Tamali Sarkar

Drama Others

4  

Tamali Sarkar

Drama Others

ভালোবাসার অঙ্গীকার::

ভালোবাসার অঙ্গীকার::

5 mins
309


ভালোবাসার অঙ্গীকার:: 


'মধু'! প্লিজ 'মধু' প্লিজ! আমাকে ছেড়ে যাসনা। কলেজে ঢোকার কিছুটা সামনে বড় রাস্তার উপর সতীশ বারে বারে অনুরোধ করতে থাকেন, সে যা করেছে ভুল করেছে, আর কখনো হবে না। মা বাবা ঠাকুর দেবতার দিব্বি খায়, এমনকি ভালবাসার দোহাই প্রর্যন্ত দেয়। কিন্তু মধুমিতা সতীশের কোন কথা না শুনে এগিয়ে যায় কলেজের দিকে। বান্ধবীদের সাথে কথা বলতে বলতে লোকের ভিড়ে হারিয়ে যায় মধুমিতা। অনেক বার সতীশ 'মধু' 'মধু' বলে ওকে ডাকলেও মধুমিতা ওর কোন কথা গ্রাহ্য করে না। 


মধুর এভাবে চলে যাওয়া দেখে সতীশ বাইক থেকে নেমে পড়ে রাস্তার উপর। ফুটপাতের ধারে লাগোয়া পাঁচিলের উপর বসে অঝোরে কেঁদে চলছে। তার বুকের যন্ত্রণা সোনার মতো আজ আর কেউ রইল না। একমাত্র মধুমিতাই ওকে বুঝতো, আজ সেই মানুষটাও হারিয়ে গেল সারা জীবনের জন্য। নিজের উপর ঘৃণা ক্রমশ বাড়তে থাকে, নিজের মনেই বলতে থাকে কেন ওকে বললাম কথাগুলি! কেন বললাম! গত রাতের থেকে আজ সকাল পর্যন্ত যা ওর সঙ্গে ঘটে গেছে সবকিছুই আবার নিজের মনে ভাবতে থাকে সতীশ। 


::গতকাল রাতের ঘটনা:: 


সতীশ প্রতিদিন রাতের মতো আগের দিন রাতেও মধুমিতার সাথে কথা বলে। মধুমিতা নাম হলেও সতীশ ভালোবেসে "মধু" বলে ডাকে। কিছুক্ষণ দুজনের মধ্যে কথাবার্তা হওয়ার পর আচমকাই সতীশ মধুর কাছে একটা রিকোয়েস্ট রাখে। ও জানাই "ওর বন্ধুরা; তারা তাদের গার্লফ্রেন্ডের সাথে কথা বলে, ভিডিও কলের মাধ্যমে একে অপরের কাছে সবকিছু শেয়ার করে।" তাই সতীশ মধুমিতার কাছে একটা অনুরোধ রাখে। 


'প্লিজ মধু প্লিজ' একবার তোমার ঐ ছবি পাঠাও। তোমাকে একটু খোলামেলা দেখবো।

মধু- তোমাকে আমি খুব ভালোবাসি তা বলে এমন অনুরোধ তুমি আমার কাছে করো না যা আমি পারবো না "Satish I haven't, please forgive me" বাই রাখছি। 


সতীশ- শোনো! শোনো plz মধু, 

মধু- না সতীশ তোমাকে ভালোবাসি বলে তুমি আমার সাথে এরকম করতে পারো না। 


সতীশ- তুমি আমাকে একটু বিশ্বাস করো না। তোমার আমার এতদিনের ভালোবাসা রিলেশনে আমার প্রতি একটু বিশ্বাস জন্মালো না। একবারের জন্য, তোমাকে প্রমিস করছি, তোমাকে একটু মন থেকে দেখেই আমি ডিলিট করে দেবো। প্লিজ মধু একবার পাঠাও। প্লিজ। 


মধু খুব ভালোবাসে সতীশকে, কিন্তু এই অন্যায় আবদারটা না করার জন্য মধু সতীশকে বোঝায়। সতীশ কোনভাবেই শুনতে চায় না। সে একবারের জন্য ওকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে চাইছে। 


