অন্যরকম ভালোবাসা
অন্যরকম ভালোবাসা
অন্যরকম ভালোবাসা
পর্ব- ৩৩
সকালে আর্য ব্রেকফাস্ট টেবিলে এলে শ্রেয়সী তাকে জিজ্ঞাসা করল,'অদৃত আসছে?'
আর্য বলল,'হ্যাঁ, রেডি হয়ে আসছে।'
শ্রেয়সী বলল,'আজকে আর্য লুচি করেছি তোমার আর আমার জন্য।'
আর্য বলল,'ঠিক আছে আন্টি।'
একটু পরে অদৃত ব্রেকফাস্ট টেবিলে এসে একরাশ উৎসাহ নিয়ে বলল,' বাবা-মা আজকে সন্ধ্যেবেলায় পত্রলেখাদের একটা পার্টি আছে। আঙ্কেল একটা বিজনেস সাকসেস পার্টির আয়োজন করেছেন। আমাদের সবাইকে উপস্থিত থাকতে বলেছেন সেখানে।'
ইন্দ্রনীল বলল,' এ তো খুব ভালো কথা।'
অদৃত বলল,'আর্য আঙ্কেল-আন্টি এবং পত্রলেখা তোমাকেও উপস্থিত থাকতে বলেছে।'
শ্রেয়সী বলল ,'ঠিক আছে তাহলে আমরা সবাই একসাথে যাবো।'
আর্য একটু সঙ্কোচ করে বলল ,'আন্টি বলছিলাম যে আমি খুব একটা পার্টি পছন্দ করি না। আর সত্যি বলতে আমি খুব একটা পার্টিতে যাইও না।'
শ্রেয়সী বলল,' দেখো এখানে গেলে তোমার খুব ভালো লাগবে।'
ইন্দ্রনীল বলল,'হ্যাঁ আর্য ।
অদৃত তা পার্টিটা কোথায় হচ্ছে? ওদের বাড়িতে?'
অদৃত বলল ,'না ওদের বাড়িতে না । ওরা আমাদের ফার্ম হাউসটা নিয়েছে। '
ইন্দ্রনীল বলল,' তাই। খুব ভালো কথা।'
অদৃত বলল,'ঠিক আছে মা আমি আর আর্য তাহলে বেরোলাম। আর্য তোমার হয়ে গেছে?'
আর্য বলল,'হ্যাঁ ।'
অদৃত বলল,'চলো। মা আমরা এলাম তাহলে।'
শ্রেয়সী বলল,'হ্যাঁ সাবধানে যাস।'
অদৃত আর্যকে দিতে যাওয়ার পথে গাড়িতে বলল,'আর্য আজকে একটু তাড়াতাড়ি ফিরো। আমি ত্রিদিবকে বলে দেবো।'
আর্যর তার সাথে হওয়া সেদিনের অশান্তির পর মনটা খুব একটা ভালো নেই, তার ওপর আবার এই পার্টি।
আর্য বলল,'আমি না গেলে হয় না?'
অদৃত বলল,'না হয় না। তোমাকে নিয়ে যেতে বলেছে, তুমি যদি সেখানে না যাও তবে ওদের খুব খারাপ লাগবে, বিশেষত পত্রলেখার খুব খারাপ লাগবে। ও খুব করে বলেছে তোমাকে নিয়ে যাওয়ার কথা ।'
আর্য ভাবলো,'তুমি সবসময় ওদের খারাপ লাগাটাই দ্যাখো আমার কোনটায় ভালো লাগে , কোনটায় খারাপ লাগে সেটাতো তুমি দ্যাখো না।'
অদৃত বলল,'আর তাছাড়া তুমি না গেলে আমারও খারাপ লাগবে। অন্তত আমার খারাপ লাগার কথাটা ভেবে না হয় চলো।'
আর্য বলল,'ঠিক আছে ।'
আর্য গাড়ি থেকে নামার সময় অদৃত বলল,'তাহলে রেডি হয়ে থেকো কেমন।'
আর্য বলল,'ঠিক আছে।'
অদৃত বাড়ি ফিরে দেখলো ইন্দ্রনীল রেডি হয়ে ড্রইং রুমে বসে আছে।
অদৃত বলল,'তোমরা রেডি?'
