ভালোবাসি হয়নি বলা ২
ভালোবাসি হয়নি বলা ২
_রাইসা তোকে একটা কথা বলার ছিলো রে
_আমারো তোকে একটা কথা বলার আছে
_তাহলে তুই আগে বল,
_না রে তুই আগে বল।
_তুই জানিস না লেডিস ফাস্ট
_Okkk বলছি,
_হুমমমম বল,
_আচ্ছা রিয়ান তুই তো আমার বেস্ট ফ্রেন্ড তাইনা রে
_ আমারো তো তাই মনে হয়
_শয়তান হাসলে কিন্তু মেরেই ফেলবো তোকে,
_আচ্ছা, আচ্ছা, ম্যাডাম আর হাসবো না।
এবার বল
_আমি তো তোর সাথে সবকিছু শেয়ার করি তাইনা?
_আমারো তো তাই মনে হয়
_আবার হাসছিস
_সরি, সরি, আর হাসবো না। এই কান ধরছি
এবার বল,
_আসলে আমি............
_হুমমম বল না,
_ না থাক কালকে বলবো ওকে??
_এখন বললে সমস্যা কি বলতো??
_সমস্যা নাই কিন্তু কালকে বলবো কেমন,
এখন আসি
_ওকে, ওকে, অবশ্যই বলবি কাল
_হুমমমম।
এটা বলেই রাইসা চলে গেলো।
ছুটির পর ক্যাম্প্যাসে বসে কথা বলছিলো রিয়ান আর রাইমা।
ওরা দুজনেই একই ডিপার্টমেন্টে পড়াশোনা করে।
রিয়ান প্রথম যেদিন রাইসাকে দেখে সেদিনই ওর প্রেমে পড়ে যায়।
অনেক কিউট আর ভদ্র মেয়ে রাইসা।
কিন্তু রিয়ান তার ভালোবাসার কথা এখনো রাইসাকে বলতে পারে নি।
আজও বলতে চেয়েছিলো কিন্তু তার আগেই চলে গেলো রাইসা।
রাতে খাওয়ার পর ঘুমাতে গেলো রিয়ান।
কিন্তু ঘুম যে কিছুতেই আসছে না।
বারবার শুধু রাইসার কথা মনে পড়ছে ওর।
রিয়ান বুঝতেই পারছিলো ওকে ছাড়া রাইসার একদম চলবে না
রাইসার কথায় তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিলো।
এসব ভাবতে ভাবতেই রিয়ান ঘুমানোর চেষ্টা করছিলো কিন্তু তখনই রাইসার কল আসলো।
ফোন রিসিভ করার পর,
_ কিরে কি করছিস??
_কিছু না রে এইতো ঘুমাতে যাবো।
_আচ্ছা ঘুনা তাহলে।
_রাইসা শোন,
_হুমমমম বল,
_তোর কি কোন কারনে মন খারাপ??
_না রে, খুব টেনশন হচ্ছে।
_কেন?? কি হয়েছে আমাকে বল না।
_কিছু নারে, বাদ দে
কালকে বিকালে আমার সাথে দেখা করতে পারবি???
_হ্যা,, অবশ্যই, কেন পারবো না।
_হুমমমম, আচ্ছা ঘুমা, Good Night.
_এই রাইসা, হ্যালো শোন,
কথা শেষ হতে না হতেই ওপাশ থেকে কল কেটে গেলো।
রিয়ান খুব ভালো করে বুঝতে পারলো রাইসার খুবই মন খারাপ।
আজকে আর ঘুমাতে পারবে না রিয়ান।
বড্ড ভালোবাসে রিয়ান রাইসাকে।
রাইসার মন খারাপ হলে রাইসার থেকে বেশি কষ্ট হয় রিয়ানের।
মন মরা হয়ে শুয়ে আছি রিয়ান।
কখন যে ঘুমিয়ে গেলো টেরই পায়নি।
ঘুম ভাঙলে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে পাঁচটা বাজে।
ঘুম ভাঙতেই ফজরের নামাজের আযান কানে ভেসে আসলো রিয়ানের।
বিছানা থেকে নেমে উযু করে নামাজ পড়ে নিলো রিয়ান।
তারপর আবার একটু ঘুমালো।
সকালে ঘুম ভাঙলো ৮টার সময়।
ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলো কিছু খেতে পারলো না রাইসার টেনশনে।
না খেয়ে রইলো।
তারপর একবার ভাবলো রাইসাকে একটা কল দেবে কিন্তু ওর মনে হলো ওর মনটা আগে ভালো হোক তারপর ও নিজেই কল দেবে।
এখনি কল দেওয়া ঠিক হবে না।
রাইসার কথা ভাবতে ভাবতে দুপুর পাড় হয়ে গেলো কিন্তু রাইসার একটা কল ও আসলো না।
তারপর রিয়ান ঠিক করলো ও নিজেই কল করবে।
অনেকবার কল করলো কিন্তু কল রিসিভ হলো না।
তারপর দুপুর ১টার দিকে যোহর নামাজ পড়ে একটু চোখটা লেগে আসছিলো ওর।
বিছানায় শুয়ে পড়তেই ঘুমিয়ে পড়লো।
তারপর হঠাৎ দুপুর ২টার দিকে রাইসার কলে ঘুম ভাঙলো রিয়ানের।
ফোনের ওপাশ থেকে রাইসা বললো,
_কিরে কি করছিস???
