আদরিনী
আদরিনী
- রিম ... এই মেয়ে টা একবার এখানে আয় তো।
অনেকবার করে ডেকেও যখন মেয়ের সাড়া পেলেন না ঠিক তখন ই রেগে বোম হয়ে হন্তদন্ত হয়ে মেয়ের ঘরে ঢুকে রিমঝিমের মা দেখলেন তার মেয়ে আনমনে একঠায় ঘরের বড় বারান্দা থেকে তাকিয়ে আকাশ দেখছে। বাইরে চারপাশে কি হচ্ছে তার কোন আন্দাজ ওর নেই।পিঠে একটা হাত পড়তে ওর হুঁশ ফিরে আসতে পিছনে ঘুরে বুঝতে পারলো ওর চন্ডী মা থুড়ি মাতৃদেবীর দৃষ্টি ওকে ভস্ম করে দেবে।
- কি হলো এরকম ভয়ঙ্কর ভাবে দেখছো কেন? দূর্গা পূজো আস্তে বহুদিন বাকি মানে মাসখানেক তো হবেই।
- মায়ের সাথে মশকরা হচ্ছে তোমার শয়তান মেয়ে।কখন থেকে ডাকছি জানিস ! তা সারা পাড়া বোধহয় জড়ো হয়ে যেতো আমার চেঁচামেচি শুনে। তোর ধ্যান ভঙ্গ হতো না। সারাদিন এই এরকম জনম দুঃখী হয়ে থাকিস নয়তো পড়ে পড়ে ঘুমোস , বলি কদিন পর যে পরীক্ষা হুঁশ আছে তোর ! তা নয় মেয়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরছে।
এটা রিমঝিমের সাথে রোজ হামেশাই ঘটে তাই এসবে পাত্তা না দিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই বললো
- আরে কিছু না আকাশ দেখছিলাম ,ওই দেখো না কি সুন্দর নীল হয়ে আছে পূজোর আগে কিরকম মেঘগুলো ভেসে বেড়ায়।
এতোক্ষণে রিমঝিমের কথা শুনে ওর মাও আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলো মেয়ে ঠিকই বলেছে কিন্তু অজান্তেই ওনার মনটা কেমন ঢিপঢিপ করে উঠলো মেয়েরা দিকে তাকিয়ে মনে ভাবলেন
" পাগলী মেয়েটা যে এখনো বাচ্চা আছে ,পরে কি যে হবে!"
মায়ের কালো হয়ে মুখটা দেখে আলতো করে গালটা টিপে চুমু দিয়ে রিম আহ্লাদী গলায় বললো,
- কি জন্য ডাকছিলে?
- বেশি জরুরি না তোর মনির বাড়িতে তোকে পাঠাবো বলে ডাকছিলাম তালের ফুলুরি আর প্রসাদটা পাঠাবো তাই।
তুমি তালের বড়া করেছো ! কতোদিন পর কই দাও দেখি।
মেয়ের বাচ্চামো দেখে মুখ টিপে হেসে রিমের মা বললো
- আগে ওবাড়ি দিয়ে আয় তারপর খাস। শুনলাম আদি এসেছে ,ছেলেটা আমার বড় ফুলুরির ভক্ত। কতদিন পর শখ করে বলেছে মাম ফুলুরি খাবো।
- ওই ছেলেটার জন্য এতো কিছু? আমি সেই কবে থেকে বলছি তারবেলা না।তুমি আমার না ওর মা বলোতো আগে ঠিক করে!!
- কথায় কথায় ছেলেটাকে ওরকম করিস না তো, কি ভালো ছেলেটা তোর মতো হিংসুটে না। পড়াশোনা করে ,চাকরি করছে প্রতিবার প্রথম হয় তবুও অহংকার নেই আজকালকার ছেলেদের মতো বাঁদর না কি সুন্দর প্রণাম করে সবার সাহায্য করে।
- থামোওওও বাপরে তুমি তো শুরু করলে বলতেই ছাড়ো না ওর কথা। একটা চাকরি করছে বলে ভালো পড়ালেখা করে বলে কেউ ভালো হয়না বুঝলে মা জননী।
- তা কি করলে ছেলেটা ভালো তুই মানবি?
