মানচিত্রে রক্তক্ষরণ স্বাধীনতার ডাক
মানচিত্রে রক্তক্ষরণ স্বাধীনতার ডাক
রক্তক্ষরণ স্বাধীনতার ডাক
নাটক
: লেখক শংকর হালদার শৈলবালা
রচনাকাল : ৩ জানুয়ারি, ২০২৬
প্রথম দৃশ্য : ইতিহাসের কাঠগড়ায়
স্থান: অধ্যাপক অমলেন্দু বিকাশের ব্যক্তিগত যোগাযোগ। ঘরের পরিবেশ গাম্ভীর্যপূর্ণ। দেয়ালে ঝোল ১৯৪৭-এর সেই বড় মানচিত্রটি একটি নিস্তব্ধ যন্ত্রণার প্রতীক হওয়া আছে। টেবিলের ওপর রাখা আর পাণ্ডুলিপি আর একটি ম্লান ল্যাম্পের আলোর ঘরের তালিকামে করে তুলেছে।
সময়: রাত। মেঘলা আকাশ, থেকে বজ্রপাতের শব্দ চালু করা হচ্ছে।
কারিগরি নির্দেশিকা :
◆ মঞ্চ সজ্জা : টেবিলের একপাশে একটি রেডিও রাখা, যা থেকে নিম্ন স্ট্যাকটিক শব্দ উচ্চারণ। একটি লাল রঙের লেজার পয়েন্টার স্থির হওয়া আছে দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের উপর।
◆ পোশাক :প্রচার অমলেন্দু পরেছেন একটি ধবধবে সাদা সুতি পাঞ্জাবি ও ধুতি। অমিতার পরনে একটি জলপাই রঙের শার্ট, যার হাতে গোটানো এবং কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম।
◆ আবহ সঙ্গীত : নেপথে অত্যন্ত ধীর গতিতে বিষাদময় সেতারের সুর। যখনই 'দেশভাগ' বা 'রক্তক্ষরণ', তখন বেহালায় একটি কান্নার সুর বেজে উঠবে।
সংলাপ:
(অমিত অংশর সামনে স্তব্ধ হয়ে গেছে।
অমিত : (মানচিত্রের দিকে আঙ্গুল নির্দেশ করে) নির্দেশ, এই যে রেখাগুলো দেখছেন—এগুলো কি কেবল সীমানা? না স্থায়ী, সমাধানের দীর্ঘশ্বাসের দাগ। ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবে দ্বিজাতিতত্ত্বের বীজ বোনা হয়েছিল, সেই চারাগাছ আজ বিষবৃক্ষ হয়ে আমাদের গিলে খাচ্ছে। ১৯৪৭-এ আমাদের পূর্বপুরুষ ভিটেমাটি আগলে যে শপথ নিয়েছিলেন, আজ ২০২৬-এ এসেছিলেন তা অনিশ্চয়তার কারণে।
অমলেন্দু : (দীর্ঘস্বাশ্বাসের পক্ষে) ইতিহাস বড় নির্মম অমিত। জিন্নাহ সাহেব যখন 'টু-নেশন থিওরি'র কথা বলেছিলেন, তখন তিনি কেবল ধর্মকে ব্যবহারনি, আপনি একটি স্থায়ী বিচ্ছেদ করতে পারেন। ১৯৪৭-এ আমরা আপত্তি দেশভাগই বোদ্ধহয় সমস্যার সমাধান। কিন্তু আজ যখন আমার ওপর পৈশাচিক অত্যাচার, তখন মনে হয়—মানচিত্রের সেই রক্তক্ষরণ আজও থামেনি।
অমিত : (উত্তেজিত স্বরে) থামবে কী করে থামবে? যখন রাষ্ট্রের আইন আর ধর্মের উম্মাদনা এক হয়ে যায়, তখন সহাবস্থান একটি আত্মহত্যা ছাড়া আর কিছু নয়। ডঃ ইউনুসে অস্থায়ী সরকার আমাদের অসাম্প্রদায়িক গল্প প্রচার, আর রাতের অন্ধকারে আমাদের মন্দির পোড়ে, পীরগঞ্জে দিপু দাসের মতো সাধারণ জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়। আমরা আর কতকাল এই যূপকাঠে মাথা দেব?
অমিত : (গম্ভীর শব্দে) তবে তোমার সমাধান কী অমিত? স্রেফ প্রচার অন্য কিছু?
