যেখানে ঢেউ নাম ধরে ডাকে
যেখানে ঢেউ নাম ধরে ডাকে
সকালবেলার সমুদ্রের একটা আলাদা গন্ধ আছে।
বেলাভূমি তখনও মানুষের ভিড়ে ভরে ওঠেনি। শুধু ভেজা বালি, দূরে জেলেদের নৌকা আর একের পর এক এসে পড়া ঢেউ।
ঈশান অনেক বছর পর সেই বেলাভূমিতে ফিরে এসেছে।
এই জায়গাতেই একদিন মেঘলা বলেছিল—
“জানো, ঢেউগুলো কখনও ফিরে যায় না। ওরা শুধু আবার ফিরে আসার জন্য সরে যায়।”
তখন ঈশান হেসেছিল।
আজ সেই কথাটাই বারবার কানে বাজছে।
সে হাঁটতে হাঁটতে দেখল, ভেজা বালিতে ছোট্ট একটি মেয়ে শাঁস কুড়োচ্ছে।
হঠাৎ একটি ঢেউ এসে তার বানানো বালির ঘর ভেঙে দিল।
মেয়েটি কাঁদল না।
আবার বানাতে শুরু করল।
ঈশান অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
— “ভেঙে গেল, তবু আবার বানাচ্ছ?”
মেয়েটি হাসল।
— “সমুদ্র ভাঙে বলেই তো আবার বানানো মজা।”
ঈশান চুপ করে গেল।
কত বছর ধরে সে নিজের ভেঙে যাওয়া সম্পর্কটাকে শুধু ভাঙা হিসেবেই দেখে এসেছে।
হয়তো নতুন করে কিছু গড়ার কথাই ভাবেনি।
বিকেলের দিকে সে সেই পুরোনো পাথরের কাছে গেল, যেখানে একসময় তারা দুজনে বসত।
পাথরটা এখনও আছে।
শুধু মানুষ বদলে গেছে।
বেলাভূমি কোনো স্মৃতি ধরে রাখে না। সে শুধু মানুষকে শেখায়—যা মুছে যায়, তা-ও একদিন সুন্দর ছিল।
সূর্য ডুবছিল।
বেলাভূমির উপর লাল আলো ছড়িয়ে পড়ছিল।
ঈশান চোখ বন্ধ করল।
মনে হলো, বাতাসে কেউ যেন বলছে—
“সব অপেক্ষার শেষ দেখা হওয়া নয়। কিছু অপেক্ষার শেষ নিজেকে খুঁজে পাওয়া।”
ফেরার আগে সে বালিতে নিজের নাম লিখল।
পরের ঢেউ এসে মুছে দিল।
অদ্ভুতভাবে তার খারাপ লাগল না।
কারণ সে বুঝে গেছে—
