এনার সংসার
এনার সংসার
ফুটপাথে পায়চারি করছি সকাল বেলায়। খুব কম মানুষই চলাচল করছে রাস্তায়। একটি লাল রঙের সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে একটি মেয়ে। সাইকেল চালাতে চালাতে আড় চোখে দেখছে আমায়। আমিও দেখছি ওকে। একবার যেন চোখাচোখি হতেই চোখ সরিয়ে নিল ও। একটু হাসলও কি...
আমি হাত তুলে ডাকলাম ওকে। সাইকেলটা দাড়াল। আমি রাস্তা পেরিয়ে ওর কাছে গেলাম। মূখটা ভীষণ রকমের চেনা। মিষ্টি। মনটা খারাপ হয়ে গেল। আকাশটা মেঘলা হয়ে এল। কিছু বলতে পারলাম না ওকে। ও তাকিয়ে আছে।
বাড়িতে ফিরেই ঘোষণা করলাম বিয়ে করছি। বাবা একটা রাম হোঁচট খেয়ে ডান পায়ের বুড়ো আঙ্গুলটা ধরে বসে পড়ল। মা দেখছে আমাকে। ভাবছে মাথাটা কি শেষমেষ আর...
এনাই এখন সব করে আমাদের সংসারে। রান্না থেকে শুরু করে রেশন। বাসুন মাজা থেকে শুরু করে বাজার। জুতো সেলাই থেকে চণ্ডী পাঠ। ও চাকরি করে একটা প্রাইভেট ব্যাংকে। আমি এমনিতেই অকর্মণ্য ছিলাম এখন আস্তে আস্তে নির্গুণ ব্রহ্মে পরিনত হচ্ছি। বাবা মা বোধহয় এখনও ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করছে। মর্নিং ওয়াক থেকে ম্যারেজ-ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না ওরা কেউই।
অফিস থেকে ফিরে হাতমুখ ধুয়ে চা করে আনে এনা সঙ্গে টা। কখনো ঝালমুড়ি কখনো কচুরি। আমরা চা খেতে খেতে গল্প করি, খুনসুটি করি আর প্রেম করি। বড় সুখ এই সংসারে। এখানে সব আছে। এখানে সব সম্ভব। ভরাট একটা উপচে পড়া ভাব। ভরে ওঠে শরীর। ভরে ওঠে মন।
আমি কাঁদি। এনা হাত তোলে অভয় মুদ্রায়, 'আমি তো আছি'। অনেক শান্তি এখানে। লুচি, পটল ভাজা, আলুর সাদা তরকারি জিরে ফোড়ন দিয়ে আর বাবু সন্দেশ। এক ফ্লাস্ক ভর্তি গরম চা নিয়ে আমি কাঁধে ব্যাগটা ঝুলিয়ে বেরিয়ে পড়ি। এনা দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। তাকিয়ে আছে ও। অনেকটা এগিয়ে আমি একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি পেছনে। দেখি তখনও চেয়ে আছে এনা... আমাদের সুপ্রাচীন বাড়িটির দিকে। আমার বৃদ্ধ বাবা মার দিকে। ওর সংসারের দিকে।
এগিয়ে চলি আমি। পা চালাই খুব খুব জোরে। সংসারটা এইবার করতেই হবে আমাকে।

