Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Shantanu Banerjee

Tragedy


4.9  

Shantanu Banerjee

Tragedy


১৯শে অক্টোবর

১৯শে অক্টোবর

8 mins 936 8 mins 936

- কীরে ওঠ, দ্যাখ কখন থেকে শ্রেষ্ঠা ফোন করছে তোকে... তোকে না পেয়ে আমাকে ফোন করেছিলো|

(ইতিমধ্যে আরেকবার ফোন টা বেজে উঠলো)

- হ্যালো মা, ও উঠেছে গো?

- হমমম রে কোনোরকম এ ওঠাতে পেরেছি।

- ওর কানে দাও তো ফোন টা।

- হমম দ্যাখ এবার তুই চেষ্টা করে।

(মা তখন জয় এর কানের কাছে নিয়ে যায় ফোন টা)

- এই যে, ঘুমের দেবতা; কটা বাজে? খেয়াল আছে কিছু?

- হমমম আছে, তুই আমার একমাত্র আদরের একটা বউ.

- সেটা তো বিয়ের পর হবো, আর যদি আধ ঘন্টার মধ্যে আমাদের বাড়ি না এসেছিস, তাহলে বিয়ের আগেই ডিভোর্স দিয়ে দেবো কিন্তু...!

- রক্ষে করুন আমার অর্ধাঙ্গিনী, আমি এক্ষুনি আসছি..!

এদিকে মা হাসতে হাসতে-

- তুই বলেই পারলি, আমার কথা তো শোনেই না।

- ওর কোন রোগ এর কি ওষুধ আমার সব জানা আছে। দেখো না ঠিক টাইট দিয়ে দেবো তোমার বেয়ারা ছেলে কে।

- ঠিক যেমন বুনো ওল, তেমনি বাঘা তেঁতুল..! বেছে বেছে ঠিক  মেয়ে কেই ভালোবেসেছে বাছাধন..!

- হা: হা: হা: বেশ রাখি গো..! Ready হবো..!

- হমমম সাবধানে যাবি, রাখ।

চট করে fresh হয়ে এসে জয় বললো- 

- মা, কোন dress টা পড়ি বলতো..?

- কেনো, পড়ে নে তোর কোনো ছেঁড়া ফাটা প্যান্ট আর একটা T shirt

- উফঃ তুমি না। ওটাকে style statement বলে ঠিক আছে..!

- ওসব বুঝিনা বাপু, অত ছেঁড়া ভালো লাগেনা..! পড় না ১৯ তারিখ এ শ্রেষ্ঠা যে পাঞ্জাবি টা দিলো তোকে..!

- ভালো বলেছো তো..! আমার জন্মদিন এর পাঞ্জাবি টাই পড়ে যায়।

- ওকেও বলিস শাড়ি পড়তে, তবেই না মানাবে আমার ছেলে বৌমা কে..!

- মা you are the best.

- (একটু হেসে) তাড়াতাড়ি যা, নাহলে আবার ও রেগে যাবে..!

- যা বলেছ, আমি বেরোই হ্যাঁ..!

- হমমম সাবধানে যাস..!

আধ ঘণ্টা র মধ্যেই ready হয়ে শ্রেষ্ঠা র বাড়ি পৌছালো জয়..!

গুবলু দরজা টা খুললো..।।

- উফঃ জয়দা এদিকে তুমি দেরী করছো, আর তোমার রাগ ঝারা হচ্ছে আমাকে..!

- হা: হা: হা: sorry শালাবাবু, তোর দিদি রেগে পুরো fire হয়ে আছে না..?

- যাও দেখো গিয়ে সামলাও তোমার বউ কে..!

- ok ok

হালকা হালকা পায়ে রুম এ গিয়ে দেখলো, খাটের উপর বসে আছে রাগুনী..!

- এই এক দুই তিন.......

- থাক আর কোন ধরে ওঠ বস করতে হবে না..! খুব হয়েছে. তোর সাথে আমার আর কোনো কথা নেই।

- ও মা, তাই বললে হবে, চল আমি তোকে ready করিয়ে দিচ্ছি.

- থাক, তার আর দরকার নেই, তুই চলে যা.

- আচ্ছা অত রাগ করিস না, জানিস তো রাগ টা আমার একটু minus point

- হমম জানি আমার থেকেও বেশি।

- না না তোর থেকে.......

- চুপ, যা পালা তুই.

- আচ্ছা বেশ চলে যাচ্ছি তবে।

এই বলে উঠে যেতেই পেছন থেকে জামার কলার টা টেনে ধরে খাটে শুইয়ে দিলো ও..

- আরে কি করছিস, কাকিমা গুবলু সবাই আছে বাড়িতে...

