ভিনগ্রহের সিগন্যাল
ভিনগ্রহের সিগন্যাল
রাত তখন প্রায় আড়াইটে। চারপাশ নিঝুম। সুমন তার বাড়ির ছাদে টেলিস্কোপ আর ল্যাপটপ নিয়ে বসেছিল। ছোটবেলা থেকেই মহাকাশ আর ভিনগ্রহীদের নিয়ে তার প্রবল আগ্রহ। পৃথিবীর বাইরে সত্যিই প্রাণের অস্তিত্ব আছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তার রাতের পর রাত কেটে যায়।
হঠাৎ ল্যাপটপের পর্দায় একটি অদ্ভুত গ্রাফ ভেসে উঠল। হেডফোনে শোনা গেল অস্বাভাবিক এক ছন্দ—“বিপ... বিপ... ট্ররর... বিপ...”
সুমন দ্রুত সিগন্যালটির উৎস খুঁজতে শুরু করল। পরিচিত কোনো উপগ্রহ কিংবা মহাজাগতিক উৎসের সঙ্গে এর মিল পাওয়া গেল না। ঠিক তখনই তার ফোনে মেসেজ এল। পাঠিয়েছে রিমি, তার সহপাঠী এবং মহাকাশ গবেষণার একমাত্র সঙ্গী।
“সুমন! তুই কি সিগন্যালটা পেয়েছিস? আমার ল্যাবেও একই সংকেত ধরা পড়েছে। তাড়াতাড়ি ভিডিও কল কর!”
সুমন সঙ্গে সঙ্গে রিমিকে ফোন করল।
“রিমি, সিগন্যালটা সাধারণ কিছু নয়। এর উৎস আমাদের সৌরজগতের বাইরের কোনো অঞ্চল থেকে আসছে বলে মনে হচ্ছে।”
রিমি কম্পিউটারে সংকেত বিশ্লেষণ করতে করতে বলল, “দেখ, এর মধ্যে একটা নির্দিষ্ট বাইনারি প্যাটার্ন রয়েছে। আমার মনে হচ্ছে, এটা নিছক প্রাকৃতিক সংকেত নয়। কেউ যেন ইচ্ছা করেই আমাদের কাছে বার্তা পাঠাচ্ছে।”
দুজনেই কাজে লেগে পড়ল। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় তারা সংকেতটির একটি অংশের অর্থ উদ্ধার করতে পারল। ভোরের আলো ফুটতেই ল্যাপটপের পর্দায় ভেসে উঠল একটি বার্তা—
“আমরা আসছি। বন্ধুত্ব নাকি যুদ্ধ, সেটা তোমাদের প্রস্তুতি ঠিক করবে।”
সুমন আর রিমি একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল। এতদিনের কল্পনা কি তবে সত্যি হতে চলেছে? মহাকাশে সত্যিই কি কোনো উন্নত সভ্যতা রয়েছে?
হঠাৎ ল্যাপটপে আবার সংকেত এল। এবার পর্দায় ফুটে উঠল একটি অদ্ভুত চিহ্ন, যার অর্থ তারা বুঝতে পারল না। কয়েক সেকেন্ড পর সংকেতটি বন্ধ হয়ে গেল।
রিমি উদ্বিগ্ন গলায় বলল, “সুমন, আমাদের কি এই খবরটা সবাইকে জানানো উচিত?”
সুমন কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “আগে আমাদের আবিষ্কারটা যাচাই করতে হবে। ভুল হলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াবে। আর সত্যি হলে... পৃথিবীকে প্রস্তুত করার সময়ও হয়তো খুব বেশি নেই।”
দুজনেই বুঝতে পারল, তাদের হাতে এখন এমন এক রহস্যের চাবিকাঠি রয়েছে, যা মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।
কিন্তু সেই ভোরে সুমন জানত না, তার ল্যাপটপে ধরা পড়া শেষ সংকেতটি আসলে একটি সতর্কবার্তা ছিল।
কারণ মহাকাশের অন্ধকারে, পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসছিল এমন কিছু, যার আগমন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
সমাপ্ত।
