পুকুরের ধারে একটি বিকেল
পুকুরের ধারে একটি বিকেল
গ্রামে ফিরেছিল অদ্বৈত বহু বছর পরে।
বাড়ির সবকিছুই বদলে গেছে। টিনের চালের জায়গায় পাকা ছাদ, আমগাছটি আর নেই, উঠোনের মাটিও আগের মতো নরম নয়।
শুধু পুকুরটা একই রকম।
বিকেলের আলো জলে পড়ে ছোট ছোট ঢেউ তুলছিল। অদ্বৈত পুকুরের ধারে বসতেই মনে হলো—জল যেন তাকে চিনে ফেলেছে।
ছোটবেলায় এই পুকুরেই সে সাঁতার শিখেছিল। বাবা দূর থেকে বলতেন, “জলকে ভয় পাস না, জলের সঙ্গে কথা বলতে শেখ।”
তখন বুঝত না।
আজ বুঝল।
পুকুরের জলে মুখ রাখতেই নিজের বর্তমান মুখের পাশে আরেকটি মুখ ভেসে উঠল—ছোট্ট অদ্বৈত, ভেজা চুল, হাঁটু পর্যন্ত গুটানো প্যান্ট, হাতে কাগজের নৌকা।
হঠাৎ পাশ থেকে কণ্ঠ ভেসে এল।
— “চিনতে পারলি?”
অদ্বৈত ঘুরে দেখল, তার শৈশবের বন্ধু সুমন।
দুজনেই হেসে উঠল।
কথার ফাঁকে সুমন বলল, “জানিস, এই পুকুরটা একটা অদ্ভুত কাজ করে।”
— “কী?”
— “যারা ফিরে আসে, তাদের মুখ নয়, তাদের স্মৃতিগুলো দেখায়।”
অদ্বৈত চুপ করে রইল।
জলে আবার তাকাল।
সত্যিই তো—জল কখনও ছবিকে ধরে রাখে না, তবু প্রতিচ্ছবি দেখায়।
সুমন বলল, “তুই শহরে অনেক কিছু পেয়েছিস। কিন্তু কিছু রেখে গেছিস এখানেও।”
— “কী রেখে গেছি?”
— “তোর হাসিটা।”
ফেরার আগে অদ্বৈত পুকুরের জলে একমুঠো কাঁকর ছুড়ে দিল।
বৃত্তগুলো ছড়িয়ে পড়ল।
সে বুঝল—
জীবনের কিছু স্মৃতি জলছবির মতোই। ছুঁতে গেলেই ভেঙে যায়, কিন্তু দূর থেকে তাকালে আজও স্পষ্ট দেখা যায়।
