Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Pritam Mukherjee

Drama Crime Thriller


3  

Pritam Mukherjee

Drama Crime Thriller


রহস্য ও সত্ত্বানেষীপর্ব -তিন

রহস্য ও সত্ত্বানেষীপর্ব -তিন

4 mins 39 4 mins 39


           খুনের ভয়। 


আমি বললাম হ্যাঁ তা একটু হলে মন্দ হয়না। উনি নিজের স্ত্রী কে ডাক দিলেন...

সরলা দু কাপ চা দিয়ে যাবে? ভেতর থেকে আওয়াজ এলো হ্যাঁ দিচ্ছি।

রুদ্রনীল বাবু বললেন... হ্যাঁ তো আপনাকে যে কারণে ডাকা। আমি আমার এই রহস্য ভেদের সঙ্গী হিসেবে এক সহচরী খুঁজছি। এতোগুলো জিনিস একা চাপ নিয়ে করাটা সম্ভব নয়। তাই যদি একজন যোগ্য সহায়ক পাওয়া যাই তবে আমার অনেক সুবিধে হবে।

কিন্তু আমার এই কাজে মজা যতটা ততটাই জীবনের ঝুঁকি, ভেবে দেখুন পারবেন?

আমার পরিস্তিতি এতটাই শোচনীয় যে ভাবার কোনো উপায় আমার ছিলো না। পরের মাসে বাড়ি ভাড়ার টাকাটা কিভাবে জোগাড় হবে তাও জানিনা। ছাদ হারিয়ে রাস্তায় বসার চাইতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ অনেক ভালো।

আমি বলে উঠলাম হ্যাঁ আমি পারবো।

সত্ত্বানেষী আমার দিকে তাকিয়ে আবার হেঁসে উঠলেন

বললেন না আপনি ঠিক বুঝতে পারছেন না। আবেগের আর প্রয়োজনের তাগিতে আপনি নিচ্ছেন এই সিদ্ধান্ত।  

আমি বললাম আমি পারবো আপনি একটা সুযোগ দিয়ে দেখুন না। উনি বেশ নরম গলায় আমায় বললেন দয়া করে ওভাবে বলবেন না। নিজেকে খুব ছোট মনে হয়। প্রয়োজনে মানুষ সব পারে আপনিও পারবেন।

ঠিকাছে যদি আপনি রাজি তবে কাজটা করতে পারেন কিন্তু মাইনে আমি দশ হাজার টাকার বেশি দিতে পারবোনা। বুঝতেই পারছেন এই কাজ করেই আমার সংসার চলে। আমি বললাম নানা ওতেই হবে।

উনি বললেন বলছেন? আচ্ছা ঠিকাছে তবে, তাই হোক।

এই সময় হটাৎ করে চা নিয়ে হাজির হন সরলা দেবী।

সুন্দরী, নম্র এবং সংসারিক জীবনে যে তিনি পারদর্শী তা ওনাকে দেখলেই বোঝা যায়। চা এর সাথে বেগুনি নিয়ে হাজির হলেন। বললেন গরম বেগুনি ভাজছিলাম তাই কটা চায়ের সাথে নিয়ে এলাম।

সত্ত্বানেষী বললেন অতি উত্তম করেছো। আমার বৌ না থাকলে আমার যে কি হতো? ধুর তুমি কি যে বলো বলে উনি একটা হাঁসি দিয়ে ভেতরে চলে গেলেন।

চা আর বেগুনির সাথে শুরু হলো সংলাপ।

সত্ত্বানেষী বলতে লাগলেন আপাতত আমি একটা বিষয়ে নিয়ে ভাবছি। একটু খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।

আমি বললাম কি বিষয়?

উনি বললেন পরশু আমার কাছে এক ভদ্র মহিলা এসেছিলেন। মালতি বসু, ওনার স্বামী আদিত্য বসু

কলকাতার খুব বড়ো বিসনেস টাইকুন ছিলেন।

বছর দুয়েক আগে একটা হাইওয়ে এক্সিডেন্ট হওয়ার পরে ওনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানেই ওনার মৃত্যু হয়।

স্বামীর পরে উনি নিজের স্বামীর ব্যবসার কাজ খুব ভালোভাবে সামলে নেন। কিন্তু ইদানিং তিনি এক দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। ওনার মনে হয় কেউ ওনাকে হত্যা করতে চাই।