- কিছু না আপাতত তোমার সোনার টুকরো ওই ছেলের জন্য কি বানিয়েছো দিয়ে আসি ।
এই ভালো ছেলেটা কত হাড় বজ্জাত জানা আছে আমার হুঁ এইসব বলে আদির গুষ্ঠি উদ্ধার করতে করতে হনহন করে বেড়িয়ে গেলো রিম আপাতত পাশের বাড়ির একটা বাড়ি পরেই ওর গন্তব্য স্থান
এই বাড়িটাই রিমের বলা ওই হাড় বজ্জাত টা ইয়ে মানে আদির বাড়ি। আদিরা এখানে গত কয়েক পুরুষের বাস, বাড়ি না বলে রাজপ্রাসাদ বললেও ভুল হবেনা পুরনো ধাঁচের বাড়ি হলেও একদম নতুন বাড়ির মতো সুন্দর আকাশী রঙের চারতলা বাড়ি।
রিমঝিমের এটা ঠাকুরদার বাড়ি হলেও ওরা এসেছে রিম তখন সবে উচ্চমাধ্যমিক দিয়ে কলেজের দোরগোড়ায়। রিমের বাবার বাড়ির বাইরে কাজের সূত্রে থাকা হলেও ওর ঠাকুরদার শরীরের অবনতি দেখে পাকাপাকি ভাবে ওরা এখানেই থাকছে এখন। এই দুটো পরিবারের মধ্যে অর্থা দেবরাজ চক্রবর্তী মানে মানের রিমির ঠাকুরদা আর আদির ঠাকুরদা ওরফে ঋতব্রত রায়ের ছোটবেলার বন্ধু হওয়ার দরুন বরাবরই এই দুটোর বাড়ির সম্পর্ক খুব ভালো বলতে গেলে একটু বেশিই।
রায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় আদিদেব রায় ওরফে আদি যে কিনা একজন চিত্রশিল্পী সাথে চাকুরীজীবি।
পাড়ার তথাকথিত ভালো ভদ্র গুণী ছেলে। এদিকে ব্যানার্জী পরিবারের প্রাণভোমরা তথা দেবরাজ ব্যানার্জীর ছোটগিন্নী আদুরনী রিম যে কিনা এই গুণী ছেলেকে দুচক্ষে দেখতে পারেনা। এই মিষ্টি মেয়েটার তখন সবে কলেজের প্রথম পা দেওয়া ঠিক সেই মুহূর্তে ওকে পড়ানোর দায়িত্ব পড়ে এই আদি র উপর।
অতিরিক্ত ভদ্রলোক গোছের ছেলেটিকে কখনো পছন্দ হয়নি রিমের ,কেমন যেন হুঁকোমুখো লাগতো ওর। সবার সামনে হাসি ঝুলিয়ে রাখা ছেলেটা ওর সামনে এলেই অদ্ভুত গম্ভীর হয়ে থাকতো। এই ছেলেটার গুনগান ওর বাড়িতে রোজ নিমের পাঁচনের মতো ওকে গিলিয়ে দেওয়া হতো। ওর মায়ের তো উঠতে বসতে দিনের শুরুটা আর শেষে ওই হাড় বজ্জাত টাকে নিয়ে হতো। যদি রিম মুখ গুলো শুরু হতো ওর মায়ের বাণী-
ওই ছেলেটাকে দেখে শেখ কি শান্ত ভদ্র ব্যস হয়ে গেল।
কিন্তু সবাই তো জানেই না ওই ছেলেটা আড়ালে কতটা অসভ্য বাজে ,ওই মুখোশের আড়ালে একটা মিচকে শয়তান আছে যেটা রিম দেখেছে কি করে বলবে ও সবাইকে ছেলেটা কি করেছে
ইশশশ সবাইকে কিভাবে বলবে ওই ছেলেটা ধ্যাত!
- আরে তুই যে কালকের পর থেকে আজকে তোর দেখা পাওয়া গেল।
দরজা খুলে রিমকে ডেকে সোফায় বসিয়ে রান্নাঘরে ছুটলেন আদি র মা। বোধহয় রান্না করতে করতে এসে দরজাটা খুলেছেন।
ওনার পিছন পিছন রিম এলো। বলা তো একা পেয়ে আবার সেই পিছনে লাগবে ছেলেটা
- মনি এই নাও মা দিলো তালের ফুলুরি।কি রান্না করছো গো?
- এই তো মালাইকারি করছি খাবি তো?
- উমম ভালো গন্ধ এসেছে ।
- আমি এটা করি তুই আদি কে কফিটা দিয়ে আয় না রে।
- কফিটা কালো কেন?
- ওমা ওতো ব্ল্যাক কফি খায় রে।
- ইয়াক কি তেতো তাহলে।
- ওরকম ই খায়,দিয়ে আয় না মা দেখছিস তো রান্না করছি।
- বাকিরা কোই?
- আরে আজ সব বেড়িয়েছে একটু।
- ওহ দাও তাহলে।আমি থাকতে চাপলেস থাকো বুঝলে!
- নিয়ে যা কাল থেকে একটু ওর জ্বর সর্দি হয়েছে।
- একটু আদা চা করে দাও।
- খাবেনা জেদী ছেলে একটা।
- আচ্ছা দাও দেখি।
ধুর ব্যাঙ যেটার ভয় পাচ্ছিল সেটাই হলো ওই বজ্জাতটার কাছেই যেতে হবে ধুর ছাই। কোথায় শরীর খারাপ তা নয়
এই তেতো কফিটা খাবে ।তেতো মানুষের তেতো পছন্দ।
আদির ঘরের দরজার দিকে যেতে গিয়ে ও রিম ফিরে এলো যাবো!