_কিছু না, আগে তুই এটা বল এত কল করলাম একটাও রিসিভ করলি না কেন??
_আসলে ফোনটা সাইলেন্ট ছিলো রে সেজন্য
_না তোর মন খারাপ এখনো তাইনা??
এখনো ভালো হয়নি মন???
সত্যি করে বল।
_সত্যি বলছি রে এখন মন একদমই ভালো।
এত টেনশন করিস না তো।
_টেনশন করবো না তো কি করবো??
তোর জন্য টেনশন করবো না তো কার জন্য করবো শুনি
_ওকে, ওকে স্যার টেনশন করিয়েন সমস্যা নাই।
কিন্তু এখন সত্যি মন ভালো
_তিন সত্যি??
_তিন সত্যি রে।
_ওকে।
_আচ্ছা বাদ দে এখন এসব।
_হুমমমম,, দুপুরে খেয়েছিস??
_ না রে, তুই খেয়েছিস??
_না রে,তুই তো জানিস তুই না খেলে আমি খাই না।।
_কেন শুধু শুধু পাগলামি করছিস বলতো??
তারমানে সকালেও খাস নি তুই তাইনা??
_না রে
_এমন কেন করিস বলতো???
এখনি তারাতাড়ি খেয়ে নে তুই
_তুই খাস নি,,,
তোকে রেখে আমি খেতে পারবো না
_আচ্ছা, খেয়ে নে, আমি খাচ্ছি ওকে??
_ওকে।
_আর শুন বিকেল চারটার সময় পার্কে দেখা করবি কেমন???
_হুমমম ঠিক আছে।
ইদানীং রাইসা রিয়ানের খুবই কেয়ার করছে।
হয়তো বা রিয়ানের ভালোবাসাটা ও বুঝতে পারছে সেজন্য।
আর রিয়ান ও এখন নিশ্চিত হয়ে গেছে পার্কে রাইসা তাকে বলবে,
রিয়ান আমি তোকে খুব ভালোবাসি রে।
প্লিজ আমাকে ছেড়ে যাস না।
আর রিয়ান রাইসাকে বলবে,
কখনো তোকে ছেড়ে যাবো না রে পাগলী।
সবসময় তোর সাথেই থাকবো।
রিয়ানের মনের মধ্যে আজ খুবই ভালো লাগছে।
খুবই এক্সাইটেড ও আজ।
এতদিন পর রাইসার মুখ থেকে তার নাম শোনার জন্য।
তাকে ভালোবাসে সেটা শোনার জন্য।
এখন বিকেল তিনটা বাজে।
আর কিছুক্ষন পরেই রিয়ানের সপ্ন পূরন হতে চলেছে।
খুব খুব খুশি আজ ও।
চারটে বাজার ২০ মিনিট আগেই রিয়ান পার্কে গিয়ে রাইসার জন্য অপেক্ষা করছে।
একটু পরেই রাইসা চলে আসলো।
রাইসা আসার পর,
_কখন এসেছিস??
_এই তো পনের মিনিট হলো।
_আচ্ছা, বেশিক্ষন থাকতে পারবো না।
তোকে কথাটা বলেই চলে যাবো
_হুমমমমম বল
সপ্নটা এখন তার হাতের মুঠোয়।
একটু পরেই রাইসা তার হয়ে যাবে চিরদিনের মত।
এক রোমাঞ্চকর অনুভূতির মধ্যে ডুবে আছে রিয়ান।
_রিয়ান,
_হুমমমম বল,
_তুই হাসানকে চিনিস??