ইন্দ্রনীল বলল,'আমি রেডি।
তোর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।'
অদৃত জিজ্ঞাসা করল,'মা কোথায়?'
ইন্দ্রনীল বলল ,'আর তোর মা-এর কথা বলিস না সেই কখন সাজতে ঢুকেছে এখনও বেরোয়নি। '
অদৃত হেসে বলল,'ঠিক আছে। বাবা আর্য ফিরেছে?'
ইন্দ্রনীল বলল,'হ্যাঁ,অনেকক্ষণ আগেই ফিরে গেছে। দ্যাখ এতোক্ষণে মনে হয় নিজের ঘরে রেডিও হয়ে গেছে।
তুই আর দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করিস না যা তৈরী হয়ে নে। পত্রলেখারা বারবার ফোন করছে।'
অদৃত বলল ,'হ্যাঁ, যাচ্ছি।'
অদৃত আর্যর ঘরে ঢুকে দেখলো আর্য অন্যমনস্ক হয়ে বিছানার ওপর বসে আছে।
অদৃত বলল,'আর্য।'
আর্য বলল,'কে?'
অদৃত বলল,'আমি। তুমি এইভাবে বসে আছো কেন? এখনো রেডি হওনি?'
আর্য উঠে দাঁড়িয়ে বলল,'না মানে এই রেডি হবো।'
অদৃত আর্যর মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,'তোমাকে এরকম চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন? কি হয়েছে? '
আর্য হাত কচলিয়ে বলল,'বলছিলাম কি আমি না গেলে হয় না?'
অদৃত একটা কথাও না বলে আর্যর দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলো।
আর্য বলল,'তুমি তো জানোই যে আমি সত্যিই পার্টিতে যেতে পছন্দ করি না।'
অদৃত বলল,'আমি তো আছি। আমি মানছি তোমার পার্টিতে যেতে ভালো লাগে না, আমারও খুব একটা ভালো লাগে না । কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে না গেলে সেটা খুব খারাপ দেখায়। আর এটা পত্রলেখাদের অনুষ্ঠান ,আমাদের পরিবারের সাথে ওদের পরিবারের অনেক বছরের সম্পর্ক সেখানে না গেলে সেটা খুব খারাপ দেখাবে। আর তাছাড়া মা-বাবাও চান যে তুমি আমাদের সাথে ওখানে যাও, ওনাদের কথাটা না রাখলে , ওনাদের খারাপ লাগবে না?'
আর্য মাথাটা একটু নীচু করে বলল,'আচ্ছা ঠিক আছে ।'
অদৃত হেসে বলল,'এই তো। তুমি তৈরী হয়ে নাও তাড়াতাড়ি। অলরেডি আমাদের অনেক দেরী হয়ে গেছে, আমিও ঘরে গিয়ে তৈরী হয়ে নিচ্ছি।'
অদৃত রেডি হয়ে আর্যর ঘরে এসে দেখলো আর্য বসে আছে।
আর্য অদৃতকে দেখে বলল ,'আমি রেডি হয়ে গেছি।
বাহ্! তোমাকে আজকে খুব সুন্দর লাগছে অদৃত । '
অদৃতের ফর্সা গায়ে কালো শার্ট-প্যান্ট এবং ধূসর ছাই রঙের ব্লেজার খুব ভালো মানিয়েছে।
অদৃত ভুরু কুঁচকে বলল,'আর্য এটা তুমি কি পড়েছো?'
আর্য বলল,'কেন?'
অদৃত বলল,'এই....এইগুলো পড়ে তো তুমি আর্ট গ্যালারিতেও গেছো। '
আর্য বলল,'তাতে কি হয়েছে? এটা তো ভালো পোশাক।'
অদৃত বলল,'হ্যাঁ ভালো পোশাক। কিন্তু এটা পার্টিতে পড়ে যাওয়ার মতোন নয়। ওখানে কত নামীদামী সেলিব্রিটি, বিজনেসম্যানরা সবাই আসবেন সেখানে এরকমভাবে গেলে লোকে কি বলবে। এরকমভাবে গেলে হবে না আর্য। তোমার এর থেকে আর কোনো ভালো পোশাক নেই?'