না বাবা নিচে গেলে নিচে গেলে মনি সেই কেন দিস নি জিজ্ঞেস করবে এইসব সাত পাঁচ ভেবেই রিম আদির ঘরের দরজায় টোকা দেয় দেখলো দরজাটা ভেজানোই।
ভিতরে ঢুকে দেখে এসি চলছে তার মধ্যে বিছানায় এককোণে কুঁকড়ে আদি শুয়ে আছে।
ইশশশ চাদরটাও নেয়নি আবার এসি চলছে, মুখটা তো লাল হয়ে আছে সাথে ধাক্কাও বোধহয় অসুখটা বেড়েছে অনেকটাই।
হাড় বজ্জাত একটা তাই অসুখ করেছে বলে হালকা করে একটা চাদর চাপা দিয়ে মাথার চুলটা হাত দিয়ে আলতো করে ঘেঁটে রিম দেখলো কিরকম বাচ্চা আর ভোলা মুখটা লাগছে।
গা টা গরম যাই মনিকে বলি ওষুধ টা খাওয়াতে বলে সবে উঠেছে বিছানা থেকে ঠিক তখন ই হঠাৎ টান মেরে বিছানায় কারোর বুকে পড়লো রিম। চোখ বন্ধ করেও ও কারোর বুকের আওয়াজ টা শুনতে পাচ্ছে্ চোখ মেলে দেখলো একজোড়া চোখটা নেশার ঘোরে ওকে দেখছে।
সঙ্গে সঙ্গে মুখটা ঘুরিয়ে নিলো রিম, তখন ও ওই চোখ ওকেই দেখছে। ওই চোখদুটো বড় কাছে টানে , ইচ্ছা করে হারিয়ে যেতে।মনে হয় তাকিয়ি থাকি কিন্তু এইভাবে নরম হলে চলবেনা এই মানুষ টাকে দেখতে পারেনা ও তবুও কিসের টানে ওই চোখদুটো তাড়া করে বেড়ায় ওকে আর মনটাও ওদিকে পড়ে থাকে।
- কথায় কথায় ছেলেটাকে ওরকম করিস না তো, কি ভালো ছেলেটা তোর মতো হিংসুটে না। পড়াশোনা করে ,চাকরি করছে প্রতিবার প্রথম হয় তবুও অহংকার নেই আজকালকার ছেলেদের মতো বাঁদর না কি সুন্দর প্রণাম করে সবার সাহায্য করে।
- থামোওওও বাপরে তুমি তো শুরু করলে বলতেই ছাড়ো না ওর কথা। একটা চাকরি করছে বলে ভালো পড়ালেখা করে বলে কেউ ভালো হয়না বুঝলে মা জননী।
- তা কি করলে ছেলেটা ভালো তুই মানবি?
- কিছু না আপাতত তোমার সোনার টুকরো ওই ছেলের জন্য কি বানিয়েছো দিয়ে আসি ।
এই ভালো ছেলেটা কত হাড় বজ্জাত জানা আছে আমার হুঁ এইসব বলে আদির গুষ্ঠি উদ্ধার করতে করতে হনহন করে বেড়িয়ে গেলো রিম আপাতত পাশের বাড়ির একটা বাড়ি পরেই ওর গন্তব্য স্থান
এই বাড়িটাই রিমের বলা ওই হাড় বজ্জাত টা ইয়ে মানে আদির বাড়ি। আদিরা এখানে গত কয়েক পুরুষের বাস, বাড়ি না বলে রাজপ্রাসাদ বললেও ভুল হবেনা পুরনো ধাঁচের বাড়ি হলেও একদম নতুন বাড়ির মতো সুন্দর আকাশী রঙের চারতলা বাড়ি।
রিমঝিমের এটা ঠাকুরদার বাড়ি হলেও ওরা এসেছে রিম তখন সবে উচ্চমাধ্যমিক দিয়ে কলেজের দোরগোড়ায়। রিমের বাবার বাড়ির বাইরে কাজের সূত্রে থাকা হলেও ওর ঠাকুরদার শরীরের অবনতি দেখে পাকাপাকি ভাবে ওরা এখানেই থাকছে এখন। এই দুটো পরিবারের মধ্যে অর্থা দেবরাজ চক্রবর্তী মানে মানের রিমির ঠাকুরদা আর আদির ঠাকুরদা ওরফে ঋতব্রত রায়ের ছোটবেলার বন্ধু হওয়ার দরুন বরাবরই এই দুটোর বাড়ির সম্পর্ক খুব ভালো বলতে গেলে একটু বেশিই।
রায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় আদিদেব রায় ওরফে আদি যে কিনা একজন চিত্রশিল্পী সাথে চাকুরীজীবি।
পাড়ার তথাকথিত ভালো ভদ্র গুণী ছেলে। এদিকে ব্যানার্জী পরিবারের প্রাণভোমরা তথা দেবরাজ ব্যানার্জীর ছোটগিন্নী আদুরনী রিম যে কিনা এই গুণী ছেলেকে দুচক্ষে দেখতে পারেনা। এই মিষ্টি মেয়েটার তখন সবে কলেজের প্রথম পা দেওয়া ঠিক সেই মুহূর্তে ওকে পড়ানোর দায়িত্ব পড়ে এই আদি র উপর
