সম্পর্কের শেষ অধ্যায়
সম্পর্কের শেষ অধ্যায়
৫ বছরের সম্পর্ক—১৮০০ দিনেরও বেশি সময়। একটা সময় ছিলো, যখন এই সম্পর্কটা আমার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। মনে হতো, তুমি ছাড়া কিছুই নেই, কেউ নেই। কিন্তু আজ, এই দীর্ঘ পথচলার শেষে এসে, বুঝতে পারছি, সম্পর্কগুলোর শেষও হয়। যদিও কিছু সম্পর্কের শেষ হয় নীরবেই, কোনো শব্দ ছাড়া, কোনো ঘোষণা ছাড়া, ঠিক যেমনটা আমাদের সম্পর্কটা হলো।
তোমার প্রতি আমি যত্ন নিয়েছি, এটা কোনো বড় দাবি নয়, সত্যিটাই বলছি। তোমাকে ভালোবেসেছি, সেটা হয়তো প্রকাশ করিনি, মুখে বলিনি, তবুও আমার ভালোবাসা তোমার প্রতি ছিলো গভীর। আমাদের সম্পর্কের শুরুর দিনগুলো কেমন যেন রঙিন ছিলো। তুমি আর আমি, ছোট ছোট কথায় হাসি, অভিমান, আনন্দ—সব মিলিয়ে একটা স্বপ্নময় পৃথিবী। সেই পৃথিবীতে আমাদের দিনগুলো কেটে যেতো অবিরাম। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই রঙিন দুনিয়ায় যেন মেঘ জমতে শুরু করলো।
তুমি জানো, কিছু সম্পর্ক এমন হয় যেখানে "ভালোবাসি" না বলেও গভীরতার সৃষ্টি হয়। আমাদের সম্পর্কটা সেই রকমই ছিলো। আমরা কখনো মুখে স্বীকার না করলেও, একে অপরের প্রতি দায়বদ্ধতা, ভালোবাসা ছিলো নিঃশব্দে। কিন্তু আজকে যখন পিছনে তাকাই, তখন বুঝতে পারি, সেই সম্পর্কের ভিতরেও ফাটল ধরেছিলো অনেক আগেই।
এই চার বছরের পথচলায় তোমার সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো আমার স্মৃতির মধ্যে এখনও জীবন্ত। কিছু মোবাইলের ছবি আছে, যা দেখলে মনটা কেমন করে ওঠে। ডায়েরির কিছু পাতায় লেখা তোমার কথা, কয়েকটা কাগজে আঁকা আমাদের জীবনের গল্প। তোমার দেওয়া হাতের ঘড়িটা এখনো হাতে পরে থাকি, কখনো কখনো দেখি সেই জামা, যা তুমি দিয়েছিলে। সবই তোমার স্মৃতি বহন করে, কিন্তু তবুও এসব কিছুতেই যেন তোমাকে আর খুঁজে পাই না। তোমার দেওয়া মিথ্যা প্রতিশ্রুতিগুলোও আজ আমার কাছে শুধুই স্মৃতি হয়ে গেছে।
পুরুষদের জীবনটা অনেক জটিল। তারা ব্যস্ত হয়ে পড়ে জীবনের বাস্তবতায়। আজ তুমি হয়তো আমাকে দেখছো ব্যস্ত, উদাসীন, মনে হচ্ছে আমি আর আগের মতো নেই। কিন্তু জানো কি, প্রতিটি পুরুষকেই জীবনের কোনো না কোনো সময় দায়িত্বের চাপে পড়তে হয়। আজ তুমি আমাকে অবহেলা করে অন্যদিকে তাকাচ্ছো, কিন্তু তোমার বাবাকেও একদিন এই একই পথে চলতে হয়েছে। তাকেও তোমাদের জন্য কঠিন পরিশ্রম করতে হয়েছে। একদিন তুমি বুঝবে, বাস্তবতা কতটা কঠিন, কতটা ব্যস্ততার মধ্যে ছেলেরা ডুবে যায়।
তোমাকে কখনো কষ্ট দিতে চাইনি, কিন্তু সম্পর্কটা এমন একটা জায়গায় চলে এসেছিলো যেখানে কোনো কিছুই আর আগের মতো ছিলো না। বেকার ছেলেদের দিকে তুমি যখন আজ অবহেলা করে চলে যাচ্ছো, তখন ভাবছো না যে, এই ছেলেগুলোও একদিন পরিবারের দায়িত্বে ব্যস্ত হবে। সময় তাদেরও বদলে দেবে। জীবন এমনই, কাউকেই ছাড় দেয় না। আজকের বেকার ছেলেগুলোও একদিন তাদের নিজেদের জীবনের পথে ব্যস্ত হয়ে পড়বে, যেমনটা আমিও হয়ে গেছি।
আমি আর কখনো 'ব্রেকআপ' শব্দটি উচ্চারণ করবো না, কারণ সম্পর্কটা আমার মনে হয় আগেই শেষ হয়ে গেছে। এটা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা ছিলো—তোমার প্রকাশের জন্য, আর আমার বোঝার জন্য। তুমি হয়তো অনেক আগেই বুঝে গিয়েছিলে, আর আমি শুধু দেরিতে এসে উপলব্ধি করেছি।
আমাদের সম্পর্কটা এমনভাবে শেষ হয়েছে যে, এটা বুঝতেই অনেক সময় লেগে গেছে। সম্পর্কের সমাপ্তি যখন আসে, তখন সেটা সবসময় চিৎকার করে আসে না, কিছু সম্পর্ক নিজেই ফুরিয়ে যায়। আমাদেরও তাই হলো। আমাদের সম্পর্কের শেষটা এমনই ছিলো, যা কোনো বড় ঘটনার মাধ্যমে ঘটেনি, বরং ধীরে ধীরে ফুরিয়ে গেছে।
তুমি ভালো থেকো। আমি আর কোনো দিন তোমার জীবনে ফিরে আসবো না। এটুকুই শেষ কথা, যা বলার ছিলো।
আল্লাহ হাফেজ।
শব্দগুলো এখনই থেমে যাবে, কিন্তু হৃদয়ের গহীনে রেখে যাওয়া স্মৃতিগুলো হয়তো চিরকাল থাকবে। আমি এগিয়ে যাবো আমার পথে, আর তুমি তোমার পথে। শেষটা আমাদের জন্য অপ্রত্যাশিত হলেও, জীবন তাতে থেমে থাকে না।