অমিত : (চিত্রমান নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রের উপর লেজার পয়েন্টার খোলা) আমাদের হাতের কাছেই আছে সমাধান। দেখুন এই মানচিত্রটা। খুলনা খুলনা, যশোর, ফরিদপুর, বরিশাল, কুষ্টিয়া ও পটুয়াখালী— এই রোগটি জেলা। এই অঞ্চলগুলো এক সময় প্রধান ছিল। দেশভাগের সময় অন্যথায় এই অংশকে পূর্বে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। আজ সময় আপনার সেই ঐতিহাসিক ভুল সংশোধন করুন। আমাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা—এই সংগঠনটি জেলা নিয়ে গড়ে তোলার জন্য, সার্বভৌম এবং স্বাধীন 'বঙ্গ' রাষ্ট্র গঠন করা।
অমলেন্দু : (বিস্মিত হয়ে) অমিত! তুমি কি আলোচনা করতে পারছ তুমি কী বলছ? একটি স্বাধীন রাষ্ট্র? আন্তর্জাতিক মহল কি এটা নেবে?
অমিত : (দৃঢ়তার সাথে) কেন নেবে না আশা? জিন্নাহ যদি মুসলিমদের জন্য আবাসভূমি গ্রহণ করতে পারেন, তবে আজ যখন হিন্দুরা স্বাভূমে পরবাসী, তখন আমরা কেন আমাদের ভূমিষ্ঠ পাব না? এই খুলনা-যশোর মাটিতে আমাদের পূর্বপুরুষ শ্মশান রয়েছে, বরিশালের জলে আমাদের রক্ত মিশে আছে।
কুষ্টিয়া-ফরিদপুর-পটুয়াখালীর ধুলিকণায় আমাদের অধিকার। আমরা আর রিফিউজি কার্ড নিয়ে বাঁচতে চাই না। আমরা চাই আমাদের কেন্দ্র পতাকা, মানচিত্র।
অমঃ : (মানচিত্রের দিকে এগিয়ে এসে) এই অনুরোধে আমি তো গৃহযুদ্ধকে আমন্ত্রণ সিদ্ধান্ত। ইউনুস পুলিশ পুলিশ আর কি আমাকে ছেড়ে দেওয়া?
অমিত : রক্ত তো আমরা দিছিই। পরাধীন হয়ে ধুঁকে রক্তের চেয়ে, স্বাধীনের জন্য একবার বুক চিরে রক্ত দেওয়া অনেক সম্মানের। খুলনা থেকে পটুয়াখালী আজ পর্যন্ত শুধু একটা ধ্বংসই প্রতি বনায়ন হচ্ছে—'বঙ্গভূমি'। যদি দ্বিজাতি তত্ত্বই দেশভাগের হয়, তবে একই কথাতে এই অঞ্চলের সম্প্রদায়দের জন্য বিকল্প দেশ পাওনা। আজ থেকে এই মানচিত্র আর কেবল যন্ত্রণার হবে না, এটা হবে আমাদের স্বাধীনতার পক্ষে।
(বাইরে বৌদ্ধ বৌদ্ধ সদস্যটি সেই ব্যক্তিটি অমিত্র উপর হাত দিয়ে শব্দ করে)
অমিত : রাখা, শুনুন! এক্স থেকে কিসে শব্দ ওটা কেবল মেঘের ডাক নয়, ওটা খুলনা-যশোর বঞ্চিত মানুষের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর—ওটা আমাদের স্বাধীন ডাক!
উপসংহারের নির্দেশিকা : দৃশ্যটি শেষ সময় নেপথে সমবেত শঙ্খধ্বনি এবং 'জয় বঙ্গভূমি' স্লোগান অত্যন্ত ক্ষীণভাবে শুরু হবে। অনুশীলন অমন্দু স্তব্ধ অমিতের দিকে এগিয়ে থাকবে, আর অমি হাতের অংশর দক্ষিণ-পশ্চিম বসের উপর শক্ত হবে চেপে।
দ্বিতীয় দৃশ্য : উত্তরের শ পথ
স্থান : খুলনা পার্কের একটি জীর্ণ চালের গোপন গুদাম। অন্ধকার কারণ শুধু মশাল জ্বলছে। চারি দিকে বস্তা স্তূপ করা।
সময়: রাত ২টো। প্রবর্তন শব্দ এবং রেলগাড়ি ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক।
কারিগরি নির্দেশিকা :
◆ মঞ্চ সজ্জা : মাঝখানে একটি কাঠের টেবিল, অংশটি-পশ্চিমের দক্ষিণের মানচিত্র বিছানো। একপাশে একটি ল্যাপটপ এবং কিছু নথিপত্র।
◆ পোশাক : অর্ক তার সহযোদ্ধাদের পরনে সাধারণ প্যান্ট-শার্ট, কিন্তু মুখমুখে এক অস্থির তেজ। উপস্থিত সাধারণ মানুষের পরনে গ্রাম বাংলার সাধারণ পোশাক।
◆ আবহ সঙ্গীত : নেপথে ড্রামে নিচু এবং ভারী শব্দ (হৃদস্পন্দনের ছন্দ), যা উত্তেজনার পারদ চড়াবে।
সংলাপ :
(গুম প্রায় জনা পাল্টাশেক জমা দেওয়া হয়েছে। অর্ক টেবিলের উপর ভিত্তি করে মেগাফোনে কথা বলুন। সামনের অংশে আছে ও বিপ্লব ধর)।
অর্ক : (গম্ভীর ও তীক্ষ্ণ স্বরে) ভাই সব, আজ আমরা এখানে চোরের মতো লুকিয়ে কথা কেন? কারণ আমাদের পিঠ দেওয়া হয়েছে। ১৯৪৭-এর দেশভাগের পর আমাদের বলা হয়েছিল আমরা পাঠ করি। কিন্তু ইতিহাস কী? ১৯৭১- এর স্বাধীনতার প্রাক্কালে খেলাপি হানাদার আর দোসররা যখন লক্ষ্য অবস্থান, তার এই সংখ্যালঘু লক্ষ্য সম্প্রদায়ের মধ্যে ছিল। সেই '৭১-এর রক্তক্ষয় থেকে শুরু করে আজ ২০২৬—আমাদের মা-বোনের ইজ্জত কি কোনদিন লেখা হয়েছে?
