হাই টেনশন
হাই টেনশন
পায়রাটা বসে আছে হাই টেনশন তারের ওপর বিপজ্জনক ভাবে। উড়লেই মৃত্যু। অনেক অনেক নিচে রাস্তায় দুটো ফটোগ্রাফার ক্যামেরা উঁচিয়ে তাক করে আছে। শটটা নেবে। আর নিতে পারলেই কেল্লা ফতে। নিদেনপক্ষে একটা আন্তর্জাতিক সম্মান। এতটাই উঁচুতে পাখিটা যে কিছুতেই তাড়া দেওয়া সম্ভব নয়। আবার তাড়া দিতে গেলে যদি শটটা মিস হয়ে যায়... তাই কী আর করা, অপেক্ষা ছাড়া গতি নেই।
এদিকে রোদটাও বাড়ছে। টুপি বা মাথার ওপর এক চিলতে ছায়াও নেই। আবার এরকম একটা ছবির সুযোগ রোজ রোজ পাওয়া যায় না। বেশ ঘামছেন দুজনে। বিরক্তি থেকে দুজনের মুখ দিয়েই গালাগাল বেরোচ্ছে এবার। উপায় নেই, ক্যামেরায় চোখ লাগিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন দুজনে।
পায়রাটা বসে আছে এক ভাবে। উড়ছে আর না। একজন ফটোগ্রাফার বসেই পড়লেন ফুটপাথের উপর। ভীষণ ব্যাথা করছে ঘাড়ে। হাতগুলোও জবাব দিতে শুরু করেছে। মাথাটা ধরে আসছে। দৃষ্টিটা কীরকম যেন একবার আবছা হয়ে আবার ঠিক হয়ে গেল। জল তেষ্টা পেয়েছে খুব।
এখন দুজনেই ফুটপাথে বসে আছেন। একজন আবার আধশোয়া হয়ে আছেন। চোখ কিন্তু ক্যামেরায়। ক্যামেরা কিন্তু পায়রায়। মিস করা চলবে না। মৃত্যুর শট। একটা ছোট্ট মুহূর্ত। মিস করা যায় না। অমোঘ।
