নিঃশব্দ দাবার চাল
নিঃশব্দ দাবার চাল
অফিসের সবচেয়ে শান্ত মানুষটির নাম ছিল সৌম্য।
সে কখনও কারও বিরুদ্ধে কথা বলত না। নিজের কাজ করত, সময়মতো বাড়ি ফিরত।
তবু একদিন হঠাৎ অফিসজুড়ে খবর ছড়িয়ে পড়ল—সৌম্য নাকি কোম্পানির গোপন তথ্য বাইরে পাচার করছে।
কেউ প্রমাণ দেখেনি।
তবু সবাই বিশ্বাস করল।
কারণ গুজবের একটি অদ্ভুত ক্ষমতা আছে—সে সত্যের চেয়ে দ্রুত হাঁটে।
সৌম্য প্রথমে প্রতিবাদ করেছিল।
তারপর চুপ করে গেল।
চুপ থাকার কারণ অপরাধবোধ নয়।
সে বুঝেছিল, যেখানে মানুষের কান আগে থেকেই রায় লিখে ফেলেছে, সেখানে মুখের ভাষা খুব দুর্বল।
কয়েকদিন পর অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হলো।
একটি পুরোনো CCTV ফুটেজ বেরিয়ে এল।
দেখা গেল, যেদিন তথ্য চুরির অভিযোগ উঠেছিল, সেদিন সৌম্য অফিসেই ছিল না।
তাহলে?
ধীরে ধীরে বেরিয়ে এল আসল গল্প।
সৌম্যর পদোন্নতি আটকে দেওয়ার জন্য তিনজন মিলে পরিকল্পনা করেছিল।
একজন গুজব ছড়িয়েছিল।
একজন নকল ই-মেইল বানিয়েছিল।
আর একজন শুধু নীরব থেকেছিল।
তদন্ত শেষ হওয়ার পর সবাই সৌম্যর কাছে ক্ষমা চাইতে এল।
সে শুধু বলল—
“ক্ষমা করতে পারি। কিন্তু একটা জিনিস ফিরিয়ে দিতে পারবেন?”
“কী?”
“যেদিন আপনারা আমাকে সন্দেহ করেছিলেন, সেদিন যে বিশ্বাসটা মরে গিয়েছিল।”
ঘরটা নিঃশব্দ হয়ে গেল।
সেদিন সৌম্য বুঝেছিল—
সবচেয়ে সফল ষড়যন্ত্র সেই নয়, যা একজন মানুষকে হারায়; সবচেয়ে সফল ষড়যন্ত্র সেই, যা মানুষকে মানুষকে সন্দেহ করতে শেখায়।