সায়নী : (এগিয়ে এসেছে) হয়নি! ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী হিংসার কথা কি আমরা গেছি? পূর্ণিমা শিলাদের সেই আর্তনাদ আজও শান্তি পরিবেশে বাঁধায়। নাসিরনগর, শাল্লা, পীরগঞ্জে সামনের দিকে, কিন্তু ঘরবাড়ি— বাসনাচুর আর মন্দির পোরিং চিত্রনাট্যটা একই।
বিপ্লব ধর : (একটি ফাইল) আমি তথ্য নিয়ে কথা বলছি। পরিসংখ্যান বেশি, ১৯৫১ সালে পূর্বে বাংলাদেশ জনসংখ্যা ছিল ২২ শতাংশের। ১৯৭৪ সালে তা উল্লেখ এল ১৩.৫ শতাংশে। ২০১১ সালে ৮.৫ শতাংশ। আর আজ ২০২৬-এ আমরা সম্ভবত ৭ শতাংশের কম। এই যে কোটি মানুষ হারিয়ে গেল, তারা খুঁজে পাবে? তাদের হয় খুন করা, নয়তো ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে দেশকে বাধা দেওয়া হয়েছে। এটা কি নিরব গণহত্যা নয়?
অর্ক : ঠিক লেখক বিপ্লব দা। ডঃ ইউসেন অন্তর্বর্তী সরকার প্রদেশ পর আমরা ক্ষমতা বিচার পাব। কিন্তু উল্টো কী দেখলাম? দিপু দাসের মতো জ্যান্ত পু মারা মারা। আমাদের মঠ-মন্দির অপবিত্র করা। আমাদের নারীদের পাশবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে বাধার উপর বাধা।
(উপস্থিত জনতার মধ্য থেকে একজন বৃদ্ধ চিৎকার করে উঠলেন— "আমরা আর কত সহ্য করব বাবা?")
অর্ক: আর নয়! আর সহ্য করার দিন শেষ। ১৯৭১-এ হিন্দুরা লড়েছিল একটা অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের আশা, কিন্তু আমরা বহুব্রীলি বঞ্চনা। আজ আমাদের কাছে যাওয়ার লড়াই। আর এই লড়াইয়ের জয় যৌক্তিক সমাধান- অধিকার! বিপ্লব ধর: (যারা আমাদের বিচিন্নতাবাদী বলে, তাদের আমি দিন— মনে হয় দু'দেশের শক্তির অধিকারী। যদি এক ধর্মের মানুষের জন্য আলাদা দেশ হতে পারে, তবে ৫ শতাংশ মানুষের জীবন ও সম্মানের জন্য কেন উত্তর ভূখণ্ড হবে? খুলনা, যশোর, ফরিদপুর, বরাল, কুষ্টিয়া পটুয়াখালী—এই অঞ্চলে আমাদের রক্ত মিশে আছে। এই মাটি আমাদের। তাই 'বঙ্গভূমি'র দাবি আজ কোনো বিলাসিতা নয়, এটা আমাদের কাছে থাকার অধিকার।
অর্ক : (মানচিত্রের উপর হাত দিয়ে) আজ এই খুলনা থেকে আমাদের বার্তা কথোপকথন কুষ্টিয়া থেকে পটুয়াখা পর্যন্ত। নদী, গোপন গোপন মিটিং করুন। আজনন— আমরা আমাদের স্বাধীন বঙ্গভূমি গড়ব, নয়তো এই মাটিতে শেষ হওয়া। কিন্তু দাসত্ব আর করব না!
(সন্তানের বাইরে উঠে হাত দিয়ে চিৎকার— "জয় বঙ্গভূমি! আমাদের মাটি, আমাদের অধিকার!")