সবে কদিন হলো রিম এখানে এসেছে নতুন জায়গা তারপর কলেজে ভর্তি সবকিছু মিলিয়ে নার্ভাসনেস ছিল অনেকটাই। যেহেতু রিমের বরাবর একটু সাহিত্যের দিকে ঝোঁক ও বেঙ্গলি অনার্স নিতে চেয়েছিল।
এদিক ওদিক অনেক খোঁজাখুঁজি করে অনার্সের টিচার পেলেও জেনারেল সাবজেক্ট গুলোর জন্য ততটা নজর দেয়নি রিম।
হঠাৎ করেই একদিন রিমের বাবা বিকেলে আদি কে নিয়ে রিমের ঘরে ঢুকে বলে ,
- তুই তো আর খুঁজিস নি আমিই তাই ধরে বেঁধে একটা মাস্টার নিয়ে চলে এসেছি, তোর তো ইতিহাস আর শিক্ষাবিজ্ঞান আছে আর আদি ইতিহাসের গেস্ট লেকচারের কিছুদিন হলো চাকরিটা পেয়েছে। তোর সুবিধার জন্য ওই পড়াবে এবার থেকে।
এটা শুনে রিম বিরক্ত হয়ে আদির দিকে তাকিয়ে দেখেছিল ও মিটমিট করে হাসছে তার মানে ওরা রীতিমত ওকে পড়াবে।
প্রথম পড়ানোর দিন একটা ইতিহাসের নোটসের খুলে বসলেও আদির সামনে।
আদি ওর দিকেই একভাবে তাকিয়ে আছে, একে তো ভয় লাগছে তার উপর এইভাবে কেউ দেখলে ভারী অস্বস্তি বোধ হয়।
সেটা বুঝেই হয়তো আদি ইতিহাসের বইটা নিয়ে রিম কে বলেছিলো
- তা ইতিহাস পছন্দ করো ?
- না বাংলা বেশি ভালো লাগে আমার।
এরপরে কটা প্রশ্ন করলেও রিম ভয়ের চোটে একটাও উত্তর না দিতে পেরে মুখ নিচু করে বসেছিল।
এদিকে আদি হাসিটাকে কোনরকমে চেপে ভারী গলায় বললো,
এই পড়ালেখা করেছো ? কাকু কে বলতে হবে আপনার মেয়ে তো পুরো গবেট কিছু ই পারেনা।
রিম কিছুই বললো না কিছু সমানে হাতটা মুচড়াতে থাকলো। আদির চোখ পড়তে দেখলো রিমের হাত দুটো লাল হয়ে গেছে, আস্তে করে চেয়ারটা টেনে হাঁটু মুড়ে নিচে বসে রিমের হাত দুটো নিজের কোলে রেখে হালকা করে দুটো চুমু খেলো আদি ।এটা দেখে রিম কিছু বলা তো দূরের কথা পুরো থমকে গেছে না কিছু বলতে পারছে না নড়াচড়া করছে।
এরপর রিম আর পড়বোই না এই অসভ্য টার কাছে কিন্তু রিমের বাবার আদিকে খুব পছন্দ হওয়ায় রিমের ইচ্ছা ধোপে টিকলো না।
উল্টে আরো বেশি করে পড়ায় জোর দিতে হবে বলে আদি দুবেলা করে পড়ানোর পারমিশন পেয়ে গেলো।
তারপর টানা কটা মাস কেটে গেল রিমের ফাস্ট সেমের পরীক্ষা প্রস্তুতি ভালো থাকায় অনেকটাই ভালো রেজাল্ট করেছিল রিম কিন্তু পড়ানোর সময় খুব ভালো পড়া হয়েছে এটা একবার ও শোনেনি রিম।
যতোবার ই পড়া করেছে ততবার আরো ভালো হতে হবে এটাই বলে গেছে রিম। তারপর আদির পিছনে লাগা তো আছেই।
দেখতে দেখতে পূজো দোরগোড়ায়। এমনিতেও রিমের খুব একটা ভালো লাগার থেকে আদির প্রতি ভয়টাই বেশি বরাবর।
অষ্টমীর দিন অঞ্জলির জন্য রিম ওর মায়ের একটা আকাশী রঙের শাড়ি পড়েছিল। ওর সাজ বলতে চোখের কাজল আর ঠোঁটে হালকা লিপগ্লস, সেদিন ও ওটাই হয়েছিল সাথে জুড়ে ছিল মায়ের পছন্দের ঝুমকো আর কালো টিপ।
এমনিতেও খুব সুন্দরী না হলেও রিম সুশ্রী আর মিষ্টি দেখতে হাসলে গালে টোল পড়ে।রঙ টা উজ্জল শ্যামলা হলেও চেহারার মধ্যে একটা মায়া আছে। সবথেকে সুন্দর ওর ডাগর চোখদুটো।
অঞ্জলী দিয়ে আসার পথে তাড়াহুড়ো করে চলার জন্য শাড়ি জড়িয়ে পড়তে পড়তেও কারোর হাতের টানে পড়েনি আর ।এদিকে সবাই সামান্য হাসাহাসি করলেও রিমের কাছে ব্যাপারটা বাড়াবাড়ি লেগেছিল। একে তো পড়েই যাচ্ছিল সাহায্য না করে সবাই...