_কোন হাসান??
_ঐ যে আমাদের ডিপার্টমেন্টের লম্বা ছেলেটা।
_অহহহ,, চিনি তো, ছেলেটা অনেক ভদ্র।
তোর সাথে ভালোই মানাবে( মজা করে কথাটা বললো রিয়ান)
_হাসিস না, কথা শোন আমার।
_হুমমম বল শুনছি তো,
_রিয়ান, আমি যদি তোর কাছে একটা সাহায্য চাই তুই আমাকে সাহায্য করবি না??
_হ্যা,, অবশ্যই সাহায্য করবো।
বল তোর কি সাহায্য চাই??
_আসলে???
রিয়ান যেন আরো এক্সাইটেড হয়ে গেলো ওর মুখে ভালোবাসি কথাটা শোনার জন্য।
রিয়ান এক্সাইটমেন্ট ভাবে বলে উঠলো,
_হুমমমম বল না কি বলবি
তখন রাইসা রিয়ানের ডান হাত নিজের দু হাতের মুঠোয় নিয়ে নিলো,
নিয়ে বললো,,
রিয়ানের এক্সাইটমেন্ট যেন আরো বেড়ে গেলো
তারপর রাইসা বললো,,
_ আসলে আমি??
_ কেন বলতে বলতে বারবার থেমে যাচ্ছিস বলতো।
বলে দে না কি বলবি
_আসলে আমি হাসানকে ভালোবাসি।
ওকে একটু আমার ব্যাপারে রাজি করাতে পারবি???
রিয়ান ভাবলো ও হয়তো মজা করছে,
তারপর রিয়ান বললো,
_মজা করছিস নাকি তুই??
_না রে, সত্যিই আমি হাসানকে অনেক ভালোবাসি রে
রিয়ান এখনো বিশ্বাস করলো না রাইসার কথা
তারপর বললো,
_কি বলছিস এসব???
প্লিজ মজা করিস না
_মজা করবো কেন বলতো??
আমি সত্যিই হাসানকে অনেক অনেক ভালোবাসি রে
_রাইসা দেখ এখন কিন্তু আমার মজা করার মুড একদমই নাই
_মজা করছি না রে।
কসম করে বলছি আমি হাসানকে সত্যিই অনেক ভালোবাসি রে
এবার রিয়ান রাইসার কথা শুনে কেমন যেন হয়ে হয়ে গেলো।
ওর বুকটা কেঁপে উঠলো
রিয়ানের হাতটা ধীরে ধীরে বের হয়ে আসলো রাইসার দু হাতের মুঠোর মধ্যে থেকে।
তখন রাইসা আরো শক্ত করে হাত চেপে ধরলো রিয়ানের।
রাইসা রিয়ানের চুপ করে থাকা দেখে বারবার জিজ্ঞেস করতে লাগলো,,,
_কিরে রিয়ান,, কিছু তো বল, এভাবে চুপ করে গেলি কেন বলতো???
কিন্তু রিয়ান কিচ্ছু বলছে না।
চুপচাপ দাড়িয়ে আছে অসহায় নিরুপায় মানুষের মত।
ওর এক মূহুর্তের জন্য মনে হলো ওর পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে যাচ্ছে।
মনে হলো আকাশ থেকে যেন বিনা মেঘে বর্জ্যপাত ঘটলো কোথাও।
রাইসা কি বলছে কি এসব,
হাসানের কথা কেন বলছে ও??
রিয়ান বিশ্বাস করতে পারছে না কিছুতেই রাইসার কথাগুলো।
"" রাইসা তো আমাকে ভালোবাসে আর আমি ওকে জান প্রান দিয়ে ভালোবাসি তাহলে ও হাসানের কথা কেন বলছে??
আমি নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসি ওকে।
ওকে ছাড়া কোন মতেই বাঁচবো না আমি।
কোনমতেই না"""
অসহায়ের মত দাড়িয়ে মনে মনে কথাগুলো ভাবছে রিয়ান।
ওর ভাবনার ছেদ ঘটিয়ে রাইসা আবারো বললো,,
_কিরে রিয়ান?? তুই চুপ করে আছিস কেন???
আমাকে সাহায্য করবি না তুই???
