Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

mummum Maity Pal

Romance Tragedy


2  

mummum Maity Pal

Romance Tragedy


পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে

পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে

7 mins 418 7 mins 418

      

অসামান্য প্রতিভাধর ঋষভ বসুকে শুধু নিজের বিদ্যালয়ে নয়, এলাকা ছাড়িয়ে দূর দূরান্তের শিক্ষকেরা এক ডাকে চিনত। আর নিজের বিদ্যালয়ে তো প্রশ্নাতীত জনপ্রিয়তা। ঋষভও নিজের অধ্যবসায়ের জোরে উত্তরোত্তর উন্নতির শিখরে।

বাবা সৌরভ বসুও এলাকার নামকরা ডাক্তার। সেই সুবাদে বিখ্যাত বিজ্ঞানী সংকেত রায়ের সাথে পরিচয়। পেশেন্ট ও ডাক্তারের সম্পর্ক অবশেষে পারিবারিক বন্ধুত্বে পরিণত। সংকেতবাবুর একমাত্র সুন্দরী কন্যা সুনেত্রাও ঋষভকে চিনত ভালো ছেলে হিসেবে। পারিবারিক সখ্যতায় দু'জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ ঘটে।

ঋষভের জীবনে সুনেত্রার গভীরতা আরও বৃদ্ধি পায় ডাক্তারি পড়ার সময়। ঋষভ এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণায় খুঁজে পায় পরশমণি।

হঠাৎই স্বপ্নভঙ্গ একটি সামান্য ঘটনায়। ঋষভের বইয়ের ভেতর সুনেত্রা আবিষ্কার ক'রে হলুদ খামের চিঠি! খামের উপর সুন্দর হাতের লেখা....

"আমার প্রিয় মানুষকে - তোমার প্রিয়তমা বান্ধবী"  

 ঋষভকে না জানিয়ে খুলে ফেলে খামটি। ঐন্দ্রিলার গভীর ভালোবাসার ছোঁয়ায় দীর্ঘ এক প্রেমপত্র!

হতবাক সুনেত্রা! কে এই ঐন্দ্রিলা? দ্বিধান্বিত মনে সংশয়ের আকাশ ভেঙে পড়ে এতদিনের প্রেমের বন্ধনে। 

 এদিকে ঐন্দ্রিলার জন্যে বাড়ির থেকে নিউইয়র্কে বসবাসকারী বিজ্ঞানী সংলাপ সেনের বিবাহ প্রায় পাকা।

মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে সুনেত্রার। বিশ্বাসের সুতোতে টান পড়ে। একবার ভাবে সরাসরি ঋষভকে জানতে চাইবে ঐন্দ্রিলার কথা।পরক্ষণেই স্থির করে-- নাঃ, কিচ্ছু বলবে না সে এখন।ঋষভ নিশ্চয়ই সব কথা খুলে বলবে তাকে নিজেই। অপেক্ষা করবে সে।

----"হাই সুনেত্রা, এখানে কি করছিস?RSD-র ক্লাস করলি না কেন?আজ উনি সার্জারির ওপর একটা স্পেশাল ক্লাস নিলেন।"

---"আজ শরীরটা একদম ভালো নেই রে তানিয়া।

---"শরীর ভালো নেই, নাকি মন বিগড়েছে হুঁ? নিশ্চয়ই ঋষভের সাথে ঝগড়া করেছিস? উফ্ তোদের নিয়ে আর পারিনা।"

---"তুই যা ভাবছিস তা নয় রে।"

---"তাহলে কি হয়েছে?বলবি না আমায়?"

---"তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড তানিয়া। একমাত্র তোকেই তো আমি সব কথা বলি।"

---"তাহলে বলছিস না কেন?বল কি হয়েছে।"

---"আমি একটা খুব বড়ো সমস্যায় পড়েছি রে।এই মুহূর্তে আমার কি করা উচিত বুঝে উঠতে পারছিনা।"

---"কি হয়েছে খুলে বলতো,দেখি তোর সমস্যার সমাধান করতে পারি কিনা।"

---"কাল ঋষভদের বাড়ি গিয়েছিলাম।আমাদের সকলের নিমন্ত্রন ছিলো। আসলে দুই পরিবারের সকলে চেয়েছিলো আমার আর ঋষভের বিয়ের কথা পাকা করতে।"

---"ভালোই তো। তোরা তো দুজন দুজনকে ভালোবাসিস। দুজনের বাড়ি থেকে তখন চাইছে তাহলে বিয়েটা সেরে ফেল,অসুবিধে কোথায়?"