- হাঁটতে না পারলে শাড়ি পড়ার কি আছে? যেটা পারবে না সেটা নিয়ে পাকামো খালি।
আদির কাছে বকা শুনে রীতিমত কাঁদো কাঁদো অবস্থা রিমের তবুও চুপটি করে দাঁড়িয়ে ছিল। আসলে অঞ্জলী দেওয়ার সময় পাড়ার ফালতু ছেলে বলে বিখ্যাত রাহুলের ওইভাবে রিমের দিকে তাকানো ওর গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকাটা দেখে আদির এমনিই মাথা গরমও ছিল তার উপর রিমের এরকম ...
মন চাইছিল রিমের এখানে থেকে এক ছুটে পালাতে , কিন্তু ওর হাতটা শক্ত করে আদির হাতের মুঠোয় ধরা। এইরকম সবার হাসাহাসি তার উপর আদির এরকম কথা শুনে রিমের কুড়ি খারাপ লাগছে। অনেক কষ্টে হাত ছাড়িয়ে একছুটে নিজের ঘরে এসে থেমেছিল রিম। আর সমানে বলেছিল হাড় বজ্জাত একটা ,খালি অপমান করে। কিভাবে বললো সবার সামনে। কাকে বলবো যাকে দেখি ওর নাম করে কেউ বিশ্বাস করবেনা কত বাজে ছেলেটা। সব ওর দলে কেউ নেই ওর ,এমনকি ওর ছোট ভাইটাও এখন আদিদা বলে পায়ে পায়ে ঘোরে ।কি পেয়েছে কি ওর মধ্যে।
হুট করেই পিছনে ঘুরে দাঁড়াতে কারোর সাথে ধাক্কা খেয়ে সামনে তাকিয়ে রিম দেখে আদি একভাবে ওকে দেখছি আবার সেই ঘোর লাগা নজরটা।
- এদিকে এসে বসো ইশ কিরকম করে কাঁদছে ফ্যাচ ফ্যাচ করে।
- তোমার কি ? তুমি এখানে কেন?
- রুমালটা নাও মুখটা মোছো।
- লাগবে না কারোর দয়া।
- ও বাবা অনেক রাগ হয়েছে তো ছিঁচকাদুনে মেয়েটার।
একদম গায়ে হাত দেবেনা আমার , বেরিয়ে যাও সবার সামনে অপমান করে নাটক হচ্ছে চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে হেঁচকি উঠিয়ে ফেলেছিল রিম। ততক্ষণে রিমের আলুথালু চুল শাড়ির আঁচলটা মেঝেতে লুটাচ্ছে।
আদি সরে গিয়ে মুখটা মোছাতে গেলে
- বলছি তো আসবেনা।কি চাই তোমার? সবসময় তো অপদস্থ করো তাতে হচ্ছে না আরো করবে করো। আমাকে কাঁদাতে ভালো লাগছে নিশ্চিত এবার কি মতলবে এসেছো।
এসব বলে যখন রিম ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে হেঁচকি তুলছিল ঠিক তখনই আদি এক ঝটকায় নিজের বুকে মিশিয়ে নিয়েছিল রিম কে ,মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত করছিল একটু আগের কাঁদা মেয়েটাকে।না চাইতেও রিম চুপটি করে আদির বুকে ঢুকে মুখ লুকিয়েছিল। কতটা সময় ধরৈ একে অপরের মধ্যে ডুবে ওরা নিজেদের নিঃশ্বাসের শব্দে কথাগুলোর মান অভিমান মিটিয়েছিল জানা নেই। হঠাৎ করেই হুঁশ ফিরে আসতেই,
- ছাড়ো তুমি, তুমি খুব বাজে লোক।
- তাই বুঝি!
