দর্পচূর্ণ
দর্পচূর্ণ
উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল মানুষটি,
ভেবেছিল আকাশ তারই অধিকার।
পায়ের নিচে মাটি যে নড়বড়ে,
সেই সত্যটুকু ছিল অজানা তার।
প্রশংসার শব্দে ভরে উঠেছিল ঘর,
আয়নায় দেখত শুধু নিজের মুখ।
অন্যের চোখের জল দেখেনি কখনও,
নিজের সাফল্যেই খুঁজেছে সুখ।
একদিন সময় এল নীরব হাতে,
কেড়ে নিল অহংকারের সব অলংকার।
ভেঙে গেল নিজের গড়া আয়না,
চূর্ণ হলো মিথ্যে গর্বের পাহাড়।
তখনই সে দেখল—
মানুষ বড় হয় পদে নয়, ব্যবহারে;
সম্মান থাকে না ক্ষমতার সঙ্গে,
থেকে যায় মানুষের হৃদয়ের দ্বারে।
দর্পচূর্ণ হওয়া তাই পরাজয় নয়,
কখনও কখনও এ-ই নতুন জন্ম।
নিজেকে হারিয়ে নিজেকেই পাওয়া,
অহংকার পেরিয়ে মানুষ হওয়ার ধর্ম।