সায়নী: (মশাল উঁচিয়ে) দিপু দাসে রক্ত বৃথা যেতে না দেব! সমুদ্রের এই রক্তক্ষরণে স্বাধীনতার ডাকে রূপ নেবে।
দ্বিতীয় দৃশ্যের সমপ্তি অংশ: হুঙ্কার
(গোপন মিটগঙ্গার অর্ক মশালটি উঁচিয়ে ভিড়ের মাঝখানে এসে দাঁড়িয়েছে। সব দেখেছে অর্কর দিকে)।
অর্ক : (বজ্র গম্ভীর শব্দে) ভাই সব! ওরা আমাদের ঘর জ্বালিয়েছে, আমরা শ্মশান চিনেছি। ওরা আমাদের রক্ত ঝরিয়েছে, আমরা লোহা হতে শিখেছি। আর নয় নারী, আর নয় মিনতি! আজ থেকে আমাদের নিশ্চিন্ত হবে এক বিদ্রোহ। দি দাসে ভস্ম মাখাপু এই মাটি সাক্ষী-হয় আমরা স্বাধীন হবো, নয়তো এই মাটির সাথে মিশে ইংলিশন হবো! রেখো, বীরের রক্তে কোনোদিনের কান্না থাকে না, কেবল বিজয়ের শ্লোক থাকে। তোলো মশাল, পিঞ্জর— আজ শুরু আমাদের স্বাধীনতার মহালগ্ন!
(মুহূর্ত স্তব্ধতা... তারপর কাল নেপথে রাজনৈতিক প্রচণ্ড শঙ্খধ্বনি এবং রণপাখার (যুদ্ধের ড্রাম) একটানা গম্ভীর শব্দ শুরু হবে। পড়বে।)
রণসঙ্গীত: বঙ্গভূমি গর্জন
(ছন্দ: দ্রুত তাল, বীর রস/মার্চিং রিদম)
(নে পথ্য শব্দ - সমস্বরে হুঙ্কার দিয়ে)
শোন রে শোন, শ্মশান ছেড়ে জাগছে রে মহাকাল,
চিতার আগুনে ভস্ম হবে গোলামির এই জাল!
দি দাসে রক্তধারা বইছে মাটির গায়,
কাতার বক্ষে স্থায়ী পথ পায়!
(মূল গান - দ্রুত লয়ে)
খুলনা-যশোর-বরিশাল আজকে রে এই ডাক,
পদ্মা-মেঘনা-মধুমতী সব সাক্ষী হয়ে থাক!
ফরিদপুর আর পটুয়াখালী— কুষ্টিয়ার শক্তি শক্তি,
বজ্রশিখায় গাইছে রে দেখ সার্বভৌম গান!
(তীব্রয় - বাদ্যযন্ত্রের গর্জন)
ছিন্ন হবে রক্তে আঁকা রেখা,
এই দলিল আজ স্বাগত লেখালেখি!
মা-বোনেদের অশ্রু যারা তামাশা করে মুসলিম—
শ্মশান-বহ্নি জ্বালব তাদের জঠর-গহবর মেখে!
(সর্বোচ্চ চিৎকার ও উম্মনা)
রক্ত দিয়ে মাটি নেব—মাটিই আমাদের মা,
পাওর টেবিল বুটের তলায় নুইবে না এই!
জাগো দেশ, জাগো বঙ্গ, দেশো এ পিঞ্জর,
স্বাধীন বঙ্গভূমির বুকে আসুক প্রলয়-ঝড়!
(সমরে চিৎকার)
জয়বঙ্গভূমি! জয়বঙ্গভূমি! জয়বঙ্গভূমি!