- খুব নিষ্ঠুর তুমি।
-কেন সোনা?
- একদম কথা বলতে আসবে না সবার সামনে অপমান করে , এখান ভোলাতে এসেছে।
-কেন করি জানো না?
- কিছু জানি না , ভালো পেয়ে সবসময় মজা ওড়ানো।
মান হয়েছে বুঝতে পেরে
বেশ কিছুক্ষণ পরে আদি রিমের মুখটা তুলে চোখ দুটো মুছিয়ে চোখের পাতায় চুমু খেয়ে বলেছিল,
আমি আমার পছন্দের মানুষ তো দূরের কথা জিনিসেও ভাগ দিইইনা কাউকে।
- ছাড়ো।
এটা বলা সত্ত্বেও কোন ছাড় পায়নি রিম উল্টে ওর মুখের আরো কাছে আরেকজনের গরম নিঃশ্বাসের শব্দ পেলো। যেটা ওকে এতোটা শান্ত করে দিয়েছিল যে মানুষ টা কপালের আলতো চুমু খেয়েই চলে গেলেও তার রেশ বা ঘোর ওর এখনো কাটেনি। বরং এখনো ওর চোখ বেয়ে অভিমানের জল সমানে পড়ে চলেছে।
এরপর সময় যেন একনিমিষে কেটে গেল রিমের কলেজজীবন ও শেষের দিকে সাথে আদির পড়ানোর সময় ফুরিয়ে এলো। ধীরে ধীরে আদির পড়ানোর অত্যাচার বেড়ে গেল একটা সময় সেটা রিমের সয়ে গেছিল। বরাবরের মতো ভালোই রেজাল্ট করে থার্ড ইয়ারে উঠলো রিম। এইবারে তেমন একটা আদির বকুনি খায়নি রিম, এই করেই দিনকাল ভালো ই চলছিল। আসলে যত ই গোমড়ামুখো হোক মানুষ টা আদতে খুব ভালো কি সুন্দর সবটা সহজ করে বুঝিয়ে দিতে পারে।
থার্ড ইয়ারে শুরুর দিকের সেমিস্টারের রেজাল্ট বেরোনোর পর প্রতিবারের মতো আদির বাড়ি গিয়ে দেখাবে ভেবেছিল রিম।
অভ্যাসবশত আদির ঘরে কড়া নাড়লেও বুঝে ছিল দরজা খোলা ঢুকতেই দেখেছিল।
কেউ একজন খুব ঘনিষ্ঠ ভাবে আদিকে জড়িয়ে ধরে আছে। ওইদিকের দুজন রিমের উপস্থিতি টের পায়নি নয়তো ....
কিছু না বলেই নিজের ঘরে চলে এসেছিল রিম। আর যায়নি ও বাড়ি সারাদিন, একটু পরে বিকেলের দিকে দেখে আদি এসেছে।
- কি হলো রেজাল্ট দেখালে না এইবার।
- ইচ্ছা হয়নি তাই।
- ওহ কই দেখি রেজাল্ট টা।
- টেবিলে রাখা আছে।
-ওহ।
রেজাল্ট টা দেখে আদি খুশি হলেও মুখে প্রকাশ না করে গম্ভীর মুখ রেখে বলে।
- আচ্ছা আমার ফিস কোই দেখতে দেখতে তো কলেজটাও শেষ হয়ে এলো।
- ওমা বাবা এই মাসে দেয়নি নাকি!
- ...
মুখে হালকা হাসি ঝুলিয়ে আদি এগিয়ে এলো রিমের দিকে। কোনরকমে সরে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো পাশ কেটে।
-বাবার হয়তো মনে নেই আমি বলে দেবো তাহলে
কোনরকমে তোতলাতে তোতলাতে বলে রিম ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে গিয়ে ও থেমে গেল আদি ওর হাতটা ধরে আছে।
আরো কাছে এসে ওর দিকে ঝুঁকে নেশা জড়ানো বললো আমি তোমার থেকে ফিস চেয়েছি অন্য কারোর কাছে কেন যাবো। রিম কিছু বলার আগেই ওর ঠোঁটে ততক্ষণে আদির ঠোঁট মিশে গেছে। এই ছোঁয়াতে চেনা মানুষের ভরসা পেলেও কোনরকমে আদিকে সরিয়ে হাঁফাতে হাঁফাতে মুখটা লজ্জা নিচু করে ফেলেছিল।
ভুলেই বসেছিল আদির ঘরে দেখা দৃশ্যটা। হুট করেই আদিকে সরিয়ে দিয়ে বলেছিল কটা মানুষ লাগে তোমার ?? এখনো শখ মেটেনি না। আসো পুরোটা মেটাও। আমি তোমার হাতের পুতুল তাই না!!