আর্য বলল,'এইরকম পোশাকই তো সব আছে। আর হ্যাঁ আরেকটা শার্ট আছে যেটা তুমি আমাকে কলকাতায় কিনে দিয়েছিলে।'
অদৃত বলল,'না ওটা হবে না। দেখি তোমার ওয়ারড্রবটা।'
অদৃত ওয়ারড্রব খুলে সমস্ত জামা এদিক ওদিক করে দেখে বলল,'না এখানে একটাও পার্টিতে পড়ে যাওয়ার মতোন জামা নেই। তুমি কাল আমার সাথে আমার ডিজাইনারের কাছে যাবে।
কিন্তু এখন তো এইমূহূর্তে কোনো ব্যবস্থা করা সম্ভব নয় । তুমি তো আমাকে আগে বলবে?'
আর্য বলল,'আমার কাছে এগুলো যথেষ্ট ভালো জামা। আর তাছাড়া ওতো দামী পোশাক পড়ে লোককে দেখিয়ে আমার কি হবে?'
অদৃত বলল,'কথা না বাড়িয়ে এসো তুমি আমার সাথে।'
অদৃত আর্যর হাত ধরে তার ঘরের ওয়াড্রবের সামনে নিয়ে গিয়ে বলল,'এখানে দাঁড়াও আমি দেখছি আমার কোনো জামা আছে কি না।'
আর্য বলল,'আমি তো পার্টির কেন্দ্রবিন্দু নই। তাহলে আমি কেন এইসব করতে যাবো?'
অদৃত বলল,'এই জামাটা আমার অনেকটাই ছোট হয়, দেখি পিছন ঘোরো ।
হ্যাঁ এটা হবে তুমি এটা তাড়াতাড়ি পড়ে নাও। তারপর আমি চুলটা ঠিক করে দিচ্ছি।'
আর্য বলল,'আমি জিজ্ঞাসা করছি আমাকে এইরকম করার কি দরকার?'
অদৃত বলল,'আর্য তোমাকে এখন থেকে টিপটপ থাকতে হবে সবসময় । ড্রেসআপের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে ।'
আর্য বলল,'আমি এইসবের সাথে মানাতে পারি না বলেই আমি বলেছিলাম আমি যাবো না ।'
অদৃত আর্যর কথার কোনো পাত্তা না দিয়ে বলল,'যাও তাড়াতাড়ি জামাটা বদলে এসো।'
আর্য জামা বদলে এলে অদৃত আর্যর চুল ঠিক করে দিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বলল,'দ্যাখো এবার কেমন লাগছে?'
আর্য আয়নায় নিজেকে দেখে একটু অবাক হয়ে বলল,'হুম্ ভালো লাগছে ।'
অদৃত বলল,'আমার সাজানোর দক্ষতা আছে বলতে হবে। এবার চলো পত্রলেখা বারবার ফোন করছে।'
গাড়িতে উঠে শ্রেয়সী বলল,'বাহ্ আর্য! আজকে তোমাকে দারুণ লাগছে। হেয়ার স্টাইলটাও মনে হচ্ছে একটু পাল্টেছো?'
ইন্দ্রনীল গলা খাকরিয়ে বলল,'আমাকে কেমন লাগছে কেউ বলল না তো?'
অদৃত বলল,'দারুণ লাগছে ।'
ইন্দ্রনীল বলল,'সত্যি আর্য তোমার গায়ে চকোলেট রঙটা ভালো মানিয়েছে।'
আর্য হেসে বলল,'এই জামাটা আমার না অদৃতের।'
ইন্দ্রনীল বলল,' তো কি হয়েছে? তুমি এখন পড়েছো মানে এটা তোমার, এটা এখন তোমার থেকে কেউ নিতে পারবে না।'
আর্য মুচকি হাসলো।
শ্রেয়সী বলল,'ভালো করেছিস অদৃত। আর্যকে খুব ভালো মানিয়েছে।'
আর্য বলল,'হেয়ার স্টাইলটাও অদৃত করে দিয়েছে।'
শ্রেয়সী বলল,'বাহ্ অদৃত! তুই এতো কিছু পারিস আমাদের বলিসনি তো।'
অদৃত হাসলো ।
পার্টিতে প্রবেশ করতেই পত্রলেখার বাবা সুব্রত বলল,'তোমাদের এখন আসার সময় হল?'