অর্ক: (মশাল উঁচিয়ে) দিপু দাসে রক্ত বৃথা যেতে দেব না! সমুদ্রের এই রক্তক্ষরণে স্বাধীনতার ডাকে রূপ নেবে।
(মুহূর্তের মধ্যে মঞ্চের আলো লাল হয়ে যায়।
নেপথে প্রচন্ড শব্দে শঙ্খনি বেজে। শুরু হয় 'বঙ্গভূমি গর্জন' রণসঙ্গীত। অর্ক, সায়নী এবং উপস্থিত জনতা মশালের আলোয় মঞ্চের চারদিকে উত্সাহ পড়ে। তাদের পদক্ষেপে মঞ্চ কেঁপে পারস্পরিক। গানের লয় যত বাড়ে, তাদের হাতের মশালগুলো দ্রুত ঘুরতে থাকে। পথ এক বড় চিৎকারের সাথে যোগাযোগ আসে)।
কারিগরি বিন্যাস:
◆ ১. সংলাপ শেষ: অর্ক শেষ কথার পর ২ সেকেন্ড পিনপতন নীরবতা।
◆ ২। মিউজিক স্টার্ট: বিকাশ প্রচন্ড শব্দে ঢাক ও শঙ্খধ্বনি।
◆ ৩. রণগীতি: গানের প্রথম লাইন হবে ধীর কিন্তু গম্ভীর (ভারী বাস), অংশগুলো হবে অত্যন্ত দ্রুত এবং মার্চিং রিদম-, যা প্রকাশের মনে হবে এক বিরাট পার্টি কুচকাওয়াজ করছে।
◆ ৪. মঞ্চ মাঞ্চ: লাল ও হলুদ আলোর তীব্র নাচানাচি হবে, গোটা স্টেজ দাউ করে জ্বলছে।
তৃতীয় দৃশ্য : রাজপথের রণক্ষেত্র
স্থান : খুলনার একটি প্রধান সংযোগকারী রাজপথ। দুপাশে বন্ধ দোকানপাট, জন শূন্য মহানগর। সমুদ্র সাইরেনের শব্দ।
সময় : সকাল ১০টা। রৌদ্রোজ্জ্বল কিন্তু থমথমে আকাশ।
কারিগরি নির্দেশিকা :
◆ মঞ্চ সজ্জা : মহানগর মাঝখানের পুলিশ ব্যারিকেড ও কাঁটাতারের অংশ। একপাশে ল্যাম্পপোস্টেপু দাসের বড় একটি ছবি ঝোলানো। মঞ্চের নীচে ধোঁয়ার কুয়াশা।
◆ পোষাক : অর্ক ও সনিরশ লাল বাঁধা। আন্দোলনকারীদের হাতে ব্যানার ও লাঠি। পুলিশ পরনে দাঙ্গা দমনের বর্ম (দাঙ্গা গিয়ার), হাতে টিয়ারের গান ও লাঠি।
◆ আবহ সঙ্গীত : নেপথে 'বঙ্গভূমি গর্জন' রঙ্গিতি মার্চিং রিদমে বাজে। গানের তালের সাথে আন্দোলন আন্দোলন পদক্ষেপ ছন্দবদ্ধ।
সংলাপ :
(সংগীতের শেষ পঙ্ক্তি— 'স্বাধীন বঙ্গভূমির বুকে আসুক প্রলয়-ঝড়!' গাইতে গাইতে মিছিলে মঞ্চে থাকে। দৃশ্য আগুনের আভা)
পুলিশ : (মেগাফোনে) থামুন! আইন নিজের হাতে নেবেন না। আপনি এই সমাবেশ ব্যবস্থা। অবিলম্বে এই রাজ পথ খালি করে দিন, অন্যথায় আমরা বলপ্রয়োগ করতে হবো!
অর্ক : (মিছিল থামিয়ে এসে) আইন? কোন আইনের কথা কথাটা? যে আইনে দিপু দাসে ঘর পোড়ানো হয় আর দেশ তামাশাওন? যে আইনে আমাদের মা-বোনের শ্লীলতাহানি হয় আর অপরাধী বুক ফুলিয়ে ব্লক তৈরি করে? আজ সেই আইনের শৃঙ্খল জয়ের জন্য আমরা পথ দেখিয়েছি!
সায়নী : (উঁচু শব্দে) আমাদের পিঠ আজকে ঠেকে গেছে। কিন্তু আমাদের স্বাধীনতার দাবিকে মারতে পারবেন না। খুলনা-বরিশাল-যশোর আজ জেগেছে! আমরা আলাদা 'বঙ্গভূমি' ছাড়া এক ইঞ্চি জমিও ছাড়াব না!
পুলিশ : (কঠোর স্বরে) শেষ চেষ্টার মতো কাছে—ফিরে যান! নতুবা এর ফল ভালো হবে না।
অর্ক : (বিদ্রূপের হাসি হেসে) ফল? দিপু দাসে চিতার চেয়ে খারাপ ফল আর কী হতে পারে? ভাই সব! আর এক পা-ও পিছিয়ে নিজের কাছে মাকে অপমান করা। চলো এগিয়ে— বৈশিষ্ট্য নয়, অধিকার নেব, শহিদ হব!
(অর্ক স্লো দেয়: 'রক্তের মাটি চাই!' জনতা গর্জে পাত্র: 'স্বাধীনতা চাই, স্বাধীনতা চাই!'।
দৃশ্যের দৃশ্য:
◆ নেপথে রঙ্গিতি উচ্চ গ্রোমে আছড়ে পড়ে।
◆ পুলিশ টিয়ার ইজ ছোড়ে (ফগ মেশিনের ব্যবহার)।
◆ সায়নী ব্যারিকেডের ওপর চড়ে কালো পটাকাটি ও ঘোরাফেরা করার চেষ্টা করে একজন তাকে লাঠি দিয়ে সজোরে পুলিশ। সায়নী রক্তাক্ত পড়ে যায়।
◆ অর্ক পুলিশদের বাধা চিহ্ন সায়নীকে সামনের চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তে অনেকের জামাকাপড় চিড়ে যায়।
◆ মঞ্চে লাল ও কমলা স্ট্রোবলাইট জ্বলতে থাকে। মানুষের আর্তনাদ ও বুটের শব্দে এক নরকুণ্ড হয়।
অর্ক : (সায়নীকে ধরে চিৎকার করে) সায়নী! সায়নী কথা বল! (জনগণের দিকে দিকে) দেখো! এই রাষ্ট্র আমাদের রক্ত চায়। তবে তাই! আমাদের রক্তবিন্দু আজ স্বাভাবিকের বীজ ঝরবে! লড়াই চালিয়ে যাও!