রিয়ান কি বলবে বুঝতে পারছিলো না।
রাইসার এসব কথা শুনে ওর বুকের মধ্যে যে ঝড় শুরু হয়ে গেছে।
বুকের বামপাশে চিনচিন ব্যাথা অনুভব হচ্ছে।
চোখের পানি অঝোরে ঝড়ে পড়তে চাইছে কিন্তু ঝরে পড়তে দিচ্ছে না রিয়ান।
কারন রাইসা সামনে দাড়িয়ে আছে।
এখন ওর সমানে কান্না করলে ওকে কি জবাব দেবে?
কেন কান্না করছে সে??
কোন জবাব নাই দেওয়ার মত।
তাই নিজের চোখের পানি ও নিজেকে সামলে নিয়ে রিয়ান রাইসাকে কোনমতে গম্ভীর গলায় উত্তর দিলো,
_হ্যা করবো।
_আচ্ছা তাহলে আমি এখন যাই
তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে হবে।
রাইসা রিয়ানের হাতটা ছেড়ে দিয়ে চলে গেলো।
রিয়ান পার্কে ঘাসের ওপর হাটুগেড়ে বসে পড়লো।
কলিজাটা মনে হয় ফেটে যাচ্ছে।
যাওয়ার সময় রাইসা একবারো ফিরে তাকায়নি।
সে হেঁটে চলেছে আপন গতিতে।
রিয়ানও মাটির ওপর থেকে উঠে হাঁটতে লাগলো।
সামনের দোকান থেকে একটা সিগারেট এর দুইটা প্যাকেট নিলো।
রিয়ান কখনো সিগারেট খায়নি কিন্তু আজ খেতে হবে।
বুকের বামপাশ টা ভিষন ব্যাথা করছে এখন।
ধীরে ধীরে ব্যাথাটা বেড়ে যাচ্ছে।
কারো কাছে রিয়ান শুনেছিলো সিগারেট খেলে নাকি কষ্টটা নাকি কমে।
একটা সিগারেট হাতে নিয়ে রিয়ান হাঁটতে হাঁটতে রেললাইনের পাশে গিয়ে বসলো।
না, রিয়ান এখন শুধু বসে নেই, সে একটা কাজ করছে।
চরম একটা কাজ করছে।
সে একটার পর একটা সিগারেট জ্বালিয়ে যাচ্ছে আর প্রতিটা সিগারেটের টানে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে রাইসার প্রতি তার ভালোবাসা।
কিন্তু কই,
ভালোবাসা তো কমছে না, কিভাবেই বা কমবে,
রিয়ান যে রাইসাকে অনেক বেশি ভালোবাসে।
তার জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসে।
রিয়ান তার মনের গভীরে রাইসা কে জায়গা দিয়েছে।
তাকে নিজের জীবনের একটা অংশ বানানোর আশায় বুক বেঁধেছে।
তাকে নিয়ে তার সপ্ন দেখেছে রিয়ান।
সে সবকিছু কি কয়েকটা সিগারেটের টানে শেষ হওয়া সম্ভব??
কখোনই না
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলো তবুও রিয়ান বাসায় ফেরে নি।
রেল লাইনের পাশে একটা বেঞ্চে বসে আছে।উড়াচ্ছে সিগারেটের ধোঁয়া।
চোখের পানি আর থামাতে পারছে না, ওদের বেগ যেন কমছেই না।
অনবরত গাল বেয়ে বৃষ্টির মত ঝরে চলেছে
বেদমার বৃষ্টি ভেজা একাকীত্ব মন আর এক রাশ সিগারেটের ধোঁয়া নিয়ে মনের গভীরে ডুবে আছে রিয়ান
ভাবছে রাইসার কথা,,,,,
"" সত্যি কি রাইসা আমাকে ভালোবাসে না?
তাহলে কি আমার ভাবনা ভুল ছিলো যে রাইসা আমাকে ভালবাসে??
