Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Prof Ajoy Kumar Basu

Classics


2  

Prof Ajoy Kumar Basu

Classics


অপ-ছন্দ

অপ-ছন্দ

6 mins 890 6 mins 890

জীবনে অনেক কিছু করেছি , অনেক কিছু পেয়েছি আর পেরেছি। ছিলাম শিশু , হলাম তরুণ। তারপর থেকে ধাপে ধাপে বর , বাবা , দাদু ; ছাত্র থেকে মাস্টার আর সেখান থেকে হেডমাস্টার আর এখন তো Dead-মাস্টার হতে চলেছি।

 কেবল একটা আশা কিছুতেই ম্যানেজ করতে পারিনি। তরুণ বয়েস থেকে সাধ ছিল কবি হবার। Mother সরস্বতীর ,সরি সরি Miss সরস্বতীর সঙ্গে আলাপ নেই , তাই শত্রুতাও নেই। তবু কেন জানি এই মহিলা আমাকে পছন্দ করেন না।

প্রথম প্রথম মা মা বলে ডাকতাম। আমার এক কবি বন্ধু উপদেশ দিলেন, "সরস্বতী কি দুগগা না কালী যে মা মা করে ডাকছিস ? কোথাও মাতৃরূপী সরস্বতী দেখেছিস ? সবসময় মডার্ন হিরোইন। পোজ , ড্রেস ,মেকআপ, Style, এমন কি বাহনটি - আহা কি Flow-line। মা মা করেই তোর কিছু হলোনা। ত্বন্নি -তরুণী ভেবে একমনে ডাক ,হয়তো ম্যাডামের নজরে আসতে পারিস।"

এই উপদেশের পর থেকে চেষ্টা করে চলেছি। কবিতা লিখি আর যে শোনে তার মুখখানা দেখে মনে কোনো সন্দেহ থাকেনা যে এই শ্রোতা আমার কাব্যরস থেকে উচ্ছের রস পাচ্ছে। রবার্ট ব্রুসের গপ্পো আমাকে সাহস দেয় , আমার লেখা থামেনা ;কিন্তু কবিজগতে একটা কোণার পিঁড়িও কেউ দেয়নি।

ঊনিশটিবার কাব্যরচনাতে ঘায়েল হয়ে যখন থামবো থামবো করছি , সেই তখনি সরস্বতী বীণার বদলে কলিং বেলে পিয়ানোর টুং টাং শোনালেন।: দেবভাষায় নয় , বাংলা- ইংরেজি -হিন্দি - উর্দু মিলিয়ে এক ভাষা , কখনো কবিতার মতো, কখনও বা গদ্য।

 "আমার বাহনের কথা শোনো ,তার কণ্ঠের মিষ্টত্বে তুমি পাবে তোমার সাধনার ফল"।

 রাজহাঁস বললো ," আমার এক দূর সম্পর্কের ভাই বোন দল বেঁধে আকাশে উড়ছিলো ,আর তাই দেখে একটা বিশাল বপু পাহাড়ের ইচ্ছে হলো হবে সেও "বৈশাখের নিরুদ্দেশ মেঘ; তুমিও পারবে।" তারপরে শোনালো এক গপ্পো

এক যে ছিল কুলি নাম এডিসন,

ইস্টিশনের এককোণে তার ছিল আবাসন।

আলেয়াতে ভর করলো ,মনে কি যে হলো

তেল সলতে বাদ দিয়ে বানাবে নতুন আলো।  

আর এডিসন খাওয়া দাওয়া ছেড়ে ,বাঁশের আলো বানাতে শুরু করলো। 

একদিন এক জমিদারবাবু ট্রেনথেকে নেমে , "কুলি, কুলি," হাঁকছে। কোথায় কুলি ,সে তো বাঁশ থেকে চুল তৈরিতে ব্যস্ত। জমিদারবাবু রেগে দিলেন এক চড় , এক- কানা হয়ে গেলো ,তবু খুব খুশি ,বেশি আওয়াজ শুনতে হয় না। মন দিয়ে খালি বাঁশের চুল বার করার কাজে মশগুল। একটা চুল তৈরী হয় আর তার সঙ্গে যোরে ব্যাটারী। চুল গরম আর পুড়ে ছাই। আবার শুরু।

 কিন্তু একদিন চুল পুড়ে গেলো না। প্রথমে লাল, তারপর সাদা আলো। তৈরী হলো প্রথম বাল্ব।

সেই শুরু, আর কুলিকে পায় কে ! নাম.যশ ,টাকা। পন্ডিতেরা অবাক , একজন জিজ্ঞেস করলো , "বাপু এটা করলে কি করে ?" 

