Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

MANJUSREE BHADURI

Classics Fantasy


4.7  

MANJUSREE BHADURI

Classics Fantasy


নিশ্চিন্দিপুরের কথা

নিশ্চিন্দিপুরের কথা

4 mins 551 4 mins 551

দুর্গা এইবারের পূজায় একখানি লাল ডুরে শাড়ি কিনিয়াছে । তাহার বহুদিবসের শখ ! হরিহরের এখন যজমানের বাড়ি হইতে আয় হইতেছে ভালোই । কয়েকটি সম্পন্ন গৃহস্থ বাড়ির সকল পালা-পার্বণে সে-ই আয়োজন করে । তাহা ছাড়া নিত্য পূজার ব্যবস্থা আছে ।গ্রামের প্রান্তে একটি নতুন শিবমন্দির স্থাপিত হইয়াছে , সেইখানে সন্ধ্যায় সে রামায়ণ – মহাভারত পাঠ করে । লোক হয় ভালোই , দক্ষিণাও পায় ভালো ।অপু এখন হাই ইস্কুলে পড়ে , দুই -চারিটি ছাত্র পড়ায় , সে-ও দিদিকে পাঁচ টাকা দিয়াছে ।

সর্বজয়ার আর ক্রোশ হাঁটিয়া জল আনিতে হয় না । বাড়িতে টিউবয়েল বসাইয়াছে । বাড়ির কাজ সারা হইলে সে বসিয়া বসিয়া নকশি কাঁথা প্রস্তুত করে । দুইমাস অন্তর অন্তর জেলেপাড়ার পটু নিশ্চিন্দিপুরের নকশিকাঁথা লইয়া কলিকাতায় ফেরি করিতে যায় । সে কিছু লাভ রাখিয়া প্রস্তুতকারীদের পয়সা দিয়া যায় । সর্বজয়া ভাবিয়া দেখিয়াছে এই কাজে দোষের কিছু নাই , সে শ্রম দিতেছে , বিনিময়ে পয়সা লইতেছে । কাঁথার বিপুল চাহিদা বাজারে ।

 দুর্গা যে সেইবার ভয়ানক জ্বরে ভুগিয়া মরো-মরো হইয়াছিল , তাহার পর তিন -চারি বৎসর কাটিয়া গিয়াছে । এখন দুর্গার স্বাস্থ্য ভালো হইয়াছে , রঙও ফিরিয়াছে । সর্বজয়ার ইচ্ছা সামনের শীতে উহার বিবাহ দিবে । তখন তাহার আঠারো বৎসরও হইয়া যাইবে । অপুর বাবা তাহাকে যে দুই-চারি টাকা দেয় এবং কাঁথা বিক্রয় হইলে সে যাহা পায় তাহা জমাইয়া বিধু স্যাকরার নিকট সে দুর্গার জন্য একজোড়া ঝুমকা ও একটি নথ গড়াইতে দিয়াছে , উহাকে বেশ মানাইবে ।ইন্দির ঠাকরুণ যে চালাঘরটি ব্যবহার করিত ,তাহা সংস্কার করা হইতেছে । বিবাহে বরযাত্রীগণ আসিলে ঐ ঘরখানি বসিবার জন্য দেওয়া যাইবে ।

আজ সকাল হইতেই ভারী ছোটাছুটি !আষাঢ়ুর হাটের প্রান্তে নতুন যে হলটি হইয়াছে তাহাতে সত্যজিৎ রায়ের পথের পাঁচালী দেখানো হইবে । বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা । রাণুর ভাই সতু এখন কলিকাতায় থাকে , অনেক বিষয়ে তাহার বিলক্ষণ জ্ঞান , সে বলিয়াছে , ঐ সিনেমায় একটি বালক আছে , যে অবিকল এই অপুর ছোটোবেলার মতো দেখিতে , নাম ও চেহারা একই । অপুই বাবাকে বলিয়া কহিয়া রাজি করাইয়া মা ও দিদিকে লইয়া যাইতেছে সেইখানে ।

সিনেমা দেখিয়া উহারা অবাক ! হ্যাঁ , একখানা সিনেমা বানাইয়াছে বটে সত্যজিৎবাবু ! কী চমৎকার ! উহারা পূর্বে কখনও সিনেমা দেখে নাই , ফলে একেবারে আশ্চর্য হইয়া গেল । আর অপু তো অবিকল এই অপুর শিশুকালের মতো । সেই হাব-ভাব , সেই চেহারা ! যদিও দুর্গার মনে হইল তাহার ভাই-এর মুখখানি আরো মায়াভরা , আরো স্নিগ্ধ-মধুর !

