Exclusive FREE session on RIG VEDA for you, Register now!
Exclusive FREE session on RIG VEDA for you, Register now!

PRITTHISH SARKAR

Drama Romance Fantasy


4.0  

PRITTHISH SARKAR

Drama Romance Fantasy


কৃষ্ণদাসী [ পর্ব-২ ]

কৃষ্ণদাসী [ পর্ব-২ ]

5 mins 242 5 mins 242


                 বিকেলে সিংহ রায় জমিদার বাড়ি থেকে জমিদার পরিবারের সব লোকেরা আসবে এই রাইমুরারীর মন্দিরে। একেতে রাস উৎসবের তোড়জোড় , তার ওপর আবার জমিদার বাবুরা আসছেন .....পুরো মন্দিরে একেবারে সাজো সাজো রব।


    এদিকে কিশোরী ও তৈরি হচ্ছে, আজ মুখ্য পূজারিণী হিসেবে ওকে সন্ধ্যারতি করতে হবে ।এমন সময় হইচই পড়ে গেল , " কর্তাবাবুরা এসে গেছেন রে।..... কেউ বামুন মা কে খবর দে....বরণকুলোটা না নিয়ে ই চলে গেলি..... ওনাদের জন্য প্রসাদ গুলো গুছিয়ে রাখ।" 


      কর্তাবাবুদের সামনের আসনে বসার ব্যবস্থা করা হল। সন্ধ্যারতি শেষ করারপর কিশোরী নিজে হাতে প্রসাদ বিতরণ করে সবার আশীর্বাদ নিল। কর্তা বাবু দের মধ্যেথেকে একজন মহিলা বলে উঠল , " এই শুভী যা ওদের ডেকে নিয়ে আয় .... ওরা তো প্রসাদ খেল না ।" 


        ওই শুভী বলে মেয়েটি কিছুক্ষণ পরে ফিরে এসে বলল , " মা ছোটদা আসবে না বলল। রুহানা দি আসছে। "

     

      জমিদার বাড়ির অন্য আরএক মাঝবয়সি মহিলা বলল , " আমি জানতাম আমার শোভন ভিতরে আসবে না । ও যে মন্দির অবধি আমাদের সবার সাথে এসেছে....তাই অনেক ।ঠাকুর কবে যে ওর তোমার ওপর থেকে সব অভিমান ভাঙবে.... "


রুহানা :    " হ্যালো এভরি ওয়ান। শুভাঙ্গী ঐ প্রসাদ না কি খেতে ডাকল....... অ্যাকচুয়ালি আমার এই প্রসাদ ঠসাদ খাবার একদম ইচ্ছে নেই । বাট তাও ........... আঙ্কেলের ইনভাইটেশনেই যেহেতু আমি এখানে এসেছি ......তাই আমি প্রসাদ না খেলে হি মে বি অফেন্ডেড।"

    

বড়োবাবু ( খানিকটা গর্বের সাথে)     : " এ জন্যই আমি তোমায় এত পছন্দ করি মা।"  


রুহানা       : ( হেসে) থ্যাংক ইউ আঙ্কেল। ( কিশোরী কে পয়েন্ট করে) এই .. এই মেয়ে জাস্ট গিভ মি আ স্লাইট অ্যামাউন্ট অফ.......ওহ সরি তোমরা তো আবার ইংলিশ বুঝবেনা। এনি ওয়ে....খুব অল্.....।


কিশোরী     : ম্যাডাম আপনি অল্প প্রসাদ খাবেন এটাই বলতে চাইছেন তো, ঠিকাছে অল্পই দিচ্ছি । আর আমরা গ্রামের হতে পারি ...... কিন্তু মূর্খ নই।


         প্রসাদ বিতরণ কমপ্লিট হবার পর কিশোরী রাধাকৃষ্ণ সংকীর্তন শুরু করল - 


রাই জাগো গো..

জাগো শ্যামের মনমোহিণীবিনোদিনী রাই।

জেগে দেখো আর তো নিশি নাইগো জয় রাধে

,জাগো শ্যামের মনমোহিণী বিনোদিনী রাই

রাই যাগো গো..জাগো শ্যামের মনমোহিণী বিনোদিনী রাই।

শ্যাম অঙ্গে অঙ্গ দিয়া..আছো রাধে ঘুমাইয়া

..কুলকলঙ্কের ভয় কি তোমার নাইগো জয় রাধে

,জাগো শ্যামের মনমোহিণী বিনোদিনী রাই,

রাই যাগো গো..