- থাক দেখুক তোর উপর আমার অধিকার কতটা|

- কিন্তু মানে......

পুরোটা আর বলা হলো না, একটা উষ্ণ নিঃস্বাস এর শুরুর সাথে সাথে নরম রাগ, অভিমান, আদর, ভালোবাসা মেশানো ঠোঁট ছুঁয়ে গেলো.

- কেলিয়ে দেবো কোথাও গেলে..! তুই শুধু আমার|

- হা: হা: একদম পাগলী..!

- শাড়ী পড়াতে পারিস..? পড়িয়ে দে না|

- খুব একটা না, তবে try করতে পারি?

- তা পারবি কেনো...!! ঘুমাতে তো খুব ভালোই পারিস|

- তা পারি, এখন ঘুমাবো..??

- হমম ওটার জন্য তো সবসময় ready আপনি তাই না..?

- হি: হি: হি:

- ছাড় চুড়িদার ই পরে নিচ্ছি।

- বেশ আমি নিচে wait করছি, তাড়াতাড়ি।।

নীচে বসার ঘরে এসে বসলো জয়..। তখন কাকিমা হাতে মিষ্টি নিয়ে এলো।

- কিরে পারলি রানী মার রাগ ভাঙাতে..?

- হমমম একদম বাচ্চা যে গো তোমার মেয়ে.. একটু বোঝালেই রাগ কমে যায়।

- বেশ নে একটা মিষ্টি খা..

- ব্যাস একটাই, আর খাবোনা কিন্তু..

- তা আপনি যে মিষ্টি ভক্ত নন, তা আমি জানি। কিনতু ওনার আর কতক্ষন লাগবে..??

- এই তো আমি, এই চল চল। তুই এখন বসে বসে মিষ্টি খাচ্ছিস..??

- না এই মানে কাকিমা র সাথে তোর নামে একটু নিন্দা করছিলাম আরকি..!

- ওটাই তো তোর কাজ, এখন চল। আসি মা..!

- আসছি কাকিমা।

- হমমম বেশী দেরি করিস না।।

বাড়ী থেকে কিছুক্ষণ ই লাগলো বিয়েবাড়ি। ওদের একটা common friend এর ই বিয়ে| বিয়েবাড়ি ঢুকতেই একের পর এক বন্ধু দের সাথে দেখা, আর পুরোনো কত গল্প..! এর মাঝেই ওরা গেল কনে র সাথে দেখা করতে..!

- কিরে তোরা এত দেরি করলি..??

- please আর রাগাস না ওকে, আমি ই বলছি, আমি ই একটু ঘুমিয়ে পড়েছিলাম..!

- হা: হা: হা: তুই না জয় আজ ও পালটালি না..!

- By the way Congratulations to both of you for your Happy Married life.

- Thank you. & I must say you both are looking very sweet as always.

- সবই তো আমার এই সুন্দরী র জন্য।

- থাক আর তেল মারতে হবেনা (শ্রেষ্ঠা বললো)

- আচ্ছা আমরা বাকি বন্ধু দের সাথেও দেখা করে আসি হ্যাঁ..!

- হ্যাঁ যা..!

-আচ্ছা শোন ক্ষেপি, তাড়াতাড়ি খেয়ে ফিরতে হবে, কারণ কাল আবার আমার office আছে।

- হ্যাঁ একটু পর ই খেয়ে নেবো..!

খাওয়া দাওয়া র পর শ্রেষ্ঠা গেলো বউ এর সাথে দেখা করতে আর জয় গেলো Bike টা বের করতে..! জয় অপেক্ষা করছে এমন সময় পেছনে শ্রেষ্ঠা এসে বললো-

- এই শোন না

- হমম বল

- কটা বাজে..??

- এই তো ৯:৩০

- চল না একটু হাঁটতে হাঁটতে যাই 

- কিন্তু কেনো..? মানে Bike থাকতে হাঁটতে যাবো কেন..?

- আরে চল না, কি সুন্দর weather দ্যাখ একটু গল্প করি..

- সে তো Bike এও হবে..!

- ধুর তুই না দিন দিন বড্ড unromantic হয়ে যাচ্ছিস..!

- আচ্ছা বেশ দাঁড়া তবে, Bike টা রেখে আসি..!

- বেশ

- এরম ভাবেই একদিন আমাদের ও বিয়ে হবে বল..??

- yes সুন্দরী

- আচ্ছা বিয়ে তে কি পড়ে আসবি..?? আমাদের দেওয়া পাঞ্জাবি না তোদের কেনা..??

- না ভাবছিলাম মানে লু........

- এই please তোর ওর বস্তা পচা লুঙ্গি আর স্যান্ডো গেঞ্জি র jokes টা দিবি না তো। বল না...