কুলি হেসে কয়, কী জানি মশায় বইতো পড়িনি তেমন

 মনে ভাবিতাম, তাকে বানাতাম আলোটা জ্বলবে কেমন ?

এখন জানিগো আমি, ফেল-করা তিনটি হাজার রথ

তারই সঙ্গে আছে দুখান এগিয়ে চলার পথ ।

সরস্বতীর কৃপাবিহীন আমিও সেই পথ বেছে নিলাম। কবিতা লিখি আর শোনাই।, আমার Acid Test -কবে শ্রোতার মুখে Non-অম্বল ভাব দেখবো। আর তারপরেই ভাবতে থাকি ভুলটা কোথায় , কেমন করে বানাবো আমার কাব্যময় রথ।

তিরিশ বছর সাধনার পর ব্রহ্ম -জ্ঞান লাভ করলাম, আধুনিক ভাষায় Diagnosis করলাম অকবি একটা Viral attack.এই রোগের Virusএর নাম ছন্দপতন , ছন্দ- নিধন বললে ঠিক হবে । নাঁকি -সুরের লক্ষ্মীর পাঁচালি ,করুণ সূরের সীতার কান্না , দেব -বঙ্গ ভাষার মাইকেল ,বসন্তের হালকা হওয়ার রবীন্দ্রনাথ ,ঝর্ণার জলের মতো ঝাকঝমে সত্যেন্দ্রনাথ ,পোড়া রুটির সুকান্ত -সবাইকার Common Property : No ছন্দপতন । ছন্দপতন–রোগ-Immune এই হাতে গোণা Minorityরাই কবি : বাকি লক্ষ কোটি জনতা অকবি,কারণ এরা সবাই ছন্দছাড়া রোগে আক্রান্ত।  

আমি জানি আমার মতো লক্ষ লক্ষ মানুষ কখনো কখনো কবি হতে চায়। কিন্তু কবি পথের কাঁটা এই ছন্দছাড়া রোগ। এডিসনের মতো বারবার ফেল করে, নতুন নোতুন থিওরি বানালাম।এডিসনের একটি তৈল বিহীন আলোর মতন আমার একটাই লক্ষ্য :"ছন্দছাড়া কবি হওয়া যায় কী করে?"

আমাকে এক পণ্ডিতজন বলেছিলেন -সব কিছু নতুন আবিষ্কার মানুষের মনের ধারালো ইচ্ছে থেকেই হয়। ইচ্ছে হোলো অনেক দূরের জিনিষ দেখবে। বানালো টেলিস্কোপ। ইচ্ছে হলো পাখীর মতো উড়বে ,বানালো উড়োজাহাজ। ইচ্ছে হোলো ,"পরকে আপন করি , আপনাকে পর ," -হাতে এলো মোবাইল - পাশের ঘরের লোক আর সাগর পাড়ের লোক -ইচ্ছে হো,”কিছু পেতে গেলে হালটি ছাড়লে চলবেনা “- এডিসন  উবাচ।

আমার সমান্তরাল ভাবে চলেছে দেশ বিদেশের বহু চারা-এডিসন। একদল ভাবলো তারা নাচবে - মুদ্রা টুদ্রা কিসসু জানেনা , নো পরোয়া -হাত পা ছুঁড়ে ধেই ধেই করে লাফাতে থাকলো -আর নতুন নতুন নাম দিলো, ভাঙ্গা -নাচ, গোল - নাচ আরো কতকি। আর একদল যাদের গলায় সুর নেই , মিষ্টত্ব নেই তারা চাইলো গায়ক হতে ; আর সেকি গান , অটোমেটিক রাইফেল থেকে Non-stop গুলির আওয়াজ , কখনো গাইছে, কখনো চেঁচাচ্ছে ,কখনো মনে হবে ঝগড়া করছে, কখনো প্রশ্ন করছে আর শ্রোতারাও যোগ দিচ্ছে। Gun ক্ষেত্রে না গান ক্ষেত্র বোঝবার উপায় নেই।

