STORYMIRROR

Sanchaita Roy Chowdhury

Romance Inspirational Others

4  

Sanchaita Roy Chowdhury

Romance Inspirational Others

অন্যরকম ভালোবাসা

অন্যরকম ভালোবাসা

5 mins
303

                                                   অন্যরকম ভালোবাসা

                                                     পর্ব -১১


যাওয়ার সময় অদৃতের বন্ধুরা অদৃতের পাশাপাশি আর্যকেও বলে গেল। সৌনক আর অলিভিয়া বলল,'এই পত্রলেখারা কলকাতায় এলে আমাদের বাড়িতে নিয়ে যাবে কিন্তু।'

অদৃত বলল,'তোরা এটা নিজেরাই বলিস ওকে।'

সৌনক বলল,'আচ্ছা,আচ্ছা,অনেক হয়েছে এবার চলতো সব।তখন থেকে বকেই যাচ্ছে , চল্।'

অদৃত তার বন্ধুদের নীচে এগিয়ে দিয়ে আসতে গেল। আর্য ভাবলো,'এই পত্রলেখা আবার কে? নামটা বড্ড চেনা চেনা লাগছে। কিন্তু কোথায় শুনেছি কিছুতেই মনে করতে পারছি না।'




অদৃত ফিরে এসে বলল,'আর্য চলো খেয়ে নাও অনেক রাত হয়ে গেছে। মাসি আমাদের খেতে দিয়ে দাও,আর তুমিও বসে পড়ো ।' খাওয়া হয়ে গেলে আর্য বলল,'আজকে আমি বাসন মেজে দেবো।'

মাসি বলল,'একদম না। জানো অদৃতবাবা আমাকে তখনও বলছিল যে ও খাবার দিয়ে আসবে। আরে তুমি তো আমাদের অতিথি। তোমাকে দিয়ে আমরা কাজ করালে আমাদের অপমান হবে যে। কয়েকদিনের জন্য এসেছো,কাজ করতে যাবে কেনো গো?' 

সমস্ত থালা,বাটি,গ্লাস মাসি ধুয়ে রেখে গেলেন। 













অদৃত ঘরে এসে দেখলো, আর্য চোখ বুজে শুয়ে আছে। অদৃত ডাকলো ,'আর্য!'

আর্য কোনো উত্তর দিলো না। অদৃত মুচকি হেসে বলল ,'আমি জানি তুমি ঘুমাওনি।'

আর্য বিরক্তির স্বরে বলল,'আপনি কেন এতো বোঝেন আমাকে? কিছু না বললেও বুঝে যান, অভিনয় করলেও বুঝে যান।কেন?'

অদৃত হেসে বলল,'কারণ আমার চোখকে ফাঁকি দেওয়া অসম্ভব। বলতে পারো আমি তোমাকে পড়তে পারি। যাইহোক ,আমার বন্ধুদের সাথে পরিচয় হয়ে তোমার কেমন লাগল বলো?'

আর্য বলল,'ভালো।'

অদৃত বলল,'বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে খুব ভালো লাগে। তাই না বলো?'

আর্য বলল,'হুম্।'

অদৃত বলল,'তুমি তোমার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দাও?'

আর্য বলল,'আমার তো এতো বন্ধু নেই। আমার একজনই প্রিয় বন্ধু আছে।'

অদৃত বলল,'মাত্র একজন?'

আর্য বলল,'হ্যাঁ।'

অদৃত বলল,'তোমার স্কুল কলেজের আর কোনো বন্ধু নেই?'

আর্য বলল,'না। আমার ওই বন্ধু আমার সাথে স্কুলেও পড়তো আর কলেজেও পড়ে।'

কিছুমূহূর্ত চুপ করে থাকার পর অদৃত বলল,'আমি আজকে তোমায় অস্বস্তিতে ফেলিনি তো?'

আর্য বলল,'একদমই না।'

অদৃত ভাবলো,'অস্বস্তি তো একটু হয়েছে নয়তো হঠাৎ করে ছাদে কেন যাবে; অস্বস্তি হয়েছে তাও বলছে না হয়নি।'

আর্য হঠাৎ জিজ্ঞাসা করল , 'আচ্ছা অলিভিয়া মেয়েটি কে? ওনাকে দেখতে খুব সুন্দর?'

অদৃত বলল,'কেন?'

আর্য বলল,'না,এমনিই ।'

অদৃত বলল,'এমনিই! আরো তো তিনজন মেয়ে ছিল তাদের কথা কেন জিজ্ঞাসা করলে না?'

