবো ?"

তারপর ভাবলেন "কি আর হবে ?"


মুখে বললেন "বাড়ি ধর্মতলা অফিসে কাজেই আসতে হলো আর কি |"

"ও তাহলে তো আর ফিরতেও পারবেন না...... দেখুন বৃষ্টি থামলে যদি কিছু পান | "


" আপনি কোথায় থাকেন ?"

"আমি ? তো এখানেই থাকি এখানে বছর দুই আগে একটা বাড়ি কিনেছিলাম তো সেখানে আর থাকতে পারলাম না এখন একটা এপার্টমেন্ট এ ভাড়া !"" বাড়ি থাকতে ভাড়া কেন?" বলেই মনে হল ইস একটা ভুল প্রশ্ন করে ফেললেন |কোনো ব্যক্তিগত সমস্যাও তো হতে পারে |


ভদ্রলোক কিন্তু একটু বিরক্ত বোধ করলেন না | বরং হেসে বললেন " বললে বিশ্বাস করবেন না | ভাববেন নেশা ভাঙ করে আছি "


"না না এই তো দিব্বি কথা বলছেন ওসব কেন ভাববো ?"


"কেন থাকতে পারিনি বলতে গেলে তো অনেক কথাই বলতে হয় ""তা বলুন নাহয় এ বৃষ্টির ও খুব একটা থামার তাড়া আছে বলে মনে হয়না"

ভদ্রলোক হঠাৎ খুব সিরিয়াস হয়ে বললেন "আপনি কখনো কোনো haunted বাড়িতে থেকেছেন ? হঠাৎ অনেকগুলো স্মৃতি অভয় বাবুর চোখে ভেসে উঠল। বরাবর ই তার এসব বিষয়ে আগ্রহটা অতিরিক্ত। একবার কেন বহুবার কলকাতার আনাচকানাচের সমস্ত ভৌতিক অপবাদ পাওয়া বাড়িগুলো তিনি চষে ফেলেছেন কিন্তু সত্যি বলতে কি strict প্রুফ কিছু পাননি কখনো অস্পষ্ট অনুভুতি ছাড়"তা থেকেছি কয়েকবার শখে কিন্তু সত্যি বলতে....--""ছ মাস -পারবেন -থাকতে - একটানা?"কথাগুলো কাটা কাটা শোনালো ভদ্রলোকের। ক্রমশ 


অভয়বাবু জোর চমকেছেন"লোকটা বলে কি?"মুখে বললেন "আপনি 6 মাস থাকতে গেলেন ই বা কেন অদ্ভুত!"

"বিশ্বাস হচ্ছে না না?ভাবছেন নেশা করে গালগল্প বলছি ..আগেই বলেছিলাম"

অভয় বাবু বুঝলেন এইভাবে রিএক্ট করাটা তার উচিত হয়নি আগে শোনাই যাক কি বলে"না না আমি তা বলছিনা ,আপনি যখন জানতেন যে.....মানে তাহলে কেন থাকবেন?"

"তাহলে একদম প্রথম থেকেই বলতে হয়...""শুরু করুন.....।"

মেজাজ টা জমে উঠলো। অভয় বাবু হাত গুলো ফুলস্লিভ করে নিলেন।আরকেবার জোরে আকাশ ঝলসে উঠল।"যখন কার কথা বলছি তা প্রায় পাঁচ বছর আগেকার কথা । 

আমি তখন পালাঞ্জা তে সবে সবে একটা আই টি কোম্পানি তে চাকরি পেয়েছি ঝাড়গ্রাম থেকে ফ্যামিলি নিয়ে তখন ই আসা সম্ভব হলোনা সত্যি বলতে ফ্যামিলি মানে শুধু আমার স্ত্রী ।ছোট বেলা থেকেই মামা বাড়িতে মানুষ মা বাবা অনেকদিন আগেই গত হয়েছেন। তো স্ত্রী কে আনার জন্য একটা ফ্লাট খুজছিলাম ভাড়াবাড়িতে নতুন সংসার পাতার ইচ্ছে ছিলোনা । লাকিলি ঝালিদায় একটা গোটা বাড়ি বিক্রি হচ্ছিল ।আপনি ভাবছেন কোনো ভুতুড়ে বাড়ি কম টাকায় বিক্রি হচ্ছিল ?আজ্ঞে না। একেবারে নতুন ঝকঝকে বাড়ি চার কাটা জমিতে মাত্র 5 লাখে ভাবতে পারেন! কেউ কিনে নিলাম কিন্তু স্ত্রী কে সারপ্রাইজ দেব বলে জানালাম না গুছানোর সময় টা নিচ্ছিলাম । তো একদিন অফিস থেকে ফিরেছি আসবাব গুলো সবে এসেছে সকাল বেলায় পুরো বাড়ি এদিক ওদিক অগোছালো হয়ে আছে এইসব ভাবতে ভাবতেই গেট এর তালা খুলতে যাবো। ওমা দেখি গেট কি সদর দরজা সব খোলা এমনকি ঘরে আলো ও জ্বলছে । সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে সাবধানে ভেতরে ঢুকলাম । সমস্ত বাড়ি সুন্দর করে সাজানো গোছানো।ভাবতে অসুবিধে হচ্ছিল যে চোর এসে ঘর গুছিয়ে আলো জ্বালিয়ে চুরি করছে । হঠাৎ আমার স্ত্রী নেমে এল উপ"কিগো এই আসার সময় হলো তোমার ?কখন থেকে রান্নাবান্না করে অপেক্ষা করছি সব ঠান্ডা হয়ে গেল!আমার তো কথা সরছে না 

