সময়ের চক্রব্যূহ
সময়ের চক্রব্যূহ
আমরা জন্মেই ঢুকে পড়ি
এক অদৃশ্য চক্রব্যূহে,
বেরোনোর পথ লেখা নেই কোনো পাঠ্যবইয়ের পৃষ্ঠায়।
এখানে অভিমন্যু আজ একজন নয়—
প্রতিটি সাধারণ মানুষ,
যে প্রতিদিন যুদ্ধ করে
বেঁচে থাকার আশায়।
প্রথম বৃত্তে— অভাব,
দ্বিতীয় বৃত্তে— বেকারত্ব,
তৃতীয় বৃত্তে দাঁড়িয়ে দুর্নীতি
হাতে ক্ষমতার তলোয়ার।
আর তার ঠিক পাশেই হাসে বৈষম্য—
কারও আকাশছোঁয়া প্রাসাদ,
কারও মাথার উপর ছাদটুকুও ধার।
এখানে সত্য কথা বললে
তোমার কণ্ঠেরই বিচার হয়,
মিথ্যে যদি দামি পোশাক পরে—
তার গলাতেই সম্মানের মালা রয়।
যোগ্যতা দাঁড়িয়ে থাকে লাইনের শেষে,
পরিচয় ঢুকে পড়ে সামনের দরজায়;
ঘাম ঝরানো হাত হিসেব মেলায়,
আর সুযোগ বিকোয় গোপন বাজারে হায়!
শিক্ষার চক্রে নম্বরের দৌড়,
চাকরির চক্রে হাজার প্রতিযোগী,
হাসপাতালের দরজায় অসহায় অপেক্ষা,
বিচারের পথে ক্যালেন্ডার হয় রোগী।
মানুষ শুধু ছুটছে, ছুটছে—
কিন্তু কোথায় পৌঁছবে, জানে না কেউ;
চারদিকে শুধু দেওয়াল উঠছে,
বেরোনোর দরজা দেখাবে কে ?
তবু আজকের অভিমন্যুরা
শুধু হারতে শেখেনি।
তারা প্রশ্ন করতে শিখেছে,
অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেনি।
একটি হাত যদি আরেকটি হাত ধরে,
একটি কণ্ঠের পাশে ওঠে হাজার কণ্ঠ—
চক্রব্যূহ যতই কঠিন হোক,
ভাঙবেই তার অহংকারী প্রাচীর।
কারণ সমাজ কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়,
মানুষও কারও দাবার ঘুঁটি নয়—
যেদিন আমরা ‘আমি’ থেকে ‘আমরা’ হব,
সেদিন চক্রব্যূহের শেষ বৃত্তটাও
ভেঙে পড়বে—
আর বেরিয়ে আসবে
একটা নতুন সকাল,
যেখানে বেঁচে থাকার জন্য
মানুষকে আর
অভিমন্যু হতে হবে না।