এরকম অনেক অনুরোধ করার পর মধু সতীশের অন্যায় আবদারটা রাখতে বাধ্য হয়। মধুর গলার আওয়াজ ক্রমশ খৃন হয়ে আসে, মধু চোখের জল ফেলছে এটা সতীশ ভালই বুঝতে পারছে। 


একটু পরে পাঠাচ্ছি কথাটা বলেই মধু ফোনের লাইনটা কেটে দেয়। 


মিনিট পাঁচেক পর সতীশের মোবাইলে এক মিনিটের একটা ভিডিও আসে। সতীশ ভিডিওটা না দেখেই ডিলিট করে দিয়ে আবার মধুকে ফোন করে। 


মধু কাঁদতে কাঁদতে বললো ভিডিওটা পাঠিয়েছি, তুমি খুশি তো এবার। 


সতীশ- আমার ভালবাসার তুমি এই দাম দিলে। তোমাকে আমি প্রমাণ করছিলাম তুমি আমাকে কতটা ভালোবাসো। তা বলে এই নয় নিজেকে জলাঞ্জলি দিতে হবে। তোমার ওই ভিডিওটা আমি ওপেন না করেই ডিলিট করে দিয়েছি। কখনো আমার এরকম অন্যায় আবদারটা রাখবে না তুমি। আজ আমি সুস্থ মস্তিষ্কে তোমাকে বলছি আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি, তা বলে কখনো যদি আমি এরকম অন্যায় আবদার করি সেটা কখনোই রাখবে না। তোমাকে আমি খুব ভালোবাসি 'মধু'। আমার নিজের থেকেও বেশি। 


মধু- অনেক রাত হল এখন রাখছি, কাল কলেজে যাওয়ার সময় কথা বলবো। আসবে তো!

সতীশ- কোনদিন মিস করেছি তোমার কথা। দশটায় দাড়িয়ে থাকবো মোড়ে। 


::আজ:: 


মধুকে বাইকে করে কলেজে অবধি নিয়ে আসে সতীশ। তখনও জানতো না মধু তাকে এই কথাগুলো বলবে। কলেজে ঢোকার কিছুটা আগে বাইক দাঁড় করাতে বলে সতীশকে। 


সতীশ- এখানে দাঁড় করালে, কিছু কিনবে।

মধু- না। মুখ ভার করে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে। 


সতীশ- তাহলে!

মধু- তোমার সাথে কিছু কথা আছে তাই তোমাকে জানানোর জন্য এখানে দাঁড় করেছি। 


সতীশ- তুমি এতো রেগে আছো কেন আমি কি করলাম।

মধু- রেগে থাকার কারণটা একমাত্র তুমি। আর তোমার উপর আমার রাগ করেই বা কি হবে। 


সতীশ- তার মানে! তুমি কি বলতে চাইছো।

মধু- তোমাকে আমার আগেই বলা উচিত ছিল, তা আমি করিনি। তোমার প্রতি আমার বিশ্বাস ছিল তাই আমার ভালবাসার জন্য আমি বাড়ির লোকের সাথেও ঝগড়া করেছি। আমি বোকা। পুরো বোকা। 


সতীশ কিছুই বুঝতে পারছে না। মধু তাকেই কথাগুলো কেন শুনাচ্ছে। কৌতুহল ভাবে মধুর মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে, তুমি পরিষ্কার করে বলো আমায়। 


মধু- আমার জন্য বাবা যে সম্বন্ধটা দেখেছে, আমি তাকেই বিয়ে করতে যাচ্ছি। তোমার সঙ্গে আজকের পরে আর কোন সম্পর্ক রাখতে চাই না।

সতীশ- আমাদের দু বছরের ভালোবাসাটা মিথ্যা হয়ে গেল। 


মধু হেসে উত্তর দেয় ভালবাসা। তুমি কখনো আমার মনকে ভালবাসনি, আমার দেহকে ভালোবেসেছিলে। তোমার সাথে কথা বলতে আমার ঘেন্না লাগছে। বাড়ি থেকে এইটুকু আগিয়ে দেওয়ার জন্য থ্যাংকস। ভিডিওটা পাঠিয়েছি ওটাই বারে বারে দেখতে থাকো।

সতীশ- ফোনটা পকেট থেকে বার করে মধুর সামনে ধরে। বিশ্বাস করো মধু আমি দেখিনি, ডিলিট করে দিয়েছি। 


