Arijit Guha

Romance Drama Tragedy


2  

Arijit Guha

Romance Drama Tragedy


লাভ_ক্ষতি(প্রথম পর্ব)

লাভ_ক্ষতি(প্রথম পর্ব)

4 mins 6.9K 4 mins 6.9K

"এসো।শেষ পর্যন্ত এলে তাহলে।ভেবেছিলাম হয়ত আসবে না।"

 ' হুমম,এলাম।আসাটা খুব দরকার ছিল।

 "আসলে তোমার সাথে তো দেখা হয়নি,আমি জানতাম তুমি দেখা করবেও না।আমি মেসেজটা রেখে আসার সময়ও ভেবেছিলাম তুমি হয়ত শেষ পর্যন্ত আসবে না।"

'একবার ভেবেওছিলাম যে কি হবে আর গিয়ে।যে চলে গেছে তাকে নিয়ে আর কথা বলে কোনই লাভ নেই।কিন্তু এলাম কারণ সবটাই তো আর লাভ ক্ষতির হিসেব দিয়ে হয় না।'

"ঠিকই বলেছ।জীবনটা লাভ ক্ষতির সহজ ট্রায়াল ব্যালান্স বা ব্যালেন্স শিট নয়।এখানে বাঁদিক ডানদিক অনেক সময়েই মেলে না।" 

'হয়ত আরো আগে আসতে পারলে ভালো হত।'

"হ্যাঁ,আরো আগে আসলে ভালোই করতে।ইন ফ্যাক্ট শর্মি শেষ দিকে তোমার কথা খুব বলতো।ওর অসুস্থ হয়ে থাকার সময়টাতে।আমার মনে হয় ও নিজেও হয়ত বুঝতে পেরেছিল যে আর ও বাঁচবে না।তাই হয়ত তোমার কথা বলতো খুব।"

'আমিও ভেবেছিলাম যে একবার ওর সামনে গিয়ে দাঁড়াই।কিন্তু কোথাও একটা কুন্ঠাবোধ যেন কাজ করছিল।আমাকে আটকে দিচ্ছিল তোমাদের কাছে আসার জন্য।তবে মনে হয় ভালোই হয়েছিল বুঝলে।আমি এখানে আসলে,ওর সামনে এসে দাঁড়ালে ও আমাকে দেখে হয়ত উত্তেজিত হয়ে পড়তো।আগেকার কথাগুলো মনে পড়ে যেত।তাতে ওর শরীরটা আরো খারাপ হত।অন্তত ওর শেষদিকে আমি চেয়েছিলাম যাতে ও কিছুটা শান্তি পায়।'

"ঠিকই,সারাজীবনটাই তো ওর কাটল অশান্তির মধ্যে।তবে তুমি আসলে হয়ত ভালোই করতে।শেষদিকে ওর আর জীবনের প্রতি কোন অভিযোগ ছিল না।আমি প্রথম যখন ওকে নিয়ে আসি আমার কাছে,তখন ভেবেছিলাম হয়ত এবার ও কিছুটা শান্তি পাবে।কিন্তু ও আমার কাছে এসেছিল যে শান্তির জন্য সেটা ও এখানে এসেও পায়নি।"

'জানি।আমাকে ছেড়ে চলে এলেও আমি নিজে তো জানতাম ও কতটা তীব্র ভাবে ভালোবাসত আমাকে।কতটা তীব্র ভাবে কাছে পেতে চাইত আমাকে।সেই চাওয়াটাই হয়ত আমি বুঝি নি।ইন ফ্যাক্ট তুমিও, আমার ধারণা এই চাওয়াটা পুরোপুরি ধরতে পারোনি।ও আমাকে এখানে চলে আসার পর প্রথমদিকে মাঝে মাঝেই ফোন করতো।কোনো কথা বলতো না,চুপ করে থাকতো।ফোনের ওপারে ওর নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতাম শুধু।তবে কথা না বললেও আমি ধরে ফেললতাম যে শর্মিই রয়েছে ফোনের ওপারে।ওর প্রতিটা অনুভূতিকে আমি নিজের থেকেও ভালো করে চিনতাম।আমাদের মধ্যে যখন ঝগড়া হ্ত মাঝে মাঝে ,ও বাপের বাড়ি চলে যেত।হয়ত দুদিন বা তিনদিন কথা বন্ধ,হঠাৎ আমার ফোনে অন্য কোনো নাম্বার থেকে ফোন পেতাম এবং যে ফোন করেছে সে চুপচাপ ফোনটা ধরে দাঁড়িতে থাকত।আমি বিরক্ত হতাম,বারবার ফোন করার জন্য চিৎকার করতাম।ও সেগুলোই শুনে যেত।পরে যখন ঝগড়া মিটে যেত তখন বলত ‘জানো, আমিই ফোন করেছিলাম তোমাকে।তোমার গলার স্বরটা শুনব বলে।তুমি যখন চিৎকার করতে, আমি তাও ফোন ধরে থাকতাম,মনে হত তোমাকে তো পাশে পাচ্ছি’।আমি তখন বলতা্‌ম তাহলে তুমি কথা বলতে না কেন?শুনে ও বলত কথা বললেই তো আবার সেই ঝগড়া হবে।এর থেকে চুপ করে তোমার গলার স্বর শোনাটাই আমার কাছে অনেক ভালো।আমি চমকে উঠতাম।ঘেন্নার মধ্যেও কতটা তীব্র টান থাকলে এটা করা যায় সেটাই ভাবতাম।তবে আমি জানি কথা হলেই ঝগড়া হবে, এই ব্যাপারটা ঠিক নয়।কারণ প্রতিবার ঝগড়াটা শেষ হত দুজনের সামনা সামনি বসে কথা বলার পর,এবং সেটা আমিই শুরু করতাম।আসলে এতটা ইগো ছিল ওর ,প্রথম থেকেই সেটাই হয়ত আমাদের মধ্যে বিচ্ছেদের কারণ।ও কিছুতেই নিজে থেকে ইনিসিয়েটিভ নিত না সম্পর্ক ঠিক করার জন্য।তাই এখানে আসার পর প্রথম দিকে যখন ফোনগুলো করত আমি ঠিকই বুঝে যেতাম যে ওই করছে।'