হয়তো তাই মনে হয়
হয়তো ও আমাকে শুধু ওর বন্ধু ভাবে তারচেয়ে বেশি কিছু নয় হয়তো।
কিন্তু আমি তো ওকে ভালবাসি, কি করে বাঁচবো আমি ওকে ছাড়া।
কি করে?? ওকে ছাড়া সত্যি বাঁচার কোন ক্ষমতা নেই আমার।
তোকে অনেক অনেক ভালবাসি রে রাইসা।
শুধু বলতে পারলাম না তোকে নিজের মনের কথা"""""
রিয়ানের এসব ভাবতে ভাবতে আর সিগারেট টানতে টানতে অনেক সময় পেরিয়ে গেলো।
সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতের অন্ধকার নামলো।
চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার,
শুধু স্টেশনে পাশের সড়কে সড়ক বাতির আলো টিমটিম করে জ্বলছে।
রিয়ান এখনো বসে আছে বেঞ্চের ওপর আর দক্ষিনা মাতাল হওয়ার সাথে উড়িয়ে দিচ্ছে সিগারেটের ধোঁয়া।
ধীরে ধীরে নিজের মনকে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা চলছে
আর এখনো অঝোরে ঝরাচ্ছে চোখের বৃষ্টি
একা একা মনে হাজারো বিষন্ন লুকিয়ে বসে আছে রিয়ান।
এখন তার যেতে ইচ্ছে করছে না ঘরে,
বসে আছে আনমোনা মনে।
মন খুলে ঝরাচ্ছে বেদনার বৃষ্টি ধারা ও উড়াচ্ছে সিগারেটের ঝাপসা বেদনামুখর ধোঁয়া।
চারদিকে শুনশান নীরবতা,,,
একলা মনে অসহায় ভাবে বেঞ্চে বসে আছে রিয়ান।
তখন মনে হয় রাত ১টা বেজে গেছে,
হঠাৎ করেই ফোনে রিং বেজে উঠলো।
ফোনটা পকেট থেকে বের করে দেখে রাইসা কল করেছে।
সে নিজেকে একটু সামলো নিয়ে মনকে একটু শান্ত করে গলার স্বর ঠিক করে ফোনটা রিসিভ করলো।
অনেক সময় এক টানা কান্না করার জন্য গলাটা বসে গেছে রিয়ানের।
তাই গলার স্বর ঠিক করে ফোন রিসিভ করলো
ফোন রিসিভ করার পর,,,
_কিরে....ঘুমাচ্ছিলি??
_হুমম বল,,
""রিয়ান রাইসাকে কিচ্ছু বললো না এখন ও কি করছে, কোথায় আছে।
বলেই বা কি হবে রাইসার মনে এখন অন্য কারোর বাস।
তাছাড়া ও এসব জানতে পারলে খুবই কষ্ট পাবে।
রিয়ান কোনমতেই তার ভালোবাসার মানুষকে কষ্ট দিতে চায় না।
তাই সে বুকে নিজের কষ্ট চাপা দিয়ে কথা বলে যাচ্ছিলো রিয়ান রাইসার সাথে,,,
_রিয়ান,, আমার ঘুম আসছে না রে
হাসান আমাকে ভালোবাসবে তো?
_হ্যা,, কেন ভালোবাসবে না??
তুই অনেক ভালো মেয়েরে, হাসান তোকে অনেক ভালোবাসবে।
_হুমমম,, তাই যেন হয় রে
_হুমম হবে হবে, চিন্তা করিস না।
_হুমমম,, ওকে ঘুমা তুই তাহলে।
এ কথা বলেই রাইসা ফোন কেটে দিলো।
রিয়ানের বুকটা ফেটে যাচ্ছে কষ্টে।
বুকের বামপাশে ব্যাথাটা যেন ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।
দুই প্যাকেট সিগারেট সব শেষ করলো রিয়ান।
বসা থেকে এবার উঠে দাড়ালো।
বাসার দিকে সে রওনা হলো।
বাসায় এসে ধপাস করে শুয়ে পড়লো বিছানায়।
ঘুমাতে চেষ্টা করলো কিন্তু কিছুতেই ঘুম আসছে না।
চোখের পানিতে বালিশটা ভিজে যাচ্ছে।
চোখ দিয়ে বেদনার বৃষ্টি ধারা যেন থামছেই না।
কাঁদতে কাঁদতে কখন যে ঘুমিয়ে গেলো টেরই পেলো না রিয়ান।
পরের দিন সকালে ভার্সিটিতে গেলো রিয়ান।
ভার্সিটিতে যাওয়ার সাথে সাথেই রাইসার সাথে দেখা,,
_ঐ রিয়ান,
_হুমমম বল,
_ঐ যে দেখ হাসান ওখানে বসে আছে।
ওর সাথে কথা বল তুই, ওকে একটু বুঝিয়ে বল প্লিজ,
_আচ্ছা, ঠিক আছে বলছি।
রিয়ান হাসানের সাথে গিয়ে কথা বললো রাইসার বিষয়ে।
হাসান এ বিষয়ে শোনার পর রাইসার সাথে আলাদা ভাবে কথা বলতে চাইলো।
হাসান রিয়ানকে বললো রাইসা যেন তার সাথে পুকুর পাড়ে দেখা করে।
তারপর রাইসা ওর কাছে গেলো।
তারপর রাইসা রিয়ানকে,,,
_কি রে কথা হলো???
