নির্লিপ্ত চোখের ক্যানভাস
নির্লিপ্ত চোখের ক্যানভাস
একটা কাব্য লিখব বলে হাত বাড়ালাম।
বাধার দেয়াল হয়ে সামনে দাঁড়ালো
নির্লিপ্ত চোখের ক্যানভাস।
সন্ধ্যার নরম আলোর মত চোখ
আকাশে ভেসে থাকা গভীর নক্ষত্রের মত
মানসপটে ছড়িয়ে গেল একরাশ শব্দের শান্ত ঢেউ,
অব্যক্ত স্বপ্নের মায়া আর নিঃশব্দ আহ্বান।
ওই চোখে সময় থমকে দাঁড়ায়,
শব্দের কোলাহল ভেঙে আসে শীতল স্রোত।
যেন চোখের ভেতর এক গোপন বনভূমি—
ছায়া-রোদে ভরা, তবু নিরাপদ, তবু উষ্ণ।
কালো পাপড়ির আড়ালে লুকানো দীপ্তি
হাসির সাথে মিশে হয়ে ওঠে রোশনাই।
অভিমান চোখে বাসা বেঁধে বলে তুমি সুন্দর।
এই চোখ যেন থেমে থাকা বিকেল—
রোদ ফুরোয়নি, রাতও নামেনি।
প্রকৃতির দ্বিধার
ঠিক সেই মাঝখানে দাঁড়িয়ে অনুভূতিগুলো
লাজুক ঠোঁট মেলে বলে তোমায় ভালোবাসি।
সে দূর সীমানায় তাকিয়ে অপেক্ষায়,
মনে হয় কেউ তার নাম ধরে ডাকছে
বাতাসের ভেতর দিয়ে,
আর সে শুনছে কান পেতে একটু লাজুক হয়ে।
তার লুকনো সেই নরম হাসি,
হৃদয়ের ভাঁজ খুলে দেয় অজান্তে।
খোঁপায় গুঁজে রাখা সাদা ফুল
ভুল হয়ে ফোটে সত্যের আড়ালে।
আর মুক্তোর মালা যেন বলে—
নীরবতাই সৌন্দর্য।
ভালোবাসা চুপচাপ আসে, এভাবেই…
একটা মৃদু দৃষ্টির আড়ালে লুকিয়ে।
সময়ের গতি থামিয়ে যেন বলে যায়
পৃথিবী যত কঠিনই হোক,
কোথাও না কোথাও
এখনও কোমলতা বেঁচে আছে।
এ যেন এক নিশ্চিন্ত আশ্রয়,
যেখানে দুশ্চিন্তা থেমে যায়,
ঘূর্ণন থেমে পৃথিবী শান্ত হয়।
রাজ্যের ব্যস্ততা ছেড়ে দাঁড়ায় ক্লান্ত প্রেমিক।
ওই চোখে তাকিয়ে বলে এবার ফুলস্টপ।