 এতদিন যারা সংস্কৃতিকে যারা নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি করে রেখেছিল , সেই মহাসংস্কৃতিক পন্ডিতেরা নাক কুঁচকে বললো, " হতচ্ছাড়া অপ -সংস্কৃতি। "

সহসা বিস্মৃতি ছোটে ,মনকবি পুকারিয়া ওঠে ,পেয়েছি আমার রথ ,

আর কোনো দুঃখ্য নয়, বিশ্ব হবে কবিময় , Follow my পথ ।

আমার এই মানস কন্যার নাম : অপ -ছন্দ। ভুল জায়গায় হাইফেন দেওয়া চলবে না।

আমাদের দেশে নতুনের কোনো দাম নেই। দেশ বসে থাকে পশ্চিম-মুখো ,সবসময়ে নামাজ পড়বার মতো :

পশ্চিম আজ খুলিয়াছে দ্বার, সেথা হতে বেচে নব উপহার

শুধুই লইব, কিছু নাহি দিব, নাহি কিছু বেচিবার।

তাই আমাদের দেশে Copyright পেতে দশ বছর কেটে যায়। আমি জানি আমার এই আবিষ্কারের Patent পেতে গেলে আমাকে অমৃতস্য পুত্র হতে হবে। আর তার মাঝে Made-in-India Multinationalsরা তিন চারটে পেটেণ্ট পেয়ে যাবে নানা দেশ থেকে। তখন দুঃখী গরীব সুপ্ত কবিদের অপ - ছন্দের ওপর অধিকার থাকবে না- কিনতে হবে ,নইলে মামলার খরচ দিতে হবে। তাই আমি আমার আবিষ্কারের সর্বসত্ব ছেড়ে জনগণকে জানাই অপ -ছন্দের রূপরেখা আর চরিত্র।

অপ শব্দের দুটো মানে : দুষ্টু আর জল , আর জল মানে জীবন। তাই অপ শব্দের মানে দুষ্টু -মিষ্টি জীবন। জীবনের চলার গতিকে দুষ্টু মিষ্টি করে তোলাই অপ -ছন্দের মোদ্দা ভাব। এতে ভাষার কোনো বাঁধন নেই। মনে রাখতে হবে যে অর্থ ভাষায়  হয় না ,শব্দে হয় ; তাইতো বেদ প্রণেতারা শব্দকে ব্রহ্ম বলেছেন , ভাষাকে নয়। যে যেমন শব্দে অর্থ বোঝে অপ -ছন্দের কবিরা সেই শব্দই ব্যবহার করে। মিয়াও  ডাকের কোনো ল্যাজওয়ালা চতুষ্পদকে কেউ ক্যাট শব্দে পায়, কেউ বিড়াল শব্দে পায় , আবার অন্য একজন মার্জার শব্দে পায় -তাতে ক্ষতি কী ? একটা আধো আধো গলার মিউ আর মহাপন্ডিতের Felis catus of Felidae family দুটি শব্দ , একই অর্থ। তাই অপ -ছন্দের কবিরা ভাষার শিকল পড়েনা।

এই কবি মুক্তপুরুষ , এক লাইনে ৮টা অক্ষর থাকবে নাকি ১৪,১৬,২২ টা , সেটা কবি ঠিক করবে। গদ্য হবে কি পদ্য হবে,নাকি গদ্য-পদ্য মিলে যাবে সেটা ঠিক করবার অধিকার একমাত্র কবির।

কবির একটাই কাজ দুষ্টুমিষ্টি জীবনের গান সৃষ্টি। সৃষ্টিকর্তাকে ফলো করা।সৃষ্টিকে দেখো , কোথাও ছন্দের অভাব আছে কী ?