_হুমমমম রে, ও তোর জন্য পুকুর পাড়ে অপেক্ষা করছে, যা।
_অহহহহ,, থ্যাংক ইউ রে তোকে,
অনেক অনেক থ্যাংক ইউ
_আরে এতে থ্যাংস এর কি হলো।
বন্ধুই তো বন্ধুকে দেখবে নাকি, এবার দেরী করিস না যা।
যেভাবে বললাম মনে হয় ও তোকে এক্সেট করতে রাজি হয়ে গেছে,
তোর সাথে কথা বলবে এখন।
বুকে পাথর চাপা দিয়ে কথাগুলো বললো রিয়ান।
ওর মধ্যে যে এখন কেমন লাগছে এটা শুধু ও নিজে ছাড়া কেউ বুঝতে পারছে না
_হুমমমম যাচ্ছি
তারপর রাইসা রিয়ানের গালে ওর হাত দিয়ে আলতো একটা স্পর্শ করে বললো,
_আসি রে,
রিয়ান গম্ভীর গলায় উত্তর দিলো,,
_হুমমম
তারপর রাইসা হাসানের কাছে চলে যাচ্ছে।
রিয়ান স্থির দৃষ্টিতে রাইসার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।
কিচ্ছু বলতে পারছে না।
শুধু চোখ দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো।
যাওয়ার সময় রাইসা এক বারের জন্য ও ফিরে তাকালো না।
চলে গেলো হাসানের কাছে।
চোখের পানি গড়িয়ে পড়া যেন থামছেই না।
সে বাসায় চলে গেলো।
সারাদিনে কয়টা সিগারেট খেয়েছে তার কোন হিসেব নেই।
সারাদিন সিগারেট ছাড়া মনে হয় অন্য কোন খাবার পর সামনে আসেনি।
প্রায় না খেয়েই গেছে সারাদিন।
রাত ১০টা বাজে,
আবারো সেই ঘুমানোর বৃথা চেষ্টা।
নাহ কিছুতেই ঘুম আসছে না।
তারপর আবারো আরো দুই প্যাকেট সিগারেট কিনে নিয়ে রেললাইনের পাশে গিয়ে বসলো সে।
একের এক সিগারেট তার ঠোঁট কে স্পর্শ করছে।
রাত তখন ২টা বাজে,
হঠাৎ রাইসা কল দিলো।
রিয়ানের এখন খুব ভালো লাগছে।
রাইসা ওকে ভালো বাসুক না বাসুক ওর সাথে কথা তো বলে,
অনেক কেয়ারও করে।
তোর খোঁজ খবর তো নেয়।
এতেই রিয়ান অনেক খুশি।
ফোনটা রিসিভ করলো রিয়ান।
_রিয়ান,
_হুমমমম বল,
_I'm Sorrrry রে রিয়ান,
_Sorrry কেন????
রাইসার সরি বলা দেখে রিয়ানের মুখের কোণে এক চিলতে হাসির রেখা দেখা দিলো।
রাইসা নিশ্চয়ই তার ভালোবাসা টা বুঝতে পেরেছে।
নিশ্চয়ই রাইসা তার কাছে ফিরে আসবে।
রিয়ান সিগারেট ফেলে দিলো।
তারমানে রিয়ান কি রাইসাকে ফিরে পেলো??
এক সেকেন্ড এর মাঝে রিয়ানের মুখটা হালকা হয়ে গেলো।
_রিয়ান,
_হুমমম আমি জানতাম তুই আমার কাছে ফিরে আসবি।
আমি তোকে অনেক ভালোবাসি।
পুরো কথাটা শোনার আগেই রাইসা বললো,
_হাসান তোর সাথে আমাকে কথা বলতে নিষেধ করেছে।
সরি রে দোস্ত, তোর জন্য আমি হাসানকে হারাতে পারবো না।
রিয়ান যখন এই কথা শুনলো ওর মনে হলো ওর বুকের মধ্যে বিশাল তোলপাড় শুরু হলো,
কোন এক অজানা ঝড় শুরু হলো ওর বুকের মধ্যে।
কোনরকমে নিজেকে সামলে নিয়ে তখন বললো,
_ কি বলছিস এসব??
