STORYMIRROR

Nityananda Banerjee

Horror Classics Crime

3  

Nityananda Banerjee

Horror Classics Crime

ভোরের সূর্য্য পর্ব ছেচল্লিশ

ভোরের সূর্য্য পর্ব ছেচল্লিশ

3 mins
176

পর্ব ছেচল্লিশ 

জেলার সাহেবের বাসভবনের বর্তমান বাসিন্দাদের তৎপরতা দেখে একটি কথাই মনে হয় - চট লগ্নী পট বিয়ে ।

নিতান্ত সত্য কথা । আর তো হাতে মাত্র দু'টো দিন । আজ আর কাল । আগামী পরশু যতটা সম্ভব লোকাচার মেনে এবং রেজিস্ট্রার ডেকে বিয়ে পরিচালনা করা মানেই তো তৎপরতা দেখাতেই হবে ।

বাড়ির অন্দর মহলে তৎপরতম ব্যক্তিটি হলেন মিসেস কুমার জেলারের ধর্মপত্নী । আর বাইরের তত্ত্বাবধানে হক সাহেবের ভূমিকাকে মোটেও খর্ব করা যাবে না ।

এক নিদারুণ অস্বস্তির মধ্যে ছিলেন তিনি। এত অশান্তি কোনদিন ভোগ করেননি । সেই ভয়ানক অশান্তির অবসান ঘটিয়ে দিয়েছেন জেলার সাহেব। অতএব এবার তাঁর একমাত্র লক্ষ্য হল সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করা । 

তাঁর কাজের শেষ নেই । চেয়ার, টেবিল, প্যাণ্ডেল , আলোকসজ্জা, মাইক - সব একা হাতে রেডি করতে লাগলেন। জেলার সাহেব অবশ্য বলেছিলেন কাজ ভাগ করে নিতে। কিন্তু তিনি বাধা দিয়ে বললাম - আমাকে ভরসা করুন স্যার সময়ের অনেক আগেই সব কাজ সমাধা করে নেব ।

জেলার সাহেবের ওই এক দোষ - যখন তখন যাকে তাকে খোঁচা দিতে ওস্তাদ ।

বললেন - এত বদান্যতা কি চাকরি বাঁচিয়ে দিলাম বলে ?

হক সাহেব কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বললেন - তা নয় তো কি স্যার ? সকাল থেকে চিন্তায় অস্থির হয়েছিলাম। সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম চাকরি ছেড়ে দেব তবু গয়া ন গচ্ছামি।

ইস্ যদি তখনই আপনাকে জানিয়ে দিতাম !

জেলার সাহেব বললেন - হয়েছে । এখন একটু বিশ্রাম নিন। তেমন কোন মহৎ কাজ করিনি যে এত বদান্যতা দেখাবেন । অলওয়েজ রিমেম্বার ইউ আর দ্য ও সি মজ:ফরপুর ( প্রপার টাউন ) ।

হক সাহেব বললেন - আর এক আধ ঘন্টা স্যার। যে কাজটা শুরু হয়েছে শেন করেই ফিরব ।

- সোজা আমার বাড়িতে উঠবেন। নিজের বাড়িতে নয় ।

- তাই হবে স্যার । আপনি আসুন।

হক সাহেবের এই মানুষটির প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। অবশ্য এর পিছনে আর এক জনের হাত আছে । বন্ধু জেমস অক্টারলোনী। দ্য রিনাউণ্ড সাইকিয়াট্রিস্ট।

কাজ শেষ করে যখন জেলারের বাড়িতে প্রবেশ করলেন মিঃ নিজামুল হক - তখন রাত প্রায় এগারোটা বাজে। 

দেখলেন বাড়ির লোকজনদের ডিনার হয়ে গেছে । তিনি তাঁর নির্দিষ্ট বেডে গিয়ে হাত পা ছড়িয়ে শরীরটা বিছানায় এলিয়ে দিলেন । 

মিসেস কুমার বললেন - ভাইয়া , আইয়ে খানা খা লিজিয়ে।

ধড়মড় করে বিছানায় উঠে বসলেন হক সাহেব ।

মিসেস কুমার বললেন - সির্ফ দো আদমি কা ডিনার করনা বাকি হ্যায় । আপ অউর ম্যায় । আইয়ে হম দোনো একসাথ বৈঠে খানা খায়ে ।

হক সাহেবের মনে হল এই পরিবারটি যেন অষ্টমাশ্চর্য্য বিশেষ । এত ইপ্যায়ন, এত যত্ন, খাতির - তাও আবার সেই ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মত ব্যাপার । শুধু পরোপকারের জন্যই যেন তাঁরা সমর্পিত । 

শ্রদ্ধায় বিগলিত হয়ে হক সাহেব বললেন - ম্যাডাম এখনও খাননি ? 

- কি করে খাই বলুন। আপনি আসতে দেরী করলেন। আমি অতিথি বাদ দিয়ে নিজের সৎকার করি কি ভাবে ?

- ভেরী সরি ম্যাডাম । চলুন আর দেরী করব না ।

বলে ডাইনিং হলের দিকে রওনা দিলেন। জেলার সাহেব পিছু পিছু এসে ম্যাডামকে বললেন - তোমরা বস, আমি সার্ভ করে দিচ্ছি ।

সে আরেক বিড়ম্বনা হক সাহেবের । বললেন - আপনি কেন স্যার, আমি করে দি ।

- উঁহু। ডোন্ট ডিসটার্ব মি । লেট মি ডু সামথিং।

হক সাহেব বললেন - ওকে স্যার ।

খেতে খেতে মিসেস কুমার হক সাহেবের গতকাল থেকে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে হক সাহেব বললেন - - - আর কোন অসুবিধা নেই। এবার এখানেই অনুষ্ঠান শেষ হওয়া পর্য্যন্ত থেকে যাব ।

মিসেস কুমার বললেন - সে তো বুঝলাম। থেকে যাবেন । হঠাৎ এলেন না কেন ?

- আপনি শোনেননি ম্যা'ম ? স্যার কিছু বলেননি ?

- স্যার তো সামনেই আছেন , জিজ্ঞেস করে নিন।

তখন ঘটনার কথা ম্যাডামকে শুনিয়ে বললেন - এ যাত্রা স্যার বাঁচিয়ে দিয়েছেন । নইলে তো চাকরি ছেড়ে চলে যেতাম ।

পাণ্ডেজীর ফ্যামিলি এবং ডাক্তার বাবুর ফ্যামিলি নিজেদের মধ্যে গল্পগুজব করছেন । বিপাশা হক সাহেবকে খেতে দেখে এগিয়ে এসে বলল - ভালো আছেন স্যার !

হক সাহেব বিপাশার দিকে চেয়ে বললেন - সে তো দেখতেই পাচ্ছ । 

( চলবে )



এই বিষয়বস্তু রেট
প্রবেশ করুন

Similar bengali story from Horror