চুরি যাওয়া স্বাক্ষর
চুরি যাওয়া স্বাক্ষর
অয়নের অভ্যাস ছিল ভোরে লেখা।
সবাই ঘুমিয়ে থাকলে সে শব্দের সঙ্গে কথা বলত। ছোট ছোট গল্প, কবিতা, ডায়েরির পাতায় জমে উঠত তার পৃথিবী।
একদিন অফিসের সাহিত্য প্রতিযোগিতায় তার একটি লেখা প্রথম হলো না।
অদ্ভুত ব্যাপার—প্রথম হওয়া লেখাটি ছিল হুবহু তারই লেখা।
শুধু নিচের নামটা বদলে গেছে।
অয়ন প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেনি।
খাতার প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বিরামচিহ্ন সে চিনে ফেলেছিল।
সহকর্মী বলল, “প্রমাণ আছে?”
অয়ন চুপ করে নিজের পুরোনো ডায়েরি বের করল।
তারিখ লেখা।
খসড়া লেখা।
সংশোধনের দাগও আছে।
তদন্ত হলো।
সত্য বেরিয়ে এল।
যে সহকর্মী লেখাটি নিজের নামে জমা দিয়েছিল, সে মাথা নিচু করে বলল,
— “আমি ভেবেছিলাম, কেউ জানবে না।”
অয়ন শান্ত গলায় উত্তর দিল,
— “চুরি ধরা পড়লে মানুষ লজ্জিত হয়। কিন্তু সৃষ্টি চুরি করলে আগে নিজের বিবেকটাই ধরা পড়ে।”
পুরস্কার পরে অয়নের হাতেই উঠল।
কিন্তু সে ট্রফিটার দিকে বেশি তাকাল না।
সে নিজের ডায়েরিটা আলতো করে ছুঁয়ে বলল,
— “স্বাক্ষর শুধু কাগজে থাকে না; যে হৃদয় থেকে শব্দ জন্মায়, তারও একটি অদৃশ্য স্বাক্ষর থাকে।”
সেদিন সবাই বুঝেছিল—
সবচেয়ে বড় চৌর্যবৃত্তি জিনিসের নয়, অন্যের পরিশ্রমকে নিজের বলে দাবি করা।