জাগো শ্যামের মনমোহিণী বিনোদিনী রাই।


বাসি ফুল জলে ফেলে..

আনো সবে ফুল তুলিয়ে.

.সে ফুল দিয়ে যুগলকে সাজাইগো জয় রাধে

,জাগো শ্যামের মনমোহিণী বিনোদিনী রাই।।


      কিশোরীর অসাধারণ কন্ঠস্বর আর সুর তালের সামঞ্জস্য সবার মন ছুঁয়ে গেল । বড় বাবুর স্ত্রী নিজের গলা থেকে পেনডেন্ট টা খুলে কিশোরী র হাতে দিয়ে আশীর্বাদ করলেন । কিশোরী প্রথমে নিতে আপত্তি করছিল, তখন বড়বাবুর স্ত্রী বললেন, " হ্যাঁ রে তোমার নিজের মা আশীর্বাদ করলে এই ভাবে না করতে পারতে? ... পারতে না তো ...?

ভাবো না এটাও আর এক টা মা ।"


কিশোরী (একটু ইতস্তত হয়ে )     :    না... .... কিন্তু গিন্নিমা .....ঠিকাছে গিন্নিমা , আপনি যখন এত ভালোবেসে এই উপহার টা দিচ্ছেন, আমি নেব।


বড়ো গিন্নিমা  ( হেসে)    : এই তো লক্ষী মেয়ে ।তুমি আমাকে বড়মা বলেই ডাকবে ,কেমন ।


কিশোরী (মাথা নাড়িয়ে)   :  হুম ।


      কিশোরী অনেক ক্ষণ ধরে ই লক্ষ্য করছে বছর ২৫ -২৬ এর একটা অচেনা ছেলে বেশ অনেকক্ষণ ধরে ই মন্দিরের ভিতর চত্বরে ঘোরাঘুরি করছে । এদিক ওদিক তাকাচ্ছে .......কিছু একটা খোঁজার ভান করছে । "ছেলেটাকে সুবিধার লাগছে

না ।আগে দেখেছি বলে তো মনে হচ্ছে না ।চুরি বা অন্য কোনো বদ মতলবে আসেনি তো!! পোশাক আশাক তো ভালোই পড়েছে.....ভদ্রলোকেদের মত। না বাবা আজকাল তো চোর ডাকাত রা ও তো কত রকমের ছদ্মবেশ নেয় ।... হাব ভাব দেখো না .

....যেন সিনেমার নায়ক । দাড়া চোর .... আমি এখখুনি গিয়ে বামুন মা কে বলছি। " মনে মনে ভাবল কিশোরী ।


         বামুন মা কে গিয়ে বলবে তার আগেই বামুন মা কিশোরী র হাতে রাই মুরারি র কিছু পোশাক দিয়ে বলল " যা আগে এ গুলো আশ্রমে রেখে আয়।তারপর তোর সব কথা শুনছি ।" 

  

     - " ধুরর।" - বলে পোশাক গুলো নিয়ে আশ্রমের দিকে ছুটতে লাগল কিশোরী ।মনে মনে ভাবল , " আচ্ছা আমি ঐ চোর হিরো টা কে তো আমার শক্তি দিয়ে ও তো ধরতে পারি। আমি তো আজকে আমার শক্তি এক বার ও ব্যবহার করিনি ।.......না থাক বেশি শক্তি জমালে বেশি শক্তিশালী হবো। ......আমি না ..শক্তি জমাতে জমাতে কিপটে হয়ে যাচ্ছি।" এসব আকাশ কুসুম ভাবতে ভাবতে কিশোরী বেখেয়ালে যেতে যেতে ধাক্কা খেল একজনের সাথে । মুখ তুলে দেখল - এ তো ঐ চোর হিরো। 

       - " তুমি " - দুজনে ই একসাথে বলে উঠল ।


      - " আমি তো তোমাকেই খুঁজছিলাম ।" দুজনে ই আবার একসাথে বলে উঠল ।


কিশোরী     :   কেন বলোতো? কী চাই? তোমার আবভাব প্রথম থেকেই আমার সুবিধা র লাগছেনা ।দেখো আমি ভালো মানুষের জন্য যতটা ভালো, খারাপ দের জন্য ততটা ই খারাপ । সত্যি বলোতো তোমার মতলবটা কি?


