জোয়ারের আগে
জোয়ারের আগে
মন্দারমণির সমুদ্রতটে ভোরবেলা হাঁটছিল ঋত্বিক।
রাতের জোয়ার সরে যাওয়ার পর ভেজা বালির উপর হঠাৎ যেন লাল রঙের ফুল ফুটে উঠল।
হাজার হাজার লাল কাঁকড়া।
এক পা এগোতেই মুহূর্তে তারা বালির নিচে মিলিয়ে গেল।
ঋত্বিক থেমে গেল।
আবার স্থির হয়ে দাঁড়াতেই কাঁকড়াগুলো একে একে বেরিয়ে এল।
পাশেই জাল গুছোচ্ছিলেন এক বৃদ্ধ জেলে।
তিনি মুচকি হেসে বললেন,
— “ওরা মানুষকে ভয় পায় না। ওরা শুধু হঠাৎ শব্দকে ভয় পায়।”
ঋত্বিক অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
— “তাহলে আমি দাঁড়াতেই বেরিয়ে এল কেন?”
বৃদ্ধ বললেন,
— “যে থামতে জানে, তাকে সমুদ্রও নিজের গল্প শোনায়।”
কথাটা ঋত্বিকের মনে রয়ে গেল।
শহরে ফিরে সে বুঝতে পারল—সেও যেন সেই লাল কাঁকড়াদের মতো।
কিন্তু যখন কেউ ধৈর্য নিয়ে অপেক্ষা করে, তখনই আবার সে নিজের সত্যিকারের রূপে ফিরে আসে।
এক বছর পর আবার সে সেই সমুদ্রে গেল।
একই ভোর।
একই লাল কাঁকড়া।
এবার সে তাদের ধরতে গেল না।
শুধু দাঁড়িয়ে রইল।
দেখল—ভয়ের আড়াল থেকে জীবন কী সুন্দরভাবে বেরিয়ে আসে।
ফেরার সময় বৃদ্ধ জেলে বললেন,
— “কী শিখলেন?”
ঋত্বিক হেসে বলল,
— “যাকে জোর করে কাছে আনতে চাই, সে লুকিয়ে যায়। আর যাকে সময় দিই, সে নিজেই ফিরে আসে।”
দূরে তখন জোয়ার আসছিল।
লাল কাঁকড়াগুলো আবার দৌড়ে বালির নিচে ঢুকে পড়ছিল।
ঋত্বিক বুঝল—
প্রকৃতি প্রতিদিনই শিক্ষা দেয়; আমরা শুধু সবদিন শুনি না।