 দেখো চারিদিক মেলিয়া নয়ন

যমজ একজোড়া করতো চয়ন।

মানুষ, বাড়ী ,গাড়ি ,রাস্তা দোকান ,কুকুরছানা সব আছে , কোথাও ছন্দের অভাব চোখে পড়ছে ? নদী দেখেছো? একদিকে জল কুলকুল করে বহে যাচ্ছে , আর একদিকে চড়ে আটকে পড়া জলের পুকুর , সঙ্গে আছে বালির চর - সব মিলে মিশে সুন্দর এক পরম ব্রহ্ম। জীবনটাতো নদীর মতন বহু বর্ণের , বহু শব্দের ,বহু আকারের ঐক্যতান। অপ -ছন্দের কবি সেই সুন্দরতাকে প্রকাশ করে। তাই তো সে বিশ্বকবি। তার জন্যে তাকে লম্বা দাড়ি রাখতে হয় না, আলখাল্লা পড়তে হবেনা, আশ্রমেরও দরকার নেই। যে মেয়েটি রাস্তার পাশে বসে বেগুনি বিক্রি করছে, যে জমাদার রাস্তা পরিষ্কার করছে ,যে চাষি হাল চালাচ্ছে এরা সবাই অপ -ছন্দের কবি। এদের সবার কাছে সব কাজের মাঝে শুধু রাশি রাশি হাসি হাসি।এরা মজা করে , সবের মধ্যে ছন্দ বন্ধন খোঁজে - সব ছন্দ মিলে মিশে বিশ্ব ছন্দ তৈরী হয়। 

বড় বড় কথা হয়ে যাচ্ছে , তাই একটা অত্যাধুনিক উদাহরণ দি।

আমাদের দিদি স্বভাব কবি আর তাই ছন্দে বাঁধা তার জীবন। তাইতো কেউ জয় শ্রীরাম বললে দিদি রেগে যান । কিন্তু যদি দিদি অপ -ছন্দের কবি হতেন তাহলে তাহলে জয় শ্রীরাম শুনলেই তার মনের জানলা ত্রেতাযুগে খুলে যেত।

 একদল ল্যাজওয়ালা পোড়ার মুখো বড়ো বড়ো পাথর ছুঁড়ছে গোঁফ ওয়ালা রাক্ষসদের দিকে। এখন কোনো পণ্ডিত যদি বিশ্লেষণ কোরতে বসেন যে রাক্ষস হলেই গোঁফ ওয়ালা কেন ? অপ -ছন্দের কবির বিনীত নিবেদন , চোখ খুলে রাখুন। প্রতি বছর হাজার হাজার মহিষাসুর তৈরী হচ্ছে , এদের মধ্যে একজনও আছে যে Gilette কোম্পানীর Advertisement এর মতো দাড়ি গোঁফ চাঁচা ছোলা ? তাইতো রাক্ষস শব্দ গোঁফ এর প্রতিধ্বনি।

রাক্ষস সেনারা জার্মান সেনাদের মতো disciplined , organized . লড়াইয়ের Rules,Regulations,.Aveneg Convension মেনে চলে। আর বানর সেনার সেসব কিচ্ছু নেই.-লাফাচ্ছে ঝাপাচ্ছে ,পাথর ছুড়ছে ,বালি ছিটোচ্ছে -কখনো শত্রুর কাঁধে চড়ছে ,গোঁফ টানছে, কানের কাছে গিয়ে তারস্বরে টু -কি বলে কানে তালা লাগিয়ে দিচ্ছে -মানে যত রকম বাঁদরামি সব করছে। সঙ্গে সঙ্গে জয় শ্রীরাম বলে হৈ চৈ করছে। যুদ্ধটাকে জীবনের মজার খেলা বানিয়ে ফেলেছে। এরাই কিছুদিন আগে হনুমানকে ফেরত পেয়ে মধুবনের কি হাল করেছিল ? মহুয়ার রস খেয়ে নাচ, গান, মালি পিটাই - সব মিলে আনন্দময় পূর্ণ বাঁচা। এরাইতো অপ -ছন্দের কবি হবার Most Fitting Candidate!

আমাদের দিদি যদি অপ -ছন্দের কবি হতেন তাহলে তার অ-পছন্দের কপিকুল দেখে হো হো করে হাসতে পারতেন। মজাটা miss করে ফেললেন।

যদিও আমার আবিষ্কার বঙ্গ বাসীর জন্য , তাদের রামগরুড়ের ছানার মতো মুখশ্রীর Plastic Surgeryর উদ্দেশ্যে , কিন্তু আমি বিশ্বাস করি আজ বাঙ্গালী যাহা ভাবিতেছে , কাল সমগ্র ভারত তাহা ভাবিবে, ইহাই পরশু মানবজাতিকে হাসি আনন্দের পথ দেখাইবে। পশ্চিম হইতে সমাদর পাইলে আমাকে মরণোত্তর বঙ্গ রত্ন পুরস্কার দেওয়া হইবে। 


Rate this content
Log in

More bengali story from Prof Ajoy Kumar Basu

Similar bengali story from Classics