- কি বলছো কি?
- কিছু জানোনা না!
- আরে সত্যি বুঝতে পারছি না।
- কচি খোকা তো তুমি একজন কে জড়িয়ে ধরবে আরেকজন কে চুমু খাবে।
- আমার কথাটা শোনো।
- আর শুনতেও চাই না যাও এখান থেকে তুমি।
- বেশ যখন মানতেই চাও না কি বলি আর।
বলে আদি বেরিয়ে গেলেও রিম হাউমাউ করে কেঁদে ফেললো। কেন কেন এরকম করলে আমি তো...
একটিবার ভাবলে না আমার কথা, কি দোষ করেছি আমি?
সেইদিনের পর থেকে আর একবার ও মানুষটা ওর সামনে আসেনি । ভালো রেজাল্টের জন্য এ বাড়িতে ওদের খাওয়ার নেমন্তন্ন থাকলেও চুপচাপ খেয়ে চলে গেছিল। রিম ঘর থেকে একবার ও বেরোয়নি ,চায়না ওই মানুষটার সামনে পড়তে।
এইভাবেই মান অভিমানের চলতে চলতে বেশ কটা সপ্তাহ গড়িয়েছে। রিমের ভাইয়ের হাতে পড়ার নোটস পাঠিয়ে দিয়েছে আদি, ওর বাবাকে বলেছে ওর কলেজের চাপ আছে তাই শেষ কটা মাস নোটস দিলে রিম নিজেই পড়তে পারবে ,ওর আর পড়াতে লাগবেনা।
পুরনো সবটা ভাবতে ভাবতে মনে পড়লো আজ ওকে দেখতে আসবে কারা। অনেক দিন আগে থেকেই পছন্দ করে আদির চেনাজানা ওই খোঁজ দিয়েছে।
আজ সকাল থেকেই তাই রিমঝিমের মনভার। কিছু ভালো লাগছে না ওর। বয়সের সাথে সাথে যার হাত ধরে ওর মনে বসন্তের ছোঁয়া লেগেছিল , সে নিজেই আজকাল অচেনা ,তাহলে কেন এতো কাছে এসে তাকে ছুঁয়ে ছিল সে ছোঁয়াতে তো লালসা কামনা ছিল না বড্ড ভরসা ছিল।
মায়ের ডাকে ভাবনাগুলো কে দমিয়ে রেখে সাড়া দিল রিম।
-কি রে তৈরি হোসনি ,এই তো চলে আসবে চল দেখি সাজিয়ে দি আমার মেয়েটাকে।
- মাআআআ।
- ওরকম করেনা সোনা দেখতেই আসছে তো তুই না চাইলে কেউ জোর করবেনা ব্যস।
মায়ের কথামতো শাড়িটা পড়ে ওই হালকা একটু সাজের ছোঁয়া তে রাঙিয়ে নিলো রিম। মা তো চুমু খেয়ে বলে ফেললো,
- বাহ কি মিষ্টি লাগছে মেয়েটাকে আমার। বড় হয়ে গেছে কত।
রিম নিচে এসে দেখলো মনি আর কাকু বসে আছে আরো দুটো ছেলে মেয়ে। আদি তাদের পাশে বসেই গল্প করছে হাসিমুখে তার মানে এই ছেলেটার কিছু যায় আসেনা । সব মিথ্যা ছিল তার মানে, ঠিক আছে তবে তাই হোক আমিও বিয়েতে হ্যা বলবো।আদির পাশে বসা মেয়েটা হুট করে রিমের কাছে এসে বললো
- এটাই তাহলে রিম ,বাহ কি মিষ্টি দেখতে গো। আমার তো ভালোই পছন্দ হয়েছে।
- আমাদের রিম লাখে একটা একেবারে, ছোট থাকতেই পছন্দ ছিলআমার ওকে।
-আচ্ছা ঠিক আছে যাদের বিয়ে তারা দুটিতে কথা বলে নিলেই তো হয়।
- তা ঠিক আমি তো পারলে কালকেই বিয়ে দিয়ে ঘরে নিয়ে যাবো বলেই
- আমাদের ছেলের বড় বউপাগল নয়তো মেয়েটাকে আরো কদিন পরেই বিয়ে দিয়ে নেবো বলে।
- আমার তো বেশ লাগলো বউদি কে অবশ্য একটু ছোট তবুও বউদিভাই বলবো কিন্তু বলে।
যার বউ হবো বলে এতো দিন ভেবেছি তাকে ছেড়ে আরেকজনকে । এসব আদি মেনেও নিচ্ছে । কোথায় গেলো ওর পাগলামি আমার জন্য সব নাটক তাহলে। আমাকে নিয়ে দিনের পর দিন ওইসব কথাগুলো কি তাহলে ।আমিই একা ভেবেছি তাহলে ছেলের বিয়ের তাড়া ,বউ পাগল ইশশশ কি অবস্থা এইসব ভাবনার মাঝে রিমের মা বললো ওকে তোর ঘরে নিয়ে যা।
এমনিতেও দমবন্ধ অবস্থা ওর তাই মায়ের কথায় হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো যেন ,তাই চুপচাপ আসুন বলে নিজেই আগে এগিয়ে গিয়ে নিজের ঘরের বারান্দায় চলে গেল। আজকের পর থেকে ও অন্য কারোর ভাবতেই কেমন যেন লাগছে ওর।
ঠিক তখনই কেউ আলতো করে ওর চুলটা সরিয়ে দিলো। রিম ঘুরে তাকিয়ে দেখলো আদি।এই মানুষটা ওকে নিয়ে সমানে নাটক করেছে ,এখানেও শান্তি নেই আবার হাসছে ,মজা পাচ্ছে ওর অনুভূতি গুলো কে নিয়ে মজাই তো করেছে এতো দিন।
- তুমি কি করছো? তোমার বন্ধুটা কোথায়। কি হলো বলো?