- হা: হা: হা: যেটা বলবি, তোদের দেওয়া পাঞ্জাবিটা বললে ওটাই পড়বো..!

- Good, তখন কিনতু প্রচুর প্রচুর মিষ্টি খেতে হবে বলে দিলাম..!

- এই না please, তুই জানিস আমি একদম মিষ্টি খেতে পছন্দ করি না..!

- ওসব তুই বোঝার তোর শাশুড়ী কে সেদিন..

- এটা কিরকম torture yaar, তুই তো at least support করিস সেদিন আমাকে..

-Nope, sorry.!

- আচ্ছা ধর আমি একটু নিয়ম টা পাল্টে নতুন নিয়ম চালু করলাম..!

- কি শুনি.??

- বিরিয়ানি দিয়ে অভ্যর্থনা জানানোর। কেমন হয়...??

- কোথা থেকে এলেন রে আমার লাট সাহেব, ওনার জন্য বিরিয়ানি চাই..

- কলকাতা থেকে এসেছি..

- সে যেখান থেকেই হোক, এটি আপনি পাবেন না..!

- বউ বউ না রহা, pyaar pyaar না রহা....

- হা: হা: হা: তুই থামবি, নাহলে এক্ষুনি কুকুর হাজির হয়ে যাবে.. এখন চল আমাকে একটা Ice Cream খাওয়াবি..

- তুই এক্ষুনি একটা Ice cream খেয়ে এলি, আবার...??

- এই তুই বাবা র মতো বকবি না তো, তুই আমার বর, তাই তুই আমার সব কথা শুনবি|

- হ্যাঁ জন্ম জন্মান্তর ধরে তো সব বর দের ই তাদের বউ এর হুকুম মানতে হয়, আমি ই বা কোথায় অন্য গ্রহ থেকে এসেছি..!!

- Yup, মাথায় থাকে যেন, আর তাছাড়াও তুই না আমার ভাত কাপড় এর দায়িত্ব নিবি বলেছিলি...!

- হমমম তা বলেছিলাম, তবে Ice cream এর দায়িত্ব নেবো তা তো বলিনি..!

- তুই না just খুন হয়ে যাবি জানিস তো এই মাঝ রাস্তায় আমার হাতে..

- হা: হা: আচ্ছা আমি ভুল কি বললাম বল..?? ঠান্ডা খাওয়া যে তোর বারণ সেটা তো আমাকেই খেয়াল রাখতে হবে বল..??

- বেশ আর একটাই তো, আর খাবোনা কয়েকদিন promise

(এসব বলতে বলতে ওরা একটা Ice cream এর দোকান এর সামনে এলো)

- দাদা একটা corneto দিন তো..

- একটা কেন?? তুই খাবি না..??

- না না..!

(ঠিক এই সময় একটা ফোন আসে জয় এর ফোন এ আর ও তখন বাইরে চলে যায়)

- দাদা Ice Cream এর সাথে একটা Dairy milk Silk দেবেন তো..!

- কত হলো..?

- ১৫০ ম্যাম.

- এই নিন

(শ্রেষ্ঠা বাইরে বেরিয়ে এল)

- এই হনু কোথায় গেলি..?

- এই তো এখানে

- এদিকে আয়

- কি হলো?? পেলিনা..?

- হমম এই যে আমার পছন্দের জিনিস আর এটা তোর পছন্দের..!

- বাবা: এটাও খেয়াল আছে দেখছি..

- তো তুই কি ভাবলি, শুধু তুই ই আমার পছন্দ আর অপছন্দ টার খেয়াল রাখিস..??

- Really i am impressed

- আচ্ছা কে ফোন করেছিলো..?

- কাকিমা, জিজ্ঞাসা করছিলেন আর কত দেরি হবে..??

- কি বললি..?

- বললাম ওনার রাজকুমারী র Ice cream খাওয়ার বায়না ধরেছে

- এই রে, বাড়ি ফিরে নির্ঘাৎ মায়ের কাছে গাল খাবো রে..

- Don't worry আমি আছি তো।

- Sooo sweet 

- আচ্ছা চল আর আদর দেখতে হবে না, Bike টা আনি, এবার ফিরতে হবে..

- হমমম চল চল

( জয় Bike টা এনে শ্রেষ্ঠা র সামনে এলো)

- শোন না বলছি আমি একবার তোর Bike টা চালাবো..?

- এখন..?? পাগল হয়ে গেছিস..?? একদম না। অনেক দেরি হয়েছে গাড়িতে ওঠ

- please জয় please দ্যাখ এখন রাস্তাও একদম ফাঁকা একবার।

- মনে নেই কাকিমা কি বললো?? তাড়াতাড়ি ফিরতে, তাড়াতাড়ি বোস.