সেই যে খুড়িমা গোকুল খুড়ার নিকট প্রায়শই মার খাইত তাহার একটি মিষ্টি খোকা হইয়াছে । গোকুল খুড়ার সেই রণচণ্ডী রাগ আর নাই । খোকাকে লইয়া থাকে আর আপনমনে নিজের কাজ করে , খুড়িকে মারে না । সখী ঠাকরুণ মরিয়াছে , ফলে খুড়িমাও হাঁপ ছাড়িয়া বাঁচিয়াছে , উঠিতে বসিতে কড়াকড়ি আর নাই । দুর্গা মাঝে মাঝে গিয়া খোকাকে কোলে লয় , খুড়িমার হাতে হাতে কাজ করিয়া দেয় ।

সেইদিন অন্যমনস্কভাবে চলিতে চলিতে দুর্গা নদীর ধারে আসিয়া পৌঁছাইলো । মা তাহাকে আসিতে দেয় না মোটে , সে বড় হইয়াছে , সে লুকাইয়া আসিয়াছে ।কিন্তু পৌঁছিবার পর সে আর নড়িতে পারিল না , স্থাণুবৎ হইয়া রহিল । আহা , প্রকৃতির কী অপরূপ শোভা ! হাজার কাশফুলে নদীর ধারটিতে যেন পুঞ্জ পুঞ্জ সাদা মেঘ , আকাশের নীল-সাদা আর ধরণীর নীল-সাদা মিলিয়া মিশিয়া একাকার ।

এইসময় একখানি নৌকা পাড়ে আসিয়া লাগিল । আরোহীকে চেনা চেনা বোধ হইতে লাগিল । ভাবিতে ভাবিতে হঠাৎ তাহাকে চিনিয়া ফেলিয়া শরীর অবশ হইয়া আসিল দুর্গার । আরোহী নীরেন । সে তাহাকে দেখে নাই । নীরেনের মুখে দাড়ি থাকায় চিনিতে বিলম্ব হইয়াছে । সে নৌকা হইতে অবতরণ করিয়া উলটা দিকে হাঁটিতে লাগিল । দুইখানি ব্যাগ লইয়া গ্রাম্য রাস্তায় তাহার হাঁটিতে কষ্ট হইতেছে বুঝিয়া দুর্গা ছুটিয়া গিয়া একখানি ব্যাগ টানিয়া ধরিয়া কহিল –‘আমাকে দিন’ ।চমকিয়া চাহিয়া নীরেন স্তম্ভিত হইয়া গেল । কেশভারে নত মস্তকে সুঠাম স্বাস্থ্যের এক সুশ্রী শ্যামলা তরুণী ----তিন-চারি বৎসর পূর্বে যে আলুথালু কিশোরীকে দেখিয়াছিল , এ সে নহে ।নীরেন মুগ্ধ হইয়া গেল । নীরেন উহাকে ভোলে নাই ।

তাহার পর কী হইল ? ইহাও কী বলিয়া দিতে হইবে ! পাঠককুল রসিক সুজন ! বিশেষ কিছু নহে , শুধু এইটুকুই বলিব প্রেম বড়ই রহস্যময় । তাহার গতি বিচিত্র ।সে যে কোথায় কীভাবে ফাঁদ পাতিয়া রাখিয়াছে এবং কে যে কখন তাহাতে ধরা পড়িবে তাহা প্রেমের দেবতাই জানেন । আমরা উহা ভাবিয়া কী করিব !

* * *

কয়েকমাস পর ফাল্গুনের এক দ্বিপ্রহরে পশ্চিমগামী একখানি ট্রেনে নববিবাহিত এক দম্পতিকে দেখা গেল । কামরায় বিশেষ লোকজন নাই । যুবাটি যুবতীর ঘোমটা খসাইয়া দিয়া কহিল ---- ‘আর ঘোমটার দরকার নেই তো ! এবার তোমায় দেখব ।ʼ

যুবতী রাঙা মুখে নথ দুলাইয়া কহিল , ‘ যাও ʼ!



Rate this content
Log in

More bengali story from MANJUSREE BHADURI

Similar bengali story from Classics