"তুমি এখানে!কি-কি-কিকরে মানে জানলে কিভাবে যে-"

শতরূপা একগাল হেসে বললো "তবে কেমন সারপ্রাইজ দিলাম বল ।এ....খুব চালাক না আমায় বোকা বানাবে।"সত্যি সেদিন খুব চমকে ছিলাম এতটাই যে সে চমক ছয়মাসেও ভাঙেনি।

অভয়বাবু বললেন "তারপর থেকেই কি আপনার আর আপনার স্ত্রী এর উপর ভৌতিক অত্যাচার শুরু হলো নাকি!"ভদ্রলোক হালকা হাসলেন মনে হলো যদিও গাঢ় অন্ধকারে তা দেখা গেল না "এত তাড়া কিসের আগে শুনুন পুরোটা!

হ্যা তো কটাদিন বেশ ভালোই কাটলো আমি আর রুপা একসাথে বেশ ছিলাম কিন্তু যত দিন যেতে লাগলো আমার শরীর ভেঙে পড়ছিল কিজানি কি এক অজানা অসুখ বেড়ে চলেছিল !আমি বাইরে বেরোনো বন্ধ করে দিলাম।ডাক্তার এর কাছে অবধি যেতাম না আর বাইরের কারোর আসা ও পছন্দ করতাম না সবাই বলতো আমি নাকি পাগল হয়ে যাচ্ছি আমার কিছু যায় আসতোনা রুপার ও না আমি আর ও একেবারে আলাদা হয়ে গিয়েছিলাম পুরো জগৎ থেকে এতটাই যে আমার মামাবাড়ি শশুরবাড়ির সাথে যোগাযোগ করতাম না । এইভাবে প্রায় ছয়মাস পর একদিন আমার অফিস কলিগ রা এলো আমার খোঁজ নিতে। তখন আমি আচ্ছন্ন হয়ে বৈঠকখানার মেঝেতে পড়ে আছি কোনো জ্ঞান নেই। ওরা আমায় হাসপাতালে নিয়ে যায় প্রায় 5 দিন টানা সেন্সলেস ছিলাম যখন চোখ খুললাম কিচ্ছু মনে ছিলোনা পরে ওরা বলেছিল যে যখন ওরা আমার বাড়িতে গিয়েছিল তখন রুপা বাড়িতে ছিলোনা । সব মনে পড়ার পর একটু অবাক ই হয়েছিলাম যে এভাবে আমরা কিকরে ছিলাম ডাক্তার ও বলেছিলেন আমার সামান্য মস্তিস্ক বিকার ঘটেছিল বিশেষত যে পরিমানে ফুড পজিশনিং হয়েছিল তাতে আরকিছুদিন ঐভাবে থাকলে পরলোকের"কিন্তু আপনার স্ত্রী এর তাহলে কি হল?" অভয় বাবুর স্বর কিঞ্চিৎ অধৈর্য শোনালো ।"আপনার মতে কি এসব বাড়ির বাস্তু দোষটোষ....ভদ্রলোক খানিক হাসলেন " আজ্ঞে নাহ দাদা ওসব হলে তো চারটে পুজো করে প্রপার্টি টা বাঁচানোর চেষ্টা করতাম ।" ভদ্রলোক বলে চললেন " আমার কলিগরাই খোঁজ এনেদিল রুপার ও ওর বাপের বাড়ি আছে । আমি আর কোনো যুক্তি ভাবতে পারছিলাম না শুধু ভাবছিলাম একটা বড় ফাঁড়া থেকে আমি আর রূপ দুজনেই বেঁচে ফিরেছি । হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে প্রথমেই গেলাম শশুরবাড়ি কিন্তু ঢুকেই শতরূপার যে রূপ দেখলাম ! ওতো আমার হাতে ডিভোর্স পেপার ধরিয়ে দি"কি বলছেন ?" অভয় বাবু জোর চমকেছেন ।"আমিও তো বাক্য হারা হয়ে গেলাম তারপর ও যা বললো সেটা শুনে আমি রক্ত বরফ হয়ে যায়নি ভাগ্য ভালো ও বললো গত 6 মাস নাকি আমার সাথে ওর কোনো যোগাযোগ ই ছিল না বরং ও যখন ফোন করেছে আমি নাকি যাচ্ছেতাই ভাবে অপমান করেছি ওর দাদা এসেছিল ওকে নিয়ে ওদের কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দিইনি । বিস্বাস করুন আমি জানিনা এসব আমি কখন করেছি কেন করেছি আর তাছাড়া ও তো আমার সাথেই ছিল অথচ পুরো বাড়ির লোক তো মিথ্যে বলছেনা !"