সঙ্গে পত্রলেখার মা পিয়ালীও যোগ দিলো।
পিয়ালী বলল,'কখন থেকে তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছি।'
ইন্দ্রনীল বলল,'আরে আমাদের তো কখন হয়ে গেছে । এই যে আমার গিন্নি ওনার তো সাজতে অনেক সময় লাগে।'
কথাটা শুনে সকলে হেসে উঠলো ।
শ্রেয়সী লজ্জা পেয়ে বলল,'মেয়েদের তো সাজতে একটু সময় লাগবেই ।'
পিয়ালী বলল,'একদম ঠিক বলেছো।
বাহ্ অদৃত! তোমাকে কি সুন্দর লাগছে।'
অদৃত বলল,'ধন্যবাদ । তোমাকেও খুব সুন্দর লাগছে আন্টি।'
শ্রেয়সী বলল,'পত্রলেখা কোথায়?'
পিয়ালী বলল,'ওইদিকে বন্ধুদের সাথে আছে। অদৃত প্রেরণা আর অভ্রতনু এসেছে।'
অদৃত বলল,'তাই! কোথায় ওরা?'
পিয়ালী বলল,'ওইদিকে।'
অদৃত বলল,'আমি একটু আসছি।'
আর্য একা পার্টির চারপাশটা ঘুরে দেখলো। ঘরটির সিলিংয়ে কত বড়ো ঝাড়বাতি লাগানো, যার আলোয় ঘরটিকে আরো উজ্জ্বল লাগছে । প্রতিটা টেবিল বিভিন্ন বিদেশী খাবার এবং পানীয়তে সুসজ্জিত, প্রতিটা টেবিলের মাঝখানে এক ডজন সাদা গোলাপ ফুল ভর্তি ফুলদানি বসানো রয়েছে । আবার একটা কোণায় সাজানো রয়েছে নানান বহুমূল্যের বিদেশী পানীয়। এতবড় পার্টিতে এর আগে তার কখনো আসা হয়নি। তার বাবার সাথে সে হাতে গোনা কয়েকটি পার্টিতে গেছে, নিজেদের বাড়িতেও অনেকবার পার্টি হয়েছে কিন্তু সেখানে এতো জাঁকজমকপূর্ণতা সে দেখেনি। কত সেলিব্রিটি এসেছে এই পার্টিতে, এদের মধ্যে কাউকে সে টিভিতে দেখেছে আর নয়তো রাজদীপের মুখে শুনেছে তাদের কথা। এইসব দেখতে দেখতে তার চোখ গেলো পত্রলেখার দিকে। পত্রলেখাকে আজ নীল রঙের গাউনে খুব সুন্দর লাগছে। হঠাৎই পত্রলেখার পাশ থেকে অদৃত আর্যকে হাত নেড়ে ডাকলো। সে অদৃতদের সামনে যেতেই তার কাঁধে হাত দিয়ে অদৃত বলল,'আর্য ও হল অভ্রতনু আমার কলেজ ফ্রেন্ড এবং একজন বড়ো ব্যবসায়ী আর এই ম্যাডাম হলেন প্রেরণা ওর স্ত্রী আর পত্রলেখার খুব ভালো বন্ধু ।'
আর্য বলল,'নমস্কার!'
অভ্রতনু বলল,' ও কে হয়?'