- please yaar please একটু মত please দ্যাখ তুই তো পেছনে বসে থাকবি..

- উফঃ তুই মাঝে মাঝে এমন জেড করিস না, বেশ আয়

(দাঁত বের করে হাসতে হাসতে এসে চেপে জড়িয়ে ধরে জয় কে)

- আচ্ছা কিভাবে চালাবো বল..??

- First start the Bike by the key তারপর clutch ধরে First gear এ ফেলে, এই যে নীচে বা দিকে, আর ডান দিকের টা break. তারপর clutch টা হালকা হালকা করে ছেড়ে accelerate টা বারা...

- ভয় লাগছে রে

- হবে হবে try কর আস্তে আস্তে। Handle টা শক্ত করে ধরে থাকবি

- এই তো পেরেছি.... ইইইয়াহু

- এই তো very smart. খেয়াল থাকে ডান পায়ে break, ওটা চেপে থাকবি.

- নে নে এবার শিখে গেছি, এবার gear বাড়াচ্ছি

- ok কিন্তু সাবধানে

- ওরে বাপরে, এতো speed বেড়ে গেলো, control করতে পারছি না তো যে রে......

- Break টা ধর, সামনে দ্যাখ, gear টা কমা

- কমাতে পারছিনা, ভয় লাগছে

- break টা মার break টা মার, সামনে গাড়ি আসছে, শ্রেষ্ঠা................................

শ্রেষ্ঠা আরে এই শ্রেষ্ঠা আরে ওঠ...

মায়ের গলার ডাক পেয়ে হালকা ভাবে চোখ টা খুললো শ্রেষ্ঠা

- উফঃ তোর ঘুম বটে বাপু, কখন থেকে ডাকছি ওঠ এত কাজ পড়ে আছে, বাড়িতে এত লোক জন এসে গেছে; আর তুই বেলা অবধি পড়ে পড়ে ঘুমোচ্ছিস. দ্যাখ জয় নীচে পুরো বাড়ি মাথায় তুলেছে...

ঠিক তখনই একটা বাচ্চা উপরে এসে শ্রেষ্ঠা র খাটে বসে ওর গায়ে উঠে ওকে জড়িয়ে ধরলো..

- মা

- বলো বাবু, উঠে গেছো তুমি..??

- হমমম আজ তো আমার Birthday..! 

- Happy Birthday My love. Many Many Happy Returns of the day.

- Thank you মা, চলো তুমি ওঠ এবার।

- হমমম যাচ্ছি তুমি যাও..

- ও চলে যাওয়ার পর শ্রেষ্ঠা কিছুটা একমনে জানালার দিকে তাকিয়ে ছিলো, যেন কিছু একটা স্মৃতি ওকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এটা লক্ষ্য করছিল ওর মা। একটু পরে ওর মা বললো-

- কিরে আজ ও ভাবছিস ওই দিনটার কথা..?? ছাড় না। অনেক বছর তো হলো. সেদিন যদি তুই ঐভাবে Bike চালানোর জন্য জোর না করতিস তাহলে হয়তো ওই accident টা হতো না. সেই মুহুর্তে ওই লোকগুলো যদি তোকে Hospital এ পৌঁছে আমাদের খবর না দিতো তাহলে তো....... জানিনা জয় এর কি হলো...! ওটা আজ ও একটা Mystery আমাদের সবার কাছে... ওর বাবা মা ও তো ওর আশা ছেড়ে দিয়েছেন..! সেদিন যে ওর কি হলো, কোথায় গেলো পুরোটাই ধোঁয়াশা.. অনেক চেষ্টা তো করলাম, আর ওকে ফিরে পাবার আশা নেই রে, ভুলে যা রে মা..! বরঞ্চ যে জয় কে তুই কাছে পেয়েছিস তাকে নিয়ে জীবন এ এগিয়ে যা..!

এই সময় ছোট্ট জয় আবার উপরে এলো.

- মা তুমি এখনো বিছানায় বসে আছো..? আর আজ আমার জন্মদিন আর আজ তুমি কাঁদছো..?

- ও কিছু না সোনা, তোমায় পাওয়ার আনন্দে..!

- আচ্ছা দিদুন আমার এই নাম টা কে দিয়েছিলো?? বাবা না মা..??

- আমরা কেউ না বাবা.. তোমার আরেক দাদু ঠাকুমা যারা কলকাতায় থাকেন..!

যেন একটা নিস্তব্ধতা বয়ে গেল এটা বলার পর..! সামনে calendar এর দিকে তাকিয়ে দেখলো শ্রেষ্ঠা, সেখানে আজকের তারিখ

১৯শে অক্টোবর|


Rate this content
Log in

More bengali story from Shantanu Banerjee

Similar bengali story from Tragedy