অর্ক সায়নীকে কোলে নিয়ে ব্যারিকেডের মাঝখান দিয়ে আরও গান করার চেষ্টা করা হয়।
দেখা :
মঞ্চের একপাশে রক্তাক্ত সায়নী ও অর্কের স্পটলাইট স্থির হয়। অবস্থান আন্দোলনকারীরা পুলিশের সাথে মরণপণ লড়াই করছে। পর্দা এক কোণে দিপু দাসের ছবিটা রক্তে ভিজে লাল হয়ে যায়।
দৃশ্য দৃশ্য: লাশের মিছিল ও বিশ্ব বিবেক
◆ স্থান : দৃশ্যটি অংশে বিভক্ত। মমের বাম দিকে একটি অস্থায়ী মর্গ/হাসপাতাল এবং ডেঞ্চের দিকে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (দিল্লি বাভার আদলে)।
◆ সময় : যুদ্ধের পরবর্তী দিন। ভোরবেলা।
কারিগরি নির্দেশিকা :
◆ মঞ্চ সজ্জা : বাম সাদা কাপড়ে ঢাকা সারি লাশের সারি। দেওয়ালে রক্তের ছাপ। ডেনডে নিউ যেখানে বড় টিভি স্ক্রিনে, 'ব্রেকিংজ' হিসেবে আক্রমণের ফুটেজ ভিডিও।
◆ পোষাক : অর্ক ও বিপ্লব সংগ্রহের পোষাক রক্তাক্ত ও ধুলোমাখা। আন্তর্জাতিকদের পরনে ফরমাল স্যুট।
◆ আবহ সঙ্গীত : নেপথে একটি অত্যন্ত ও শোকাতুর ধীর গতির ড্রাম বিট। অন্যত্র অম্বুলেন্সের সাইরেন।
সংলাপ :
(মঞ্চের অর্ক এবং বিপ্লব ধরা দেহের সারির মাঝখানে বসে আছেন। অর্ক সাদারাজ, সমীপে জলহীন এক ভয়ংকর শূন্যতা।)
অর্ক: (স্বর রুদ্ধ) জন! বিপ্লব দা, আমাদের ১২৭ জন ভাই-বোনকে ওরা কাল রাজপথে পিষে মেরেছে। সায়নী এখনো আইসিউতে সুবিধার সাথে লড়ছে। এক রাত এত... এত প্রাণ!
বিপ্লব ধর : (গম্ভীর স্বরে) এই আত্মপ্রকাশ বৃথা যাবে না। দেখো, পুলিশেরও ১১ জন মারা গেছে। ক্রোধ যখন সীমানা ছড়িয়ে যায়, তখন আইন আর নিয়ম কেবল শব্দই হতে পারে। এই ১২৭টি লাশ আজ অখণ্ডার কফিনে শেষক ঠুকে গোল। খুলনা থেকে পটুয়াখালী—আজ কোনো ঘর শান্ত নেই।
(মঞ্চের দিন দিকে আলো জ্বলে পার্থে।
সাধারণ (উত্তেজিত) : (উত্তেজিত শব্দে) এক সপ্তাহে ১২৭ জন সংখ্যালঘু নাগরিকের মৃত্যু কোনো সাধারণ আইন ব্যবস্থা নয়! এটি একটি পরিকল্পিত গণহত্যা। দি দাসের উপর এই নারিকীয় তাণ্ডব সৃষ্টি করে যে অন্তর্বর্তী সরকার সংখ্যালঘুদের ওপর বসতে। ভারত আর চুপ করতে পারে না। আমাদের সীমান্ত এখন আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে।
সাধারণ (জাতিসংঘ) : (গম্ভীর স্বরে) আমরা ঢাকা থেকে গুণমান। ১২৭ জন আন্দোলনকারী এবং ১১ জন পুলিশ সদস্যের মৃত্যুতে দেশ ঘোর যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংখ্যালঘুদের দাবিটি এখন আর কেবল অভন্তরীণ বিষয় নেই। এটি এখন আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিরোধে পরিণত হয়েছে। প্রয়োজনে 'পিস-কিপিং মিশন' আসনের বিষয়ে আমাদের ভাবতে হবে।
(আলো আবার বাম দিকে ফিরে আসে। অর্ক একটি লাশের মুখ থেকে কাপড় দেয়)