---"আরে সে কথা নয়।"

---"তবে?"

---"কাল ঋষভের ঘরে বসে ওর সাথে গল্প করছিলাম।ওর একটা ফোন আসায় ও উঠে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় ফোনটা নিয়ে। আমি বসে থাকতে থাকতে ওর ব‌ইগুলো নাড়াচাড়া করছিলাম। হঠাৎ একটা ব‌ইয়ের ভেতর থেকে হলুদ খামে মোড়া একটা চিঠি পড়ে যায় নীচে। আমি কুড়িয়ে নিয়ে কৌতুহল বশে পড়ে ফেলি।"

---"কার চিঠি?"

---"ঐন্দ্রিলা বলে কোনো একটি মেয়ে ঋষভকে লিখেছে।চিঠির প্রতিটি ছত্রে প্রকাশ পেয়েছে ঋষভের প্রতি মেয়েটির গভীর ভালোবাসা।"

---"কি বলছিস!"

---"হ্যাঁ রে, বিশ্বাস কর আমি মিথ্যে বলছি না। তোর মনে আছে মাস ছয়েক আগে একটা মেডিক্যাল ক্যাম্প হয়েছিল জলপাইগুড়িতে?ঋষভ গিয়েছিল, কিন্তু আমার ঐসময় ইনফ্লুয়েঞ্জা হ‌ওয়ায় আমি যেতে পারিনি।চিঠির ভাষায় যেটুকু বুঝলাম, ঐন্দ্রিলার সাথে ঋষভের দেখাটা ঐ ক্যাম্পেই হয়েছে।"

---"কিন্তু ঐ দশদিনের ক্যাম্পে কি করে দুটো মানুষের মধ্যে প্রেম হয়ে যায় আমি তো বুঝতে পারছি না সুনেত্রা!"

---"বোকা বোকা কথা বলিস না তানিয়া।প্রেম কি সময়ের দৈর্ঘ্য, পরিধি এসবের ওপর নির্ভর করে কখনো?"

---"তুই ঋষভের ব্যবহারে কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করিসনি?"

---"না সেভাবে নোটিশ করিনি।"

---"তা এখন কি করবি?ঋষভকে জিজ্ঞেস করবি ঐ মেয়েটির কথা?"

---"দেখি, একটু অপেক্ষা করি।ঋষভ হয়তো নিজেই বলবে আমায় সবটা। ঠিক আছে চল আজ আসি।শরীর মন সব‌ই বিট্রে করছে আজ।"

সুনেত্রা মিলিয়ে যাচ্ছে কলেজের গেট দিয়ে। তানিয়ার মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। সুনেত্রা তার খুব কাছের বন্ধু। পুরো কলেজ জানে ঋষভ আর সুনেত্রা দুজন দুজনকে ভালোবাসে। আচ্ছা ঋষভ কি কোনো ট্র্যাপে পড়েছে? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে?ঐ ক্যাম্পে তো রাহুল‌ও গিয়েছিল। রাহুল কি জানে কিছু? তানিয়া ঠিক করলো রাহুলকে একবার জিজ্ঞেস করে দেখবে এই ব্যাপারে।

                      **************

মন আর মস্তিষ্কের দোটানায় পড়ে হাঁফিয়ে উঠেছে ঋষভ। জলপাইগুড়ির মেডিক্যাল ক্যাম্পের ঐ রাতটা তাকে জীবনের এমন একটা মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে,যেখান থেকে সে কোনো সিদ্ধান্ত‌ই নিয়ে উঠতে পারছে না। ঐন্দ্রিলাকে দেখার পর,তার সঙ্গে পরিচয় হ‌ওয়ার পর এক অমোঘ আকর্ষণে তারা একে অপরের জীবনে অনেকখানি জায়গা করে নিয়েছে।এই আকর্ষণটাই কি ভালোবাসা?বুঝে উঠতে পারে না ঋষভ।

