বৃষ্টির রাতে চেকমেট
বৃষ্টির রাতে চেকমেট
রাত তখন প্রায় বারোটা।
জানলার কাচ বেয়ে অবিরাম বৃষ্টি নামছে। ঘরের একমাত্র আলোটি পড়েছে দাবার বোর্ডের ওপর।
সামনে বসে অর্ণব।
ওপারে তার পুরনো বন্ধু সমীর।
দুজনের মধ্যে কথাবার্তা প্রায় নেই। শুধু ঘড়ির কাঁটার শব্দ আর বাইরে বৃষ্টির ঝমঝম।
সমীর হেসে বলল,
—“তুমি হেরে গেছ, অর্ণব।”
অর্ণব বোর্ডের দিকে তাকিয়ে রইল।
তার রাজা কোণঠাসা।
রানী বিপদে।
বাঁচার মতো কোনও চাল যেন নেই।
সমীর শেষ চালটি দেওয়ার জন্য হাত বাড়াতেই অর্ণব বলল,
—“একটু দাঁড়াও।”
সে জানলার বাইরে তাকাল।
তারপর খুব শান্তভাবে বলল,
—“তুমি সবসময় একটা ভুল করো, সমীর।”
—“কী ভুল?”
—“তুমি ধরে নাও, আমি শুধু তোমার চালটাই দেখছি।”
অর্ণব একটি ঘুঁটি সরাল।
সমীরের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
দাবার বোর্ডে তার রাজা আটকা।
অর্ণব ধীরে বলল—
“চেকমেট।”
কয়েক সেকেন্ড নিস্তব্ধতা।
সমীর ফিসফিস করে বলল,
—“অসম্ভব!”
অর্ণব উঠে দাঁড়িয়ে জানলার পাশে গেল।
—“অসম্ভব নয়। তুমি আমার সব চাল হিসেব করেছিলে, কিন্তু আমার অপেক্ষাটাকে হিসেব করোনি।”
বাইরে তখনও বৃষ্টি।
আর সেই রাতেই অর্ণব বুঝেছিল—
জীবনের সবচেয়ে বড় চেকমেট কখনও ঘুঁটি দিয়ে হয় না; হয় প্রতিপক্ষের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দিয়ে।