আর্য কি বলবে তা ভেবে মুশকিলে পড়ল। অদৃত বলল,'অলিভিয়াসহ ওরা সকলেই আমার স্কুলের বন্ধু। আমরা একসাথে দিল্লীর স্কুলে পড়তাম। অলিভিয়াও সেখানেই পড়ত। অলিভিয়া আমাদের ক্লাসের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে ছিল, বলতে পারো ওরজন্য ছেলেরা পাগল ছিল।কিন্তু আমি কখনোই ওকে ওইভাবে দেখিনি,খুব ভালো বন্ধু ভাবতাম প্রথম থেকেই। তারপর একদিন হঠাৎ আমাকে ভালোবাসার প্রস্তাব দিল।আমি তা প্রত্যাখ্যান করতেই কান্নাকাটি জুড়েছিল। তারপর সৌনকের সাথে ভালোবাসা হয় এবং এখন দুইজনেই বিবাহিত।সত্যি বলতে আমি জানতাম সৌনকের অলিভিয়াকে পছন্দ ছিল।'

আর্য বলল,'আপনি কি সেই জন্যই....'

অদৃত বলল,'এ বাবা না না, বললাম না আমি ওকে প্রথম থেকেই বন্ধু হিসেবে দেখতাম। আর্য, এবার ঘুমিয়ে পড়ো অনেক রাত হয়ে গেছে।' অদৃত তার চশমাটা খুলে বিছানা লাগোয়া টেবিলের ওপর রেখে আর্যর দিকে ফিরে ঘুমিয়ে পড়ল।


















কয়েকদিন ধরে অদৃত একটা প্রজেক্ট নিয়ে খুব ব্যস্ত। সে এখন আর্যকে খুব একটা সময় দিতে পারে না। আজকাল অদৃতকে রাত জেগে কাজ করতে হয়। তাই আর্য আগে ঘুমাতে যায়। আর্য সকালে উঠে অদৃতকে দেখতে পায় না , অদৃত অনেক সকাল সকাল বেরিয়ে যায়,কখন সে ঘুমায় তাও এখন আর্যর অজানা।এখন আর অদৃত তার সাথে একসাথে সকালের জলখাবার খেতে পারে না,একদম সেই রাতের বেলা ডিনার টেবিলে যা একটু কথা হয়।তাও কথা বলার উপায় আছে না কি? একটার পর একটা ফোন আসতে থাকে অদৃতের ফোনে। একই ঘরে থেকেও আজকাল তাদের একে অপরের সাথে অনেক কম কথা হয়।আর্যর এখন এই ফ্ল্যাটে বড্ড একা একা লাগে, অদৃত না থাকলে তার ভালো লাগে না, অদৃতের কথা বড্ড মনে পড়ে তার। আজকাল আর্য সকালে ঘুম থেকে উঠে অদৃতের শোয়ার জায়গাটার দিকে তাকিয়ে থাকে,অদৃত না থাকলে সেই জায়গাটা তার বড্ড ফাঁকা লাগে। আজকে অদৃতের একটা অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা। তাই অদৃত তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরলো। আর্যর সাথে দেখা হলে সে বলল,'আর্য আমি ফ্রেশ হতে যাচ্ছি। একটু পরেই দু-তিনজন লোক আসবেন।ভয় পাওয়ার কিছু নেই ওরা আমার ফ্যাশন ডিজাইনার।'

আর্য বলল,'ঠিক আছে।'





একটু পরে ডিজাইনাররা এলে আর্য তাদের আপ্যায়ন করল। আর্য দরজার এক কোণায় দাঁড়িয়ে দেখতে থাকলো ডিজাইনাররা কত সুন্দর করে অদৃতকে সাজাচ্ছেন। কালো শার্ট আর মেরুন স্যুটে অদৃতকে আজকে পুরো রাজপুত্রের মতোন দেখাচ্ছে। অদৃত তাড়াহুড়োর কারণে চশমা পড়তে ভুলে গেল। ডিজাইনাররা বলল,'আমাদের কাজ সব শেষ হয়ে গেছে।'

অদৃত বলল,'অনেক ধন্যবাদ আপনাদের।'

অদৃত আর্যর কাছে গিয়ে বলল,'আর্য কেমন লাগছে আমাকে ?'

আর্য বলল,'একটা জিনিস বাকি আছে।'

অদৃত একটু ভুরু কোঁচকালো,সে দেখলো আর্য নিজের হাতে করে চশমা এনে তা অদৃতকে পড়িয়ে দিল। আর্য বলল,'এবার ঠিক আছে।'

অদৃত বলল,'ভালো লাগছে তো আমাকে?'

