চক্র
চক্র
স্নিগ্ধ নয়ন মাঝে, ভুলায়ে রেখেছো যার হিয়া,
দিবস-রজনী তারই বক্ষে কী চলিয়া যাও প্রিয়া?
সে বক্ষ জুড়ে ভাসিয়া যাও,
নদীর স্রোতপথ হতে মোহনায়
নীরবে তখন ঢেউ আসে যায়
মায়া মাখানো জোছনায়।
কল্লোলিনীর প্রবাহে তব ছুটিয়া যাও
মুক্ত প্রাঙ্গণে,
বাহু প্রসারিত, আঁখি নিমীলিত,
বক্ষবন্ধনে।
গেছো সেথা নিজ ইচ্ছায়,
তবে কিসের এত ক্রোধ?
শুনিয়া মনে হয় যেন
বাঁধিয়াছে বিরোধ!
কখনও সেথা শান্তির ন্যায়
মৌন ব্রত কর পালন,
সূর্যাস্তের তরে সীমান্তরালে
উদাসী হয় কত মন।
যামিনী অন্তে রবির তেজে
খন্ড ক্ষুদ্র তব তুমি,
ভাসিয়া আসো আমার কক্ষে
করিতে দখল আমার ভূমি।
থাকিয়া যাও কিছুদিন সেথা
করিতে শক্তি সঞ্চয়,
শক্তির বলে ভর দিয়া রাখো
নিজ মহিমা অক্ষয়।
সাদা আভরণ ঢেকে যায় তখন
কালোর আস্তরণ মাঝে,
প্রচন্ড জোরে ডাক দিয়া তখন
আবারও ঝরে পড়ো তার কাছে।
মহীর বক্ষে প্রাণ আছে
শুধু তোমারই কারণে আজ,
বারবার চলিয়া যেতে তাই,
বারণ করিনা আমি আর।
চলুক এ চক্র অনন্তকাল,
যতদিন থাকিবে প্রাণ এ বিশ্বে;
এ চক্র থামিয়া গেলে,
হয়ে যাবে সব নিঃশেষ।