অদৃত বলল,'ওর নাম আর্য । ও আমার.....' কথাটা বলে অদৃত থেমে গেলো। অদৃত আর্যর ঠিক কি পরিচয় দেবে তা বুঝতে পারল না।
আর্য অদৃতের মুখের দিকে তাকালো।
পত্রলেখা বলল,'ও ওর বন্ধু হয়, তবে বেশিটাই ভাইয়ের মতোন হয় বলতে পারো কারণ আর্য অদৃতের থেকে অনেক ছোট হয়।'
অদৃত একটু মুচকি হেসে বলল,'হ্যাঁ ,ভাইয়ের মতোন হয়। '
আর্য অদৃতের এই কথাটা শুনে খুব অবাক হল।
আর্য মনে মনে ভাবলো,'তোমার কাছে আমি ভাইয়ের মতোন হই ?'
অভ্রতনু বলল,'তা তুমি কি করো আর্য?'
আর্য বলল,'সেইভাবে কিছু করি না।'
অদৃত বলল,'তুমি যে আঁকো সেটা বলো।'
প্রেরণা বলল,'আঁকো? '
আর্য বলল,'হুম্ ।'
অভ্রতনু বলল,'নিশ্চই তোমার গ্যালারি আছে।তা তোমার গ্যালারি কোথায়?'
আর্য বলল,'হ্যাঁ??'
অভ্রতনু বলল,'তোমার স্টুডিও আছে তো, সেটা কোথায়?'
আর্য বলল,'না আমার তো ওইভাবে কোনো স্টুডিও নেই। আমি একজনের স্টুডিওতে আমার আঁকা ছবি গুলো বিক্রি করি।'
প্রেরণা মুখটা একটু বেঁকিয়ে বলল,'ওহ্!'
অভ্রতনু বলল,'আসলে আমি ভেবেছিলাম তুমিও আমাদের মতোন । তা তুমি বিদেশের কোন কলেজ থেকে পড়াশোনা করেছো?'
আর্য বলল,'আমি কলকাতার কলেজে পড়াশোনা করেছি । ওখান থেকেই গ্র্যাজুয়েট হয়েছি। তারপর আঁকছি।'
অভ্রতনু বলল,'ওহ্ সরি! আসলে আমি ভেবেছিলাম তুমি বিদেশে পড়াশোনা করেছো। আসলে অদৃতের সমস্ত বন্ধুই খুব হাই কোয়ালিফায়েড। '
অদৃত তীব্র দৃষ্টিতে অভ্রতনুর দিকে তাকিয়ে বলল ,'কে বলেছে বিদেশে গিয়ে পড়াশোনা করলেই হাই কোয়ালিফায়েড হওয়া যায়?'
অভ্রতনু কথাটার কি জবাব দেবে তা বুঝতে পারল না , তাই সে চুপ করে থাকলো।
তার স্ত্রী প্রেরণা বলল,' না মানে আসলে তোমার তো সব ফ্রেন্ড বিজনেসম্যান বা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির তাই আমরা...'
পত্রলেখা বলল,'আরে থাক না এখন এইসব কথা। তবে আর্য কিন্তু খুব ভালো আঁকতে পারে ।'
এর মধ্যে একজন রিপোর্টার বলল,'অদৃত স্যার, অদৃত স্যার , আপনাদের চারজনের একটা ছবি তুলবো। প্লিজ স্যার !'
রিপোর্টারটি আর্যর দিকে তাকিয়ে বলল,'স্যার আপনি একটু সরে দাঁড়াবেন। '
আর্য তার কথা মতোই সরে দাঁড়ালো। অদৃত কিছু বলতে যাবে এরকম সময় পত্রলেখা বলল,'অদৃত ওইদিকে তাকাও।'
রিপোর্টারটি বলল,'পত্রলেখা ম্যাম অদৃত স্যার আপনারা দু'জনে একবার এইদিকে দেখুন।
থ্যাংক ইউ স্যার!'
