একটা রাত, একটা সিদ্ধান্ত
একটা রাত, একটা সিদ্ধান্ত
সেদিন আমার পকেটে ছিল মাত্র কিছু টাকা। মাথার ভেতরে চলছিল হাজারটা প্রশ্ন—
চাকরি আছে, কিন্তু ভবিষ্যৎ নেই।
স্বপ্ন আছে, কিন্তু পথ পরিষ্কার না।
পরিবারের দায়িত্ব আছে, কিন্তু সামর্থ্য কম।
রাত তখন প্রায় ২টা। সবাই ঘুমিয়ে। আমি একা ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলাম। নিচে তাকালে অন্ধকার রাস্তা, মাঝে মাঝে দু–একটা গাড়ির শব্দ। মাথার ভেতরে একটা কথাই ঘুরছিল—
“এই জীবনেই কি সব শেষ?”
সেদিন সত্যি কথা বলতে ভয় পেয়েছিলাম নিজের চিন্তাকে। মনে হচ্ছিল, আমি হারতে বসেছি—কিন্তু কার কাছে? নিজের কাছেই।
হঠাৎ মোবাইলে নোটিফিকেশন এল। কোনো বন্ধুর না, কোনো প্রেমিকার না—একটা পুরোনো নোট। কয়েক বছর আগে নিজেই লিখেছিলাম—
“যদি একদিন ভেঙে পড়িস, মনে রাখিস—তুই হাল ছাড়ার জন্য জন্মাস নি।”
নিজের লেখা পড়েই বুকের ভেতর কেঁপে উঠল। আমি তখন বুঝলাম, সবচেয়ে বড় লড়াইটা বাইরের না—ভেতরের।
সেই রাতে আমি একটা সিদ্ধান্ত নেই—
আমি পালাবো না।
আমি অপেক্ষা করবো না।
আমি আজ থেকেই কিছু একটা শুরু করবো।
পরদিন সকালেই ঘুম থেকে উঠে প্রথমবার নিজের ভয়কে কাজে লাগালাম। ছোট কাজ, ছোট চেষ্টা—কিন্তু নিয়মিত। কেউ দেখেনি, কেউ বাহবা দেয়নি। অনেক দিন কোনো ফলও আসেনি।
কিন্তু একটা জিনিস বদলেছিল—
আমি আর আগের মতো দুর্বল ছিলাম না।
আজও আমার জীবন নিখুঁত না। সমস্যা আছে, চাপ আছে, ভয়ও আছে। কিন্তু এখন ভয় আমাকে থামায় না—চালায়।
এইটাই আমার রোমাঞ্চ।
কারণ সবচেয়ে ভয়ংকর অভিযান হলো—
হাল ছেড়ে না দিয়ে প্রতিদিন বেঁচে থাকা।