মধু- সেটা তো আর আমি দেখতে যাইনি তুমি দেখেছো কিনা। আর কথা বাড়িয়ে লাভ নেই পারলে আমাকে ভুলে যেও। তোমাকে আমার সহ্য হচ্ছে না। 


ততক্ষণে কিছু লোক ওদের সামনে জড়ো হয়ে যায় তার মধ্যে থেকে একজন জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে দিদিভাই। বলুন আমাদের। 


মধু লোকগুলোর উদ্দেশ্য বলে না না কোন অসুবিধা নেই। এমনি জাস্ট কথা বলছি। 


লোকগুলো চলে যাওয়ার পর মধু সতীশকে আবার বলে, এখানে এতো নাটক করো না, এটা আমার কলেজ। আমাকে এখানে সবাই চেনে। পড়তে আসি। তোমার একটুও যদি লাজ-লজ্জা থেকে থাকে, আমার সামনে কখনো আসবে না। আসছি। মধু ওকে ওই অবস্থায় ছেড়ে কলেজের দিকে এগিয়ে যায়। 


মধুর এভাবে তাকে ছেড়ে চলে যাওয়া সতীশ কোনভাবেই মেনে নিতে পারে না। ফুটপাতের উপর কংক্রিকেটে লাইট পোষ্টের উপর বারে বারে হাত দিয়ে আঘাত করতে থাকে। হাত ফেটে রক্ত ছুঁয়ে ছুঁয়ে পড়তে থাকে রাস্তার ওপর। নিজের প্রতি ঘৃণা হচ্ছে। কেন নিজের ভালবাসাকে নিজেই এইভাবে আঘাত আনলো। দুই ভালোবাসার পেছনে সে নিজের হাতে নিজে ছুরি বসিয়েছে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে রাস্তার উপর বসে থাকে সতীশ। এখন সে ফাটা হাতেও যন্ত্রণা অনুভব করতে থাকে। কিন্তু মধুকে হারিয়ে ফেলার যন্ত্রণাটা এর থেকে শত গুনে বেশি। হঠাৎ পিছন দিক থেকে সতীশের চোখের উপর দুটো নরম হাতের ছোয়া এসে পড়ে। পিছনে তাকিয়ে দেখে মধুমিতা। পাশে দাঁড়ানো ওর বান্ধবীরা। 


মধু ব্যাগ থেকে রুমাল বার করে সতীশের চোখ মুছিয়ে দেয়। তারপর হাতের তালুটা রুমাল দিয়ে ভালো করে পেঁচিয়ে দিয়ে, এমন কেন করতে গেলে তুমি। 


সতীশ মধুমিতার রক্তাক্ত হাতটা দেখে বলে কি করে হলো। 


মধুর চোখের পাতা ভার হয়ে আসে। নিমিষের মধ্যে দু গাল বেয়ে চোখের অশ্রু ধারা বইতে আরম্ভ করে। শুধু তোমার কষ্টটা অনুভব করার চেষ্টা করছিলাম।

তুমি কেন আসলে সতীশ জিজ্ঞেস করে মধুকে। 


মধু- তুমি কাল আমাকে পরীক্ষা করছিলে আমি কি তোমার পরীক্ষা করতে পারিনি না। আমার উপর কি তোমার বিশ্বাস নেই কথাটা বলেই মধু কাঁদতে কাঁদতে রাস্তার উপরেই সতীশকে জড়িয়ে ধরে। সঞ্জু আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি আমার নিজের থেকেও বেশি। কখনো আমার থেকে দূরে সরে যেও না। সতীশ ও মধুকে জড়িয়ে ধরে‌, পাগলি, তুমি আমার জীবনের সবকিছু। তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকা এ জীবন মূল্যহীন।

আশেপাশের লোকজন সবাই জড়ো হয়ে যায়। করতালি দিয়ে সবাই ওদের ভালবাসাকে অভিনন্দন জানায়। 


ওদের ভালোবাসা পরবর্তী জীবনে অটুট থাকুক দীর্ঘ সুখী হোক ওরা। 


গল্পটা এই প্রথম লিখলাম ভালো লাগলে অবশ্যই করেই লাইক কমেন্ট করো। 


সমাপ্ত


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Drama