" তার মানে আপনার সাথে যে ছিল সে-"

"হুমম সে রুপা ছিলোনা "

"তাহলে?"

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন " তাহলে কি.....জানিনা আর জানতেও চাইনা তারপর থেকে আর ওবাড়ি মুখো হয়নি আমরা । তবে শুনেছি এখনো ওবাড়ির আশপাশ থেকে রাতবিরেতে যাতায়াত করলে নাকি নিজের লোকেদের কণ্ঠস্বর, অবয়ব দেখতে পাওয়া যায় ।" এই অবধি বলে ভদ্রলোক থামলেন । বৃষ্টির তোড় টাও কমে এসেছে । ফুরফুরে একটা হওয়া"আমি আসি বুঝলেন অনেকটা দেরি হয়ে গেল ভালো লাগলো আপনার সাথে আলাপ হয়ে।"কিন্তু আপনি এখানে কোথায় থাকেন ?""এই সামনেই করুণাময়ী এপার্টমেন্ট এ আপনি আছেন তো দু তিনদিন দেখা করে যাবেন । আর হ্যা আমার আগের সেই বাড়িটাও দেখাবো আপনাকে এই বামদিকে দু মিনিট দেখেই চেনা যায় । ও অভিশপ্ত বাড়ির আশেপাশে কোনো জনমনিষ্যি থাকেনা । আপনি দেখুন ওই রাস্তা ধরে এগোলে টোটো পেয়ে যাবেন হয়তো সেই পৌঁছে দেবে কোনো হোটেল এ । আসি ভালো থাকবেন।" এক নিঃশ্বাসে কথা গুলো বলেই হন্তদন্ত ভাবে চলে গেলেন ভদ্রলোক এবং অভয়বাবু তার স্বভাব মতোই ঠিক তারপরেই অনুভব করলেন যার সাথে এতক্ষন কথা হলো তার নাম টাও জানা হয়নি আর নিজের নামটাও জানানো হয়নি । অগত্যা কি আর করা । ফোন বন্ধ তাই টাইম টা না জানলেও উনি আন্দাজ করলেন যতটা রাত হয়েছে তাতে আর কোনোরকম বাহনের আশা বৃথা । বৃষ্টি যখন কমেই গেছে স্টেশনেই রাত টা কাটিয়ে দেবেন কিন্তু তার আগেই অভয় বাবুর খানিক ইচ্ছে হলো সেই বাড়িটা একবার দেখে আসেন। আবহাওয়ার মেজাজ আর সুযোগ দুটোই তার পাদুটোকে মন্ত্রমুগ্ধের মতো বামদিকের গলিতে টেনে নিয়ে চললো । 


মেঘের আড়াল সরে গিয়ে চাঁদ উকি দিচ্ছে। শিরশিরে একটা বাতাস অভয় বাবুর ভিজে শরীরের ওপরে হাড় কাঁপানো অনুভূতি দিচ্ছে যদিও সেটা ঠান্ডার না ভয়ের তা উনি নিজেও জানেন না । বেশ কিছুটা এগোনোর পর একটা ভাঙা চোরা বাড়ির ভগ্নাবশেষ চোখে পড়ল"পাঁচ বছরেই এই অবস্থা" মনে মনে ভাবলেন তিনি "নিশ্চই ঠিকমতো সরানোর সময়টাও পাননি তখন ভদ্রলোক"বাড়ির সামনের রাস্তায় চারিদিক বট অশ্বথ এর ঘন ছায়া কিন্তু বাড়িটা চাঁদের আলোয় মায়া মায়া দেখাচ্ছে । স্পষ্ট কিছুই দেখা যায়না অনেকটা জায়গার মাঝে দ্বীপের মতো জেগে আছে কটা খাড়া দেওয়াল আর চারদিক ভাঙাচোরা পাচিলের কঙ্কাল সামনে জংধরা গেট । অভয়বাবুর বুক তা ঢিপঢিপ করছিল তিনিও কি তার কোনো চেনা মানুষের মিথ্যে মোহ অনুভব করবেন । এত সৌভাগ্য কি হবে তার?কার হবে সেই মোহ জীবিত কারোর নাকি কোনো মৃত আত্মীয় ? নার্ভ এখনো আগের মতো জোর আছে তো সহ্য করতে পারবেন তো ? এসব ভাবতে ভাবতেই গেট টায় হাত রাখলেন অভয়বাবু আর সঙ্গে সঙ্গে মাথায় তীব্র আঘাত......একটা চাপা আর্তনাদ "আহঃ......."

