অঙ্কো বড়ই কঠিন
অঙ্কো বড়ই কঠিন
পার্ট - 1
#এই গল্পটা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য যাদের অসুবিধা আছে তারা দয়া করে ক্ষমা করবেন।
স্কুলের ঘন্টা পড়লো এখনই। বেল করতেই সবার যেন হাফ ছেড়ে বাঁচার আনন্দ উচ্ছ্বাস বেরিয়ে এলো। হইচই করতে করতে সবাই বই- খাতা , পেন ব্যাগে ভরতে লাগলো। নিশা ক্লান্ত হয়ে পাশে বসে থাকা অমৃতাকে জিজ্ঞেস করল, " কাল স্কুল আসবি?" অমৃতা বলল, "না রে কাল বাড়িতেই থাকবো। ঠাম্মির শরীরটা ঠিক ভালো নেই। নিশা মাথা নাড়িয়ে বলল , "ঠিকাছে চল এখন না হলে আবার সবার শেষে লাইনে দাঁড়াতে হবে।" অমৃতা আর নিশা বেরিয়ে গেল ক্লাসরুম থেকে। নিশার মনটা প্রায়ই ভালো থাকে না। কেমন একটা মন মরা হয়ে থাকে, যেন একটা জীবন্ত লাশ। স্কুলে আসতে হয় তাই আসে, পড়াশোনা করতে হয় তাই যতটুকু না বললেই নয় ততোটুকুই পড়ে, এভাবেই দিন পার করে দিচ্ছে নিশা। এখনো অবশ্য তার আর কোন কিছুতেই কিছু যায় আসে না সবকিছুই যেন অভ্যেস হয়ে গেছে।
স্কুল থেকে বেরিয়েই গাড়িতে উঠল নিশা। এই ম্যাজিক গাড়িটা নিশার বাবা মা ঠিক করে দিয়েছে। এই গাড়ি করে নিশার স্কুলে অনেক ছেলে মেয়েরাই যায়। গাড়িতে ওঠার পর থেকেই শুরু হল আরেক জালা। যত রকমের নোংরা আর অসভ্য কথা শুরু হয়। মেয়েদের নিয়ে , নোংরা যৌনতা একেবারে অসহ্য। আচমকা কোন মানুষ হঠাৎ এরকম কথা শুনলে বমি করে দিতে পারে । মিশার নিজেরই গা গুলিয়ে ওঠে এমন কথাগুলি শুনে। কিন্তু কি আর করার মুখ বুজে সহ্য করা ছাড়া কিছুই করার নেই। হাই স্কুলে উঠেছে চার চারটে বছর হয়ে গেছে এখন। পঞ্চম শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণীতে উঠেও এই আলোচনাগুলো হজম করার ক্ষমতা হয়ে ওঠেনি এখনও তার। গাড়িতে বেশিরভাগটাই ছেলে সিনিয়র আর নিজেরই ক্লাসের ছেলেরা আছে। মেয়ে আছে মাত্র চারজন তাদের মধ্যে দুইজন নিশার সিনিয়র, একজন নিশার সহপাঠক, আর আরেকজন নিশা নিজেই। আসলে আরেকটা মেয়ে যেতো কিন্তু এত কম যায় স্কুলে এখন যে ওনার মধ্যে পড়ে না। সত্যি , দিনকাল খুব খারাপ গাড়ির কাকু মানে গাড়িটা যিনি চালান, তিনি যদি ওই নোংরা কথাবার্তা গুলো শুনে সবাইকে থামতে বলেন তখন বড় ম্যাজিক গাড়িতে বসে থাকা আটজন ছেলে উল্টে কাকুকেই নিন্দে - মন্দ করে এবং খারাপ কথা বলে তাকে চুপ করিয়ে দেয়। তিনি যে বয়স এবং সম্পর্কে তাদের বাবারই মতন সেই তোয়াক্কাও করে না। প্রাপ্য সম্মানের কথা তো ছেড়েই দিলাম। অবস্থা তিনি এখন আর তেমন কিছুই বলেন না।
@নবনীতা