আর্য একটু দূরে একটা চেয়ারে গিয়ে বসলো। আজ তার কোথাও গিয়ে নিজের খুব খারাপ লাগছে।
তার পাশের চেয়ারে বসে থাকা দুইজন ভদ্রমহিলা বেশ অনেকক্ষণ ধরেই গল্প করছিল। কিন্তু আর্যর সেদিকে কান যায়নি এতোক্ষণ। হঠাৎই কিছু কথা তার কানে এলো। প্রথম ভদ্রমহিলাটি বলল,'অদৃত আর পত্রলেখাকে কিন্তু বেশ মানায়। যেন মনে হয় ওরা একে অপরের জন্যই। '
দ্বিতীয় ভদ্রমহিলাটি বলল,'যা বলেছো কি সুন্দর দেখতে দুটিকে। যেমন শিক্ষিত তেমন মিশুকে। দুজনকে পাশাপাশি বেশ মানাচ্ছে, একেবারে মেড ফর ইচ আদার যাকে বলে।'
প্রথম ভদ্রমহিলাটি বলল,'শুনেছি তো দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক খুব ভালো । একে অপরের বাড়িতেও যাতায়াত হয়।'
দ্বিতীয় ভদ্রমহিলাটি বলল,'হ্যাঁ আমিও শুনেছি। তবে ওদের সম্পর্ক নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও যথেষ্ট জল্পনা আছে।অনেকেই তো বলে ওরা একে অপরকে ভালোবাসে।'
প্রথম ভদ্রমহিলাটি বলল,'কিন্তু অদৃত বা পত্রলেখা ওদের সম্পর্কটা ঠিক কি তা নিয়ে কেউ কখনো কথা বলেনি। তাহলে?'
দ্বিতীয় ভদ্রমহিলাটি বলল,'আরে সব কথা বলার কি আছে, কিছু বিষয় তো বুঝেও নিতে হয়। আর শোনো যা রটে তার তো কিছু ঘটেই। দেখোই না যদি কিছু নাই থাকে তাহলে এতো সুন্দর বোঝাপড়া হয় একে অপরের সাথে। তারপর জীবনের মাপকাঠিটাও সমান সমান হতে হয়। দু'জনেই যেমন শিক্ষিত তেমন বিত্তশালী। '
আর্যর এই সমস্ত কথা শুনে বুকের মাঝে কষ্ট হতে থাকলো। তার চোখ ছলছল করে উঠলো। সে পার্টি থেকে বেড়িয়ে , ফার্ম হাউসের পিছন দিকে থাকা সুইমিং পুলের দিকে গেল।
সুইমিং পুলের অংশটি বেশ নিরিবিলি, সেখানে গিয়ে আর্য একা চুপ করে বসলো।
পিয়ালী এবং শ্রেয়সী অন্য একটি টেবিলে বসে তখন গল্প করছে। পিয়ালী অদৃত এবং পত্রলেখার দিকে তাকিয়ে বলল,'দুটিকে একসাথে কিন্তু ভালো মানাচ্ছে।'
শ্রেয়সী বলল,'হ্যাঁ ।
আমি আর দেরী করতে চাইনা পিয়ালী। এবার ওদের চারহাত এক করতে চাই। '
পিয়ালী বলল,'হ্যাঁ আমিও ভাবছিলাম তোমাকে সেটাই বলবো। পত্রলেখাও রাজী এই বিয়েতে। কিন্তু তুমি অদৃতকে বলেছো?'
শ্রেয়সী বলল,'পরশু ওর জন্মদিন আমি সেইদিনই সব বলবো। ও খুব একটা আপত্তি করবে বলে মনে হয় না। পত্রলেখা যখন রাজী আমরা আর দেরী করতে চাইনা ।'
পিয়ালী বলল,'সেই ভালো। আমি আর সুব্রত সেটাই ভাবছিলাম। শুভ কাজ বেশিদিন ফেলে রাখাটা ঠিক নয়।'
অনেকক্ষণ অদৃত পার্টিতে আর্যকে কোথাও দেখতে না পেয়ে সে পত্রলেখাকে বলল,'পত্রলেখা তুমি একটু এদিকটা দ্যাখো, আমি ওইদিকটা একবার দেখে আসছি।'
অদৃত গোটা পার্টিতে আর্যকে তন্ন তন্ন করে খুঁজলো কিন্তু আর্যকে কোথাও দেখতে পেল না ।
To be continued....................