তারপর সব অন্ধকার.......।


"বাবা.. ও বাবা ঠিক আছো এখন?"

চোখ খুলে অভয় বাবু প্রথম নিজের ছেলের মুখ টা দেখতে পেলেন । চট করে আগের ঘটনাগুলো মনে পড়তেই তার নিজের ছেলেকে দেখাটা ভ্রম বলে মনে হলো । যদিও ভ্রম যে নয় তা খুব শিগগিরই বুঝলেন যখন দেখলেন যে তিনি শুয়ে আছেন হাসপাতাল এর বেড এ শুয়ে আছেন । প্রথমে তিনি কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না , তারপর শুনলেন রাতে নাকি তার মাথা কোনোভাবে ফেটে যায় ও রাস্তায় এক লোক দেখে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে ও বাড়িতেও খবর দেয় । অভয় বাবু বুঝলেন ঐভাবে নিঝুম রাতে ওরকম জায়গায় যাওয়াটা একেবারেই অবিবেচকের মত" হ্যারে তোর মা কোথায়? "" মা আসছে আমি তো সক্কাল সক্কাল খবর পেয়েই ছুটলাম এসব কিকরে হলো বাবা ?"

" আমার এখন কিছুই মনে পড়ছেন হ্যারে যে আমায় ভর্তি করে দিয়েছে সে কি চলে গেছে"না না ওই কাকু র বাইরেই আছে দাড়াও ডাকছি"

একজন মধ্যবয়স্ক লোক ঢুকলেন পরনে পাঞ্জাবি পাজামা সাধাসিধে বেশভুষা ।একগাল হেসে বললেন " যাক তাহলে একটা বড়ো ফাঁড়া কেটে গেল কি বলেন ।"

ঝট করে কণ্ঠস্বরটা চিনতে পারলেন অভয়বাবু "এ তো কালকের সেই লোকটা!!"মনে মনে ভাবলেন কিন্তু মুখে কিছু বলতে পারলেন না কারণ গতকাল কেউ এ কারোর মুখ ভালো করে দেখেনি এখন অসুস্থ অবস্থায় কোনো ভুল ও হতে পারে গলা চিনতে ।

" যাক এতক্ষন আপনার কুশল সংবাদের এ অপেক্ষা করছিলাম , ও হ্যা আপনার মানিব্যাগ টা" বলে মানিব্যাগটা এগিয়ে দিলেন ।" আপনাকে যখন দেখতে পাই তখন পাশে পড়েছিল " অভয়বাবুর ছেলের একটা ফোন এলো "হ্যা মা বল..."বলে সে বেরিয়ে গেল

ভদ্রলোক বললেন

"আপনাকে তো বলেছিলাম রাতে ওদিকটায় যাবেন না তাও গেলেন যাকগে ভালো থাকবেন চলি আর হ্যা রাতবিরেতে যাতায়াত করতে হয় যার তার কথায় অক 'ভয় পাবেন না "

অভয়বাবু কিছুই বলতে পারলেন না। ভদ্রলোক চলে গেলেন।উনি মানিব্যাগ রাখতে গিয়ে কেমন যেন হালকা হালকা মনে হতে সেটা খুলেই দেখলেন সব ফাঁকা ধুধু গড়ের মাঠ।অন্তত হাজার পাঁচেক তো ছিলই আর তারই সাথATM কার্ড টাও নেই আর অভয়বাবুর এও মনে পড়লো ভুলে যাওয়া অভ্যেস এর জন্য তিনি পিন টাও টুকে রেখেছিলেন ছোট্ট কাগজে সেটাও উধাও অভয়বাবুর মাথায় বজ্রাঘাত হলো ' তাহলে পুরোটাই একটা ফাঁদ ছিল!বাইরে থেকে তখন তার ছেলের উত্তেজিত স্বর ভেসে আসছে "কি বলছো কি মা..... কিকরে হলো এসব...!!"

অভয়বাবু জানেন এ বিস্ময় কিসের।তার একাউন্টের আর এক কানাকড়িও অবশিষ্ট নেই।!!!'



Rate this content
Log in

More bengali story from ANIRUDDHA BOSE

Similar bengali story from Crime