তবে ঐন্দ্রিলার সাথে ফোনে কথা বলতে বলতে রাত কখন ভোর হয়ে যায় খেয়াল থাকে না তার। কথা বলার সময় এক মিষ্টি আবেশে ডুবে যায় তার শরীর মন,যা আগে কখনো হয়নি। আবার কলেজে এসে সুনেত্রার সাথে দেখা হলে কেমন একটা অপরাধবোধ কাজ করে তার মধ্যে।ঐন্দ্রিলা সেদিন ফোনে, তার বাড়ি থেকে বিয়ের কথাবার্তা প্রায় পাকা করে ফেলা হয়েছে। ঋষভের কাছ থেকে গ্ৰীন সিগন্যাল না পেলে ঐন্দ্রিলাও তার বাড়িতে কিছু জানাতে পারছে না।

ঋষভ কি করবে ভেবে পায় না।সুনেত্রার বাবা আর তার বাবার বন্ধুত্বের সূত্রে তাদের পরিচয় হলেও, সময়ের সাথে সাথে সেই পরিচয় বন্ধুত্বের গন্ডী অতিক্রম করে একটা স্থায়ী সম্পর্কের পরিণতির স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। সুনেত্রা তাকে ভালোবাসে, ভরসা করে।সেও সুনেত্রাকে ভালোবাসে। এতদিন অন্তত সেটাই বিশ্বাস করতো সে। কিন্তু জলপাইগুড়ির মেডিক্যাল ক্যাম্পের ঐ রাতটা তার বিশ্বাসের ওপর একটা বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

কিন্তু আর নয়। অনেক হয়েছে মনের সাথে যুদ্ধ। এবার একটা সিদ্ধান্তে আসতেই হবে দ্বিধান্বিতভাবে ফোনের জন্য নম্বরটা টাচ্ করলো ঋষভ।

---"হ্যালো, সু?"

---"হ্যাঁ ঋষি বল।"

---"আজ সন্ধ্যায় একবার মিত্র ক্যাফেতে আসতে পারবে? আমি টেবল্ বুক করে রাখবো।"

কয়েক মূহুর্ত চুপ করে থাকলো সুনেত্রা। তারপর অতি উৎসাহী কন্ঠে বলল-----

"ঠিক আছে, আসবো আমি।আমার‌ও কিছু বলার আছে তোমায়।"

---"ঠিক আছে, এসো তাহলে সাতটা নাগাদ। আমি অপেক্ষা করবো।বাই।"

---"বাই।"

                  ***************

ঘনঘন ঘড়ি দেখছিলো ঋষভ।প্রায় একঘন্টা আগেই পৌঁছে গেছে সে। ভেতরে কালবৈশাখীর অস্থিরতা। সবটা শোনার পর সুনেত্রা কিভাবে রিঅ্যাক্ট করবে ভেবেই পালস্ রেট বেড়ে যাচ্ছে ক্রমশ।ঐন্দ্রিলাকে শুধু আজকের দিনটা সময় চেয়েছে ঋষভ।

---"কতক্ষণ এসেছো?"

চিন্তায় ছেদ পড়ায় চমকে তাকালো ঋষভ।

---"নাঃ খুব বেশিক্ষণ নয়। এসো বসো।কি খাবে বলো। কফি অর্ডার দিই?"  একনিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে যেন নিজের উদ্বেগটা চাপা দিতে চাইলো ঋষভ।

---"দাও, তবে কোল্ড কফি বল আমার জন্য।"

---"শিওর। ওয়েটার-----"

নিরুদ্বিগ্ন মুখে কাঁটাচামচ নিয়ে খেলা করছে সুনেত্রা।ঋষভ জলের গ্লাস থেকে এক চুমুক জল দিয়ে গলাটা ভিজিয়ে নিলো একটু, তারপর জলের গ্লাসটার দিকে তাকিয়েই শুরু করলো----

"সু আমার তোমাকে একটা কথা---"

আচমকা ঋষভকে থামিয়ে দিয়ে সুনেত্রা বলে উঠলো---

"যদি কিছু মনে না করো ঋষি, আমি আগে বলি?"

