কৃত্রিম
কৃত্রিম
সাড়ে তিনশো বছরের পুরোনো বিশাল একটা জমিদার বাড়ি। তিন তিনটে মহল। সব মিলিয়ে বড় বড় জানালা দরজা সহ একশো সতেরোটি ঘর। এই সব ঘরেরই একটিতে আজ থেকে একশ বত্রিশ বছর আগে এরকমই কোন এক জৈষ্ঠের সকালে লাগানো হয়েছিল তৎকালীন বিখ্যাত ডিয়ল অ্যান্ড কোর নবনির্মিত একটি সিলিং ফ্যান। একটি বেশ বড় হুকের মত জিনিসের সাহায্যে লোহার তৈরি ভারি শরীরটা ঝুলে আছে ঘরের মাঝামাঝি একটা কড়িকাঠ থেকে। একটি চাকতি থেকে দুদিকে বেরিয়ে আছে ফ্যানটির দুটো ডানা। মানে ইংরাজীতে যাকে বলে ব্লেড। আর চাকতির ঠিক মাঝখানে নিচের দিকে মুখ করা পনেরো সেন্টিমিটার লম্বা ছুঁচলো একটা লোহার ফলা। পাখাটি ঘুরতে শুরু করলে পরে ঐ ফলাটিও ঘোরে। তলা থেকে দেখলে মনে হয় যেন ফলাটিও ঘুরতে ঘুরতে নিচে নামছে। আবার যখন পাখাটি ঘুরতে ঘুরতেই থামে মনে হয় যে ফলাটা কেমন ছোট হয়ে ক্রমে চাকতিটার মধ্যে মিলিয়ে যাচ্ছে। যবে থেকে এসেছে পাখাটা তবে থেকেই ফলাটার এই বাড়াকমাটা আকর্ষণ করতে থাকে চড়াই পাখিগুলোকে। পাখা চালু অবস্থাতে জানালা খোলা পেলেই তারা ঢুকে পড়ে ঘরে আর উড়তে উড়তে পাখাটার কাছে গিয়ে নিজেদের ছোট ছোট চঞ্চুগুলোকে বাড়িয়ে ঘূর্ণায়মান ফলাটিকে ভেংচায়। ফলাটা তেড়েফুঁড়ে নেমে আসে অনেকটাই কিন্তু পাখিদের নাগাল না পেয়ে আবার উঠে যায়। পাখিদের দুষ্টুমি উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে। সকাল বিকেল, শীত গ্রীষ্ম, সেকেন্ড মিনিট ঘন্টা, দিন সপ্তাহ মাস বৎসর মায় গোটা একটা বিশ্বযুদ্ধ। ফলা নামতে থাকে আর উঠতে থাকে... একটা একটা করে চড়াই গেঁথে নিয়ে।