কিশোরী র চোর হিরো     : হোয়াট রাবিশ? কি বলছো তুমি? Do u know who i am? আমি তো মন্দিরের বাইরে ছিলাম । তোমার গানশুনেই তো মন্দিরের ভিতরেএলাম । Your voice is too much soulful. Your voice has the ability to give peace to a heart.  আর তাই আমি তোমাকেই খুঁজছিলাম তোমার গানের প্রশংসা করব বলে. But তুমি কি সব বলছ ? আমি আমার ফ্যামিলির সাথে এসেছি...... সিংহরায় ফ্যামিলি।আমি শোভন সিংহরায়....।


কিশোরী     : আপনি ....আপনি ছোট সাহেব? আপনি বিদেশ থেকে ফিরেছেন না? আমার ভুল হয়ে গেছে । কিছু মনে করবেন না ।কিছু মনে করবেন না তো বলুন ...?


শোভন    : চিল। It's ok. আচ্ছা আসছি । সবাই গাড়ি তে উঠে গেছে ।আমি ৫ মিনিট বলে এসেছি আর আধ ঘন্টা হয়ে গেছে ।আমি কিন্তু আর এক দিন আসবো, দেখা করবে তো?


কিশোরী       : কী ?


শোভন        : আই মিন তোমার গান শুনতে আসবো । ওকে টাটা। তোমার নাম কী ?


কিশোরী   ( হেসে )  : কিশোরী । আবার আসবেন ।


        তারপর ফিরতি পথে সারা রাস্তায় শোভন অন্যমনস্ক ছিল ।এমনকি বাড়ি এসে ও শুধু কিশোরী র হাসি , কিশোরীর চাহুনি , কিশোরীর কথার ধরণ এগুলোই ভেসে আসছিল শোভনের চোখের সামনে । ওর বারবার মনে হচ্ছিল যেন এই কিশোরী ই ওর স্বপ্নের রাজকন্যা - যাকে ছোট থেকে কল্পনা করে ওর স্বপ্নের রাজত্ব সাজিয়েছে। শোভনের মনে হচ্ছে , " আমি কি প্রেমে পড়লাম কিশোরীর ? "

Background Music:

ভালো লাগে তোমাকে 

কাছাকাছি পেলে , 

ভালবাসি তুমিও 

কাছাকাছি এলে । 


অন্য তখন , চোখের ধরন , 

অন্য রকম , পায়ের চলন । 


তুমি আসে পাশে ছায়া হয়ে মায়ায় জড়ালে , 

তুমি এক নিমেশে ভালবেসে আমায় বাঁচালে ,  

 তুমি একলা রাতে একটা চিঠি আমায় পাঠালে । 

                                       ( .........  ক্রমশ চলবে)



💙💙💙💙💙💙💙💙💙💙💙💙💙

এটি একটি ধারাবাহিক গল্প, এর মূল বিষয়বস্তু  : 

              মন্দিরে পালিত কিশোরী বড় হওয়ার সাথে সাথে উপলব্ধি করেছে তার ঐশ্বরিক সংযোগ ।ভাগ্য ওকে মন্দিরের আঙিনা থেকে নিয়ে এল জমিদার বাড়ির অন্দরমহলে।কিন্ত হঠাৎ ই ঘটল ওর অকালমৃত্যু।কে ছিল এই খুনের পিছনে?এই শত্রুরা লৌকিক জগতের না অলৌকিক জগতের?কে নেবে এই মৃত্যুর প্রতিশোধ?সব উত্তর পেতে পড়ুন ভালোবাসা , রহস্য আর অলৌকিকতায় ভরা এই ধারাবাহিক গল্প "কৃষ্ণদাসী"।


Rate this content
Log in

More bengali story from PRITTHISH SARKAR

Similar bengali story from Drama