আমি তোকে..........
_ভালো থাকিস
বলেই কলটা কেটে দিলো।
এতক্ষনে লাইনটা কেটে গেছে।
রিয়ান নিজের কানকে বিশাল করতে পারছে না এটা কি বললো রাইসা।
রাইসার থেকে এমন কথা একটুও আশা করে নি রিয়ান।
কেন করলো এট রাইসা, কেন? কেন? কেন?
রিয়ান কিছু ভাবতে পারছে না।
বুকের মধ্যে যেন নীড় ভাঙা ঝড় শুরু হয়ে গেছে।
ওর বুক ফাটা চিৎকার কেউ শুনতে পারছে না
বুকের ভেতর থেকে হৃৎপিণ্ডটা মনে হয় বেরিয়ে আসছে
ওর বুকের ভেতরের ক্ষত বিক্ষত মনটাও কেউ দেখতে পারছে না।
শুনতে পারছে না কেউ কষ্টে ফেটে যাওয়া বেদনা মাখা আর্তনাদ
হঠাৎ ওর মনে পড়লো রাইসা তো রাতে সবসময় তারাতারি ঘুমিয়ে যাওয়ার কথা বলে।
রিয়ান সবসময় রাইসার কথা মেনে চলে।
আজও মানবে।
পকেটে হাত দিয়ে দেখলো আর একটা সিগারেট আছে।
সিগারেট টা জ্বালিয়ে রেললাইনের ওপর গিয়ে হাটুগেড়ে বসে পড়লো রিয়ান
আর আকাশের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বললো,,
_রাইসা তুই কি শুনতে পাচ্ছিস??
আমার মনের কথাটা বলতে চেয়েছিলাম তোকে কিন্তু সে সময় টাও তুই আমাকে দিলি না।
ভালোবাসি তোকে কিন্তু তোকে আর বলতে পারলাম না,
তোকে ভালোবাসি রে সেটা হয়নি বলা
না বলাই থেকে গেলো আমার ভালোবাসা।
আমি তোর সব কথা মেনে নিয়েছি।
আজও তোর কথা মতোই কাজ করবো।
ভালো থাকবো আমি।
কিন্তু বিশ্বাস কর রাইসা এ পৃথিবীর বুকে রিয়ান রাইসাকে ছাড়া ভালো থাকতে পারবে না রে।
তুই ভালো থাকিস সবসময়।
আমি একটু ঘুমাই তাহলে কেমন।
Good Night......
রিয়ান রেললাইনের ওপর শুয়ে পড়লো।
সিগারেট টানতে লাগলো।
১০ মিনিট পর দুর থেকে ট্রেনের হুইসেল শোনা গেলো।
কিন্তু রিয়ানের কাছে ওটা তার জন্য মৃত্যু ধ্বনি।
ট্রেনটা ধীরে ধীরে কাছে চলে আসছে রিয়ানের।
রিয়ান চোখ বন্ধ করে ফেললো আর তৈরি হলো ওপারে যাওয়ার জন্য।
অপেক্ষা করছে সে পরজীবনের যাত্রী হওয়ার জন্য,
তৈরি হলো না ফেরার দেশে একেবারের জন্য যাওয়ার
তারপরেই
ট্রেন রিয়ানের ওপর দিয়ে স্বার্থপরের মত ক্রস করে চলে গেলো।
ট্রেন লাইনে পড়ে রইলো রিয়ানের ছিন্ন বিচ্ছিন্ন রক্তাক্ত দেহ।
ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রইলো ওর শরীরের অংশগুলো
শেষ হয়ে গেলো রিয়ানের জীবন,
একটা না বলা ভালোবাসা হয়ে,
অসমাপ্ত রয়ে গেলো রিয়ানের ভালোবাসার গল্প
রিয়ানের মনে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একটা কথাই ছিলো,
রাইসা তোকে ভালোবাসি সেটা বলা হলো না
ভালোবাসি হয়নি বলা
এভাবেই শেষ হলো রিয়ানের এক তরফা ভালোবাসার গল্প,
সাথে সাথে শেষ হলো রিয়ানের জীবন