- একে একে সব
প্রশ্ন কর একসাথে বললে কিভাবে উত্তর দেবো।
একভাবে তাকিয়ে ওর দিকে আদি ওকে একনিমিষে জড়িয়ে ধরলো এদিকে তো রিমের অবাক লাগছে ততক্ষণে ও নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু সেটা না পেরে কটা খামচি কেটেও দেখলো একভাবে আদি জড়িয়ে ওকে বলছে।
- পাত্রকে একা ডেকে এনে তাকেই মারছো।
একি মারকুটে বউরে বাবা।
- পাত্র?
পাত্র মানে বর। একি বাংলা নিয়ে অনার্স করছো জানো না।
- একদম ঢঙ করবেনা।
- আরে আমি পাত্র মানে তোমার হবু বর যে আজ তোমাকে পাকাপাকি ভাবে নিজের করার জন্য তোমার বাড়িতে এসেছে।
- কি!
- গবেট কোথাকার।
তাহলে ওইদিনেই কে ছিল মেয়েটা ? কাকে জড়িয়ে ধরেছিলে? সে কোথায় থাকে রেখে এখানে কেন?
- এতোক্ষণে বুঝলাম ম্যাডামের কোথায় অভিমান হয়েছে।
- মানে?
- আজকের পাকা কথা বলতে এসেছি সেদিনের জড়িয়ে ধরা মেয়েটা আজ তোমাকে দেখে পছন্দ হয়েছে বললো ওটা আমার মামার ছোট মেয়ে ।বুঝলে?
- ওহ...
-তোমরা সবাই খারাপ কেউ কিছু বলেনি আমাকে।
- বেশ হয়েছে তুমি যেমন বলো নি মান হয়েছে কিসব একা একা ভেবে গেলে।
- তাই বলে;
আদি বুঝতে পেরেছে আজ মহারানীর রাগ ভাঙাতে তাকে বেশ কসরত করতে হবে তাই কিছু না ভেবে রিমের ঠোঁটজোড়া চেপে ধরলো নিজের ঠোঁট দিয়ে।
একটু আদর একটু চুপ থাকা সবকিছু একনিমিষেই মন ভালো করে দিলো রিমের
- এই মানুষটা আমার শুধু আমার বুঝেছো।
একধ্যানে রিম তাকিয়ে দেখছিল ওর মানুষটাকে মে কিনা তার জন্য পাগল বলে চলেছিল নিজের মতো করে।
আজ থেকে নয় এই মেয়েটা আমার সেই পুঁচকে বেলা থেকেই যখন থেকে আমি তাকে দেখেছিলাম তখন থেকেই এই মানুষ টা আমার একার মা কে বলেই ছিলাম তোমার বউমা এই মেয়েটাই হবে বুঝলে বলেই আদি আলতো করে নাকটা টিপে দিয়েছিল রিমের।
তাই তো একেবারে আজ থেকে আমার করে নেওয়ার তোড়জোড় করে নিলাম, এখানে এই মনটায় আমি থাকবো।
আদিল বুকে মুখ গুজে চুপচাপ রিম ওর বলা কথাগুলো শুনে মনে মনেই বললো এই গোমড়ামুখো এরকম ছুপা রুস্তম কে জানতো!
-এই যে মিস আদুরিণী।
- কি ভাবছে আপনার জন্য এতো পাগল কেনো তাইতো?
- উমম।
- জানতে চাও?
এই মন বারান্দায় যখনই পেয়েছে তোমার ছোঁয়া,
ঠিক তখনই মনের চিলেকোঠায় তোমার বাস আদুরিণী।
সমাপ্ত।।
সমাপ্ত।।

