শেষ অষ্টমী
শেষ অষ্টমী
কথাটা বারবার বলবো ভেবেও বলে উঠতে পারিনা।
মনে মনেই হাজার বার নিজেকে শুনিয়েছি, বুঝিয়েছি, যুক্তি খাড়া করিয়ে নিজেকে ধমকেছি।
বারবার ভেবে ভেবে আজ কেমন নাটকের বুলির মতো কথাগুলো মুখস্ত হয়ে গেছে।
গেঁথে গেছে মাথায়।
এই ঘটনাটার পরে, সেই পনেরো বছর পিছিয়ে যাওয়া, তারপরে আবার টুপ করে ক্ষাণিকটা এগিয়ে
তিন বছর আগের সেই শেষ অষ্টমী..........
নবমীটা আর হয়তো আসবেনা।
বিসর্জনের বালাই নেই।
পুরোনো হয়ে ধুলো জমেছে অযত্নে।
সিংহের সোনালী কেশরটা এখন নিতান্তই
সাদামাটা ধূসর;
অসুরের বুকের টকটকে লাল রক্তটাও
আজ কেমন কালচে।
ছোটবেলায় মনে পড়ে?
বিসর্জনের দিন মনটা কেমন হুহু করতো?
ইচ্ছে হতো দেওয়ালঘড়ির কাঁটাগুলো বাহুবলে আঁটকে রাখি।
মনে হতো আর কটাদিন থাকলে হয় না?
পুজোটা মাত্র পাঁচ দিনের কেন?
সারা বছর থাকলে কী মজাটাই না হতো।
আজ আমার পুজো থমকেছে।
সেটা তিন বছর সেই পুরোনো বেদিটার উপরেই অধিষ্ঠিত।
এই তিন বছর সেখানে মন্ত্রোচ্চারণ হয়নি।
হয়নি সন্ধ্যারতি।
দিনের বেলায় ঢাকের কাঠি পড়েনি একবারও,
না বেজেছে শঙ্খ, কাঁসর, ঘন্টা।
রাতের বেলায় আলো জ্বলেনি।
তবে আকাশের তারাগুলো আজও বড় স্পষ্ট।
তিন বছর!
এই তিন বছরে পাল্টায়নি কিছুই।
সবটা আগের মতই; শুধু দেবীপক্ষের সূচনা আর সমাপ্তির গন্ডিটা, আজকাল আর ধরতে পারিনা।
সেই শেষ অষ্টমীর পরে, কথাগুলো এখন কেমন যেন নিজেকে আঁটকে রাখতে শিখে নিয়েছে।
মুখস্ত বুলিটাও তাই এখন আর
ঠোঁট থেকে বেরোতে পারেনা।
অনেকে বলে ছেলেমানুষি,
কেউ বলে অভিমান,
আবার কারোর মতে ঔদ্ধত্য।
আত্মসম্মান অবশ্য হাসছে, দুর্গার পিছনে;
তাই দুর্গা মূর্তিটা আজও এতো জীবন্ত।
এ মূর্তির বিসর্জন হবেনা, না হবে পুজো।
তবে এই অভিশপ্ত বেদির মাঝে
দন্ডায়মান উজ্জ্বলতাটা, শুধু আমার হয়েই
আমার কাছে থেকে যাবে আজীবন।
অসমাপ্ত কথাগুলো,
আস্বস্ত সমাপ্তির মাঝে হারিয়ে যাবে তখন।