অর্ক : (আকশের দিকের দিকে) ডঃ ইউনুস সাহেব বলেছেন—এটি বারবার। আমি তাকে প্রশ্ন করি—এই ১২৭টি লাশের দায়ভার কি আপনি এই স্বাধীন নেবেন? খুলনা, শোর, ফরিদপুর, বরিশাল, কুষ্টিয়া ও পটুয়াখালী— এই কার্যকরী মাটি আজ আমাদের স্বজনদের রক্তে লাল। এই রক্তই আমাদের নতুন দেশের সীমানা এঁকে সারবে।
বিপ্লব ধর : অর্ক, খবর ভারত ও আন্তর্জাতিক মানব সংস্থাগুলো হস্তক্ষেপ শুরু করেছে। তারা নিরাপত্তা দল দিচ্ছে।
অর্ক : (দৃঢ়তার সাথে) নিরাপত্তা দিয়ে কী হবে? আমরা আর কোনো আশ্বাস চাই না। এই ১২৭ জন রক্তের রক্তের পথ-হয় স্বাধীন 'বঙ্গভূমি'র পতাকা ফ্লাইট, নয়তো আমাদের সবার নাম এই মর্গে উঠবে। আন্দোলন আর থামবে না বিপ্লব দা। এই আগ্নেয়াস্ত্র এখন স্বাধীনতা শক্তিশালী পল্লীতে ঘাতক হওয়া।
(নে বাসে সমরে রঙ্গিতার একটি বিষাদময় সুর বাজানার সাথে শয়ে শয়ে মানুষের কান্নার আওয়াজ মিলিত হওয়া এক গগনবিদারী বনী করা।)
◆ দৃশ্য সমাপ্তি : মঞ্চের বাম দিকে আলোর লাল হয়ে যায় এবং ডেন্যাসের দিকে আন্তর্জাতিক স্ক্রিনে 'বাংলাদেশের উপর জরুরী সভা' মনে পড়ে পর্দার ওপর বড় অক্ষরে ভেসে পারফেক্ট: '১২৭ জন মতামত: বঙ্গভূমির জন্মকথা'।
দৃশ্যম দৃশ্য:বরন ও বজ্র শ পথ
স্থান : জেলা জেলের সদর ফোটকারের তীব্র চত্বর। চারি দিকে পুলিশ ব্যারিকেড এবং সাঁজোয়া যান।
সময়: দুপুর। তপ্ত রোদ।
কারিগরি নির্দেশিকা :
◆ মঞ্চ সজা : উল্টোর দিকে জেলের বড় লোহার গেট। তোমাকে হাজার হাজার মানুষের ভিড়। একপাশে ব্যানার— "হয় স্বাধীন, নয়বারণ"।
◆ পোষাক : আন্দোলনকে সমর্থনী শিকল। অর্ক ও বিপ্লব ধরে পরনে ধুলোমাখা পাঞ্জাবি।
◆ আবহ সঙ্গীত : নেপথে যুদ্ধের দামামা। পথের মধ্যে ভারী বুটের শব্দ এবং জেলের গেট খোলার জন্ত্রিক শব্দ।
সংলাপ :
(হাজার ঝাড়ঘুড়ঘর হিন্দু নরনারী জেলের গেটের মনে হয় শান্ত কিন্তু দৃঢ় ভাবে।
অর্ক : নেটওয়ার্ক, ব্যারিকেডেশন দিন। আপনার লাঠি আর টিয়ারের মূল্য দিতে হবে না। আমরা স্বচ্ছায়বরণ করতে। আমি জেলখানা কত বড় তা দেখতে দেখতে। আমাদের অবস্থান ভাল করুন!
পুলিশ সুপার : অর্ক সাহেব, পাগল হবে না! এত বাগানে জায়গা করে নেই। দয়া করে ফিরে যান।
বিপ্লব ধর : আমরা ১২৭ জন মানুষের লাশের পথ বন্ধ করে দিয়েছি। খুলুন গেট! আমরা জোট গঠন করতে।
(পুলিশ শক্তি হয়ে গেট খোলে মানুষ 'জয় বঙ্গভূমি' বলতে বলতে জেলের পক্ষে মত দিতে পারে এবং বিপ্লব ধরতে পারে।
অর্ক : (গ্রেফতারের সংখ্যাটি জনতার দিকে ফিরে) ভাইয়েরা আমার! আজ আমরা জেলে রাজি সত্য, কিন্তু আমরা রাস্তায় না থামে। মনে রাখবেন, স্বামী বিবেকনন্দ বলেছেন- "বীর্যহীনতা ও কাপুরুষতা হতে পারে না, আমরা সবাই অমঙ্গল ও দুঃখ আসিয়া থাকি।" আজ আমরা কাপুরুষের মতো সামনে থাকতে না। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন— "মানবতা অস্ত্র সহযোগ আন্দোলন করে না কখনো অর্জন করা যায়!