"তোমাকে ও কতটা ভালোবাসত তা আমার থেকে আজ আর কেউ বেশি জানে না।তোমার থেকে নেগলিজেন্সি পেয়ে পেয়ে ও যখন ভালোবাসা পাওয়ার জন্য আকুল হয়ে পড়েছে ঠিক এই সময়টাতেই ওর সাথে আমার পরিচয়।প্রথম দিকে আমাকে ও শুধু তোমার কথাই বলত।তোমাদের ভালোবাসার কথা,তোমাদের কি করে পরিচয় হয়েছিল,বাড়ির অমত সত্ত্বেও তোমরা কি ভাবে সব কিছুকে জয় করে বিয়ে করেছিলে সেই সব।আমি ভাবতাম এসব আমাকে বলছে কেন।পরে দেখলাম ও আসলে ভীষন একা।ওর জীবনে তুমি ছাড়া আর কেউ ছিলো না।কিন্তু তখন তোমার ওকে দেওয়ার মত সময়ের বড্ড অভাব"।" জানি।সেই সময়টায় আসলে আমার নিজের কেরিয়ারটাকে একটু গুছিয়ে নিতে চাইছিলাম।চাকরিটা ছেড়ে নিজের কনসাল্টেন্সি ফার্ম খুলেছিলাম।অনেকটা সময় তখন নিজের ব্যাবসাতেই চলে যেত।আমি জানি সেই সময়টায় আমি ওকে একদম সময় দিতে পারি নি।ভেবেছিলাম নিজে একটু গুছিয়ে নিলে তারপর আমরাই তো ভালো সময় কাটাতে পারব।কিন্তু বুঝি নি যে মাথার ওপর ছাদ শক্ত করতে গিয়ে পায়ের তলার মাটিটাই সরে যাচ্ছে।যখন বুঝলাম তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।ততদিনে ও তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছিল"। 'আসলে আমাদের মধ্যে যে সম্পর্কটা তৈরি হয়ে যাবে এটা আমরা নিজেরাও প্রথমে ভাবি নি।আমরা প্রথমে ছিলাম খুব ভালো বন্ধু।ও আমাকে সবসময় তোমার কথাই বলত।যেটা বলছিলাম,ও খালি তোমার সাথে কিভাবে দিন কাটিয়েছে এসব গল্পই করত।আমি ভাবতে বসেছিলাম আমাকে এসব কথা কেন বলে।তারপর বুঝলাম নিজের একাকীত্ব কাটানোর জন্য ও এগুলো আমাকে বলছে।ওই একাকীত্বর মধ্যেও কিন্তু তুমি জড়িয়ে ছিলে।ওর একাকীত্বও কাটতো তোমাকে সঙ্গে নিয়ে।এরপর আস্তে আস্তে আমি ওকে সঙ্গ দিতে শুরু করলাম ওর একাকীত্ব কাটানোর জন্য।আমরা ঘুরতে শুরু করলাম একসাথে।ওর সাথে আরো বেশি বেশি কথা বলতে শুরু করলাম।ধীরে ধীরে আমিও যেন ওর মধ্যে ডুবে যেতে শুরু করলাম।বুঝতে পারছিলাম যে আমি ওকে ভালোবেসে ফেলছি।আস্তে আস্তে আমাদের মধ্যে তোমাকে নিয়ে কথা কমে আসলো।আমাদের কথাগুলোই তখন বেশি করে হত।যখন বুঝলাম ওকে আমি ভালোবেসে ফেলছি তখন বেশ কয়েকবার আমি নিজে সরে আসতে চেয়েছি,কিন্তু প্রতিবারই এত তীব্র ভাবে ও আমাকে আঁকড়ে ধরেছিল যে আমার আর যাওয়ার কোন উপায় ছিল না।যাই হোক,কফি খাবে তো?একটু জল বসাই।"(চলবে)


Rate this content
Log in