ঋষভ সামলে নিলো নিজেকে।

---"না না মনে করার কিছু নেই। ঠিক আছে তুমিই আগে বলো।"

---"কিছুদিন আগে ফেসবুকে আমার একটি ছেলের সাথে আলাপ হয়।সেই আলাপ ক্রমশ বন্ধুত্বে পরিনত হয়। আমরা মিট করি।অ্যাট লাস্ট আমরা দু'জনেই অনুভব করি যে আমাদের সম্পর্কটা আর নিছক বন্ধুত্বে আবদ্ধ নেই। একটা পরিণতি দাবি করছে।"

কথাগুলো বলার সময় সুনেত্রা একবারও চোখ সরায়নি ঋষভের মুখের ওপর থেকে।তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে লক্ষ্য করেছে ঋষভের মুখের রামধনু অভিব্যক্তি। সে অনুভব করছে ঋষভের স্বস্তির নিঃশ্বাস। ঋষভের মুখের উদ্বেগের কালো ছায়াটা সরে গিয়ে ধীরে ধীরে সেখানে যে জ্বলে উঠেছে মুক্তির আলো সেটুকু অনন্ত বুদ্ধিমতী সুনেত্রার নজর এড়ায়নি।

                         ************

শীতটা এবার জাঁকিয়ে পড়েছে।সূর্যের আলোয় অলসতার ছাপ স্পষ্ট। হাতে আর মাত্র একমাস। অনেককিছু গোছগাছ করতে হবে।সংকেতবাবু প্রথমে কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না মেয়েকে অতদূরে পাঠাতে। তারপর স্ত্রীর কাছে সবটা শুনে মেয়ের মাথায় হাত রেখে বলেছেন---"তুই কবে এতো বড় হয়ে গেলি রে মামমাম?"

বাবাকে জড়িয়ে ধরে নীরবে চোখের জল ফেলেছে সুনেত্রা।

হৈ হৈ করে ঘরে ঢুকলো তানিয়া।

---"এ আমি কি শুনছি সু? তুই নাকি লন্ডন যাচ্ছিস হায়ার স্টাডিজ করতে?"

---"ঠিকই শুনেছিস।"

---"নিজের মিথ্যে প্রেমের গল্প শুনিয়ে ঋষভকে মুক্তি দিলি। এখন কষ্ট ভুলতে কাকু কাকিমাকে একা করে চলে যাচ্ছিস দেশ ছেড়ে?"

---"দুর পাগলি আমি কি একেবারেই চলে যাচ্ছি? ক'টা তো বছর। দেখতে দেখতে কেটে যাবে। মাঝে মাঝে আসবি আমার বাবা-মার কাছে।"

---"হ্যাঁ তুই বলবি, তারপর আমি আসব। আচ্ছা একটা কথা বল আমায়, তুই কেন হঠাৎ ঋষভকে অমন একটা মিথ্যে বলতে গেলি? এতে করে তো তুই ভিলেন হয়ে গেলি সবার কাছে। কেউ তো আসল ঘটনাটা জানলো না।সবাই ভাবলো তুই ঋষভকে বিট্রে করলি।"

---"তাহলে আমার কি করা উচিত ছিল বলে তোর মনে হয়?বসে বসে ঐন্দ্রিলার সাথে ঋষভের প্রেমের গভীরতা মাপতাম? নাকি ঋষভের হাতে পায়ে ধরে নিজের জন্য ওর প্রেম ভিক্ষা করতাম? তারচেয়ে এই ভালো হলো বুঝলি?

যা-------যা পাখি উড়তে দিলাম তোকে----"

দু'হাত ছড়িয়ে শিলাজিতের সুরে হাসতে হাসতে গেয়ে উঠলো সুনেত্রা।

তানিয়া তাকে জড়িয়ে ধরে বলল---

---"হাসিস না সু। তোর হাসি ছাপিয়ে চোখের জল যে আর‌ও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।"

                      ************

কলকাতা এয়ারপোর্ট থেকে প্লেন টেক অফ করেছে প্রায় পনেরো মিনিট আগে।উইন্ডো সিটটা পায়নি বলে মনটা খুঁত খুঁত করছে সুনেত্রার। পাশের লোকটি জার্নাল খুলে বসেছে। খুব রাগ হচ্ছে সুনেত্রার। জার্নাল‌ই যদি পড়বে তবে উইন্ডো সিটটা অকুপাই করার দরকার কি?

উস্‌খুশ করতে করতে শেষ পর্যন্ত বলেই ফেললো সুনেত্রা।

---"এক্সকিউজ মী?"

---"ইয়েস।"

---"ক্যান আই গেট দ্যা উইন্ডো সিট?"

