প্রথম প্রেমের অনুভূতি
প্রথম প্রেমের অনুভূতি
রিইউনিয়ান পার্টিতে এসে যে ঐশ্বর্যর সঙ্গে দেখা হবে সেটা আমার কল্পনারও বাইরে ছিলো। চুলের গোছে দেখছি সাদা পাক ধরেছে। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা তবে কপালের মাঝে সেই ছোট্ট লম্বা লাল টিপের সাথে ওর হাসিটা যেন আজও একইরকম মনমুগ্ধকর। হ্যাঁ প্রায় বোধ হয় ত্রিশ বছর পর আমাদের দেখা হচ্ছে। আমাকে একভাবে ওর দিকে চেয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে আসে। বরাবরের মতো ঠোঁট চেপে হেসে কাঁধে চাপড় দিয়ে বলে-"কিরে আজও লেট? আর বউকে নিয়ে আসিস নি কেন?"
মেয়েটার কথাতে আমি আলতো হাসলাম-"বিয়ে করলে তবেই তো বউকে নিয়ে আসবো!"
জবাব দেওয়ায় সে বড়োই অবাক হয়। তা অবশ্য মুখের ভাবভঙ্গি দেখে বোঝা গিয়েছিলো। কিছু একটা বাহানা দিয়ে তৎক্ষনাৎ এড়িয়ে চলে যায়। আমাদের প্রথম দেখা হাই স্কুলের গ্রাউন্ডে। বাস্কেট বল খেলতে খুব ভালোবাসতো আর তাতেই আমি ওর উপর ফিদা হয়ে গিয়েছিলাম। একই ক্লাসমেট থাকায় বন্ধুত্বটাও পাকাপাকি হয়ে গেছিলো। কিন্তু একদা এককালীন অ্যানোয়াল পোগ্রামের সময় রীতিমতো ঘাবড়ানো অবস্থায় ওকে প্রপোজ করেছিলাম। অথচ লাক খারাপ করে যা হয়!? সেইদিন কে জানতো আমারই বেষ্ট ফ্রেণ্ডের সঙ্গে ঐশ্বর্যর অলরেডি প্রেমালাপ শুরু হয়ে গেছে। না: রিজেক্ট করে দিয়েছিলো আমায় অথচ বন্ধুত্বটা ভাঙে নি। স্কুল পাসের পর বিদেশে পড়তে যাওয়ার কারনে ইচ্ছে করেই সবার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিই। মন থেকে সরিয়ে ফেলতে চাইছিলাম ঐশ্বর্যকে। কিন্তু পারি নি। ওকে প্রথমবার দেখাতে যে অদ্ভুত অনুভূতিটা হয়েছিলো তারপর ইন্ট্রোর সময় একে অপরের হাত মেলানোতে শরীরে আচমকা শিহরন খেলে যাওয়া উফফ দিস ইজ লাভ অ্যাট ফাস্ট সাইট। ওই মুহুর্তটা কখনোই ভোলা সম্ভব নয়। থাক না মনের অন্তরালে সেটা তরতাজা হয়ে। ওইটুকু ভালো লাগা নিয়েই যে যৌবন থেকে সবে বার্ধক্যে পা দিয়েছি। তবুও খুব একটা খারাপ নেই। সেও আমার ব্রেষ্টফ্রেণ্ডের সঙ্গে ভালো থাকুক। আর আমার মতো অসহায় প্রেমিক যারা পন করে নিয়েছে সর্বদা ব্যাচেলার থেকে এক নারীর অ্যাডিকশনেই আটকে থাকবে তাদেরকেও কুর্নিশ জানায়। তবে দিন শেষে মনে হবে জীবনসঙ্গী থাকলে মন্দ হত না। অন্তত তার কাঁধে মাথা রেখে সব ক্লান্তি তো দূর করা যেত,,,