আর্য বলল,'অসাধারণ লাগছে। আমি এতো হ্যান্ডসাম ছেলে এর আগে কখনো দেখিনি।'

অদৃত হাসলো। অদৃত তার ফোনটা আর্যর হাতে দিয়ে বলল,'আর্য আমার একটা ছবি তুলে দেবে? মা-বাবাকে পাঠাবো।'

আর্য হাসি মুখে বলল,'অবশ্যই।'

আর্য অদৃতের ছবি তুলে দিল। আর্যর হঠাৎই মনে পড়লো, তিনমাস হতে চললো তারা একসাথে আছে কিন্তু তাদের একে অপরের সাথে এখনো পর্যন্ত কোনো ছবি তোলা হয়নি,অদৃত তখন তার মা-বাবাকে তার ছবি পাঠাতে ব্যস্ত। আর্য ছুটে গিয়ে ফোন নিয়ে এলো, অদৃত তা খেয়ালই করলো না। আর্য অদৃতের কাছে এসে বলল,'একটা সেলফি তুলবো আপনার সাথে?'

অদৃত একটু ঘাবরে গিয়ে ফোন থেকে মুখ তুলে বলল,'ওহ্,হ্যাঁ,অবশ্যই।'

দুই জনের ছবি তোলা হয়ে গেলে, অদৃত অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে রওনা হল।











সন্ধ্যাবেলায় আর্য টেলিভিশনের সামনে অদৃতের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান দেখতে বসলো। আর্যর সকলের মাঝখানে অদৃতকেই সবথেকে সুন্দর লাগল। আর্য টেলিভিশনের পর্দার দিকে তাকিয়ে বলল,'আচ্ছা, আমার জীবনে কি কখনো এরকম একটা দিন আসবে? যেদিন আমাকেও কেউ এইভাবে এতো সুন্দর করে সাজিয়ে দেবে, এতো সুন্দর একটা মঞ্চে উঠবো, সকলের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে আমি থাকবো,আসবে কি এরকম একটা দিন আমার জীবনে ? আর দর্শক আসনে থাকবেন অদৃত রায়। পারবো তো আমি বাবার কাছে নিজেকে প্রমাণ করতে? ভগবান কি আমাকে এতো সুখ দেবেন?' কিছুমূহূর্ত পর অদৃতকে মঞ্চে বেস্ট মডেলের অ্যাওয়ার্ড পেতে দেখে, আর্য অদৃত রায়ের জন্য মনে মনে খুব খুশি হল। এবার সে বলল,'জানেন, আমি না এই কয়েকদিন শুধু ভেবেছি কেন আমার আপনার জন্য এতো চিন্তা হয়? কেন আপনি না থাকলে আমার আপনার কথা মনে পড়ে? কেন আপনার সাথে আমার সময় কাটাতে এতো ভালো লাগে? তার উত্তরটা আমার কাছে আগে পরিষ্কার ছিল না,কিন্তু এখন পরিষ্কার। আগে কোথাও দ্বিধায় ছিলাম । ভেবেছিলাম আমি ভুল ভাবছি,নিজের অনুভূতিগুলোকে চেপে রাখার চেষ্টা করতাম। আর মনে মনে বলতাম,এটা হতে পারে না,এটা সম্ভব নয়। তারপর যেদিন আপনি আমাকে আপনার প্রথম ভালোবাসার কথা বলেছিলেন গঙ্গার ঘাটে ,সেদিন আমার বুকের মাঝে একটা অদ্ভূত কষ্ট হয়েছিল। কিন্তু তাও আমি সেদিন নিজের কাছে অস্বীকার করেছিলাম যে আমি আপনাকে ভালোবাসি।

কিন্তু যেদিন আপনাকে অলিভিয়ার সাথে দেখেছিলাম সেদিন আমার খুব রাগ এবং কষ্ট হয়েছিল, আমি জানতাম যে অলিভিয়া অন্য একজনের স্ত্রী তাও আমি নিজের রাগ এবং কষ্টকে সামলাতে পারিনি।একমুহূর্তের জন্য খুব একা লাগছিল নিজেকে। সেদিন আমি বুঝতে পেরেছিলাম আমি আপনাকে ভালোবাসি।হ্যাঁ,অদৃত আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি। আমি জানি না আমি তোমার মতোন এতো ভালো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যোগ্য কি না? আমি এটাও জানি না আমি তোমাকে এই কথা নিজমুখে কখনো বলতে পারবো কি না? তুমি আমার মুখ থেকে ভালোবাসার কথা শুনলে, কি ভাববে তাও আমি জানি না। আমি শুধু এইটুকুই জানি তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না। দয়া করে,আমাকে ছেড়ে চলে যেও না কখনো।'এইসব বলতে বলতে আর্য অস্ফুট স্বরে কেঁদে উঠলো। টেলিভিশনের পর্দায় তখন অদৃতের উজ্জ্বল মুখের হাসি ভেসে উঠেছে।











To be continued.................


এই বিষয়বস্তু রেট
প্রবেশ করুন

Similar bengali story from Romance