কর্পোরেট দুনিয়ার ষড়যন্ত্র
কর্পোরেট দুনিয়ার ষড়যন্ত্র
অফিসে খবরটা ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগল না।
আগামী মাসে একজন নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট আসছেন।
আর তাঁর আসার সঙ্গে সঙ্গেই বদলে যাবে কোম্পানির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ।
অরুণ জানত, তালিকায় তার নামও আছে—উন্নতির জন্য।
কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই অদ্ভুত কিছু ঘটতে শুরু করল।
তার পাঠানো ই-মেল পৌঁছাল না।
তার গুরুত্বপূর্ণ প্রেজেন্টেশনের ফাইল বদলে গেল।
মিটিংয়ের আগের রাতে তার তৈরি করা রিপোর্টের একটি পৃষ্ঠা হঠাৎ উধাও।
তারপর একদিন ম্যানেজার বললেন,
—“অরুণ, তোমার পারফরম্যান্স নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে।”
অরুণ চুপ করে রইল।
সে বুঝেছিল—
এটা কাজের ভুল নয়, এটা কারও হিসেবের অংশ।
পরদিন বোর্ড মিটিংয়ে সবাই যখন তার বিরুদ্ধে কথা বলছিল, অরুণ শুধু একটি পেনড্রাইভ টেবিলের উপর রাখল।
—“আমাকে একটা প্রশ্নের উত্তর দেবেন? গত তিন মাসে আমার পাঠানো প্রতিটি রিপোর্টের মূল কপি যদি আমার কাছে থাকে, তাহলে আপনারা যে রিপোর্টগুলো দেখেছেন, সেগুলো তৈরি করল কে?”
ঘরটা নিস্তব্ধ।
স্ক্রিনে একের পর এক ই-মেল, টাইমস্ট্যাম্প আর সংশোধিত ফাইল ফুটে উঠতে লাগল।
ষড়যন্ত্রকারীরা একে অপরের দিকে তাকাল।
অরুণ ধীরে বলল—
“কর্পোরেট দুনিয়ায় সবাই আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। কিন্তু যে আপনার হাসির আড়ালে আপনার পতনের পরিকল্পনা করে, তাকে চিনতে সময় লাগে।”
সেদিন অরুণ পদোন্নতি পেল কি না, সেটা আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রইল না।
কারণ সে বুঝেছিল—
চেয়ারের উচ্চতা নয়, নিজের মেরুদণ্ড সোজা রাখতে পারাটাই আসল সাফল্য।