আমি বললাম কে? উনি বললেন সেটাই তো বুঝতে পারছিনা। উনি সেদিন এইটুকু বলেই বেরিয়ে গেছিলেন। আর টেবিলে যাওয়ার সময় পঁচিশ হাজার টাকা রেখে গেছিলেন। আমি নিতে চাইনি কিন্তু উনি বললেন রুদ্রনীল বাবু আমরা ব্যাবসায়ী এমনি এমনি এতগুলো টাকা বিনা কারণে আপনায় দেবোনা। এই পৃথিবীতে আমি একা তাই আমি মারা গেলে আপনার নেয্যঃ টাকা টাও হয়তো কেউ দেবেনা। আর হাতজোড় করে বললেন রূদ্রনীল বাবু আমায় যদি হত্যা করা হয় তবে আপনি দয়া করে দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তি

দেবেন। আর বললেন আমি যে আপনার কাছে এসেছিলাম দয়া করে কাউকে বলবেন না। আমি বললাম কিন্তু আমার যে আপনাকে কিছু জিনিস জিজ্ঞেস করার ছিলো। উনি আমায় ওনার জেমস লং সরণির বাড়ির ঠিকানা দিয়ে বলেন আজ আমার আর সময় হবেনা আপনি পরশু এগারোটাই আমার বাড়িতে এ আসুন আপনার যা প্রশ্ন আছে তার উত্তর আমি আপনাকে দেবো। এই বলে চলে গেলেন।

কাল একবার ওনার বাড়ি যাবো ভাবছি। আপনি সকালে নটার সময় আমার বাড়িতে আসুন। বেরোনো যাবে একসাথে। পকেট থেকে হাজার পাঁচেক টাকা বের করে আমায় দিয়ে বললেন এটা রাখুন আপনার লাগবে।

আমি নিতে না চাইলেও উনি বললেন রাখুন না। পেট না চললে মাথা কাজ করেনা। এটা রাখুন।

তবে কাল নটা। আমি ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নিলাম।

মাথায় চিন্তা দুর হওয়ার কারণে রাতে খুব শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়লাম।

পরদিন সকালে সোয়া আটটাতে গিয়ে হাজির হলাম

রুদ্রনীল বাবুর বাড়ি। উনি আমায় দেখে খুশি হয়ে বললেন আরে সহচরী এসে পড়েছেন? চলুন রওনা দেওয়া যাক। এই বলে রুদ্রনীল বাবুর স্কুটারে চেপে গিয়ে সাড়ে দশটার সময় হাজির হলাম মালতি দেবীর বাড়ির সামনে।

কিন্তু বাড়ির সামনে এতো লোক আর পুলিশ দেখে বুঝতে পারলাম কিছু একটা ঘটনা ঘটেছে।

দারোগার সাথে রুদ্রনীল বাবুর আগের আলাপ ছিলো।

উনি দারোগাকে জিজ্ঞাসা করলেন কি বেপার ব্যানার্জি বাবু কি হয়েছে? দারোগা বললেন আরে রুদ্রনীল বাবু আপনি এখানে? আর বলবেন না কাল গভীর রাতে মালতি দেবীর শয়নকক্ষে ঢুকে কেউ ওনাই গলায় কোপ মেরে খুন করেছে। আমরা ভোর বেলা বাড়ির চাকরের ফোন পেয়ে এখানে এসেছি। কিন্তু বাড়ি ভর্তি কাজের লোক

এ ছাড়াও গেটে দুজন পাহারাদার ভাবছি খুন টা করলো কিভাবে। কিন্তু আপনি এখানে?

রুদ্রনীল বাবু বললেন মালতি দেবী হয়তো জানতেন যে ওনাকে কেউ খুন করতে পারে তাই ওনার দোষীকে খুঁজে বার করার দায়ভার আমায় দিয়ে গেছিলেন।

দারোগা বললেন আরে বাহ্ খুব ভালো তা কোনো বিশেষ সন্ধান পেলে দয়া করে আমায় জানাবেন রুদ্রনীল বাবু।

রুদ্রনীল বাবু বললেন অবশ্যই। তা আমি একটু ভেতরটা ঘুরে দেখতে পারি? দারোগা বললেন হ্যাঁ হ্যাঁ যান না। রুদ্রনীল বাবু আমাকে বললেন চলো অনিমেষ ভেতরটা ঘুরে দেখা যাক। আমি আর রুদ্রনীল বাবু ভেতরের দিকে পা বাড়ালাম।



Rate this content
Log in

More bengali story from Pritam Mukherjee

Similar bengali story from Drama