---"বাঙালি?"

সুনেত্রা অবাক!

---"কি করে বুঝলেন?"

---"বাঙালিরাই এরকম অন্যায় আবদার করতে পারে অবলীলায়।"

মুচকি হেসে সীটটা ছেড়ে দিলেন ভদ্রলোক।

এতো সহজে উইন্ডো সীটটা পেয়ে মনটা খুশিতে ভরে উঠল সুনেত্রার।উড়ে যাওয়া মেঘগুলোর সাথে সখ্যতায় মেতে উঠলো তার মন।

---"গন্তব্যস্থল কোথায়?"লোকটি জিজ্ঞেস করল জার্নাল থেকে চোখ না সরিয়েই।

---"ইউনিভার্সিটি অব কুইন মেরি লন্ডন। আপনার?"

---"আমি অ্যাকচুয়্যালি নিউইয়র্কে থাকি। কেমব্রিজে একটা কনফারেন্স অ্যাটেন করতে যাচ্ছি।"

---"আপনার বাড়ি কি কলকাতায়?"

---"হ্যাঁ, বাড়ি এসেছিলাম একটা বিশেষ কারণে। যদিও আসার কারণটা ব্যর্থ হয়েছে। তবে উপরি পাওনা, ফ্যামিলির সাথে কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করেছি অনেক বছর পর। কাজের প্রয়োজনে বিদেশে থাকতে হয়, কিন্তু দেশের মাটির সোঁদা গন্ধ এখনও অনুভূতিগুলোকে তীব্র করে।বাই দ্যা ওয়ে আপনি কি মেডিকেল স্টুডেন্ট?"

---"হ্যাঁ, হায়ার স্টাডিজের চান্স পেয়েছি কুইন মেরিতে। আপনি নিউইয়র্কে কি জব করেন?"

---"আমি একজন মেডিকেল সায়েন্টিস্ট।"

সুনেত্রার গলায় উচ্ছ্বাস!

---"জানেন আমার বাবাও একজন মেডিকেল সায়েন্টিস্ট। উনি ক্যালকাটা মেডিকেল রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ছিলেন, এখন রিটায়ার্ড।"

---"ওনার নাম?"

---"সংকেত রায়।"

---"মাই গড! আপনি দ্য গ্ৰেট সায়েন্টিস্ট মিঃ সংকেত রায়ের মেয়ে? আরে আমি একসময় স্যারের আন্ডারে রিসার্চ করেছি।স্যার আমাকে খুব স্নেহ করতেন।"

কিছুক্ষণের মধ্যেই সংলাপ সেন মেতে উঠলো স্মৃতিচারণে। শ্রোতা হিসেবে সুনেত্রার আগ্ৰহ‌ও কম নয়।সময় বয়ে গেল স্রোতের উচ্ছ্বলতায়।

এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে বিদায় নেওয়ার সময় সংকেত নিজের কার্ডটা সুনেত্রাকে দিয়ে বললো----

"এটা রাখুন,বিদেশে একা থাকবেন। কোনোরকম প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে হেজিটেট করবেন না। আমি এখানে এক সপ্তাহ আছি। কুইন মেরিতে প্রফেসর ডেভিড লরেন্সকে আমার কথা বলবেন। উনি খুব হেল্পফুল। ওকে, অল দ্যা বেস্ট।হোপ উই উইল মিট এগেইন,বা--ই।"

কার্ডটা হাতে নিয়ে দেখলো সুনেত্রা।

Mr.Sanglap Sen

Scientist of New York medical college.


Member of Medical Development Research Institute,New York.


সংলাপ সেনের চলে যাওয়ার পথে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সুনেত্রা।এত বিদ্বান একজন মানুষ অথচ কি অমায়িক! কি নিরহঙ্কারী! কোনো কোনো মানুষের সাথে কিছুক্ষণ কথা বললে শ্রদ্ধায় মাথা আপনা থেকেই নত হয়। সংলাপ সেন সেরকম‌ই একজন ব্যক্তিত্ব। পুনরায় সান্নিধ্য লাভের ইচ্ছেয় সংলাপের দেওয়া কার্ডটা যত্ন করে গুছিয়ে রাখে সুনেত্রা


Rate this content
Log in

More bengali story from mummum Maity Pal

Similar bengali story from Romance