(জনতা উত্তরিত হয়ে পারফর্ম। অর্ক আরও তেজস্বী বলতে বলতে থাকে...)
অর্ক : বিবেকন্দের সেই অমোঘণী আজ আমাদের হৃদয়ে— "মৃত্যু যখনবার্য, তখন কালার পুরুষের মতো মরিবার প্রয়োজন নেই; বীরের মতো যুদ্ধ অনিমরাই শ্রেয়।" আর সেই বীরত্বের পথ আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারবেন স্বাধীন নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি রেসর্স ময়দানে হুঙ্কার দিয়েছিলেন "সাত কোটি টাকার দাবায়ে রাখতে পারবা না!" আজ আমরাও দুজন—১২৭ জন রক্তের রক্তে যারা ঝরেছে, তারা এই জনপদকে আর দাবায়ে রাখতে পারবে না।
(জনতা গর্জে গণ: "দাবায়ে রাখতে পারবা না!")
অর্ক : নেতা বলেছেন— "যখন রক্ত দিয়েছি, রক্ত আরো দেব। আজ ২০২৬-এ একই পথ আমরাও একইভাবে নেতার সেই ডাকে আজ আমাদের রক্তে মিশে গেছে— "এটি স্বাধীন মুক্তির মুক্তির দল, ঘোষণার স্বাধীনতার সংগ্রাম!"
অর্ক : (পুলিশ টেনে নিয়ে যাওয়ার সময়) মনে রে, বিবেকানন্দের তেজ আর বিজেপির জেদ—এই দুয়েখোর সৃষ্টি হবে আমাদের 'বঙ্গভূমি'। যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত হও! জয়বঙ্গভূমি!
দৃশ্য সমাপ্তি : মঞ্চের উপর স্বামী বিবেকানন্দ ধ্যানমগ্ন প্রতিকৃতি এবং রাজনৈতিক ঐতিহাসিক তর্জনী ছবিও ভিসে পার। নেপথে 'বঙ্গভূমি গর্জন' রণগীতি প্রচন্ড শব্দে বাজে শুরু করে। পর্দা নামার আগে দেখা যায়, জেলের স্থায়ী ছাত্র তাদের হাতের শিকল ছিঁড়ে মশাল জ্বলছে।
ষষ্ঠ দৃশ্য: রক্তাঙ্গা দিগন্ত ও অনিষ্পন্ন উত্তর
স্থান : বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্য রেখা (মানস ল্যান্ড) সংলগ্ন একটি সামনে খোলা।
সময় : গোধূলি বেলা। আকাশ সিঁদুরে লাল।
কারিগরি নির্দেশিকা :
◆মঞ্চ সজ্জা : এক দিকে কাঁটাতার বাঁধ, দিপু দাসে একটি বড় ছায়ার প্রজেক্টরের মাধ্যমে উল্লিখিত পর্দায় উপস্থিত হবে। চার দিকে কয়েক হাজার মশাল জ্বলছে (প্রতীকী)। মঞ্চের মাঝখানে অর্ক রক্তমাখা পাঞ্জাবিটা একটি লাঠির পাতাকারের মতো উড়ছে।
◆ পোশাক : সায়নী (মাথায় ব্যান্ডেজ ও হাতে মশাল), শত শত ছাত্র ও কৃষকের সাথে। সবকটিই মুখে শত্রুতাহীন লড়াইয়ের ছাপ।
◆ আবহ সঙ্গীত : নেপথে রণসঙ্গীত সুরটি অত্যন্ত গম্ভীর এবং করুণ (ভারী অর্কেস্ট্রাল)। দূরবর্তী দূরত্ব থেকে কালি গর্জন বা শঙ্খধ্বনি চালু হচ্ছে।
সংলাপ :
(অনেক বিপ্লব ধর জেলে, কিন্তু উন্মুক্ত নারীর জনসমুদ্র উত্তরাল।
সায়নী (শান্তৃঢ় স্বরে) জেলখানার : দাল দিয়ে ওরা অর্ককে ইষ্টেটেছে, কিন্তু এই মাটির কান্না ইষ্টেটে কি করবে? আজ পটুয়াখালী থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত কেবল একটি ধ্বংসি— 'বঙ্গভূমি'। ১২৭ জন মানুষের রক্তে ভেজা এই ঘাস আজ আমাদের কাছে সত্য। আমরা তো কোনো দেশই নই, আমরা শুধু আমাদের মা-বোনেদের ইজ্জত আর দিপু দাসের মতো ব্যবহার করতে পারি।
