শেষ ঢেউয়ের আগে
শেষ ঢেউয়ের আগে
ভোরের সমুদ্রের একটা নিজস্ব নীরবতা আছে।
যখন সূর্য পুরোপুরি ওঠেনি, আর ঢেউগুলো যেন ধীরে ধীরে পৃথিবীকে জাগিয়ে তুলছে।
ঋদ্ধি জলে নামতে ভয় পেত।
ছোটবেলায় একবার বড় ঢেউয়ে পড়ে গিয়েছিল। সেই ভয়টা বহু বছর ধরে বুকের মধ্যে লবণের মতো জমে ছিল।
এইবার বন্ধুরা জোর করেই তাকে সমুদ্রে নামাল।
প্রথম ঢেউ এল।
হাঁটু ছুঁয়ে ফিরে গেল।
ঋদ্ধি এক পা পিছিয়ে গেল।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধ লাইফগার্ড মুচকি হেসে বললেন,
— “সমুদ্রকে জিততে আসবেন না। ওর সঙ্গে তাল মেলান।”
ঋদ্ধি কথাটা মনে রাখল।
সে আর ঢেউ ঠেকানোর চেষ্টা করল না।
ঢেউ এল।
সে শরীরটা একটু ঢিলে করে দিল।
অদ্ভুতভাবে আর পড়ে গেল না।
ধীরে ধীরে কোমর পর্যন্ত জলে দাঁড়িয়ে সে অনুভব করল—যে ভয়কে এতদিন পাহাড় মনে হয়েছিল, সে আসলে একটা ঢেউ ছিল।
অনেকক্ষণ পরে সে সমুদ্র থেকে উঠে এল।
ভেজা কাপড় থেকে জল পড়ছিল।
মুখে ছিল এমন এক হাসি, যা আয়নাও আগে দেখেনি।
বৃদ্ধ লাইফগার্ড জিজ্ঞেস করলেন,
— “কেমন লাগল?”
ঋদ্ধি দূরের সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে বলল,
— “আজ বুঝলাম, সমুদ্র আমাকে ডুবাতে চায়নি। আমি নিজেই ভয়ের মধ্যে ডুবে ছিলাম।”
বৃদ্ধ মাথা নাড়লেন।
— “সমুদ্রস্নান শরীর ভেজায়। কিন্তু সাহস থাকলে, মনও ধুয়ে দেয়।”
ফিরে আসার সময় ঋদ্ধি একবার পিছন ফিরে তাকাল।
ঢেউগুলো এখনও আসছে।
আবার ফিরে যাচ্ছে।
সে বুঝল—
জীবনের কিছু ভয় জয় করা যায় না লড়ে; জয় করা যায় তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে।
